একটি ইঞ্জেকশনেই বছরভর কামাল! গর্ভনিরোধের যে সহজতম পথ আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের
Birth Control Injection: উল্লেখ্য, গর্ভনিরোধক ইমপ্লান্ট হচ্ছে মূলত একটি পাতলা এবং নরম রড যা ত্বকের নীচে বসানো হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে তা শরীরে গর্ভনিরোধক ওষুধ ছেড়ে দেয়।

একবার, একটি ইঞ্জেকশন। তাতেই চলবে বছরভর গর্ভনিরোধের কাজ! ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির ইঞ্জিনিয়াররা কিছু ওষুধের বেশি মাত্রা একেবারে দেহে প্রবেশ করানোর পথ আবিষ্কার করেছেন। তাও আবার প্রায় ব্যথাহীন উপায়ে! এই পদ্ধতিতে, বিশেষ করে গর্ভনিরোধক দেহে অনেকটা পরিমাণে প্রবেশ করানো যেতে পারে। সাধারণত অবাঞ্চিত গর্ভধারণ এড়াতে বারেবারে কন্ট্রাসেপ্টিভ বা গর্ভনিরোধক ওষুধের দরকার পড়ে মহিলাদের। এবার সেই কাজটিই হবে সহজে। এমআইটির গবেষকরা ছোট্ট ছোট্ট স্ফটিকাকার দ্রবণ হিসেবে এই ওষুধ ত্বকের নীচে প্রবেশ করাচ্ছেন। স্ফটিকগুলি দেহের মধ্যে ওষুধের 'ডিপো'-তে জমানো থাকে যা কয়েক মাস বা বছরভর ওখানেই ধরে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। ফলে ঘন ঘন ইঞ্জেকশন নেওয়ার আর দরকার পড়ে না। যেহেতু ওষুধগুলি দ্রবীভূত উপায়ে দেহের মধ্যে প্রবেশ করানো হয়, ফলে ছোট্ট একটা ইঞ্জেকশনেই কাজ হয়ে যায়, যা রোগীদের পক্ষে সহ্য করাও সহজ।
উন্নয়নশীল দেশগুলিতে গর্ভনিরোধকের বিকল্প বাড়ানোর জন্য গেটস ফাউন্ডেশনের আর্থিক সাহায্যে একটি প্রকল্পটি শুরু করা হয়েছিল। সেই প্রকল্পের অংশ হিসেবেই এই আবিষ্কার। গবেষকরা বলছেন, "এই আবিষ্কারের প্রধান লক্ষ্য হলো মহিলাদের বিভিন্ন গর্ভনিরোধক বিকল্প ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া যা ব্যবহার করা সহজ, যা উন্নয়নশীল দেশগুলিতে সহজে প্রযোজ্য এবং যেগুলির মেয়াদ শেষ হওয়ার সময়কালও ভিন্ন।"
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Women Heart Attack Symptoms: গবেষণা বলছে, হার্ট অ্যাটাকের এক মাস আগেই শরীর নানা সংকেত দেয়।
ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে দেওয়া যায় এমন দ্রবণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশে বিক্রি হয়। তবে এই ওষুধগুলি ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরে টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়ে, তাই খুব বেশি হলে তা মাত্র তিন মাস কার্যকর থাকে। তাই ইঞ্জেকশনে ভরে দেওয়ার মতো অন্যান্য ওষুধ তৈরি করা হয়েছে যা ত্বকের নীচে দীর্ঘস্থায়ী এক ডিপো তৈরি করতে পারে কিন্তু এগুলোর জন্য সাধারণত প্রসিপিটেটিং পলিমার যোগ করতে হয় যা দ্রবণের ওজন অনেকটা বাড়িয়ে দেয়। সেই দ্রবণ আবার ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে দেওয়া কঠিন এবং যন্ত্রণাদায়ক। তাই ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির বিশেষজ্ঞরা এমন একটি ওষুধ তৈরি করতে চেয়েছিলেন যা একটি ছোট সূঁচের মাধ্যমেই শরীরে প্রবেশ করানো যেতে পারে এবং যা কমপক্ষে ছয় মাস থেকে দুই বছর অবধি কার্যকর থাকবে। বিশেষজ্ঞরা লেভোনরজেস্ট্রেল নামে একটি জন্মনিয়ন্ত্রণ ওষুধের নিয়ে কাজ শুরু করেন। এটি একটি হাইড্রোফোবিক অণু যা স্ফটিক গঠন করতে পারে। গবেষকরা দেখেন যে, যদি এই স্ফটিকগুলি একটি নির্দিষ্ট জৈব দ্রাবকের মধ্যে ঢোকনো যায়, তবে তারা ইঞ্জেকশনের পরে খুব জুড়ে-জুড়ে থাকে। যেহেতু এই ধরনের ডিপো তৈরির জন্য প্রচুর পরিমাণে পলিমারের প্রয়োজন হয় না, তাই একটি সরু সূঁচ দিয়ে ওষুধটি সহজেই দেহে ঢোকানো যেতে পারে।
দ্রাবক হিসেবে ব্যবহার করা হয় বেনজিল বেনজয়েট। আগেও ইঞ্জেকশনযোগ্য ওষুধের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহৃত হয়েছে। গবেষকরা দেখেন, একবার ইঞ্জেকশন দিলে, স্ফটিকগুলি একটি ড্রাগ ডিপো গঠন করে। ডিপোর ঘনত্ব পরিবর্তন করে, গবেষকরা শরীরে ওষুধের অণু নির্গত হওয়ার হার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Anti-Aging Drug for Dogs: কোষের বৃদ্ধি এবং বার্ধক্যের সঙ্গে জড়িত ইনসুলিন-সদৃশ গ্রোথ ফ্যাক্টর ১ (IGF-1) হরমোন, কুকুর ছানাদের মধ্যে জীবনকালের তারতম্যে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
গবেষকরা ইঁদুরের মধ্যে একটি ওষুধের দ্রবণ ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে প্রবেশ করিয়ে পরীক্ষা করে দেখিয়েছেন যে ওষুধের ডিপোটি স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং ধীরে ধীরে তিন মাসের মধ্যে ওষুধটি দেহে ছড়িয়ে দিতে পারে। তিন মাস শেষ হওয়ার পরে দেখা যায় প্রায় ৮৫ শতাংশ ওষুধ ডিপোতেই রয়ে গেছে। তখন গবেষকরা বোঝেন, এই ওষুধ তিন মাসের ঢের বেশি সময়ের জন্য দেহে থাকতে পারে এবং তা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে।
এখানে উল্লেখ্য, গর্ভনিরোধক ইমপ্লান্ট হচ্ছে মূলত একটি পাতলা এবং নরম রড যা ত্বকের নীচে বসানো হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে তা শরীরে গর্ভনিরোধক ওষুধ নির্গত করে। প্রতিদিন একটি করে ওষুধ খাওয়ার সমস্যা থেকে বাঁচতে অনেকেই এই যন্ত্রটি বসান ছোট অস্ত্রোপচারের মধ্যমে। ইঞ্জেকশোনের মাধ্যমে ওষুধ প্রবেশ করালে সেই অস্ত্রোপচারের ঝামেলাও আর রইবে না। তাছাড়া তা দীর্ঘস্থায়ীও নয়। সেই সমস্ত সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে এমআইটির এই গবেষণা।






