বিহারের মানুষকে ইচ্ছা করে অন্ধকারে রেখেছেন লালু-নীতীশ! চাঞ্চল্যকর দাবি প্রশান্ত কিশোরের

Prashant Kishor: ভোটকুশলীর কাজ অনেকদিন আগেই ছেড়েছেন প্রশান্ত কিশোর। বরং এখন তিনি মন দিয়েছেন নিজের রাজ্যের রাজনীতিতে।

Sohini Das
৪ মিনিট
বিহারের মানুষকে ইচ্ছা করে অন্ধকারে রেখেছেন লালু-নীতীশ! চাঞ্চল্যকর দাবি প্রশান্ত কিশোরের

লোকসভা ভোট শেষ। ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের প্রায় সমস্ত ভবিষ্যদ্বাণীই প্রায় মুখ থুবড়ে পড়েছে এ বছর। ভোটকুশলীর কাজ অনেকদিন আগেই ছেড়েছেন প্রশান্ত কিশোর। বরং এখন তিনি মন দিয়েছেন নিজের রাজ্যের রাজনীতিতে। গোটা বছরটা জুড়েই গোটা বিহার জুড়ে জনসূরজ যাত্রা করেছেন প্রশান্ত। পায়ে হেঁটে নিজের চোখে বিহারের প্রতিটি কোণা দেখেছেন। মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। বাড়িয়েছেন জনসংযোগ।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ, ভোটকুশলী থেকে বহুদিন ধরেই সক্রিয় রাজনীতিতে আসতে চেয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। গান্ধিজীর বিশেষ ভক্ত প্রশান্ত কোন দলে যেতে পারেন, সে নিয়ে জল্পনাকল্পনাও কম হয়নি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে পথে না হেঁটে একেবারে নিজস্ব এক রাজনীতির পথ বেছে নিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। বিহার জুড়ে জনসূরজ যাত্রার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেখানকার ভূমিপুত্র।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
হায় রে উচ্চাশা! প্রশান্ত কিশোর যা বলেছিলেন, আর বাংলার গণনায় যা হচ্ছে

Lok Sabha elections 2024: ভোটকুশলী পিকে জানিয়েছিলেন, রাজ্যে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূলের চেয়ে পশ্চিমবঙ্গে ভালো ফলাফল করবে বিজেপি। কিন্তু ভোটগণনা শুরু হতেই উল্টেপাল্টে গেল হিসেব।

লোকসভা ভোট শেষ। সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও এনডিএ জোটের কাঁধে ভর রেখে তৃতীয়বার সরকার গড়েছে বিজেপি। রাজ্যগুলিতে প্রশান্ত কিশোরের কথা না ফললেও দেশে তাঁর কথামতোই ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। কিন্তু প্রশান্ত বলেছিলেন, গত বছরের মতোই কিংবা তার চেয়েও ভালো ফলাফল করবে বিজেপি। কিন্তু বাস্তবে তেমনটা হয়নি। কোনও মতে ২৪০টি আসন জিতে মুখরক্ষা করেছে বিজেপি। আপাতত লোকসভা ভোটের চিন্তা বাদ দিয়ে বিহারের বিধানসভা ভোটের কথা ভেবেই নিজের পথরেখা তৈরি করছেন ভোট ময়দানের কৃষ্ণ হিসেবে পরিচিত প্রশান্ত কিশোর। সব ঠিক থাকলে ২০২৫ সালের অক্টোবর-নভেম্বর নাগাদ অনুষ্ঠিত হতে পারে বিহারের বিধানসভা ভোট। তার জন্য এখন থেকেই জমি ঠিক করতে উঠেপড়ে লেগেছেন প্রশান্ত কিশোর।

