Climate Change: বদলাচ্ছে পৃথিবীর আকৃতি, যে ভয়াবহ বিপদের মুখে আমরা

Climate change: এই যে জলবায়ুর সামগ্রিক পরিবর্তন, তার ফলে নাকি ক্রমশ বদলে যাচ্ছে পৃথিবীর আকার। এমনকী দিনের দৈর্ঘ্য নাকি ক্রমশ বাড়ছে।

Sohini Das
৩ মিনিট
Climate Change: বদলাচ্ছে পৃথিবীর আকৃতি, যে ভয়াবহ বিপদের মুখে আমরা

মানুষ নিজেদের প্রয়োজনে পৃথিবীর রূপ-রস-বায়ু নিংড়ে নিয়েছে। তার বদলে পৃথিবীকে কার্যত ভরিয়ে দিয়েছে দূষণে, বর্জ্যে। আর তার বদলা যেন সুদে আসলে তুলছে প্রকৃতি। গত কয়েক বছরে লাগাতার বাড়ছে বিশ্ব উষ্ণায়ন। যা অন্যতম একটি কারণ বিশ্ব জুড়ে জলবায়ু পাল্টে যাওয়ার। লাগাতার পরিবেশ দূষণ থেকে শুরু করে প্রাকৃতিক সম্পদকে ক্রমাগত খরচ করে ফেলার মতো আরও অজস্র কারণ রয়েছে অবশ্য তার পিছনে। যা ইতিমধ্যেই টের পেতে শুরু করেছে মানুষ।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ আগেও ছিল। তবে গত কয়েক বছরে তা যেন পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। কখনও ভূমিকম্প এসে ধ্বংস করে দিচ্ছে গোটা শহর, কখনও বা এলাকার পর এলাকার বানভাসি হচ্ছে। সম্প্রতি ভূমিধসে কেরলের ওয়েনাড়ে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৯৩ জনের। এখনও পর্যন্ত আড়াইশো জনকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে। কতজন এখনও আটকে তার ইয়ত্তা নেই। গত বছরই ভয়াবহ ভূমিকম্পের মুখে পড়েছিল তুরস্ক। যার বলি হয় প্রায় ২৪ হাজার মানুষ। চলতি বছর হজ করতে গিয়ে প্রচণ্ড গরমে মৃত্যু হয়েছে হাজার হাজার হজযাত্রীর। এমনকী প্যারিস অলিম্পিকেও গরমের জেরে বিপাকে পড়েছেন বহু প্রতিযোগী। একের পর এক পাহাড়ি এলাকায় ধস, হিমাচলপ্রদেশ থেকে শুরু করে উত্তরাখণ্ড, এমনকী সিকিমের মতো ভারতের একাধিক এলাকাও প্রকৃতির কোপে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মৃত ৪৭, ধ্বংসস্তূপে আটকে ৫০০-রও বেশি! কেরলে কীভাবে ঘটল ভয়াবহ ভূমিধস?

Kerala Landslide: ভূমিধসে কারা নিখোঁজ, কারা মারা গেছেন এই নিয়ে সম্পূর্ণ তথ্যই এই মুহূর্তে নেই প্রশাসনের কাছে।

এ বছর এল নিনোর দাপটে গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ঘূর্ণাবর্ত, ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কাও। ক্রমাগত এক চরম আবহাওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা। গত জুন, জুলাই মাসকে ইতিহাসের সবচেয়ে গরমতম সময় বলে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। অতিরিক্ত গরমের জেরে গলে যাচ্ছে বিশ্বের হিমবাহগুলি। একের পর এক জায়গা প্লাবিত করে সমুদ্রের জল বাড়ছে ক্রমশ। এমনকী তাপমাত্রা বাড়ছে সমুদ্রের ভিতরেও। যার ফলাফল ভুগছে সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও প্রাণীগুলিও। এখানেই শেষ নয়, এই যে জলবায়ুর সামগ্রিক পরিবর্তন, তার ফলে নাকি ক্রমশ বদলে যাচ্ছে পৃথিবীর আকার। এমনকী দিনের দৈর্ঘ্য নাকি ক্রমশ বাড়ছে। পৃথিবীর সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার যে নির্ধারিত সময়, তা-ও পাল্টে পাল্টে যাচ্ছে। এমনটাই জানা গিয়েছে সাম্প্রতিকতম রিপোর্টে।

