ভাড়া একই, তবু কেন গতি কমছে বন্দে ভারত, গতিমান এক্সপ্রেসের?

Vande Bharat Speed Reduction: শতাব্দী এক্সপ্রেসের গতি প্রতি ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার থেকে কমিয়ে ১৩০ কিলোমিটার করা হবে।

inscript
৩ মিনিট
ভাড়া একই, তবু কেন গতি কমছে বন্দে ভারত, গতিমান এক্সপ্রেসের?

যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের দুই 'বিখ্যাত' ট্রেন বন্দে ভারত এবং গতিমান এক্সপ্রেস সহ প্রিমিয়াম ট্রেনের গতি কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় রেল। যে যে পথে বন্দে ভারত-সহ এই বেশি গতির ট্রেনগুলি চলে সেখানে তাদের গতি প্রতি ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার থেকে কমিয়ে ১৩০ কিলোমিটার করা হবে। উত্তর মধ্য রেল রেলওয়ে বোর্ডকে ট্রেন নম্বর ১২০৫০/১২০৪৯ দিল্লি-ঝাঁসি-দিল্লি গতিমান এক্সপ্রেস, ট্রেন নম্বর ২২৪৭০/২২৪৬৯ দিল্লি-খাজুরাহো-দিল্লি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস, ট্রেন নম্বর ২০১৭২/২০১৭১ দিল্লি-কমলাপতি-দিল্লি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস এবং ট্রেন নম্বর ১২০০২/১২০০১ দিল্লি-রানি কমলাপতি-দিল্লি শতাব্দী এক্সপ্রেসের গতি কমানোর জন্য চিঠি দিয়েছে।

শতাব্দী এক্সপ্রেসের গতি প্রতি ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার থেকে কমিয়ে ১৩০ কিলোমিটার করা হবে। গতি কমে যাওয়ায়, এই ট্রেনগুলি গন্তব্যে পৌঁছতে আগের চেয়ে ২৫-৩০ মিনিট বেশি সময় নেবে এবং এই রুটে চলা কমপক্ষে ১০টি সুপারফাস্ট ট্রেনের সময়কে প্রভাবিত করবে। রেলের একজন উর্ধ্বতন আধিকারিক বলছেন, দিল্লি-আগ্রা-ঝাঁসি রুটে ট্রেন সুরক্ষা এবং সতর্কতা ব্যবস্থার (TPWS) ব্যর্থতাই ট্রেনের গতি কমানোর কারণ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
'রেল মস্ত ভুল করছে'! কেন বলছেন খোদ বন্দে ভারতের নির্মাতা?

Indian Railway: সরকারের রেল সব মানুষের, কেবল উচ্চবিত্তদের নয়। তাই সরকারকে সাধারণ মানুষের জন্যও ব্যবস্থা করতে হবে।

কিছুকাল আগেই উত্তরবঙ্গে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় ১০ জন নিহত এবং ৪০ জন আহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনার এক সপ্তাহ পরেই এই আদেশ জারি করা হয়েছে। উত্তর রেল এর আগে এমন প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। গত বছরের নভেম্বর থেকে রেলওয়ে বোর্ড এই প্রস্তাব মুলতুবি রেখেছে। এবার উত্তর মধ্য রেল গত ২৫ জুন ট্রেনের গতি কমিয়ে ১৩০ কিলোমিটার করার জন্য আরেকটি প্রস্তাব পাঠায়।

বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজারের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, TPWS-এর মেরামত বা রক্ষণাবেক্ষণ সম্ভব ছিল না। তাই রেলওয়ে বোর্ডকে প্রিমিয়াম ট্রেনগুলিকে ১৩০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টার নিরাপদ গতিতে চালানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। যেহেতু দু'টি জোনাল রেলওয়ে প্রিমিয়াম ট্রেনের গতি কমাতে অনুরোধ করছে এবং কারণ হিসাবে যাত্রী নিরাপত্তার বিষয়টিকেই সামনে রাখছে তাই এই অনুরোধটি অনুমোদন করা ছাড়া রেল বোর্ডের কাছে আর কোনও বিকল্প নেই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কল্পতরু রেল! বন্দে ভারত মেট্রো কবে আসছে?

Vande Bharat: এবার চেয়ার কার থেকে প্রোমোটেড হয়ে স্লিপারের দিকে যাত্রা শুরু করতে চলেছে বন্দেভারত। আর কী কী চমক? জানুন..

দেশের অন্য বন্দে ভারত ট্রেনের গতিও কি কমিয়ে দেওয়া হবে? এক রেল আধিকারিক জানাচ্ছেন, দিল্লি-কানপুরের কয়েকটি জায়গা ছাড়া প্রায় সমস্ত রুটেই সেমি-হাই-স্পিড ট্রেনগুলি ১৩০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতেই চলছে। একমাত্র দিল্লি-কানপুরের রেলপথই প্রতি ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার বেগে ট্রেন চালানোর জন্য উপযুক্ত ছিল।

ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরি, যেখানে বন্দে ভারত ট্রেনগুলি নির্মিত হয়েছিল, সেই আইসিএফের প্রাক্তন প্রধান মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার শুভ্রাংশু বলছেন, ট্রেনের গতি হ্রাস করে লাভের লাভ কিছুই হবে না। তিনি কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, এক্সপ্রেস ট্রেনের সঙ্গে যে মালগাড়ির সংঘর্ষ হয়েছিল তা মাত্র ৪৫ কিলোমিটার বেগে চলছিল। “আমি বুঝতে পারছি না, এই ট্রেনগুলিকে ১৬০ কিমি প্রতি ঘণ্টা থেকে ১৩০ কিমি প্রতি ঘণ্টায় কমিয়ে দিয়ে নিরাপত্তার কী উন্নতি হবে৷ এটা দুর্ভাগ্যজনক যে সেমি-হাই-স্পিড ট্রেন অনেক বড় বড় কথা বলে তৈরি করা হয়েছিল। এখন মূল কারণের মধ্যে না গিয়ে তার গতি কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে,” বলছেন তিনি। এবার বন্দে ভারতকে জায়গা দিতে গিয়ে অন্যান্য ট্রেনের গতিও কমেছে।

পান্ডিয়ান, নেল্লাই এবং কন্যাকুমারী এক্সপ্রেসের মতো সুপারফাস্ট ট্রেনগুলির সময় ১০ থেকে ১৫ মিনিট বৃদ্ধি করা হয়েছিল যাতে বন্দে ভারতের মতো অন্যান্য প্রিমিয়াম ট্রেনগুলি দ্রুত যেতে পারে। বেশি দামের টিকিট আর বিলাসের সুযোগ দিয়ে বন্দে ভারত চালানো হলেও আসলে ভারতের রেলপথগুলি অত দ্রুতগামী ট্রেন চালানোর উপযোগী ছিলই না। তবু 'বন্দে ভারত' টোপ দেখিয়েই রেলের উন্নয়নের ছবি আঁকছিলেন মোদি। গতি কমানো হলে কি ভাড়াও কমবে? তার কোনও উল্লেখ নেই। তাহলে একই ভাড়ায় যাত্রীরা কেন কম গতির ট্রেনে চাপবেন? বন্দে ভারত যে আদতেই ফাঁপা উন্নয়ন ছিল, তাই কি প্রমাণ হয়ে গেল না?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।