এখনও নজর সুশান্ত মামলায়? কোন উত্তর খুঁজছে সিবিআই

Sushant Singh Rajput death case: সুশান্তের অ্যাকাউন্ট থেকে ডিলিট হওয়া সমস্ত চ্যাট, ই-মেইল এবং পোস্টের তথ্য চেয়ে আমেরিকার কাছে আবেদন সিবিআইয়ের।

Sohini Das
৩ মিনিট
এখনও নজর সুশান্ত মামলায়? কোন উত্তর খুঁজছে সিবিআই

অতিমারির দিনগুলোতে প্রতিদিন কোনও না কোনও মৃত্যু আমাদের নাড়া দিয়ে গিয়েছে। সাধারণ মানুষ থেকে নেতা, মন্ত্রী, তারকা- অনেককেই হারিয়েছি আমরা। তবে অসময়ের মৃত্যু তো সবসময়েই কাঁপিয়ে দিয়ে যায়। তেমনই ছিল ২০২০ সালে তরুণ অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের চলে যাওয়া। চলে যাওয়া নয়, বরং নিজেকে সরিয়ে নেওয়াই বলা চলে। সেই মৃত্যু নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। সুশান্তের আত্মহত্যা ঘিরে কার্যত দ্বিধাবিভক্ত হয়ে গিয়েছিল বলিউড। থানা পুলিশ থেকে সিবিআই, সুশান্তের তৎকালীন প্রেমিকা রিয়া চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আঙুল তোলা থেকে শুরু করে মাদক সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদে বারংবার বলিউডের তাবড় অভিনেতাদের তলব, এ সমস্ত কিছুই দেখা হয়ে গিয়েছে তদ্দিনে। কিন্তু শেষপর্যন্ত যা হয় তাই হয়েছে। সময়ের পলি জমেছে মানুষের মনে। আর কেসফাইলে ধুলো।

একের পর এক সিনেমায় সাফল্য, খেটে কাজ করা আর মিষ্টি একটা হাসিমুখ। ছোটপর্দা থেকে উঠে এসে খুব কম সময়েই বলিউডে জায়গা করে নিয়েছিলেন সুশান্ত সিং রাজপুত। মহেন্দ্র সিং ধোনির আত্মজীবনীতে অভিনয় সেই জনপ্রিয়তাকে তুঙ্গে তুলেছিল। মহাকাশ দেখার শখ, ক্রিকেটের নেশা, সব মিলিয়ে সুশান্তকে একটু অন্যচোখেই দেখতে শুরু করেছিলেন ভক্তেরা। আর ঠিক সেসময়েই ইন্দ্রপতন। আসলে মৃত্য়ুর থেকেও বোধহয় আরও বেদনাদায়ক, সাফল্যের শীর্ষে থাকতে থাকতে মৃত্যু। দীর্ঘদিন ধরে অবসাদ, কাজ না-পাওয়া, বলিউডের নেপোটিজম প্রসঙ্গ থেকে মাদকের প্রভাব, নানা কথা, নানা অভিযোগ উঠে এসেছে বারবার। তবে সুশান্ত আত্মহত্যা রহস্যের কিনারা হয়নি আজও।

আরও শুনুন: সুশান্ত থেকে কে কে- আমাদের মৃত্যুশোক ভুলিয়ে দেয় মুহূর্তের প্রতিশোধ

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আড়াই বছর পার, এখনও অধরা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু রহস্য, ঠিক কী ঘটেছিল সেই দিন?

Sushant Singh Rajput : টেলিভিশনের পর্দা থেকেই অভিনয় শুরু করেন তিনি। ‘পবিত্র রিস্তা’ নামে হিন্দি ধারাবাহিকের হাত ধরে জনপ্রিয়তার শিখর স্পর্শ করেন সুশান্ত সিং রাজপুত

এর মাঝখানে কেটে গিয়েছে তিন-তিনটে বছর। আর এতদিন বাদে ফের ধুলো ঝেড়ে সুশান্তের ফাইল তুলে এনেছে সিবিআই। আদৌ সুশান্তের মৃত্যু আত্মহত্যা না খুন, এ নিয়ে ধন্ধ কাটেনি আজও। এখনও পর্যন্ত কোনও অফিশিয়াল রিপোর্টে সুশান্তের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে সিলমোহর দেয়নি পুলিশ। সিবিআইয়ের তরফেও তেমন কোনও রিপোর্ট মেলেনি। ঘটনার পরেই সুশান্তের মোবাইল থেকে মেলা চ্যাট এবং কল রেকর্ড খতিয়ে দেখে সিবিআই। আর সেই বিশ্লেষণ এখনও শেষ হয়নি।

সুশান্ত মৃত্যু মামলায় যুক্তিগ্রাহ্য একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছতে এখনও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই সমস্ত টেকনিক্যাল তথ্যপ্রমাণ মার্কিন মুলুকে পাঠিয়েছে সিবিআই বিশ্লেষণের জন্য। সেখান থেকে রিপোর্ট পাওয়া গেলেই অনেক প্রশ্নেরই উত্তর পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

২০২১ সালে ওই মামলার তদন্তে নেমে গুগল এবং ফেসবুকের দ্বারস্থ হয় সিবিআই। এই দু'টি সংস্থারই সদর দফতর ক্যালিফর্নিয়ায়। সুশান্তের অ্যাকাউন্ট থেকে ডিলিট হওয়া সমস্ত চ্যাট, ই-মেইল এবং পোস্টের তথ্য চেয়ে টেক জায়েন্ট গুগল ও জুকেরবার্গের সংস্থা ফেসবুকের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন সিবিআই কর্তারা। মিউচুয়াল লিগাল অ্যাসিস্ট্যান্স চুক্তি (MLAT)-র আওতায় আভ্যন্তরীণ মামলার তদন্তে দু-দেশের তথ্যের সাহায্য নেওয়া যেতেই পারে। সেই চুক্তির জোরেই আমেরিকার দ্বারস্থ হয়েছে ভারত।

২০২০ সালের ১৪ জুন, আসলে ঠিক কী হয়েছিল? সত্যিই কি অবসাদের জেরেই আত্মহত্যা না এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোনও ষড়যন্ত্র? আর সেই সত্য খুঁজে আনতেই ফের উঠেপড়ে লেগেছে সিবিআই। মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবীসও সিলমোহর দিয়েছেন সেই খবরে। তিনি জানিয়েছেন, তদন্ত এখনও চলছে। এতদিন কিছু রটনা, কিছু ঘটনাকে নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছিলেন গোয়েন্দারা। তবে এবার তথ্যপ্রমাণ-সহ একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছেন সিবিআই কর্তারা।

যদিও সুশান্তের পরিবারের তরফের আইনজীবী বিকাশ সিংহের দাবি, এ ব্যাপারে তাঁদেরকে কিছুই জানায়নি সিবিআই। তাঁর আরও অভিযোগ, মামলাটিকে অহেতুক দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দল। স্বাভাবিক ভাবেই এতদিন বাদে সুশান্ত মামলাকে প্রচারের আলোয় নিয়ে আসার ব্যাপারটি নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। আসছে বছর লোকসভা ভোট। আর ঠিক তার আগে সুশান্ত মামলাকে কবর থেকে তুলে আনার পিছনে রাজনৈতিক ছক দেখছেন অনেকেই। তবে আদৌ কি এত সব কিছুর পরেও হবে সুশান্ত-মামলার কিনারা। সিবিআইয়ের মতো তাকিয়ে আছেন ভক্তরাও।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।