মোদির মন্ত্রিসভা ৩.০ তৈরি! মন্ত্রিত্বে কারা? পদ খোয়ালেন কারা?
Modi 3.0 Cabinet: এই বারের ভোটে কিংমেকার ছিল এনডিএ জোটের শরিকদলগুলিই। সমর্থনের বিনিময়ে একাধিক মন্ত্রী পদ ও প্রতিমন্ত্রীর পদের জন্য আবদার জানিয়ে রেখেছিল তাদের নেতারা? কতটা সাধপূরণ হল তাঁদের?

দেশের ১৮তম লোকসভা ভোটে জিতে ফের তৃতীয় দফায় সরকার গড়েছে এনডিএ। সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও ২৪০টি আসন জিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গাতেই ছিল গেরুয়া শিবির। তবে জোটের প্রতি নির্ভর করতে হয়েছে বিজেপিকে। কারণ সরকার গড়ার জন্য যে সংখ্যা তাদের দরকার, তা একার কাছে ছিল না বিজেপির। ফলে এনডিএ জোটের শরিকদলগুলির উপর নির্ভর করা ছাড়া অন্য কোনও উপায় ছিল না তাদের কাছে। শরিকদলের সমর্থন নিয়ে রবিবার রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন নরেন্দ্র মোদি। সঙ্গে শপথ নেন আরও ৭১ জন।
দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর নজির ছুঁয়ে তৃতীয়বারের জন্য মসনদে বসলেন নরেন্দ্র মোদি। সমর্থন দেওয়ার বিনিময়ে একগুচ্ছ দাবিদাওয়া জানিয়েছিল শরিক দলগুলি। রবিবারই মোটামুটি বোঝা হয়ে গিয়েছিল কারা কারা থাকতে চলেছে মোদির মন্ত্রিসভায়। তবে কে কোন কোন পদ পেতে চলেছে, তা তখনও জানা যায়নি। শরিকদলগুলির ভাগেও বা কোন কোন পদ পড়তে চলেছে, সেদিকেও নজর ছিল সকলের।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Modi 3rd Term: সোমবার কৃষি সম্মান নিধির ফাইলে সই করার পরে প্রধানমন্ত্রী মোদি জানিয়েছেন, "দায়িত্ব নেওয়ার পরে প্রথম যে সই করলাম সেটা কৃষক কল্যাণের জন্য। আমরা কৃষকদের জন্য আরও বেশি করে কাজ করতে চাই।
অবশেষে সোমবার ঘোষণা হয়ে গেল মোদির মন্ত্রিসভা 3.O। কে কে রইলেন কোন পদে? কোন কোন চেনা মুখকে একই পদে দেখা গেল? স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে যথারীতি থাকছেন অমিত শাহ আর রাজনাথ সিং। অর্থমন্ত্রকের দায়িত্ব থাকছে নির্মলা সীতারমনের কাঁধেই। নীতিন গডকড়ির পাচ্ছেন সড়ক পরিবহণের দায়িত্ব। মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান পাচ্ছেন কৃষি এবং গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রকের ভার। যথারীতি বিদেশমন্ত্রক থাকছে এস জয়শঙ্করের দায়িত্বেই। এবার মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ জেপি নড্ডা। তিনি পাচ্ছেন স্বাস্থ্য, জনকল্যাণ এবং রাসায়নিক ও সার মন্ত্রকের দায়িত্ব। গৃহ ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রক ও শক্তি মন্ত্রক যাচ্ছে মনোহরলাল খট্টরের কাছে। পীযূষ গয়াল পাচ্ছেন শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রক। ধর্মেন্দ্র প্রধানের কাছে থাকছে শিক্ষা মন্ত্রক। অসমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল বহাল রয়েছেন বন্দর, নৌপরিবহণ ও জলপথের দায়িত্বে।
