নিঃশব্দে যে যায় লাল পতাকা মুড়ে... বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য যা শিখিয়ে গেলেন বাংলাকে

Buddhadeb Bhattacharjee Death: বুদ্ধদেব প্রকাশ্য সভায় নিজের দিকে আঙুল তুলে বলেছিলেন, গুলি চালানোর ওই ঘটনার জন্য তিনিই দায়ী।

Madhurima Dutta
৫ মিনিট
নিঃশব্দে যে যায় লাল পতাকা মুড়ে... বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য যা শিখিয়ে গেলেন বাংলাকে

‘আমরা ২৩৫, ওরা ৩০!’ এই একটি কথাতেই বোঝা গেছিল দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে থাকতে চরম কমিউনিস্ট নেতাও একদিন 'শাসক' হয়ে ওঠেন। নিজেকে ক্রমাগত ভাঙাগড়ার মধ্যে দিয়েই যেতে হয় একজন সাম্যবাদীকে। শ্রেণিচেতনার কথা বলতে গিয়ে ফাঁকতালে কোথাও অন্দরে শ্রেণি তৈরি হয়ে যাচ্ছে কিনা, তা প্রতিক্ষণ ছাঁকনিতে দেখে নিতে হয়। বুদ্ধদেব যখন ২৩৫ টি আসনের গর্ব করেছিলেন, সেই ফাঁকেই তৈরি হয়ে গেছিল রাজ্যে ক্ষমতাবদলের আলপথ। আলপথ ক্রমে চওড়া হতে হতে গিলে নেয় বামেদের সাজানো লাল বাগিচা। অথচ বুদ্ধদেব তো স্বপ্ন দেখেছিলেন, স্বপ্ন দেখাতে চেয়েছিলেন। এমন এক স্বপ্ন, যে স্বপ্ন সারা বাংলা তারপর থেকে আর দেখলই না। ২০১১ সালে কে ভেবেছিল শিক্ষা-চাকরি সবটাই বাতিলের খাতায় চলে যাবে এই রাজ্যে? কে ভেবেছিল হকের চাকরি চাইতে লড়তে হবে শিক্ষিত মানুষকে? কে ভেবেছিল, রাজ্যে চাকরি না পেয়ে শ'য়ে শ'য়ে যুবক-যুবতী প্রতিবছর চলে যাবে ভিনরাজ্যে, ভিনদেশে? বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের হাত ধরেই বাম শাসনের ইতি ঘটেছিল এই রাজ্যে। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য প্রয়াত। শুধু একটি প্রশ্ন থেকে গেছে, ভুল স্বপ্ন দেখেছিলেন, নাকি ভুল পথে স্বপ্ন দেখেছিলেন বাম নেতা?

বুদ্ধদেবের সাদা ধুতি পাঞ্জাবীতে রক্তের দাগ খুঁজতে খুঁজতে গঙ্গা দিয়ে বহু জল বয়ে গেল। প্রতিটি নির্বাচনে বামেরা ক্রমেই ক্ষয়িষ্ণু হতে হতে শূন্যে এসে ঠেকেছে। বাংলার রাজনীতিতে দুর্নীতি সহজ শব্দ হয়ে উঠেছে ক্রমে। বামপন্থা সোশ্যাল মিডিয়ার স্টেটাসে আটকে গিয়েছে। চাকরি, শিক্ষা, রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, হাসপাতাল নিয়ে আজকাল বিশেষ কেউ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিও দেন না। যারা দেন তারা ক্রমেই বাতিলের খাতায়। এমন একটা পর্যায়কে নিজের চোখের সামনেই গড়ে উঠতে দেখেছেন বুদ্ধদেব। দীর্ঘদিন ধরে মূল রাজনীতি থেকে তিনি সরে গেছেন। অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হয়েছেন। দীপ নিভেছে। বাংলা তাঁকে ডাকছে রাজনীতির 'শেষ ভদ্রলোক' নামে! ভদ্রতাকে রাজনীতি থেকে বাদ দিয়ে ভাবতেই এই ১৫ বছরে শিখে গিয়েছে মানুষ। বুদ্ধদেবের প্রয়াণে একটা আস্ত প্রজন্মের বেড়ে ওঠার বড় অধ্যায়ে তালা পড়ল।

