শূন্য থেকে সংখ্যায় ফিরতে বড় সিদ্ধান্ত বামেদের! কী হতে চলেছে নয়া স্ট্র্যাটেজি?

CPM: আর এ প্রসঙ্গেই সিপিএমের সবজান্তা মনোভাব ত্যাগের কথা বলেছেন সেলিম। তাঁর কথায়, ‘আমরাই সব জানি, অন্যেরা জানেন না, এমনটা যেন না হয়।’’ শুধু দলের কর্মীসদস্য বা সমর্থক নয়, একই সঙ্গে জেলাস্তরে পর্যালোচনাও শুরু করে দিয়েছে সিপিএম।

Sohini Das
৩ মিনিট
শূন্য থেকে সংখ্যায় ফিরতে বড় সিদ্ধান্ত বামেদের! কী হতে চলেছে নয়া স্ট্র্যাটেজি?

আরও একবার নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের সামনে দাঁড়িয়ে সিপিএম। লোকসভা ভোটে রুজি-রুটির প্রতিশ্রুতি নিয়ে ময়দানে নেমেছিল বামেরা। একরাশ নতুন সম্ভাবনাময় মুখ, মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ- সবই কার্যত বিফলে গিয়েছে শেষপর্যন্ত। ২০২৪ লোকসভা ভোটে বাংলা থেকে একটি আসনও পকেটে পুরতে পারেনি বামেরা। আর তার পরেই সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে শুরু হয়েছে জোর সমালোচনা। শুধু বাইরেই নয়, দলের অন্দরেও শুরু হয়েছে এই হারের পর্যালোচনা। এবার বামেদের অবস্থান নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।

অনেকেই বলছেন, লক্ষ্মীর ভান্ডারের মতো প্রকল্পের জোরেই ভোটের নদী পার করেছে তৃণমূল। অনেকেই সেই প্রকল্পকে সরকারের দেওয়া মহিলাদের ভিক্ষা বলেও ব্যাখ্যা করেন। সম্প্রতি সেই বক্তব্যের জোর নিন্দা করেছিলেন সেলিম। বামপন্থি মতাদর্শর সঙ্গে সরকারের এই ধরনের ভাতা-প্রকল্পের কোনও বিরোধ নেই বলেও জানিয়ে দেন তিনি। এবার সিপিএমের দলীয় অবস্থান নিয়ে ফের বড়সড় বার্তা দিলেন সেলিম। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর 'সবজান্তা' মনোভাব পরিত্যাগ করতে চায় সিপিএম। ভোটে হারের পর্যালোচনা এবার আর কমিটি স্তরেই সীমিত রাখতে চায় না আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। সম্প্রতি মুর্শিদাবাদ থেকে দলের সাম্প্রতিকতম অবস্থানের কথা জানিয়ে দিয়েছেন সিপিএমের এই বরিষ্ঠ নেতা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সত্যিই মহিলাদের 'ভিক্ষা'? কী বললেন মহম্মদ সেলিম?

Mohammed Selim CPIM: গত পাঁচ বছরে এই নিয়ে তিনটি ভোটে হারলেন সেলিম।

সূত্রের খবর, এতদিন পর্যন্ত নির্বাচনী পর্যালোচনা মূলত হত সিপিএমের কমিটি স্তরেই। কখনও কখনও এ ব্যাপারে সমর্থকদেরও মতামত নেওয়া হয়েছে। তবে এ বার সেই স্ট্র্যাটেজি থেকে বেরিয়ে এই প্রথম বৃত্তটিকে আরও ছড়িয়ে দিতে চাইছে সিপিএম। দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম জানিয়েছেন, মোটামুটি তিন ধাপে পর্যালোচনার পরিকল্পনা রয়েছে বামেদের। প্রাথমিক ধাপ দলীয় সদস্যদের পর্যালোচনা। আর সেই ধাপ সম্পূর্ণ হলে শোনা হবে কর্মী সমর্থকদের মতামত। এমনকী যাঁরা রাজনীতিতে প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত নয়, হয়তো তারা বামেদের ভোটও দেননি। কিন্তু নানা ভাবে দলের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন, সাহায্য করেছেন নানা পর্যায়ে, তাঁদের মতামতকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বামেদের।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সিপিএমের নতুন মুখরা বামের ভোট রামে যাওয়া ঠেকাতে পারবে এবার?

CPIM Vote Turn over 2024 : ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কি তরুণ ব্রিগেডকে নিয়ে বামেদের প্রাসঙ্গিক করে তুলতে পারবেন মহম্মদ সেলিম?

আর এ প্রসঙ্গেই সিপিএমের সবজান্তা মনোভাব ত্যাগের কথা বলেছেন সেলিম। তাঁর কথায়, ‘আমরাই সব জানি, অন্যেরা জানেন না, এমনটা যেন না হয়।’’ শুধু দলের কর্মীসদস্য বা সমর্থক নয়, একই সঙ্গে জেলাস্তরে পর্যালোচনাও শুরু করে দিয়েছে সিপিএম। নির্বাচনী পর্যালোচনায় যাতে কোনও রকম ফাঁক না থেকে যায়, তার জন্য নির্দিষ্ট পয়েন্টে ফর্মও ছাপা হয়েছে দলের তরফে। ইতিমধ্যেই সিপিএম পলিটব্যুরোর বৈঠক হয়েছে। এরই মধ্যে আগামী ১৯-২০ জুন রাজ্যকমিটির বৈঠক রয়েছে। তার পর ২৮ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক রয়েছে।

শুধু সেলিম নয়, এর মধ্যে হস্তক্ষেপ করেছেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিও। তিনি জানিয়েছেন, ভোটে দলের ফলাফলে তাঁরা হতাশ। বাংলার ফলাফল তো বটেই, তার চেয়েও দল হতাশ কেরলের ফলাফল নিয়ে। সে রাজ্যে ক্ষমতাসীন বাম সরকার হওয়া সত্ত্বেও সেখানে একটির বেশি আসন পায়নি তারা। কেরলে বিজেপির মাথা তোলা এবামেরাবং একটি লোকসভা আসন জিতে যাওয়া নিয়ে যথেষ্ট চিন্তিত বাম শীর্ষ নেতৃত্ব।

বাংলায় যেন বামেদের পিছন ছাড়ছে না শূন্য। সেই কবে থেকে পরের পর ভোটে একটিও আসন জিততে পারেনি বামেরা। আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের প্রাথমিক পর্যালোচনা বলছে, যে যে আসনে এবার বামেরা লড়েছিল, সেই তেইশটির মধ্যে অন্তত কুড়িটি আসনে কিন্তু ২০২১ সালের তুলনায় ভোট সামান্য হলেও বেড়েছে। ২০০৬ সাল থেকে সিপিএমের যে উল্টোগুনতি শুরু হয়েছিল, তা অনেকাংশেই ঠেকানো গিয়েছে এই লোকসভা ভোটে। এবার সেটাকে পজিটিভ ধরেই নিজেদের বৃত্তকে বাড়িয়ে পুরনো ভুল সংশোধন করে নিতে চাইছে বামেরা। এখন দেখার নতুন এই নীল নকশা বামেদের জমি ফিরিয়ে দিতে পারে কি না আদৌ।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।