বাড়ির টিনে লাল-গেরুয়া চলবে না! কোন যুক্তিতে এ হেন নিদান মমতার?

Mamata Banerjee: বৃহস্পতিবার নবান্ন সভাঘরের বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘মাত্র পাঁচটা বাড়ি নিয়ে জয়পুর যদি পিঙ্ক সিটি হতে পারে, তাহলে রাজ্যের নিজস্ব রং এখানে কেন মানা হচ্ছে না?"

Sohini Das
৩ মিনিট
বাড়ির টিনে লাল-গেরুয়া চলবে না! কোন যুক্তিতে এ হেন নিদান মমতার?

জমি জবরদখল, বেআইনি পার্কিংয়ের পর এবার বাড়ির রং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বসলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত কয়েক দিন ধরেই একের পর এক বিষয় নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মী, মন্ত্রী থেকে শুরু করে পুরসভা, প্রশাসন বা পুলিশ, মুখ্যমন্ত্রীর ভর্ৎসনার হাত থেকে বাঁচতে পারেননি কেউই। বৃহস্পতিবার সেই নিয়ে ফের বৈঠক ডেকেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে উত্তরবঙ্গের বাড়ির ছাদ কেন লাল বা গেরুয়া, সেই নিয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দেন মমতা। এমনকী ছাদে লাগানোর জন্য উত্তরবঙ্গে ভিন্ন রঙের টিন কীভাবে আমদানি হচ্ছে, তা-ও খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন মুখ্যসচিবকে।

রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর পরই গোটা রাজ্যের সমস্ত বাড়িঘরকে নীল-সাদা রঙে রেঙে ফেলতে তৎপর হয়েছিল তৃণমূল সরকার। সরকারি প্রশাসনিক ভবনগুলিকে সেই রঙে রাঙানো হয়েইছে। এমনকী ব্যক্তির বাড়িতে ওই রং করা হলে বিশেষ করছাড়ের কথাও ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে মানুষ সরকারের সেই রায় মেনে তাদের ব্যক্তিগত বাড়িঘর নীল-সাদা করতে বিশেষ আগ্রহ দেখায়নি। তবে এত বছর পরে সরকারের সেই নির্দেশিকা কেন সার্বিক ভাবে মানা হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
শহর জুড়ে বাড়ছে পার্কিং জুলুম! বিজেপিকে দুষে এবার কড়া সিদ্ধান্ত নিলেন মমতা

Mamata Banerjee on Illegal Parking: বৃহস্পতিবার নবান্নের বৈঠক থেকে বিজেপিকে তোপ দেগে বলেন, রাজ্যে যত বেআইনি পার্কিং রয়েছে, তার বেশির ভাগটাই বিজেপির লোকজনের।

বৃহস্পতিবার নবান্ন সভাঘরের বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘মাত্র পাঁচটা বাড়ি নিয়ে জয়পুর যদি পিঙ্ক সিটি হতে পারে, তাহলে রাজ্যের নিজস্ব রং এখানে কেন মানা হচ্ছে না? উত্তরবঙ্গের সব বাড়িতে লাল বা গেরুয়া টিন লাগিয়ে দিয়েছে। যারা ওই টিন সরবরাহ করে তাদের বলতে হবে, এটা আমাদের রাজ্যের রং নয়। মুখ্যসচিব এই কাজ করবেন। যে যেমন খুশি জামাকাপড় পরতে পারে। নিজের ইচ্ছেমতো বাড়িও তৈরি করতে পারে । কিন্তু বাড়ির ছাদ লাল, গেরুয়া করে দেবে কেন?’’ কেন্দ্রকে নিশানা করে মমতা এ-ও বলেন, ‘‘মেট্রো স্টেশন সব গেরুয়া করে দিয়েছে। দলের রং কেন থাকবে? আমার দলের রং তো ব্যবহার করি না!..পূর্ত দফতরকে বলব, নবান্নের রং সবাইকে পাঠাতে হবে। মুখ্যসচিবের মাধ্যমে সব দফতরে যাবে।’’

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মমতার বিধান: হকার বসালেই গ্রেফতার, পুনর্বাসন পাবে উচ্ছেদ হওয়ারা?