তৎকালীন প্রেসিডেন্সি কলেজে বাংলা অনার্স নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ভ্রাতুষ্পুত্র। প্রথম থেকেই যে রাজনীতিতে ঝোঁক ছিল তা নয়। তবে বামপন্থী পরিবারে বেড়ে ওঠাতে বাম সংস্কৃতি বুদ্ধদেবের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। বাম-মনস্ক ছাত্র ছিলেন বুদ্ধদেব কিন্তু সরাসরি দলীয় কর্মী ছিলেন না। ১৯৬২ সালে ভারত-চিন যুদ্ধের পর ১৯৬৪ সালে সিপিআই (ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি) ভেঙে সিপিএম বা ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) তৈরি হয়। ১৯৬৬ সালে বুদ্ধদেব সিপিএমের সদস্য হন। মূলত দলীয় পত্রপত্রিকা সম্পাদনা এবং লেখালিখির দায়িত্ব নিয়েছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। সেই সময়টা বাংলার রাজনীতি বড়ই অস্থির। সিপিআই-সিপিএম ভাঙন তো বটেই, নকশাল আন্দোলনও মাথাচাড়া দিচ্ছে। সশস্ত্র সংগ্রাম নাকি ধীর বিপ্লব, এই দ্বন্দ্বে ভাঙছে দল। তরুণ-যুবাদের দল ভাগাভাগি হয়ে যাচ্ছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
৪০০ স্কোয়ার ফিটের ফ্ল্যাটে জীবন কাটল বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের, সততার সহজপাঠ ছিল হাতের কাছেই

Buddhadeb Bhattacharjee: পশ্চিমবঙ্গের আদ্যন্ত `ভদ্রলোক মুখ্যমন্ত্রী’র কথা কি বেশি করে মনে পড়ছে না রাজ্যবাসীর?

এমন সময়েই, ষাটের দশকের শেষের দিকে ভারতের গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশনের (ডিওয়াইএফআই) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদক হন বুদ্ধদেব। খাদ্য আন্দোলনে অংশ নেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রচারেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ক্রমেই বামপন্থী বুদ্ধিজীবীদের বৃত্তে যাতায়াত বাড়ে। এই সময়টাতেইই পোক্ত হয় বাংলার সংস্কৃতির চেতনার ভূমি। এরপর সিপিএমের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সদস্য হন বুদ্ধদেব। জীবনের প্রথম নির্বাচনেই জিতেছিলেন। ১৯৭৭ সালে কাশীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ভোটে দাঁড়িয়ে বিধায়ক হন। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮২ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মন্ত্রিসভায় তথ্য ও জনসংযোগ দফতরের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তবে ১৯৮২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হেরে যান বুদ্ধদেব। পরে ১৯৮৭ সালে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে জিতে আবারও তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী হন। ১৯৮৭ সাল থেকেই যাদবপুর ছিল তাঁর বিধানসভা কেন্দ্র। ২০১১ সালে তাঁকে হারিয়ে এই কেন্দ্র জিতে নেন তৃণমূলের মণীশ গুপ্ত। ২০১৬ সালে বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী এই আসনে আবার জেতেন। তবে ২০২১ সালে তা ফের জেতেন তৃণমূলের দেবব্রত মজুমদার।

এই বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যই নব্বইয়ের দশকের গোড়ায় জ্যোতি বসুর মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। তৎকালীন তথ্য ও সংস্কৃতি সচিবের সঙ্গে মনোমালিন্য হয়েছিল তাঁর। পরে অবশ্য আবার মন্ত্রিসভায় ফিরে এসেছিলেন তিনি। তথ্য সংস্কৃতির পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকও সামলেছেন বুদ্ধদেব। পুলিশ দফতরও পরিচালনা করতেন তিনি। ১৯৯৯ সালের জানুয়ারিতে জ্যোতি বসুর সরকারের উপমুখ্যমন্ত্রী হন বুদ্ধদেব। ২০০০ সালের ৬ নভেম্বর বুদ্ধদেব পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হন।

