মিনারেল ওয়াটার নয়, বাজার ধরছে 'কালো জল'! স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী এই পানীয়?

Black Water: এই জলের মধ্যে ফুলভিক অ্যাসিড (এফভিএ) থাকে যা একে চারকোলের রঙ দেয়, যার জন্যই মূলত জলটির রং কালো হয়। জানা গেছে, এতে উপস্থিত খনিজ এবং ভিটামিন আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষভাবে উপকারী

Ahana Das
৩ মিনিট
মিনারেল ওয়াটার নয়, বাজার ধরছে 'কালো জল'! স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী এই পানীয়?

ইতিমধ্যেই ফিটনেস প্রেমীদের মধ্যে ব্ল্যাক ওয়াটার খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে উঠছে। এই ব্ল্যাক ওয়াটার বা যাকে আমরা বাংলায় বলি কালো জল সুস্বাস্থ্যের এক অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে। অনেকেই হয়তো মালাইকা অরোরা, শ্রুতি হাসানের মতো তাবড় সেলিব্রিটিদের হাতে কালো জলের এই বোতলটি আগেও দেখেছেন । সম্প্রতি জানা গেল যে ভারতীয় ক্রিকেট টিমের অধিনায়ক স্বয়ং বিরাট কোহলিও এই জল পান করা শুরু করেছেন। অতএব, একথা বলাই বাহুল্য যে জলটি নিতান্তই উপকারী। অনেকেই জানতে আগ্রহী যে, এই পানীয়টি কী দিয়ে তৈরি এবং এটি কীভাবে আমাদের স্বাস্থ্যের উপকার করতে সক্ষম।

ব্ল্যাক ওয়াটার, যাকে স্পোর্টস ড্রিংক বা এনার্জি ড্রিংকও বলা চলে, আসলে ক্ষারীয় জল। একটি পরীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, এই জল পিএইচ স্তর বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরে অম্লতার ভারসাম্য রক্ষা করে। এই জলের মধ্যে ফুলভিক অ্যাসিড (এফভিএ) থাকে যা একে চারকোলের রঙ দেয়, যার জন্যই মূলত জলটির রং কালো হয়। জানা গেছে, এতে উপস্থিত খনিজ এবং ভিটামিন আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষভাবে উপকারী। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা ডায়াবেটিস এবং কোলেস্টেরল সংক্রান্ত সমস্যায় সাহায্য করে। কেবল তাই নয়, শরীরের ওজন বজায় রাখতেও এর বিশেষ প্রভাব রয়েছে। এছাড়াও, এই জলের অণুগুলি বেশি পরিমাণ পুষ্টি ধরে রাখতে সক্ষম যার ফলে শরীর খুব তাড়াতাড়ি সেগুলি শোষণ করতে পারে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অচেনা ভিডিও কলে যৌন হাতছানি, সাড়া দিলেই বিপদ! কীভাবে সতর্ক হবেন, জেনে নিন

Video Chat Sex Trap: যৌনতার টোপ দেখিয়ে জালবন্দি করার ভূরি ভূরি উদাহরণ থাকলেও অনলাইনে এই ফাঁদ নাকি আতঙ্কের! কেন, কী ঘটছে?

তবে এত কিছুর পরেও ক্ষারীয় জল যে স্বাস্থ্যকর, তা বলা মুশকিল। কারণ ক্ষারীয় জলের উপকারিতা সম্পর্কে বিশেষ বৈজ্ঞানিক তথ্য বা প্রমাণ নেই। যদিও কিছু প্রবক্তার মতে, এটি আরও হাইড্রেটিং এবং অনাক্রম্যতার জন্য ভালো, যদিও এই সাপেক্ষে খুব কমই তথ্যসাপেক্ষ প্রমাণ রয়েছে। সুতরাং এই জল ব্যবহার করার আগে চিকিৎসক বা ডায়েটিশিয়ানের সঙ্গে পরামর্শ করে নেওয়া উচিত। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ এর কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কিনা তা যাচাই করা। যদি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া না থেকে থাকে, সেক্ষেত্রে চাইলে খেয়ে দেখাই যায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
শুধু নাবালিকা নয়, প্রতিদিন যৌন নিপীড়নের শিকার কত নাবালক, চমকে দেবে এই তথ্য

Minor Male Molestation: দুনিয়াজুড়ে স্বেচ্ছাসেবীরা মনে করছেন, নাবালকদেরও যৌন নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করতে কঠোর আইন প্রণয়ন করা উচিত।

