এবার রাজস্থান! ফের 'খুন' বাঙালি শ্রমিক, কেন বাড়ছে বাঙালি-বিদ্বেষ?

Bengal's Migrant Worker Death: দিন কয়েক আগেই বিজেপি শাসিত হরিয়ানায় গোমাংস খাওয়ার অভিযোগ তুলে বাংলার এক পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর চড়াও হয় স্বঘোষিত গোরক্ষকেরা। এবার রাজস্থান।

inscript
৩ মিনিট
এবার রাজস্থান! ফের 'খুন' বাঙালি শ্রমিক, কেন বাড়ছে বাঙালি-বিদ্বেষ?

ফের ভিনরাজ্যে খুন বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক। হরিয়ানার পর এবার বিজেপি শাসিত রাজস্থান। দিন কয়েক আগেই গোমাংস রান্না করার অপরাধে পশ্চিমবঙ্গের বাসন্তীর বাসিন্দা সাবির মল্লিককে পিটিয়ে খুন করা হয়। তার রেশ কাটতে না কাটতেই আরও এক ভয়ানক ঘটনা। মালদহের বাসিন্দা মতি আলিকে মারধর করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্ত্রী।

পেটের দায়ে, জীবিকার প্রয়োজনে বাংলা থেকে বহু মানুষ ভিনরাজ্যে কাজ করতে যান। পরিবার সূত্রের খবর, রাজস্থানের জয়পুরে সোনার দোকানে কাজ করতে গিয়েছিলেন মালদহের হরিশচন্দ্রপুরের ভিঙ্গল গ্রাম পঞ্চায়েতের মিসকিনপুর এলাকার বাসিন্দা মতি আলি। প্রায় ২০ বছর ধরে জয়পুরের ওই সোনার দোকানে কাজ করছেন তিনি। মতির স্ত্রী জানান, মঙ্গলবার সন্ধেবেলা খাওয়ার সময় সহকর্মীদের সঙ্গে বচসায় জড়ান তিনি। অভিযোগ, তার পরেই নাকি তাঁকে বেধড়ক মারধর করে তাঁর সহকর্মীরা। পেটে গুরুতর চোট লাগে মতির।

স্ত্রী রুকাসানাকে ফোনে মতি জানিয়েছিলেন, তাঁর পেটে ভয়ঙ্কর ব্যথা। যে কোনও মুহূর্তে যেন তাঁর পেটটি ফেটে যেতে পারে যেন। হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রোপচার করানো হয়। তবে বাঁচানো যায়নি তাঁকে। জয়পুরের হাসপাতালেই মৃত্যু হয় ওই শ্রমিকের। গ্রামের বাসিন্দা খাইরুল আলমের কথায়, "প্রথমে মতিউরকে যে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় সেখান থেকে বলে দেওয়া হয়, ওর পরিস্থিতি ভালো নয় ৷ প্রচুর মারধর করা হয়েছে ৷ ভিতরে কিছু নষ্ট হয়ে গিয়েছে ৷ ওর এক ভাই মুম্বইয়ে থাকে ৷ আমি তার সঙ্গে যোগাযোগ করি ৷ ওর ভাই সঙ্গে সঙ্গে মুম্বই থেকে জয়পুর চলে আসে ৷ মতির অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন ছিল ৷ আমরাই এখান থেকে টাকাপয়সা পাঠাই ৷ ওর দোকানের ম্যানেজারও হাসপাতালে যান ৷ তিনি বলেন, দোকানের এক কর্মীর সঙ্গে ওর ঝামেলা হয়েছিল ৷" মতির দাদা সাব্বির আলি জানান, দু'টো বাচ্চা রয়েছে মতির, একজনের বয়স আট, অন্যটার ৬ বছর। বাড়িতে উপার্জনের লোক ছিল একমাত্র মতিই। না পরিবারের আছে কোনও জমি-জিরেত, না বিষয় সম্পত্তি। এবার গোটা পরিবারের কীভাবে চলবে, সেটাই সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার মতির পরিবারের কাছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
'ভুল করে' ব্রাহ্মণ কিশোরকেই খুন! হাত কামড়াচ্ছে হরিয়ানার গোরক্ষক দল

cow vigilante: স্বঘোষিত গোরক্ষকদের শিকার এবার বছর উনিশের এক কিশোর। হরিয়ানার ফরিদাবাদে গত ২৩ অগস্ট ঘটেছে এই ঘটনা।

ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে বারবার বাংলার শ্রমিকদের প্রাণ যাচ্ছে। এর নেপথ্যে কি রয়েছে আদপে বাঙালি বিদ্বেষের প্রবণতা। প্রশ্ন তুলেছেন, হরিশ্চন্দ্রপুরের তৃণমূল বিধায়ক এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প দফতরের প্রতিমন্ত্রী তাজমুল হোসেন। তাঁর কথায়, 'এই যে আমাদের বাঙালিকে খুব ওরা ছোট নজরে দেখছে, বাঙালিরা কেন বড় হবে, এই বাঙালি বলে ওদের ঘৃণা।ওদের ঘৃণা হচ্ছে বাঙালিকে দেখে। এইজন্য আজ আমাদের যে সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিক বাইরে যাচ্ছে, অনেকেই মারা যাচ্ছে।'

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
গো-রক্ষকদের তাণ্ডব থেকে ফ্যাসিবাদের জয়গান, ভারত হওয়া সত্যিই সহজ নয়!

violence of Cow Vigilantes in India: আমাদের স্মৃতিতে এখনো দগদগে মহম্মদ আখলাখের কথা। ২০১৫ সালে ২৮ সেপ্টেম্বর উত্তরপ্রদেশের বিসরাহা গ্রামে ঘটে যাওয়া নৃশংসতা ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ক্ষত।

দিন কয়েক আগেই বিজেপি শাসিত হরিয়ানায় গোমাংস খাওয়ার অভিযোগ তুলে বাংলার এক পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর চড়াও হয় স্বঘোষিত গোরক্ষকেরা। বাসন্তির বাসিন্দা সাবির মল্লিকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়েছিল খালের পাশ থেকে। ঘটনার নৃশংসতায় চমকে গিয়েছিল দেশবাসী। তার পরে ফের আরও এক বাংলার শ্রমিকের মৃত্যু বিজেপি শাসিত রাজ্যে।

স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘটনার দায় বিজেপির দিকেই ঠেলেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতা-মন্ত্রীরা। রবিবার নিহত মতির দেহ মালদহে ফেরে। সেই দেহ নিয়ে মৌন মিছিল করেন স্থানীয়রা। সেই মিছিলে ছিলেন মালদহ জেলার তৃণমূল সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সি, রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী তাজমুল হোসেন, ব্লক তৃণমূল সভানেত্রী মর্জিনা খাতুন-সহ অনেকেই।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে 'অপদার্থ' বলে কটাক্ষ করার পাশাপাশি বাংলার বিজেপি কর্মীদের কার্যত হুমকি দিয়েছেন আব্দুর রহিম। ওই মিছিল শেষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, ‘যদি বিজেপিশাসিত রাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের হত্যা বন্ধ না হয়, তবে বাংলার বিজেপি কর্মীদের সঙ্গেও একই ঘটনা ঘটানো হবে।’

সব মিলিয়ে ভিনরাজ্যে বিশেষত যেখানে যেখানে ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি, সেখানে যেভাবে বারবার বাংলার শ্রমিকেরা হামলার মুখোমুখি হচ্ছে, তাতে নিন্দার ঝড় সর্বত্র। হরিয়ানায় নিহত পরিযায়ী শ্রমিকের নিহত স্ত্রীকে ইতিমধ্যেই চাকরির ব্য়বস্থা করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাসন্তীতে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরে একবছরের জন্য অ্য়াটেনডেন্ট এবং পরে গ্রুপ–ডি পদে যোগ দেওয়ার কথা তাঁর। তাঁর চার বছরে শিশুসন্তানের পড়াশোনার ব্যবস্থাও সরকার করবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি রাজ্য় সরকারের তরফে ৩ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্যও দেওয়া হয়েছে তাঁর পরিবারকে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।