ভোটের মুখে মুখে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোটের হাত ছেড়ে ফের বিজেপির হাত ধরেছিলেন আরজেডি নেতা নীতীশ কুমার। নীতীশ কুমারের রাজনীতির কেরিয়ারে এ অবশ্য নতুন কথা নয়। এর আগেও একাধিক বার তিনি দল বদলেছেন। সদর্পে এনডিএ ছেড়েছেন, তারপর এ পাড়া ও পাড়া ঘুরে বীরদর্পে ফের এনডিএ-তে ফেরত গিয়েছেন। বিহারের রাজনীতিতে তাই পল্টুরাম নামেও বিশেষ পরিচিত তিনি। আর এ বার দল বদলে রীতিমতো কিংমেকারের জায়গায় চলে এসেছিলেন নীতীশ। বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়া এবং বিহারে আরজেডিকে মানুষের ঝুলি ভরে ভোট, কার্যত রাজনীতির সমীকরণটাকেই অনেকটা বদলে দিয়েছে। তার ফলশ্রুতি হিসেবে মোদি মন্ত্রিসভার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক ও দফতর ব্যাগেও ভরেছেন নীতীশ। কম যান না রামবিলাসপুত্র চিরাগ পাসোয়ান ও হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চার প্রধান জিতন রাম মাঝিও। মোদি মন্ত্রকে জায়গা পেয়ে গিয়েছে লোক জনশক্তি পার্টি (LJP) ও হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা (LHM)। এবার লোকসভা ভোটে নীতীশের দল পেয়েছে ১২টি আসন, লোক জনশক্তি পার্টি পেয়েছে পাঁচটি, আওয়াম মোর্চা পেয়েছে একটি আসন। বিজেপি পেয়েছে ১২টি আসন। অন্যবারের তুলনায় গোবলয়ের রাজ্যগুলিতে ভোট কমেছে বিজেপির। তার মধ্যে অন্যতম বিহারও। শুধুমাত্র নীতীশের সঙ্গ ছিল বলেই বিহারে মুখ রাখতে পেরেছে বিজেপি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দেশের 'এক্স-রে' চাইছে কংগ্রেস! নীতীশের ডিগবাজি নিয়ে কী বললেন রাহুল?

Nitish Kumar - Rahul Gandhi : রাহুল বলছেন, বিহারের রাজনীতির গোড়া আসলে এমনই দুর্বল। একটু চাপ প্রয়োগ করা হলেই নীতীশ কুমার ইউ-টার্ন নিয়ে ফেলেন।

বিহার রাজনীতির অন্য মেরু তথা লালুপ্রসাদ যাদব অবশ্য রয়েছেন কংগ্রেসের সঙ্গেই। ইন্ডিয়া জোটেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন লালু। ছেলে তেজস্বী যাদবকেও দেখা গিয়েছে জোটে সক্রিয় ভূমিকায়। এই লোকসভা ভোটে আরজেডি পেয়েছে চারটি আসন, কংগ্রেস তিনটি এবং বামেরা দু'টি আসন। এই সমীকরণ সামনে রেখেই কি বিধানসভার গুটি সাজাতে বসেছেন প্রশান্ত কিশোর। নাকি তাঁর মাথায় ঘুরছে অন্য অঙ্ক। এখন থেকেই মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানানো শুরু করেছেন তিনি। শুধু নীতীশ নয়, প্রশান্তের নিশানায় রয়েছেন লালুপ্রসাদও। তাঁর মতে, বিহারের এই দুটি ক্ষমতাশালী নেতাই আসলে ইচ্ছাকৃতভাবে বিহারের মানুষকে অন্ধকারে রেখেছেন। তাঁদের ইচ্ছা করেই ঠেলে দেওয়া হয়েছে দারিদ্রের দিকে। বঞ্চিত করা হয়েছে শিক্ষাদীক্ষা থেকেও। দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমর্থন সুরক্ষিক করতে বিহারবাসীকে কায়িক শ্রমের উপর নির্ভরশীল রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ইচ্ছাকৃত ভাবে তাদের মধ্যে বিভাজনের রাজনীতিকে জাগিয়ে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ প্রশান্ত কিশোরের।

