‘বাংলাদেশি’ তকমা! ওড়িশায় কেন নির্যাতনের শিকার বাংলার শ্রমিকেরা?

Bengali Labour Harassed in Odisha: ওড়িশার ভদ্রক জেলায় ফেরিওয়ালার কাজ নিয়ে গিয়েছিলেন মুর্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জের বাসিন্দারা। প্রায় দু'দশক ধরেই ওই কাজ করে আসছেন তাঁরা।

Sohini Das
৩ মিনিট
‘বাংলাদেশি’ তকমা! ওড়িশায় কেন নির্যাতনের শিকার বাংলার শ্রমিকেরা?

কিছুদিন আগেই শাসক বদল হয়েছে পড়শি রাজ্য ওড়িশায়। পঁচিশ বছরের বিজু জনতা দলের শাসন শেষ হয়ে সেখানে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। এবার সেই বিজেপি শাসিত ওড়িশায় উঠল গুরুতর অভিযোগ। ওড়িশায় কাজ করতে গিয়ে অত্যাচারিত একাধিক বাংলার শ্রমিক। প্রায়শই রোজগারের আশায় ভিনরাজ্যে কাজ করতে যান এই বাংলার শ্রমিকেরা। এবার ওড়িশায় কাজ করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মুর্শিদাবাদের শতাধিক বাসিন্দা। বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে বলে তাঁদের পাল্টা নির্যাতন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।

ওড়িশার ভদ্রক জেলায় ফেরিওয়ালার কাজ নিয়ে গিয়েছিলেন মুর্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জের বাসিন্দারা। প্রায় দু'দশক ধরেই ওই কাজ করে আসছেন তাঁরা। কিন্তু সম্প্রতি বিজেপি শাসিত ওড়িশায় হয়রানি ও শারীরিক নির্যাতনের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁদের। যার জেরে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা নিজের কাজকর্ম ছেড়ে ফের বাংলায় ফিরে আসতে হয়।

সম্প্রতি সইরুদ্দিন মোমিন, রকিবউদ্দিন মোমিন ও মনজরুল শেখ নামে তিনি পরিযায়ী শ্রমিক ভদ্রক ছেড়ে পালিয়ে আসেন সমসেরগঞ্জের মহিস্থলী গ্রামে। তাঁরা তিনজনেই গুরুতর আহত অবস্থায় এ রাজ্যে ফিরেছেন বলে জানা গিয়েছে। ওড়িশা ছেড়ে ফেরার আগে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান তাঁরা। জানা গিয়েছে, সম্প্রতি বিজেপি সমর্থকেরা ক্রিকেট ব্যাট নিয়ে চড়াও হন তাঁদের উপরে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
উই দ্য পিপল: পাতা উল্টে ভারত ভ্রমণ করায় যে বই

We The People Book Review: ভারতবর্ষ মানেই তথাকথিত ডিজিটাল মিডিয়া বা ডিজিটাল ইন্ডিয়া বা সোশ্যাল অ্যাটাচমেন্ট নয়।

সম্প্রতি এই সংক্রান্ত একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা যায়নি। ওড়িশার খাদগিরি থানার ডুমুডুমা রহমদ এলাকায় পশ্চিমবাংলা থেকে আসা ফেরিওয়ালাদের নিগ্রহ করা হচ্ছে বলে দেখা যায় সেখানে। ওই সব বাংলা থেকে কাজ করতে যাওয়া ফেরিওয়ালাদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।

ঠিক কী কারণে মারধর? জানা গিয়েছে, পশ্চিমবাংলা থেকে কাজ করতে যাওয়া ওই সব শ্রমিকদের বাংলাদেশি বলে কোণঠাসা করা হয়। এমনকী তাঁদের কাছ থেতে ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণ করার নথি পর্যন্ত দেখতে চাওয়া হয়। আর তা দেখাতে অস্বীকার করতেই তাঁদেরকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
১৬ জন পরিযায়ী শ্রমিককে পিষে মেরেছিল ট্রেন, রুটির টুকরোরা আজও জ্যান্ত

Migrant Labors Run Over By Goods Train: করোনার বিভীষিকা নয়, পণ্যবাহী ট্রেনের ধাক্কা নড়বড়ে করে দিয়েছিল সারা দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা এমন অনেক পরিবারকেই।

সাইরুল জানান, এক সন্ধ্যায় কয়েক জন এসে তাঁদের কাছ থেকে ওই কাগজ দেখতে চান। তাদের পরিচয় ও কেন কাগজ দেখাতে হবে, জানতে চাইতেই তাঁদের উপর চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা। চলে ব্যাট দিয়ে মারধর। তারপর তাঁরা ভদ্রক গ্রামীণ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তারা। প্রায় ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ওড়িশায় বিভিন্ন জিনিসপত্র ফেরি করছেন সাইরুল। মনজরুল জানালেন, কলকাতা থেকে বিভিন্ন প্লাস্টিকের জিনিসপত্র ও পোশাক বোঝাই করে ওড়িশার চরাম্পা গ্রাম ও তার সংলগ্ন গ্রামগুলিতে বিক্রি করতেন তাঁরা। প্রায় ১৫-২০ বছর ধরে এই কাজ করতেন তারা। সম্প্রতি ওই হামলার পরে প্রাণ বাঁচাতে এ রাজ্যে ফিরে আসেন তাঁরা।

মুর্শিদাবাদের ওই বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কিছু দিন আগে দুই ব্যক্তি তাঁদের কাছে গিয়ে একটি ভিডিও রেকর্ড করেন। হকারদের অভিযোগ, তাঁদের বাংলাদেশি বলে প্রচার করা হয়েছিল তার পর ফেসবুকে। সেই ভিডিও ছড়ানোর পরেই নানা ভাবে তাঁদের নিগ্রহের চেষ্টা করেন। তবে কেবল সাইরুল বা মনজরুলরাই নয়। প্রায় একশো জন পশ্চিমবাংলাবাসী রয়েছেন ভদ্রকে, যারা সাইরুলদের মতোই ওড়িশায় হকারি করে সংসারনির্বাহ করেন। তাঁদের বেশিরভাগই ভয়ে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন এই পরিস্থিতিতে।

শুধু সাইরুলরা নন। বীরভূমের নলহাটির এক বাসিন্দা যখন সাইকেলে করে কাপড় ফেরি করছিলেন, সেসময়ই তাঁকে ঘিরে ধরে বাংলাদেশি তকমা দেওয়া হয়। আরও একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেথানে দেখা যায় মুহাম্মদ আবুল কাশেম নামে এক প্লাস্টিক দ্রব্যের ফেরিওয়ালাকে মারধর করতে। তাঁদের ওড়িশা ছেড়ে চলে যাওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়। বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচার চলছে বলে মারধর শুরু হয় সেখানকার ওইসব অহিন্দু ফেরিওয়ালাদের, যারা আদতে পশ্চিমবাংলার বাসিন্দা। ঘটনাটি ইতিমধ্যেই পৌঁছেছে মুখ্যমন্ত্রীর কানে। আর তা শোনার পরেই ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করেন ক্ষুব্ধ মমতা। বিষয়টি নিয়ে হইচই পড়ে গিয়েছে মুর্শিদাবাদেও। জঙ্গিপুর লোকসভা আসনের তৃণমূল প্রার্থী খলিলুর রহমান এ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। ভদ্রকে ইতিমধ্যে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বলে ওড়িশা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে। ওই ঘটনায় স্থানীয় বিজেপি নেতা সায়ান পারিদাকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও খবর।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।