শাহওয়াজ প্রধানমন্ত্রী, জারদারি প্রেসিডেন্ট! পাকিস্তানের হাল ফেরাবে জোট সরকার?

Shehbaz Sharif to be PM of Pakistan: শেষপর্যন্ত পাকিস্তানে সরকার গড়তে চলেছে জোট সরকারই। মঙ্গলবার রাতে বেনজির-পুত্রের সাংবাদিক বৈঠকেই তা সাফ হয়ে গিয়েছিল।

Sohini Das
৩ মিনিট
শাহওয়াজ প্রধানমন্ত্রী, জারদারি প্রেসিডেন্ট! পাকিস্তানের হাল ফেরাবে জোট সরকার?

আগেই প্রধানমন্ত্রীর দৌড় থেকে পিছিয়ে পড়ে ভাইকে জায়গা করে দিয়েছেন নওয়াজ শরিফ। প্রধানমন্ত্রী হলে হতে চলেছেন পাকিস্তান মুসলিম লিগ (নওয়াজ)-এর শাহওয়াজ শরিফ। তারপরেও পাকিস্তানের তখত শেষ পর্যন্ত কার দখলে যেতে চলেছে, তা নিয়ে সামান্য হলেও দোলাচল ছিলই। তবে সেই সংশয়ও কেটে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। কার্যত নিশ্চিত হয়ে গেল শাহবাজ শরিফের প্রধানমন্ত্রীত্ব।

পাকিস্তানের ভোটে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া সত্ত্বেও কার্যত সরকার গড়া থেকে ছিটকে গিয়েছেন ইমরান খান। শেষপর্যন্ত পাকিস্তানে সরকার গড়তে চলেছে জোট সরকারই। মঙ্গলবার রাতে বেনজির-পুত্রের সাংবাদিক বৈঠকেই তা সাফ হয়ে গিয়েছিল। পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাবল ভুট্টো জারদারি স্বয়ং জানিয়ে দিয়েছেন, পাকিস্তানে প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন শাহবাজ শরিফই। আগেই আঁচ মিলেছিল, পাকিস্তানে প্রেসিডেন্ট হতে চলেছে আসিফ আলি জারদারি। আর সেই গাঁটছড়া চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে পাকিস্তানে ইতিমধ্যেই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেন ভাই শাহবাজকেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পদে চাইছেন নওয়াজ শরিফ?

Pakistan General Election 2024: ভাই শাহবাজকেই গদি ছেড়ে দিলেন নওয়াজ শরিফ। মঙ্গলবারই পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ-এর সভাপতি শাহবাজ শরিফকে দেশের ভাবী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে মনোনীত করল দল।

গত প্রায় দুসপ্তাহ ধরে পাকিস্তানের মসনদে কে বসবে, তা নিয়ে টালমাটাল পরিস্থিতি চলছেই। এরই মধ্যে গত সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে আসার কথা জানান পাকিস্তানের তিন বারের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। বরং সেই ব্যাটন তিনি তুলে দেন ভাই শাহবাজের হাতেই। বয়সে নওয়াজ অবশেষে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি জানিয়েছেন, "দুই দলের কাছেই সরকার গড়ার মতো সংখ্যা রয়েছে।" এর পরই যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, আসিফ আলি জারদারি মনোনীত হবেন প্রেসিডেন্ট হিসেবে।

