২০২৪ সালে আপনি কাকে ভোট দেবেন, গোপন তথ্য আগেভাগেই বলে দিচ্ছে চ্যাটজিপিটি?

ChatGPT Election Prediction: মানুষের আর দরকারটা কোথায়? ভাবনা, চিন্তা? যা আর্টিফিশিয়াল পারে না? সাম্প্রতিক একটি গবেষণা বলছে, চ্যাটজিপিটি সেটাও খানিক পারে।

inscript
৩ মিনিট
২০২৪ সালে আপনি কাকে ভোট দেবেন, গোপন তথ্য আগেভাগেই বলে দিচ্ছে চ্যাটজিপিটি?

মানুষ পারে অথচ ChatGPT পারে না, এমন কাজের সংখ্যা আগামীতে ঠিক কতয় দাঁড়াবে হিসেব করে বলা যাচ্ছে না। ChatGPT-র মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি আপাতদৃষ্টিতে কোড লেখা, সঙ্গীত রচনা, এমনকী এমন সব ছবি তৈরি করছে যা দেখে এক ঝলকে মনে হবে পেশাদার ফটোগ্রাফারদের তোলা। ChatGPT ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, মানুষ পারে এমন প্রায় ২০ খানা পেশার কাজ সে একাই করে দিতে পারে। তাহলে মানুষের আর দরকারটা কোথায়? ভাবনা, চিন্তা? যা আর্টিফিশিয়াল পারে না? সাম্প্রতিক একটি গবেষণা বলছে, চ্যাটজিপিটি সেটাও খানিক পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই ভাষা মডেল একজন প্রকৃত মানুষের মতোই জটিল প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে।

সমীক্ষা ভিত্তিক গবেষণায় মানুষের বিকল্প হিসাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের সম্ভাবনা নির্ধারণ করতে, BYU-তে রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং কম্পিউটার বিজ্ঞানের অধ্যাপক ও স্নাতক পড়ুয়াদের একটি দল একটি GPT-3 ভাষা মডেলের প্রোগ্রাম করা অ্যালগরিদমের যথার্থতা পরীক্ষা করে। এই ভাষা মডেল মানুষের ধারণা, দৃষ্টিভঙ্গি এবং মানুষের সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটের মধ্যেকার জটিল সম্পর্ককে অনুকরণ করে।

একটি পরীক্ষায়, গবেষকরা AI দিয়ে জাতি, বয়স, মতাদর্শ এবং ধর্মীয়তার মতো নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে কৃত্রিম ব্যক্তিত্ব তৈরি করেন। তারপর চালানো হয় এক অদ্ভুত পরীক্ষা! পরীক্ষা করে দেখা হয় যে, ২০১২, ২০১৬ এবং ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মানুষ যেমন ভোট দিয়েছিলেন, তেমনই কৃত্রিম এই ব্যক্তিরা ভোট দেবেন কিনা। আমেরিকান ন্যাশনাল ইলেকশন স্টাডিজের (ANES) তথ্য ব্যবহার করা হয়েছিল এই গবেষণায়। গবেষণাতে দেখা যাচ্ছে এআই এবং মানুষের ভোট দেওয়ার মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পশু চিকিৎসকরা ব্যর্থ! পোষ্য কুকুরের রোগ নির্ণয় করল চ্যাটজিপিটি

ChatGPT Vet: বর্তমানে GPT-4 দ্বারা চালিত, ChatGPT ইতিমধ্যেই দাবি করেছে প্রায় খান বিশেক পেশার কাজ সে একাই করে ফেলতে পারে।

দুই তরফের এতখানিই মিল যা দেখে একেবারে হতবাক গবেষকরাও! বিওয়াইইউ-এর কম্পিউটার বিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং গবেষণার সহ-লেখক ডেভিড উইনগেট জানাচ্ছেন, বিষয়টা এত আকর্ষণীয় কারণ এই ভাষা মডেলটিকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়ানো বা এই বিষয়ে প্রশিক্ষিত করা হয়নি। ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করা একশো বিলিয়ন শব্দের পাঠ্যের উপর ভিত্তি করেই এই ভাষা মডেলকে প্রশিক্ষিত করা হয়েছে। কিন্তু গবেষকরা যে ধারাবাহিক তথ্য পেয়েছেন তাতে এত নিখুঁতভাবে বলা হয়েছে যে মানুষ কে কীভাবে ভোট দিয়েছেন, তা রীতিমতো তাজ্জব করছে!

অন্য একটি পরীক্ষায়, গবেষকরা এআই দিয়ে তৈরি করা কৃত্রিম ব্যক্তিদের একটি সাক্ষাত্কার ভিত্তিক সমীক্ষায় বিকল্পগুলির তালিকা থেকে প্রতিক্রিয়া জানাতে বলে, এক্ষেত্রেও ফের ANES ব্যবহার করা হয়েছিল। আর তাতেও অবাক হওয়ার পালা, মানুষ এবং এআই-এর প্রতিক্রিয়ার মধ্যে বিশেষ ফারাক নেই!

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সৃজনশীল মানুষ আর বুদ্ধিমান মেশিনের লড়াই! ঠিক কতটা এগিয়ে ChatGPT?

