প্রচ্ছদ কি আসলে এক চিত্রকর্ম? উত্তর দেবে শিল্পী সুবোধ দাশগুপ্তের অভাবনীয় যে কীর্তিরা

Subodh Dasgupta Illustration :সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস 'আত্মপ্রকাশ'-এ ভাঙাচোরা জ্যামিতিক মোটিফ ব্যবহার করে মানবী শরীর আত্মপ্রকাশ করে।

Soumen Pal
৪ মিনিট
প্রচ্ছদ কি আসলে এক চিত্রকর্ম? উত্তর দেবে শিল্পী সুবোধ দাশগুপ্তের অভাবনীয় যে কীর্তিরা

প্রচ্ছদ কি শুধু বইয়ের মলাট? সিনেমার পোস্টার কি শুধুই বিজ্ঞাপন প্রচারের কৌশলমাত্র? প্রচ্ছদ বা পোস্টারকে শিল্পকর্ম বলা যায় কিনা এই নিয়ে বহু যুগের তর্ক রয়েছে। শিল্প বাণিজ্যিক হলে তা শিল্প থাকে কিনা সেই নিয়েও তর্ক রয়েছে। তবে আকাদেমি অফ ফাইন আর্টসের ওয়েস্ট গ্যালারিতে গত ৮ থেকে ১৪ অক্টোবর সুবোধ দাশগুপ্তের নির্বাচিত শিল্পকর্মের যে প্রদর্শনী আয়োজিত হলো, তা এই তর্ক, এই প্রশ্নের অনেকখানি উত্তর দিয়ে দেয়। আকাদেমিতে কোনও চিত্রশিল্পী নয়, শুধুমাত্র অঙ্কনশিল্পী বা ইলাস্ট্রেটরের বাণিজ্যিক কাজের প্রদর্শনী সাধারণত দেখাই যায় না। এক্ষেত্রে সুবোধ দাশগুপ্তের ছকভাঙা ইলাস্ট্রেশনের মতোই তা চমকপ্রদ। প্রদর্শনীতে সুবোধ দাশগুপ্তের ইলাস্ট্রেশনরা কথা বলে, দর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। অমোঘ বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকতে বলে, ভাবতে বলে, "এভাবেও ভাবা যায়?"

গ্যালারিতে ঢোকার মুখেই ডানদিকে বা দু'দিকেই বইয়ের প্রচ্ছদ দিয়ে শুরু। সুবোধ দাশগুপ্তের করা অজস্র প্রচ্ছদের থেকে বাছাই করা শ'খানেক প্রচ্ছদ! দেখতে দেখতে শুধুমাত্র শিল্পভাবনা না, কিছু নস্টালজিয়াও আচ্ছন্ন করে দেয় মনকে। ভোলগা থেকে গঙ্গার দু'মলাট জুড়ে থাকা ছবি যেন গুহার দেওয়াল জোড়া প্রাগৈতিহাসিক ছায়াতে মানুষের অঙ্কনরীতিকে অনুসরণ করে বিবর্তনের কাহিনি। মাত্র দু' রঙে করা, রিভার্স গ্রাউন্ড থেকে সাদা বের করে এনে তাতে বই এবং লেখকের নাম সামান্য তেরছা করে রাখা। পাঠকের চোখ প্রথমেই চলে যায় বইয়ের নামে, প্রচ্ছদের মূল উদ্দেশ্য সাধিত হয় সেখানেই। প্রফুল্ল রায়ের নদীর মতো কভারে নদীর স্রোতের মতোই ভেসে চলে বইয়ের নাম, যেন নৌকা বা জলেরই অংশ।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস 'আত্মপ্রকাশ'-এ ভাঙাচোরা জ্যামিতিক মোটিফ ব্যবহার করে মানবী শরীর আত্মপ্রকাশ করে। এরকম অজস্র ছকভাঙা, বিমূর্ত অবয়ব দিয়ে গড়ে ওঠা প্রচ্ছদ চোখ আটকে দেয়। দেখিয়ে-শিখিয়ে-চিনিয়ে-পড়িয়ে দেয় উপন্যাস বা কবিতার মর্মগাথাকে, প্রথম দর্শনেই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
"থিও ভ্যান গঘ: ১৮৫৭-১৮৯১" - অচেনা বই, অচিন এক জীবনের খোঁজ

