মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় রহস্য আবিষ্কার! ৩০,০০০,০০০,০০০ সূর্যকে গিলে খেতে পারে এই দানব!

The Biggest Black hole: একটি নক্ষত্রের মৃত্যু হলে একটি ব্ল্যাকহোল তৈরি হয়। আর এই ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বরের মাধ্যাকর্ষণ ক্ষেত্র অত্যন্ত বেশি।

inscript
২ মিনিট
মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় রহস্য আবিষ্কার! ৩০,০০০,০০০,০০০ সূর্যকে গিলে খেতে পারে এই দানব!

নক্ষত্রের মৃত্যু হলে জন্ম নেয় এক আঁধার। এই আঁধারের গর্ভ গিলে খেতে পারে সমস্ত কিছু। আমাদের যাবতীয় বেঁচে থাকা, যাবতীয় অস্তিত্ব এই অন্ধকার হাঁ মুখের কাছে শীতকালীন পর্ণমোচী বৃক্ষ। নক্ষত্রেরা মরতে মরতে সেই আঁধারকে করে তোলে বৃহৎ, যেমনই বৃহৎ যে সেসবের কোনও পরিমাপ কখনও সম্ভবই নয়। কথা হচ্ছে ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে। একটি নক্ষত্র যখন তার জীবনের শেষ দিকে চলে আসে, সেই নক্ষত্রের মৃত্যু ব্ল্যাকহোলের জন্ম দেয়। এই ব্ল্যাকহো মহাবিশ্বের সেই সর্বগ্রাসী রহস্য যার মধ্য দিয়ে আলো অবধি গলতে পারে না। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্ল্যাকহোলটি আবিষ্কার করেছেন। এই ব্ল্যাকহোল এতই বৃহৎ যে আমাদের সৌরজগৎ নেহাতই শিশু। এমন এক মিলিয়ন নয়, কয়েক বিলিয়ন সূর্যকে গ্রাস করতে পারে এই কৃষ্ণগহ্বর।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের আবিষ্কৃত বৃহত্তম ব্ল্যাকহোলগুলির মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে এইটি। এটি সূর্যের ভরের ৩০ বিলিয়ন গুণ বেশি বলে অনুমান করা হচ্ছে। সহজ করে বলতে গেলে দাঁড়ায়, এই ব্ল্যাকহোলটি ৩০ বিলিয়ন সূর্যকে নিমেষে গিলে খেতে পারে! অভাবনীয় হলেও, এই কারণেই এই নয়া কৃষ্ণগহ্বরটি এত রহস্যজনক।

গবেষকরা বলেছেন, মহাকর্ষীয় লেন্সিং ব্যবহার করে খুঁজে পাওয়া প্রথম ব্ল্যাকহোল এটি। এই বিষয়ক বিস্তারিত তথ্য রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির মাসিক নোটিশ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অসাধ্য সাধন বিজ্ঞানীদের! আলো যেখানে যায় না, সেই কৃষ্ণগহ্বরের ছবি এল প্রকাশ্যে

যে দু'টি ব্ল্যাক হোলের ছবি এখনও অবধি প্রকাশিত হয়েছে, তাদের দেখতে বিশেষ কিছু আলাদা না হলেও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে কিন্তু যথেষ্ট তফাত রয়েছে।

কৃষ্ণ গহ্বর কী?

একটি নক্ষত্রের মৃত্যু হলে একটি ব্ল্যাকহোল তৈরি হয়। আর এই ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বরের মাধ্যাকর্ষণ ক্ষেত্র অত্যন্ত বেশি, অভাবনীয় রকমের বেশি। যে কারণে মৃত নক্ষত্রের আলোকে আটকে রেখে তার মধ্যেকার ছোট্ট আগ্রাসী স্থানে চাপা পড়ে যায় সবকিছু। এই ব্ল্যাকহোলের মাধ্যাকর্ষণ এত শক্তিশালী হওয়াতে বস্তুটি ছোট্ট জায়গায় চাপা পড়ে। যেহেতু এই ব্ল্যাকহোল থেকে কোনও আলো বেরোতে পারে না তাই মানুষ ব্ল্যাকহোল দেখতে পায় না।

নাসার মতে, ব্ল্যাকহোলের দু'টি প্রধান শ্রেণি রয়েছে যা এযাবৎ ব্যাপকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি জুড়ে সূর্যের ভরের তিন থেকে কয়েক ডজন গুণ বেশি ভর বিশিষ্ট স্টেলার মাস ব্ল্যাকহোলগুলি ছড়িয়ে রয়েছে। বেশিরভাগ বড় গ্যালাক্সিগুলির কেন্দ্রস্থলে পাওয়া যায় ১,০০,০০০ থেকে বিলিয়ন সৌর ভরের বিশালাকার গহ্বরগুলি।

সবচেয়ে বড় ব্ল্যাকহোলের সন্ধান মিলল কীভাবে?