এই যে লাগাতার পাল্টে যাওয়া জলবায়ু, তার নেপথ্যে কিন্তু রয়েছে মানুষেরই হাত। তেমনটাই মনে করেন বিজ্ঞানীমহল। চলতি বছরের গত ১৫ জুলাই ন্যাশনাল একাডেমি অফ সায়েন্সেস (PNAS) জার্নালে একটি সমীক্ষা প্রকাশিত হয়, যেখানে পৃথিবীর স্বাভাবিক আহ্নিক ও বার্ষিক গতির উপরে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এই গবেষণার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আর এই বদলের কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা তুলে ধরেছেন, মেরু অঞ্চল বিশেষত গ্রিনল্যান্ড ও আন্টার্কটিকায় বরফ গলে যাওয়াকেই দুষেছেন বিজ্ঞানীরা। পৃথিবী জুড়ে গ্লোবাল ওয়ার্মিং বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সব অঞ্চলগুলিতে বরফের ক্ষয়ে যাচ্ছে দ্রুত। যার ফলে এই নীল গ্রহের ভরবণ্টনের বিষয়গুলি অনেকটাই পাল্টে গিয়েছে। আর এই যে অতিরিক্ত জল, তা জমছে বিষুবরেখার কাছে। আর সে কারণেই পৃথিবীর মাঝের অংশটি বেশি ফুলে যাচ্ছে। আর তার প্রভাবেই পৃথিবীর সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার গতি কমে যাচ্ছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভয় দেখাচ্ছে গরমের লাল চোখ! যে ভাবে ১০০ বছরে আমূল বদল প্যারিস অলিম্পিকে

Paris Olympics 2024: ১৯২৪ সালের ক্রস কান্ট্রি রেসের দিন প্যারিসের ওই এলাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৪ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। রেকর্ড বলছে, ২০২৪ সালের অলিম্পিক নাকি ভয়ঙ্করতম গরমের সাক্ষী হতে চলেছে।

নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির ভূ-পদার্থবিদ সুরেন্দ্র অধিকারী জানাচ্ছেন, মেরু অঞ্চল থেকে বিষুবরেখায় ভরের পুনর্বণ্টনের কারণে দিনের দৈর্ঘ্যও বেড়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে চাঁদের মহাকর্ষীয় টান ও পৃথিবীর তলগেশে গলিত শিলার জায়গা পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর দিনগুলি প্রতি শতাব্দীতে কয়েক মিলিসেকেন্ড করে বেড়ে যাচ্ছে। আর এই পরিবর্তন হচ্ছে বেশ দ্রুত।

প্রতি চার বছর অন্তর ফেব্রুয়ারি মাসে আমরা একটা করে দিন লিপইয়ার হিসেবে পাই। সেই বছরগুলোতে ফেব্রুয়ারি মাস ২৯ দিনের। আসলে পৃথিবী যে সূর্যের চারপাশে ঘুরছে, তার সঙ্গে আমাদের ক্যালেন্ডার ও ঘড়িকে এক সুতোয় রাখতে গিয়েই বেড়ে যায় ওই দিন। বাড়তে থাকে লিপ সেকেন্ড। যে ভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দ্রুত পৃথিবীর ঘূর্ণনের গতিতে পরিবর্তন আসছে, তাতে সেই সমস্ত নিয়ম নতুন করে কেচে গণ্ডুষ করার সময় এসে গিয়েছে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, এই ভাবে চলতে থাকলে ২১ শতকের শেষের দিকে গিয়ে পৃথিবী-চাঁদের গতিশীলতায় বড়সড় পরিবর্তন ঘটবে, আর তার প্রভাব হাড়ে হাড়ে বুঝবে মানুষ।

এতদিন জানা যেত, পৃথিবীর আকার ঠিক গোল নয়, অনেকটা চ্যাপ্টা কমলালেবুর মতো। খুব শিগগিরই পৃথিবীর আকার বোঝানোর জন্য অন্য কোনও কিছুর সাহায্য় নিতে হবে বলেই মনে করছেন বৈজ্ঞানিকেরা। আর পৃথিবীর প্রদক্ষিণের গতি ও তার আকার পরিবর্তনের ফল নাকি সরাসরি পড়বে মানুষের কাজকর্মেও। পৃথিবীর আকৃতি পরিবর্তন হলে সমুদ্রের স্রোতেও বড়সড় পরিবর্তন দেখা যাবে। ইতিমধ্যেই বিজ্ঞানীরা গবেষণা শুরু করে দিয়েছেন, সেই প্রভাবগুলিকে ভালো মতো বোঝার এবং জানার। পাশাপাশি সেই প্রভাব কমানোর জন্য কী কী পদক্ষেপ করা উচিত, তা নিয়েও শুরু হয়েছে গবেষণা।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?