২০০৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪ টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ২৩৫টি আসনে জেতে বামফ্রন্ট। যে কথাটিই তিনি বলেছিলেন ২০১১ সালে। কে জানত, ২৩৫ থেকে শূন্য হয়ে যেতে সময় লাগবে না মোটেও! শিল্পায়নের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন বুদ্ধদেব। সিঙ্গুরে টাটা গোষ্ঠীর এক লক্ষ টাকার ন্যানো গাড়ির কারখানার প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন। বুদ্ধদেব বলেছিলেন, "কৃষি আমাদের ভিত্তি, শিল্প আমাদের ভবিষ্যৎ"। বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেস এই শিল্পায়নকেই ইস্যু করে। সিঙ্গুরে জমি পরিদর্শনে গিয়ে গ্রামবাসীদের বিরোধিতার মুখে পড়েন টাটার প্রতিনিধিরা। রাজ্যের ভিত্তি ও ভবিষ্যৎ নাড়িয়ে দেয় সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলন। ওই জমিতে কারখানার কঙ্কাল দাঁড়িয়ে আছে আজও। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামে কারখানা হলে কী কী হতো, কারখানার বদলে কী কী হলো আর কেউই প্রশ্ন করে না। এখন নন্দীগ্রাম বিজেপির দলবদলু নেতা শুভেন্দুর গড়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না শুভেন্দু কার দখলে থাকবে এই অঞ্চল তাই নিয়েই যত তর্ক। সিঙ্গুরে টাটাদের গাড়ি কারখানা হয়নি। রতন টাটা সিঙ্গুর থেকে চলে যান গুজরাতে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাংলার রাজনীতির শেষ 'ভদ্রলোক'! প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য

Buddhadeb Bhattacharjee Death: বৃহস্পতিবার সকালেও প্রাণ ছিল তাঁর, প্রাতঃরাশও করেছিলেন। তারপরেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এই বাম নেতা।

২০০৭ সালের ১৪ মার্চ নন্দীগ্রামে গুলি চালায় পুলিশ। সংঘর্ষে নিহত হন ১৪ জন গ্রামবাসী। এই ছিল শেষের শুরু! ২০০৮-এর পঞ্চায়েত ভোটেই বোঝা গেছিল হাওয়া আর বামেদের পালে নেই। পঞ্চায়েত ভোটেই পূর্ব মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদ দখল করে তৃণমূল। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে ২৭টিতে হেরে যায় বামফ্রন্ট। ১৯টি আসন জেতে বিরোধী তৃণমূল। স্পষ্ট হয়ে যায়, হাওয়া বদলাচ্ছে। দলবদলের হিড়িক পড়ে। আর এই সময়কালে তৃণমূল লাগাম ছাড়েনি একটুও। ২০০৭ সালের ইস্যুকে বাঁচিয়ে রেখে ২০১১ সালে রাজনৈতিক পাশা পাল্টে দেয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দল।

গুলি না চললে কি এই দিন দেখতে হতো বুদ্ধদেবকে? এই দিন দেখতে হতো আজীবন বামপন্থায় বিশ্বাস করা অজস্র মানুষদের? বুদ্ধদেব সেই রাজনীতিক, যিনি সত্যকে স্বীকার করতে ভয় পাননি। বুদ্ধদেব প্রকাশ্য সভায় নিজের দিকে আঙুল তুলে বলেছিলেন, গুলি চালানোর ওই ঘটনার জন্য তিনিই দায়ী। দুঃখপ্রকাশ করেছিলেন তিনি। তবে পাশাপাশি এও বিশ্বাস করতেন, সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্তরে কিছু ভুলভ্রান্তি হয়েছিল কিন্তু সেইজন্য শিল্পায়নের পথ থেকে সরে আসা উচিত নয়। তবে ততদিনে পাল্টে গেছে সরকার। জমি আন্দোলনকে সামনে রেখে নিজের শাসক রূপ প্রকাশের পথ প্রশস্ত করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের আমলে বামেদের পতন মেনে নিতেন পারেননি বুদ্ধদেব। লহমায় নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন মূল ধারার রাজনীতি থেকে। শুধু মন নয়, শরীরও ভেঙে যায় তাঁর।