Mamata Banerjee: একই সঙ্গে হকার উচ্ছেদ যে তার প্রশাসনের উদ্দেশ্য নয় এদিন সে কথাও বুঝিয়ে বলেন মমতা। প্রয়োজনে হকার সমস্যার সমাধানে কোথাও গোডাউন বা কোথাও বিকল্প বিল্ডিং গড়ে দেওয়ার কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী।

ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন, কলকাতার মতো শহরে ভোট টানতে এবার তবে রঙের কড়া অনুশাসন বসাতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের অনেকের প্রশ্ন, তবে কি মুখ্যসচিবকে এমন কোনও পদক্ষেপ করতে বলছেন মুখ্যমন্ত্রী, যাতে তারা টিনেক সরবরাহকারীদের ডেকে নির্দেশ দেন, রাজ্যের নির্ধারিত নীল-সাদা ছাড়া অন্য় কোনও রঙের টিন আনা যাবে না বা ব্য়বহার করাও যাবে না? আদৌ কি তেমনটা সম্ভব।

বৃহস্পতিবার বেআইনি পার্কিং প্রসঙ্গে বিজেপিকে দোষেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন গেরুয়া বা লাল বলতে কি আসলে রাজ্যের দুই মুখ্য বিরোধী দলকেই নিশানা করতে চাইছেন মমতা? এ প্রসঙ্গে বিধানসভায় বিজেপির সচেতক শঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘মানবিক মুখ্যমন্ত্রীর অমানবিক মুখ খুব দ্রুত প্রকাশ পেয়েছে। যে কোনও দখলদারির পিছনে দিদিমণির দুষ্টু-দামাল ভাইয়েরা। উনি লাল, গেরুয়া বলে কী বোঝাতে চাইছেন? পুরসভা নির্বাচনের আগে পুর-এলাকাগুলো তো বিরোধীমুক্ত করেছিল তৃণমূল। তা হলে সেই নির্বাচন অবৈধ ঘোষণা করা হোক।’’ অন্যদিকে, সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর দাবি, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন বাড়ির রং নীল-সাদা করলে কর ছাড় মিলবে। লোকে তাতে সাড়া দেয়নি। কে কোন রং পছন্দ করবেন, সেটা মানুষের স্বাধীনতা। কে কী খাবে, বিজেপির সরকার ঠিক করে দিতে চায়, মুখ্যমন্ত্রীও এক রঙে সব রাঙাতে চান!’’

সোমবার পুরবৈঠকে বেআইনি ভাবে জমিজবরদখল-সহ একাধিক অনিয়ম নিয়ে সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ছিল প্রোমোটারিরাজ, পুকুর বোজাইয়ের মতো ইস্যুও। সেই নিয়ে রাজ্যের নেতামন্ত্রীদের বিরুদ্ধে তোপও দাগেন মুখ্য়মন্ত্রী। এমনকী বাংলার পরিচয়-অস্তিত্ব নষ্ট করার চেষ্টা চলছে বলেও মন্তব্য করেন মমতা। এরপরেই শুরু হয়েছিল শহর দখলমুক্ত করার প্রশাসনিক অভিযান। সেই নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতেই বৃহস্পতিবার বৈঠক ডাকেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বৈঠকে বেআইনি পার্কিংয়ের মতো একাধিক বিষয় নিয়ে তোপ দেগে বসেন মমতা। নিশানা করেন বিজেপিকেও। শহর দখলমুক্ত, পরিষ্কার করা, দলদুর্নীতি রুখতে বিভিন্ন রকম চেষ্টাকে মানুষ ভালো চোখে দেখলেও বাড়ির রং বা বাড়ির টিনের রং নিয়ে নিয়মকানুনে বেঁধে ফেলার চেষ্টাকে ভালো চোখে দেখছে না বলেই মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।