ChatGPT4: GPT-4-এর এই ব্যতিক্রমী ক্ষমতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিনোদন এবং ব্যবসার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগণিত সম্ভাবনা তৈরি করে ফেলেছে।

বিষয়টি গবেষক, বাণিজ্যিক ক্ষেত্রের মানুষ এবং নির্বাচন গবেষকদের ক্ষেত্রে বেশ সম্ভাবনাময়। গবেষকরা এমন একটি ভবিষ্যতের কল্পনা করছেন যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সমীক্ষার আরও ভালো প্রশ্ন তৈরি করা যায়, সেগুলোকে আরও সহজলভ্য করা যায় এবং পরিমার্জিতও করা যায়। এটি সমীক্ষা, স্লোগান এবং ট্যাগলাইনগুলিকে মানুষের কাছে আরও বেশি করে পৌঁছতেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

AI মানুষকে আরও ভালোভাবে বুঝতে গবেষকদের সাহায্য করতে পারে, বলেছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ইথান বাসবি। তাঁর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষকে প্রতিস্থাপন করছে না বরং মানুষকে আরও বেশি করে জানতে সাহায্য করছে তাঁদের। মানুষের কাজ প্রতিস্থাপন নয়, বরং মানুষের ক্ষমতা বৃদ্ধি করছে এআই।

বৃহৎ এই ভাষা মডেলগুলির সম্ভাবনা স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহলজনক। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই উত্থান অনেকগুলি প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে, যার মূল নির্যাস হচ্ছে– এআই আসলে কতটা জানে? কোন জনগোষ্ঠী এই প্রযুক্তি থেকে উপকৃত হবে এবং কোনটি নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হবে? কীভাবে মানুষ সেই প্রবঞ্চক এবং প্রতারকদের থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করতে পারে যারা আরও পরিশীলিত 'স্ক্যাম' তৈরি করতে AI-কে ব্যবহার করতে পারে?

এখনই এত প্রশ্নের সদুত্তর মিলবে না। তবে এই বিষয়টি স্পষ্ট যে, ভাষা মডেলগুলি ভুল হতেই পারে এবং কখনও কখনও সেগুলি পক্ষপাতদুষ্টও হতে পারে। ফলে কৃত্রিম ব্যক্তিদের সমীক্ষা করে নিলেই আসল তথ্য পুরোপুরি মিলে যাবে বা প্রকৃত মানুষদের সমীক্ষা করার, তাঁদের ভাবনা চিন্তা জানান প্রয়োজন আর পড়বে না- এমনটা না।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?

৩ অগাস্ট থেকে বদলে যাচ্ছে শেয়ার বাজারের নিয়ম!

Stock Market India: নতুন ব্যবস্থার অধীনে শেয়ার বাজার বন্ধের সময়কে তিনটি আলাদা অংশে ভাগ করা হয়েছে। তবে নন-এফএন্ডও (Non-F&O) স্টকগুলির ক্ষেত্রে আগের মতোই বিকেল ৩:৩০টা পর্যন্ত স্বাভাবিক লেনদেন চালু থাকবে, এতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। কিন্তু এফএন্ডও স্টকগুলির ক্যাশ মার্কেটে প্রতিদিন একটানা লেনদেন চলবে বিকেল ৩:১৫ মিনিট পর্যন্ত।

আইআইটি-র দুই প্রাক্তনীর বৈদ্যুতিক কৃষিযন্ত্রে একরপ্রতি খরচ মাত্র ৪০ টাকা

Electric Power Tiller: বাজারে যেসব ট্র্যাক্টর পাওয়া যায়, তা হয় বিশাল বড় জমির উপযোগী, না হয় কেনা ও চালানো দুটোই খুব ব্যয়বহুল। ভারতে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ কৃষকের জমিই ছোট ও খণ্ড-বিখণ্ড, যেখানে বড় যন্ত্র ঢোকানোই সম্ভব নয়। আবার চিন থেকে আমদানি করা ছোট ছোট সস্তা মেশিনগুলিতে যন্ত্রাংশ ও সার্ভিসিংয়ের চূড়ান্ত সমস্যা তৈরি হয়। তাই বিদেশ থেকে আমদানির কথা না ভেবে, আইআইটি বোম্বের দুই প্রাক্তনী ঐশ্বর্য রামকৃষ্ণন ও কেদার গোখলে সিদ্ধান্ত নেন খাঁটি দেশীয় প্রযুক্তিতে ভারতের মাটির উপযোগী সমাধান তৈরি করার।

মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও উষ্ণ থাকে সোনাম ওয়াংচুকের বাড়ি

Sonam Wangchuk House: সোনম ওয়াংচুক মানেই পাহাড়ঘেরা লাদাখের ছবি, বরফে ঢাকা জীবন আর নতুন এক ভাবনার আলো। পেশায় তিনি একজন প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ এবং উদ্ভাবক। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে তিনি যেন রূপকথার সেই মানুষটি, যিনি পাহাড়ের রুক্ষ জীবনের কঠিন সমস্যাগুলিকে বিজ্ঞানের সহজ ছোঁয়ায় অত্যন্ত সহজ করে তুলেছেন।

মহাকাশে মিলল চিনির সন্ধান, কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আবিষ্কার?

natural sugar in space: ছায়াপথের কেন্দ্রের একটি আণবিক মেঘে প্রথমবারের মতো প্রকৃত মনোস্যাকারাইড ‘এরিথ্রুলোজ’-এর সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কার জানাচ্ছে, নক্ষত্র ও গ্রহ তৈরির আগেই মহাকাশে জটিল জৈব অণু তৈরি হতে পারে। ফলে পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি এবং মহাবিশ্বে জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে গবেষণার আগ্রহ বেড়েছে।

কর্মদক্ষতা মাপল এআই, চাকরি হারালেন কর্মীরা? মেটার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলা

Meta mass layoffs: কর্মীদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নেবে? মেটার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় অভিযোগ, এআই-নির্ভর মূল্যায়নের কারণে মাতৃত্বকালীন ও চিকিৎসাজনিত ছুটিতে থাকা কর্মীরা অন্যায্যভাবে চাকরি হারিয়েছেন।