অনলাইনে খুব সহজেই পাওয়া যায় এই জল। এমনকী এই কালো জল তৈরির জন্য একটি ভারতীয় ব্র্যান্ডও রয়েছে। কালো জলের ৫০০ মিলির ৬ টি বোতলের প্যাকেটের দাম ৫০০ টাকার একটু বেশি। বলা বাহুল্য, এটি দেশের সাধারণ মানুষের জন্য যথেষ্টই ব্যয় বহুল। জল একটি প্রাত্যহিক প্রয়োজনীয় পানীয়। প্রতিদিন আমাদের অন্তত ৩ থেকে ৫ লিটার জল খাওয়া উচিত। এই অবস্থায় প্রতিদিন প্রায় ১,০০০ টাকার বেশি দামের জল খাওয়া সাধারণ মানুষের ভাবনারও অতীত।

ব্ল্যাক ওয়াটারের এই গুণাবলী কিন্তু সার্বিকভাবে প্রমাণিত নয়। তা হলে প্রায় ২০০-২৫০ টাকা লিটার প্রতি খরচ করা কি আদৌ যুক্তিযুক্ত? এখন ব্ল্যাক ওয়াটার সেলেব্রিটি ট্রেন্ড। তবে আমাদের মতো দেশে এই ট্রেন্ড কতটা কার্যকর, ভেবে দেখা প্রয়োজন। কারণ দু’বেলা সুষম আহারই অনেকের জোটে না। এই জল অবশ্যই তাঁদের জন্য নয়। যাঁরা এই জল পান করার ক্ষমতা রাখেন, তাঁরা অত্যন্ত ধনী। কিন্তু খাবার থেকেও তাঁরা এই একই পুষ্টিগুণ পেতে পারেন। তার জন্য এই বিশেষ জলের প্রয়োজন কতটা, এই নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। এত বেশি সংখ্যক সেলেব্রিটিকে হঠাৎ করে এই ব্ল্যাক ওয়াটার খেতে দেখে তাই মনে হওয়া অস্বাভাবিক না যে এটি কোনও বিজ্ঞাপনের অংশ নয় তো!

কালো জল আসলে এক ধরনের ক্ষারীয় জল বা অ্যালকালাইন ওয়াটার। স্পোর্টস ড্রিঙ্ক বা এনার্জি ড্রিঙ্ক হিসেবেই ধরা হয় এই পানীয়কে। আসলে এর উপকরণের মধ্যে অন্যতম হল- ফ্লুভিক (FvA) অ্যাসিড। ফলে পানীয়ের রঙ কালচে দেখায়। রিপোর্ট বলছে, আমাদের শরীরের pH level নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম ব্ল্যাক ওয়াটার। সেই সঙ্গে এটাও দাবি করা হয়েছে যে, এর মধ্যে কিছু ভিটামিন ও মিনারেল আছে, যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। আসলে অ্যালকালাইন ওয়াটার বা ক্ষারীয় জলের উপযোগিতা সম্বন্ধে খুবই কম বৈজ্ঞানিক তথ্য আমাদের হাতে রয়েছে। তাই শরীরের জন্য এর উপকারিতা নিয়ে একটু সংশয় থেকেই যায়। তবে কিছু তথ্য থেকে জানা যায়, ক্ষারীয় জলে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা শরীরের ইমিউনিটির জন্য ভালো এবং শরীরকে হাইড্রেট করতেও সক্ষম। যদিও এটা নিশ্চিত ভাবে বলতে পারাটা একটু মুশকিল! কারণ এই বিষয়ে গবেষণার খুব অল্প তথ্যই আমাদের হাতে উঠে এসেছে। তাই কেউ যদি এই জল নিজেদের ডায়েটের তালিকায় যোগ করতে চান, তাহলে তাঁকে ডাক্তার অথবা ডায়েটিশিয়ানের সঙ্গে কথা বলে নিতে হবে। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কেমন অথবা কতটা খেতে হবে, এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞরাই ভালো বলতে পারবেন।

ভাদোদরার একটি স্টার্টআপ, Evocus নামক একটি ভারতীয় কোম্পানি প্রথম কালো ক্ষারীয় জলের ধারণা চালু করেছে। ব্ল্যাক ওয়াটারের একটি বোতলের দাম ১০০ টাকা যেখানে একটি সাধারণ মিনারেল ওয়াটার বোতলের দাম মাত্র ২০ থেকে ৪০ টাকা । ক্ষার ভিত্তিক জল তার অসংখ্য স্বাস্থ্য সুবিধার জন্য সেলিব্রিটিদের কাছে প্রিয়। ধীরে ধীরে এটি প্রচলিত হলেও এখনও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছয়নি, আর এর দামও সাধারণ মানুষের জন্য যথেষ্ট ব্যয় সাপেক্ষ। তাই যতদিন না এই জলের দাম কমছে ততদিন এর বিক্রিও সামান্য গণ্ডির মধ্যেই আবদ্ধ থাকবে।

লিখেছেন
Ahana Das
Ahana Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।