প্রশান্ত মনে করেন, লালুপ্রসাদ ও নীতীশ কুমার, দুই নেতাই এমন একটা ব্যবস্থা বিহারে বজায় রেখেছিলেন, যাতে মানুষকে নিরক্ষরতা ও দারিদ্রের মধ্যে থাকতে হয়। ন্য়ূনতম আর্থিক সাহায্যের জন্যেও যাতে তাঁদের সরকারের উপরেউ ভরসা করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে বিহারে চারশো টাকা পেনশন নীতি বজায় রয়েছে। এই কৌশল আসলে একটা নির্দিষ্ট সংখ্য়ক ভোটব্যাঙ্ককে অনুগত ও সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা। এই দুই নেতাই চেষ্টা করে গিয়েছেন, যাতে রাজ্যের মানুষ শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকে। আর এই জায়গাটাই বদলাতে চান প্রশান্ত কিশোর। জনসূরজ যাত্রায় জনসংযোগে নেমে তিনি এই দুই নেতার নীতিরই চূড়ান্ত সমালোচনা করেন। এ ভাবে আসলে রাজ্যের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনাকেই নষ্ট করা হয়েছে বলে মত প্রশান্ত কিশোরের।

কিন্তু কেন এসব কথা বলছেন প্রশান্ত? খেয়াল করলে দেখা যাবে, লোকসভা ভোটে কিন্তু নীতীশ সরকারের হাতেই ক্ষমতার রাশ তুলে দিতে চেয়েছেন একটা বড় অংশের মানুষ? বিজেপির থেকে বেশি আস্থা রেখেছে লালু, নীতীশ বা চিরাগ পাসোয়ানের মতো স্থানীয় নেতার উপরেই। এতদিন ইন্ডিয়া জোটের কড়া নিন্দা করতে দেখা গিয়েছে প্রশান্ত কিশোরকে। কিন্তু বিহারে বিধানসভা ভোটের দিকে তাকিয়ে প্রশান্ত জোট ইন্ডিয়া বা এনডিএ, দু'জনকেই ধুয়েমুছে সাফ করার কথা বলছেন। সত্যিই কি বিহার ভোটে কাজ করবে প্রশান্তের জনসূরজের দাওয়াই? নাকি দেশে লোকসভা ভোটের অঙ্কের মতোই মুখ থুবড়ে পড়বে প্রশান্তের বিহার-অঙ্কও। নীতীশ-লালুর বদলে মানুষ কি ভরসা রাখবেন প্রশান্ত কিশোরে? নাকি এর নেপথ্যে কাজ করছে আরও অন্য সমীকরণ। একগুচ্ছ প্রশ্ন তুলে দিয়ে যাচ্ছে প্রশান্ত কিশোরের বিহার-পরিকল্পনা।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

যা ঘটেছিল চোরবাগান দুর্গাপুজো মণ্ডপে

Chorbagan Durga Puja incident: এই ঘটনার পর থেকেই পুজো কমিটির ব্যবস্থাপনা এবং এর পিছনের পট পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক ও তোলপাড় শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, পুজোর ঠিক আগেই চোরবাগান পুজো কমিটির রদবদল হয়েছিল এবং নতুন কমিটি পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছিল।

নিষিদ্ধ নয়, বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা, কী আছে ফিলিস্তিনপন্থী স্যালি রুনির বইয়ে

Sally Rooney: ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে রয়্যালটি দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশের পর ব্রিটেনে স্যালি রুনির বই সরবরাহ বন্ধ করেছে ফ্যাবার।

সিজেপির কর্মসূচির আগে ৬ হাজার পুলিশ, দুর্ভেদ্য দুর্গ কনট প্লেস

Connaught Place protest: সিজেপির কর্মসূচির আগে কনট প্লেস এবং তার আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে দিল্লি পুলিশ। কনট প্লেসের আশপাশে ৬ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।