এই আবিষ্কারটি প্রায় দুই দশকের কাজের ফলাফল। ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী, প্রফেসর অ্যালিস্টার এজ প্রথম লক্ষ্য করেছিলেন বিষয়টি। ২০০৪ সালে একটি গ্যালাক্সি সমীক্ষার চিত্র পর্যালোচনা করার সময় একটি মহাকর্ষীয় লেন্সের এক বিশাল চাপ দেখতে পান। গবেষকদের দলটি মাধ্যাকর্ষণ লেন্সিং পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। এই বিশেষ পদ্ধতিতে, সামনের একটি গ্যালাক্সি আরও দূরবর্তী কোনও বস্তু থেকে আলোকে বাঁকিয়ে দেয় এবং ব্ল্যাকহোল খুঁজে বের করার জন্য সেটিকে ব্যবহার করে। হাবল স্পেস টেলিস্কোপ ব্যবহার করে, একটি গ্যালাক্সির ভিতরে ব্ল্যাকহোল আলোকে কীভাবে বাঁকানো হয় তা পরীক্ষা করার জন্য গবেষকরা সুপার কম্পিউটার সিমুলেশন ব্যবহার করেন।

বিভিন্ন ভরের ব্ল্যাকহোলের প্রতিটি সিমুলেশন সহ, মহাবিশ্বের মধ্য দিয়ে কয়েক হাজার বার ঘোরাফেরা করা আলোকেও নিরীক্ষণ করা হয়। গবেষকরা যখন তাদের একটি সিমুলেশনে এক আল্ট্রামাসিভ ব্ল্যাকহোলকে অন্তর্ভুক্ত করেন, তখন দূরবর্তী গ্যালাক্সি থেকে পৃথিবীতে পৌঁছনোর জন্য আলোর পথটি বাস্তব চিত্রগুলিতে দেখা পথের সঙ্গে মিলে যায়। গবেষকদের আশা, ভবিষ্যতে বড় আকারের টেলিস্কোপগুলি জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের আরও দূরবর্তী ব্ল্যাকহোলকে বুঝতে, জানতে সাহায্য করবে।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগে যে ভুলগুলি এড়ানো জরুরি

Stock Market Psychology: শেয়ারবাজারে একজন বিনিয়োগকারীর সবচেয়ে বড় সমস্যা অনেক সময় সে নিজেই। আজকের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক বাজারে এই পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ এখন সমস্যা তথ্যের অভাব নয়, বরং তথ্যের অতিরিক্ত প্রবাহ।

মহাবিশ্বকে বুঝতে গিয়ে সমাজকে ভুলে যাননি অশোক সেন

পিএইচডির প্রথম প্রায় তিন বছর তাঁর গবেষণায় কোনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতিই হয়নি। চারদিকে শুধু স্থবিরতা। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যেখানে এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন বা হতাশ হয়ে পড়েন, অশোক সেন তা করেননি।

মেষ নয়, হায়াডিস? ভ্যান গগের ‘স্টারি নাইট’ নিয়ে কী বলছে নতুন গবেষণা?

The Starry Night mystery: এর আগে দীর্ঘকাল ধরে ধারণা করা হতো যে ভ্যান গগের আঁকা ছবিটির উপরের অংশটি মেষ রাশির কোনো তারামণ্ডল। তবে, সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত 'দ্য অ্যাকচুয়াল স্কাই অফ ভ্যান গগস স্টারি নাইট: এ মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিঅকনস্ট্রাকশন' নামক গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, ভ্যান গগের ছবির কেন্দ্রীয় পাঁচ তারার বিন্যাস মেষ রাশির সঙ্গে নয়, বরং হায়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মেলে।

ডার্কওয়েবে SBI-র তথ্য ফাঁস, কতটা সুরক্ষিত আপনার সঞ্চয়? যা জানাচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞ

সন্দীপ সেনগুপ্তের পরামর্শ, যাঁদের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে আশঙ্কা রয়েছে, তাঁদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তিনি এমনকি ব্যাঙ্কে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর পরিবর্তন এবং নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার কথাও বলেছেন।

আইনস্টাইনের কাল্পনিক পরীক্ষা এবার বাস্তবে, কোয়ান্টাম জগতের কণা-তরঙ্গ রহস্যের কী হলো?

Einstein Bohr quantum debate: সম্প্রতি ১০০ বছর আগের আইনস্টাইনের সেই কাল্পনিক পরীক্ষাটি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না (USTC)-এর বিখ্যাত কোয়ান্টামবিজ্ঞানী জিয়ান-উই প্যান (Jian-Wei Pan) এবং তাঁর সহকর্মীরা ল্যাবরেটরিতে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?