Theo Van Gogh Anirban Roy Book Review : বাংলায় ভ্যান গঘের জীবন নিয়ে বহু লেখা হলেও থিও-র জীবন নিয়ে কোনও এই প্রথম লেখা হলো।

সমরেশ মজুমদারের 'দৌড়', শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের 'কুবেরের বিষয় আশয়', 'বৃহন্নলা', মতি নন্দীর 'দ্বাদশ ব্যাক্তি', কৃষ্ণা দত্তর 'ইংলিশ চ্যানেল', কালকূটের 'নির্জন সৈকতে', বুদ্ধদেব বসুর 'তপস্বী ও তরঙ্গিনী' (কোণারকের চুম্বনরত মিথুন মূর্তির ব্যবহার, তার সঙ্গে বইয়ের নামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ক্যালিগ্রাফি), সমরেশ বসুর 'গঙ্গা' (ন্যারেটিভের সঙ্গে পুরাণ কাহিনির মেটামরফোসিস), আপ্টন সিনক্লেয়ারের অয়েলের তরলতা তৈলাক্ত লেটারিং, সংস্কৃত সাহিত্যসম্ভার, নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের 'পঞ্চাননের হাতি' (যেখানে হাতির শুঁড়ের মতোন পাকানো বিশাল বড় করে বইয়ের নাম লেখা), জ্যোতিরিন্দ্র নন্দীর শ্রেষ্ঠ গল্প, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের 'যাও পাখি'– প্রচ্ছদ বই বা লেখকের নাম বাদ দিয়েও মৌলিক শিল্পকলা বা পেইন্টিং হয়ে ওঠার দাবি রাখে। একজন বাণিজ্যিক শিল্পীর চোখ এবং ছাপার পদ্ধতির জ্ঞানের দক্ষতার মিশ্রণ এই অজস্র বাংলা বইয়ের প্রচ্ছদ- যা বেশিরভাগ সময়েই হারিয়ে যায়।

এরপর গ্যালারির চার দেওয়াল জুড়ে ঝুলতে থাকা ইলাস্ট্রেশনের দিকে চোখ যায়, ঢুকে পড়া যায় এক আশ্চর্য জগতে। পত্রিকায় দেখা গল্প বা উপন্যাসের সঙ্গে ইলাস্ট্রেশন আলাদা করে বড় মাপের ফ্রেমে বাঁধানো এক একটা ছবি। কী নিপুণ দক্ষতায়, ভাবনায়, বিভিন্ন মিডিয়াম ব্যবহার করে তা করা, সহজেই বোঝা যায়। আবারও ধরা পড়ে বাস্তবধর্মী ইলাস্ট্রেশনের সঙ্গে বিমূর্ত চিত্রায়নের দক্ষতা। গল্পের ইলাস্ট্রেশন দেখে মনে আসতে থাকে সেই কবেকার পড়ে আসা গল্পের কাহিনি, নস্টালজিয়ায় আচ্ছন্ন হতে হয়। আর এখানেই শিল্পীর সার্থকতা, তাঁর কাজের উত্তরণ।

একদম অন্যধারার, ছক ভাঙা কৌশলে, ভাবনায় সুবোধ দাশগুপ্তের এই অঙ্কনরীতি। নন্দগুপী লীলা মজুমদার সলিড কালোর ব্যবহার, ম্যাকের বাবা খ্যাঁকের লাইন, ক্রিসকস আর স্পিচ বাবল দিয়ে কাজ, পিকলুর সেই ছোটকায় ভারী আউটলাইনের ব্যবহার, সুশীল রায়ের রাজার ইলাস্ট্রেশনে মোটা ড্রাই ব্রাশের টানে আর সামান্য আঁচড়ে বিমূর্ততা কত সহজ সাবলীলভাবে বাস্তবে এনে ফেলা যায় তার প্রমাণ থেকে যায়। বজরার মোটা কাঠখোদাইধর্মী আঁকা, হঠাৎ আলো, বিমল করের সাইকেল চালানোর তুলি টেনে গতির চিত্রায়ন বা গঙ্গার ছবির সেই তুলির টানেই জলের গতি ইলাস্ট্রেটরের অপরিসীম দক্ষতা প্রমাণ করে। আর বাকরুদ্ধ হতে হয় যখন পুরো পাতার লে-আউট বা উপন্যাস, গল্পের শুরুর পাতার ছবির ফ্রেমের সামনে দাঁড়াতে হয়। এখানেই ইলাস্ট্রেটরের চরম কৃতিত্ব বা দক্ষতার পরিচয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এঁকেছিলেন সংবিধানেরও ছবি! সহজ পাঠের আড়ালে অজানা নন্দলাল বসু...