তবে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরেও দু’বেলা আলিমুদ্দিনের দলীয় দফতরে আসতেন পড়াশোনা করার জন্য। এসব ঘটনা অবাক ঠেকে এখন। পড়াশোনার সঙ্গে রাজনীতিবিদদের যে সম্পর্ক থাকাটাই অবাস্তব, শাসকদলই মোটামুটি তা প্রমাণ করে দিয়েছে। শুধু রাজ্য কেন, দেশ জুড়েই তা প্রমাণিত। দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হওয়া, শ্বাসকষ্টের সমস্যায় আলিমুদ্দিনে এই নিবিড় পাঠও বন্ধ হয়ে যায় বুদ্ধদেবের। শেষ বার তাঁকে জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল ২০১৯ সালে বামফ্রন্টের ব্রিগেড সমাবেশে। নিজের ছোট্ট বাড়িতে যেন সেঁধিয়ে গেছিলেন ক্রমেই। সেই ছোট্ট বাড়িতে থেকেই চলেও গেলেন এই নেতা। সেই নেতা যার কাঁধে আস্ত শাসন পতনের গ্লানি লেগে আছে। সেই নেতা যাকে শুনতে হয়েছে নন্দনপ্রেমী 'এলিট' হয়েই সর্বনাশ ঘটিয়েছেন দলের। সেই নেতা, যাকে ঢের পরে রাজনীতিতে আসা শিশুও সমালোচনা করে বলেছে তিনি বামশাসন পতনের 'কালপ্রিট'। দেহটুকু দান করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী হয়েও ৪০০ স্কোয়ার ফিটের ফ্ল্যাটে থেকেছেন। এখন সদ্যনেতাদের ২২ লাখের গাড়ি, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং! বুদ্ধদেব প্রমাণ করেছেন, কমিউনিজম একটা জীবন আদর্শ। কেউই কমিউনিস্ট হতে পারে না হয়তো, স্রেফ আজীবন চেষ্টা করে যেতে পারে। বুদ্ধদেব চেষ্টা করে গেলেন, আজীবন। বহু যুগ পরে যদি কোনও নব্য যুবক, সদ্য যুবতী লিও সাওচি নেড়ে হাউ টু বি আ গুড কমিউনিস্ট হতে চায়, বুদ্ধদেব নিশ্চয়ই তাঁদের দেখে ভরসা পাবেন।

লিখেছেন
Madhurima Dutta
Madhurima Dutta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এআইয়ের বাড়বাড়ন্তে বিপদে চিনের কমিউনিস্ট পার্টি?

AI Threat to China’s Communist Party: এআই শুধু প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ বদলাবে, নাকি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও রাজনীতিতেও তৈরি করবে নতুন সংকট? কেন চিনের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্তা এআইকে কমিউনিস্ট পার্টির ক্ষমতার জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখছেন? বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হাতে এআই গেলে কী ধরনের বিপদ তৈরি হতে পারে? আর কেন শি জিনপিং এআইকে মানুষের নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা বলছেন?