নওয়াজ শরিফের পিএমএল-এনের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে জোট সরকার গড়তে চলেছে পিপিপি। মঙ্গলবার রাতে এক পাশে শাহবাজ এবং অন্য পাশে বাবা আসিফ জারদারিকে নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিলাবল। সেখানেই তিনি পিএমএল-এনকে সমর্থনের কথা জানিয়ে দেন। পাশাপাশি, জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী হবেন শাহবা়জ় আর প্রেসিডেন্ট আসিফ জারদারি। শাহবাজের দল আসিফ জারদারিকে প্রেসিডেন্ট পদে সেখানেই সমর্থন জানিয়ে দেন। ঠিক যেমন বিলাবল শাহবাজকেই প্রধানমন্ত্রী মেনে নেন। বিলাবল বলেন, ‘‘পিপিপি এবং পিএমএল-এন প্রয়োজনীয় সংখ্যা জোগাড় করে ফেলেছে। এখন আমরা সরকার তৈরির জায়গায় পৌঁছে গিয়েছি।’’ এ কথায় সায় দেন পাশে বসে থাকা শাহবাজও। হবু প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, ইমরানের পিটিআই এবং সুন্নি ইত্তেহাদ কাউন্সিল প্রয়োজনীয় সংখ্যায় পৌঁছতে পারেনি, কিন্তু তাঁরা পৌঁছে গিয়েছেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইমরান-নওয়াজ জোর টক্কর! যে পথে এগোচ্ছে পাকিস্তানের গদির লড়াই

Pakistan election results: ভোটে দেদার কারচুপির নালিশ। পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন ৪০টি কেন্দ্রে ইতিমধ্যে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিয়ে দিয়েছে। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পুনর্নির্বাচন।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানে ভোটের ফল প্রকাশ হয়। তাতে দেখা যায়, পিএমএল-এন জিতেছে ৭৫টি আসন, পিপিপি পেয়েছে ৫৪টি আসন। আর সবাইকে পিছনে ফেলে দিয়েছিলেন ইমরানের দল পিটিআই সমর্থিত নির্দল প্রার্থীরা। তাঁরা জিতেছিলেন মোট ৯৩টি আসনে। এই ফলের জেরে কোনও দলই একক ভাবে সরকার গড়ার মতো অবস্থায় ছিল না। প্রাথমিক ভাবে দুই জোটসঙ্গীই দাবি করেছিল, তাঁদের পার্টির নেতাকেই প্রধানমন্ত্রী করতে হবে।সেই মতো নওয়াজ শরিফের দলের তরফে প্রস্তাব দেওয়া হয়, সরকারের প্রথম তিন বছরের জন্য প্রধানমন্ত্রী হন শাহবাজ শরিফ। পরের দুবছরের জন্য কুরসিতে বসবেন পিপিপি নেতা বিলাওয়াল। কিন্তু সেই প্রস্তাব পত্রপাঠ ফিরিয়ে দেন প্রয়াত বেনজির ভুট্টোর পুত্র। পরে অবশ্য বিলাওয়াল জানিয়ে দেন, "এইভাবে আমি প্রধানমন্ত্রী হতে চাই না। যদি প্রধানমন্ত্রী হতেই হয়, তাহলে পাকিস্তানের মানুষের ভোটে জিতে এসে হব।" কিন্তু মঙ্গলবার রাতে পরিষ্কার হয়ে গেল, পিপিপি এবং পিএমএল-এন জোট বেঁধে সরকার গড়তে চলেছে। এর পাশাপাশি মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট পাকিস্তান (এমকিউএম-পি) ১৭টি আসন নিয়ে জোটকে সমর্থনের কথা জানিয়ে দিয়েছে। ফলে ১৪৬ জন জয়ী সদস্যের সমর্থন নিয়ে পাকিস্তানের মসনদে বসতে চলেছেন শাহবাজ। অন্যদিকে আসিল আলি জারদারি সম্পর্কে বিলাওয়ালের মত, জারদারি প্রেসিডেন্ট হলে দেশের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি শান্ত হবে।

দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তির আগুনে পুড়ছে পাকিস্তান। বাজার আগুন, জিনিসপত্রের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। সব মিলিয়ে ভালো নেই পাকিস্তানবাসী। দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক অচলাবস্থা চলছে পাকিস্তান জুড়ে। জোট সরকার ক্ষমতায় এলে কি ফিরবে পাকিস্তানের হাল? বিশ্ববাসীর চোখ আপাতত সেদিকেই।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।