৩ অগাস্ট থেকে বদলে যাচ্ছে শেয়ার বাজারের নিয়ম!

Stock Market India: নতুন ব্যবস্থার অধীনে শেয়ার বাজার বন্ধের সময়কে তিনটি আলাদা অংশে ভাগ করা হয়েছে। তবে নন-এফএন্ডও (Non-F&O) স্টকগুলির ক্ষেত্রে আগের মতোই বিকেল ৩:৩০টা পর্যন্ত স্বাভাবিক লেনদেন চালু থাকবে, এতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। কিন্তু এফএন্ডও স্টকগুলির ক্যাশ মার্কেটে প্রতিদিন একটানা লেনদেন চলবে বিকেল ৩:১৫ মিনিট পর্যন্ত।

আইআইটি-র দুই প্রাক্তনীর বৈদ্যুতিক কৃষিযন্ত্রে একরপ্রতি খরচ মাত্র ৪০ টাকা

Electric Power Tiller: বাজারে যেসব ট্র্যাক্টর পাওয়া যায়, তা হয় বিশাল বড় জমির উপযোগী, না হয় কেনা ও চালানো দুটোই খুব ব্যয়বহুল। ভারতে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ কৃষকের জমিই ছোট ও খণ্ড-বিখণ্ড, যেখানে বড় যন্ত্র ঢোকানোই সম্ভব নয়। আবার চিন থেকে আমদানি করা ছোট ছোট সস্তা মেশিনগুলিতে যন্ত্রাংশ ও সার্ভিসিংয়ের চূড়ান্ত সমস্যা তৈরি হয়। তাই বিদেশ থেকে আমদানির কথা না ভেবে, আইআইটি বোম্বের দুই প্রাক্তনী ঐশ্বর্য রামকৃষ্ণন ও কেদার গোখলে সিদ্ধান্ত নেন খাঁটি দেশীয় প্রযুক্তিতে ভারতের মাটির উপযোগী সমাধান তৈরি করার।

মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও উষ্ণ থাকে সোনাম ওয়াংচুকের বাড়ি

Sonam Wangchuk House: সোনম ওয়াংচুক মানেই পাহাড়ঘেরা লাদাখের ছবি, বরফে ঢাকা জীবন আর নতুন এক ভাবনার আলো। পেশায় তিনি একজন প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ এবং উদ্ভাবক। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে তিনি যেন রূপকথার সেই মানুষটি, যিনি পাহাড়ের রুক্ষ জীবনের কঠিন সমস্যাগুলিকে বিজ্ঞানের সহজ ছোঁয়ায় অত্যন্ত সহজ করে তুলেছেন।

মহাকাশে মিলল চিনির সন্ধান, কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আবিষ্কার?

natural sugar in space: ছায়াপথের কেন্দ্রের একটি আণবিক মেঘে প্রথমবারের মতো প্রকৃত মনোস্যাকারাইড ‘এরিথ্রুলোজ’-এর সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কার জানাচ্ছে, নক্ষত্র ও গ্রহ তৈরির আগেই মহাকাশে জটিল জৈব অণু তৈরি হতে পারে। ফলে পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি এবং মহাবিশ্বে জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে গবেষণার আগ্রহ বেড়েছে।

কর্মদক্ষতা মাপল এআই, চাকরি হারালেন কর্মীরা? মেটার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলা

Meta mass layoffs: কর্মীদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নেবে? মেটার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় অভিযোগ, এআই-নির্ভর মূল্যায়নের কারণে মাতৃত্বকালীন ও চিকিৎসাজনিত ছুটিতে থাকা কর্মীরা অন্যায্যভাবে চাকরি হারিয়েছেন।