টোকিওর জিম্বোচো: বইয়ের শহরে পাঠকের খোঁজে

Tokyo book market: কফিহাউজ যেমন কলেজস্ট্রিটের প্রাণকেন্দ্র, তেমনই জিম্বোচোতে রয়েছে একাধিক কিস্‌সাতেন—শান্ত নিঝ্‌ঝুম কফির দোকান। এর মধ্যে সবচেয়ে পুরনো কিস্‌সাতেনের নাম সাবোরু।

জার্মানিতে ফের যেভাবে বাড়ছে নাৎসি রাজনীতির ছায়া

AfD Rise in Germany: জার্মানিতেই এখন আবার এমন একটি রাজনৈতিক শক্তি দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে, যার বক্তব্যে অভিবাসীবিরোধিতা, জাতিগত জাতীয়তাবাদ, ইসলামবিদ্বেষ এবং ‘জার্মান পরিচয়’ রক্ষার নামে বহিষ্কারের রাজনীতি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। দলটির নাম অলটারনেটিভ ফর জার্মানি বা এএফডি।

পেপার চাই, মান পরে: শিকারি জার্নালের বাজার তৈরি করে কে?

Predatory Journals: ইউজিসি-র ২০১৬ সালের বিধিতে থিসিস জমা দেওয়ার আগে অন্তত একটি রেফার্ড জার্নালে পেপার প্রকাশ বাধ্যতামূলক ছিল। ২০২২ সালে নতুন পিএইচডি বিধি এনে আগের নিয়ম খারিজ করা হয় এবং থিসিস জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশ জুড়ে পেপার প্রকাশের সেই বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তবু নিয়ম বদলালেই কি বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের ‘প্রকাশ করো, নইলে মরো’ (publish or perish) সংস্কৃতি রাতারাতি বদলে যায়?

গাজার মানুষ থাকবে গাজাতেই, স্বাধীন প্যালেস্টাইনের পক্ষে দিল্লি ঘোষণাপত্র

BRICS Delhi Declaration: দিল্লিতে শেষ হওয়া ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাধীন, সার্বভৌম ও কার্যকর প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে সমর্থন জানানো হয়েছে। সেই রাষ্ট্রের ভিত্তি হবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ১৯৬৭ সালের সীমারেখা। গাজা ও পশ্চিম তীরকে সেই ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে ধরে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করার কথাও বলা হয়েছে।

ব্রিকস সম্মেলনে ভারত কী পেল, কী পেল না?

BRICS Summit 2026: ২০২৬ সালের ব্রিকস সম্মেলন থেকে ভারত ঠিক কী পেল? কূটনীতি, বাণিজ্য, ডিজিটাল প্রযুক্তি, সন্ত্রাসবাদ ও গ্লোবাল সাউথের নেতৃত্বের ক্ষেত্রে ভারতের কতটা লাভ হলো? চিনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির জটিলতার মধ্যে কোন কোন ক্ষেত্রে ভারত নিজের অবস্থান শক্ত করতে পারল, আর কোন প্রত্যাশাগুলি পূরণ হলো না?

জেন-জির হাত ধরে যেভাবে বদলে যাচ্ছে রাজনীতির মানচিত্র

Gen Z politics: ‘জেন-জি’ (Gen Z) সমাজমাধ্যমকে শুধু আড্ডা বা ছবি দেওয়ার জায়গা হিসেবে দেখেনি; বরং শাসকের অন্যায়, সামাজিক বৈষম্য আর রাজনৈতিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রধান হাতিয়ার বানিয়ে নিয়েছে।

নাগা সন্ন্যাসীরা কি শুধুই ধর্মীয় তপস্বী ছিলেন? ইতিহাস কী বলছে?

History of naga sadhus: প্রয়াগরাজের শাহী স্নানে ছাইমাখা নাগা সন্ন্যাসীরা আজও লক্ষ ভক্তের ভিড়ে প্রথম ডুব দেন। কিন্তু এই জটাজুটের আড়ালে লুকিয়ে আছে রক্তপাত, টাকা, ভূমি-রাজনীতি, দাসত্ব আর সাম্প্রদায়িক হিংসার দীর্ঘ ইতিহাস। অনুপগিরি গোসাঁই থেকে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কুম্ভমেলা দখল—উইলিয়াম পিঞ্চ ও ধীরেন্দ্র ঝার গবেষণায় উঠে এসেছে, ইতিহাসের সেই অজানা অধ্যায়।