আরজি কর: ধৃত সন্দীপদের হেফাজতে নিতে চাইছে সিবিআই! নেপথ্যে কোন কারণ?

CBI on Sandip Ghosh: গ্রেফতারের পরেও কেন সন্দীপের মতো চাঁইকে নিজের হেফাজতে নিতে চাইছে না সিবিআই? স্বাভাবিক ভাবেই এ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ে গিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

inscript
৩ মিনিট
আরজি কর: ধৃত সন্দীপদের হেফাজতে নিতে চাইছে সিবিআই! নেপথ্যে কোন কারণ?

আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার সিবিআই তদন্তভার হাতে নিলেও তেমন কোনও অগ্রগতি দেখা যায়নি তদন্তে এখনও। দুর্নীতি মামলায় আরজি কর কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ-সহ চার জনকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। তবে তাদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য কোনও রকম আবেদন করতে দেখা যায়নি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে। বরং তার বদলে ওই চার জনের আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজত চাওয়া হয়। কিন্তু গ্রেফতারের পরেও কেন সন্দীপের মতো চাঁইকে নিজের হেফাজতে নিতে চাইছে না সিবিআই? স্বাভাবিক ভাবেই এ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ে গিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

আদালতে সন্দীপদের নিজেদের হেফাজতে চাওয়া না নিয়ে সিবিআই আদালতে ভর্ৎসনার মুখেও পড়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি। মঙ্গলবার আলিপুর সিবিআই আদালতে শুনানির সময় দেখা যায়, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে দুর্নীতি মামলায় ধৃত একজনকেও নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য আবেদন করেনি সিবিআই। কার্যত এদিন ধৃত সন্দীপ ঘোষ, বিপ্লব সিনহা, আফসার আলি এবং সুমন হাজরাকে আদালতে পেশ করার পরে সিবিআইয়ের তরফে জানানো হয়, যে ইলেকট্রনিকস গ্যাজেট বাজেয়াপ্ত হয়েছে, সেগুলি থেকে আরও তথ্য সংগ্রহ করতে চায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। যে প্রক্রিয়ার জন্য কিছুটা সময় লাগবে। তাই এখন সন্দীপ-সহ চারজনকে নিজেদের হেফাজতে চাইছে না। পরবর্তীতে দরকার হলে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আরজি কর: ফরেন্সিক নমুনা সংগ্রহে গাফিলতি? কতটা ক্ষতি করতে পারে তদন্তের?

RG Kar Case: ফরেন্সিক নিয়ম বলছে, মৃত ব্যক্তির ও সন্দেহভাজনদের দেহ থেকে সংগ্রহ করা তরল রক্তের নমুনা চার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতে অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হয়, আরজি করের ক্ষেত্রে তা করা হয়েছিল কি আদৌ?

আপাতত ওই চার অভিযুক্তের জন্য আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজত চেয়েছে সিবিআই। এদিন সিবিআইয়ের আইনজীবী আদালতে জানান, আমরা বাকি ৭ দিনের সিবিআই হেফাজতের জন্য পরবর্তীতে আবেদন করব। তাঁর যুক্তি, ইতিমধ্যেই ডিজিটাল এভিডেন্স ক্লোনিং করার আবেদন করা হয়েছে। সেটা সময়সাপেক্ষ। তাই সেই রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত জেলে রাখা হোক। তাঁর আরও দাবি, ন্যায় সুরক্ষা সংহিতা মেনেই এভাবে আবেদন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের কাছে বাকি ৭ দিন খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই সেই রিপোর্ট এলেই আবার হেফাজতের জন্য আবেদন করা হবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সুপ্রিম কোর্টের কাজের ফেরার নির্দেশকে মানছেন না জুনিয়র ডাক্তাররা! কী দাবি তাঁদের?

RG Kar Junior Doctor Protest: সুপ্রিম কোর্টের কাজে ফেরার নির্দেশকে মানছেন না চিকিৎসকরা। নতুন করে আন্দোলন কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেছে জুনিয়র ডাক্তারদের সংগঠন।

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে আদৌ কি এভাবে ভেঙে ভেঙে অর্থাৎ দিন বদলে বদলে হেফাজতে নেওয়া সম্ভব? যদিও ভারতীয় ন্যায় সুরক্ষা সংহিতার ১৮৭ ধারার ২ উপধারা অনুযায়ী তদন্তকারী সংস্থার কাছে এই সুবিধা রয়েছে। প্রয়োজন হলে ১৪ + ৬০ দিনের হিসাবে হেফাজতে নেওয়া যেতে পারে। সেই স্বাধীনতা সিবিআইয়ের হাতে অবশ্যই রয়েছে।

এদিন শুনানি চলাকালীন একাধিক বিস্ফোরক দাবি করেছেন আদালতে সিবিআইয়ের আইনজীবী। তিনি জানিয়েছেন, জেরায় কন্ট্রাক্ট-এর গরমিলের বিষয়টি কিছুতেই পরিষ্কার করছেন না ধৃত সন্দীপ ঘোষ অর্থাৎ আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ। পাশাপাশি আইনজীবী এ-ও জানান, তদন্তে প্রচুর নথি মিলেছে। আমরা আরও কিছু লোকের যোগ পাচ্ছি যারা সন্দীপের সঙ্গে যুক্ত। মোবাইল, ল্যাপটপ, হার্ড ডিস্ক বাজেয়াপ্ত হয়েছে। সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর তার জন্যই তদন্তকারীদের বেশ কিছুটা সময় প্রয়োজন। ওই সব তথ্য হাতে পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণ জোগাড় করতে সুবিধা হবে বলেই দাবি করা হয়েছে।

আর এই মধ্যের সময়টুকু সাময়িক ভাবে সন্দীপ ঘোষ-সহ বাকি ধৃতদের জেল হেফাজতে রাখার দাবি করেছে সিবিআই। আইনজীবী জানান, নথি ও ডিজিটাল এভিডেন্সের রিপোর্ট এলেই ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য আবেদন করা হবে। এদিন ধৃতদের জেল হেফাজতের মেয়াদ কমানোর জন্য আদালতে আবেদন করতে দেখা যায় সন্দীপ ঘোষের আইনজীবীকে। তবে গ্রাহ্য হয়নি সেই আর্জি। ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সন্দীপ-সহ ৪ ধৃতকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশই দিয়েছে শেষপর্যন্ত আলিপুরের বিশেষ সিবিআই আদালত। সেক্ষেত্রে ওই চার জনকে প্রেসিডেন্সি জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।