Nandalal Bose: কী এমন এঁকেছিলেন নন্দলাল, যা দেখে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন অবনীন্দ্রনাথ?

দেশ ১৯৬৮-তে নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের 'দোসর', দেশ ১৯৬৫-তে প্রতিভা বসুর 'অর্কেস্ট্রা', শারদীয়া আনন্দবাজার পত্রিকায় ১৯৬২-তে বিমল করের 'গগনের অসুখ', দেশ ১৯৬৩-তে রাজলক্ষ্মী দেবীর 'তোমার অনুমতি নিয়ে'-তে সাদা স্পেস এবং চরিত্র আর গল্পের নামের কোণাকুণি প্লেসমেন্টের ভারসাম্য দেখার মতো কাজ।

রঙিন কাজ, বিশেষ করে ছোটদের জন্য করা ছড়ার ইলাস্ট্রেশনে রঙের সামান্য মার্জিত ব্যবহার চোখ আটকে রাখে অথচ তা আবার ছোটদের মনেও কল্পনাকে বাস্তবায়িত করে।

অসামান্য কিছু মাস্টহেড বা গল্পের হেডপিসের মধ্যে চমকে দেয় 'অধিকাংশ ড্রাইভারই মাতাল' (অনন্যা ১৯৫৮)। শুধুমাত্র লাইনে কয়েকটা গাড়ি একে অপরের মধ্যে দিয়ে ওভারল্যাপ করে যায়- মাতালের চোখের দেখার মতোই। ফ্লিন্ট স্ট্রিটের গল্পের লাইটপোস্টে নামলিপি, মার্কিন-নামাতে টুপির মধ্যে লেখা নাম, হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়ের 'অস্থি', অজয় দাশগুপ্তের 'হাওয়া' এরকম আরও অনেক অনেক মনকাড়া কাজ।

সঙ্গে বাড়তি পাওনা রঙিন কাজ সিনেমার প্রচারপত্রের কভার, লে-আউট- 'অনুষ্টুপ ছন্দ' এবং 'রাজদ্রোহী'। দুটো প্রচ্ছদের লোগোধর্মী লেটারিংয়ে নামলিপি এবং নায়ক নায়িকার মুখের ছবির প্লেসমেন্ট, রঙ ব্যবহার চমৎকৃত করে।

সুবোধ দাশগুপ্তের এই নির্বাচিত শিল্পকর্মের প্রদর্শনী চোখ খুলে দেয়। ইলাস্ট্রেশনকে অন্যভাবে দেখার-বোঝার-শেখার জন্য বাণিজ্যিক চিত্রকর্মও যে শিল্পের উচ্চতায় উঠতে পারে তা প্রমাণ করে। প্রমাণ করে, প্রয়োগ নৈপুণ্যতার দক্ষতায় এবং প্রকাশনা শিল্পের, ছাপার জগতের কৌশলের সুষ্ঠু ব্যবহারে শিল্পকে নতুন করে চেনার অবকাশ রয়ে গেছে এখনও। এটাই শিল্পীকে মনে রেখে দেবার অধিকার আমাদের। অজস্র ধন্যবাদ শিল্পীর পরিবারকে, যারা অপরসীম মমত্ত্ব এবং শ্রদ্ধায় তাঁর কাজকে এত যত্ন করে সাজিয়ে সুন্দর করে দর্শকদের কাছে উপস্থাপিত করেছেন।

লিখেছেন
Soumen Pal
Soumen Pal
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।