অশ্বিণী বৈষ্ণবের কাছে রইল রেল, তথ্য় সম্প্রোচার, ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক। জ্য়োতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার কাছে থাকছে যোগাযোগ মন্ত্রক এবং উত্তরপূর্ব আঞ্চলিক উন্নয়নের ভার। গিরিরাজ সিং পাচ্ছে বস্ত্র মন্ত্রক, অন্নপূর্ণা দেবী এতদিন মোদি মন্ত্রিসভার প্রতিমন্ত্রী থাকলেও এবার তিনি পাচ্ছেন পূর্ণ মন্ত্রীর পদ। নারী ও শিশুকল্যাণের দায়িত্বে থাকছেন তিনি। পার্লামেন্টরি অ্যাফেয়ার্স এবং সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রকের দায়িত্ব থাকছে কিরেন রিজিজুর হাতে। হরদীপ সিং পুরী পাচ্ছেন পেট্রোলয়াম ও ন্যাচারাল গ্যাসের মন্ত্রক। মনসুখ মালব্যের কাছে থাকছে লেবার অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট, এবং যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া মন্ত্রক।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
New Modi Government Ministers: বাংলা থেকে মাত্র ২ জন মোদির মন্ত্রসভায় ঠাঁই পেয়েছেন তাও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে। শান্তনু ঠাকুর আর সুকান্ত মজুমদার।

এই বারের ভোটে কিংমেকার ছিল এনডিএ জোটের শরিকদলগুলিই। সমর্থনের বিনিময়ে একাধিক মন্ত্রী পদ ও প্রতিমন্ত্রীর পদের জন্য আবদার জানিয়ে রেখেছিল তাদের নেতারা? কতটা সাধপূরণ হল তাঁদের? মোদি মন্ত্রিসভার কোন কোন জরুরি পদ পেলেন তাঁরা। যত দূর জানা যাচ্ছে, জনতা দল (সেকুলার)-র নেতা এইচ ডি কুমারস্বামীকে দেওয়া ভারী শিল্প ও ইস্পাত মন্ত্রকের দায়িত্ব। হিন্দুস্থানী আওয়াম মোর্চার নেতা জীতন রাম মাঝিকে দেওয়া হল মাইক্রো, স্মল ও মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজের মন্ত্রক। জনতা দল ইউনাইটেড অর্থাৎ নীতীশের দলের সাংসদ রাজীব রঞ্জন সিং ওরফে লালন সিংকে দেওয়া হয়েছে পঞ্চায়েতি রাজ, মৎস্য, পশুপালন ও ডেয়ারি মন্ত্রকের দায়িত্ব। অন্যদিকে শরিকদলের অন্যতম লোক জনশক্তি পার্টির প্রধান চিরাগ পাসওয়ানকে দেওয়া হয়ে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ মন্ত্রকের ভার। মোদির মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন তেলেগু দেশম পার্টির রাম মোহন নাইডুও। রাষ্ট্রীয় লোক দলের সহ-সভাপতি জয়ন্ত চৌধুরীও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে জায়গা পেয়েছেন মোদির মন্ত্রিসভায়। রিপাবলিকান পার্টি অব ইন্ডিয়া (অটওয়ালে)-র সভাপতি রামদাস অটওয়ালেও স্থান পেয়েছেন মন্ত্রিসভায়। জেডিইউয়ের রামনাথ ঠাকুরও তালিকায় রয়েছেন। তবে তাঁরা মন্ত্রিত্ব পাননি। পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রীর পদ।
প্রতিমন্ত্রীর পদে আরও একাধিক সাংসদ জায়গা পেলেও মোটামুটি মোদির মন্ত্রিসভা দেখতে এমনটাই। এবারের কিংমেকার নীতীশ ও চন্দ্রবাবু নাইডু দু'জনেই বেশ চড়া দাবি জানিয়ে রেখেছিলেন বিজেপির কাছে। কতটা সাধ মেটাতে পারল তাদের বিজেপি? যে যে দফতরের দায়িত্ব তাঁরা পেলেন, তাতে কি খুশি তাঁরা? নাকি তাঁদের ক্ষোভ ঘুরিয়ে দিতে পারে খেলা? সেই প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে শেষপর্যন্ত।






