ভ্যাকসিন-ভীতির ফায়দা তুলে শহর জুড়ে জালিয়াতি! পরের নিশানা আপনি নন তো?

Covid Vaccine Scam: একদিকে ভ্যাকসিন নিয়ে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে যখন উদ্বেগ চারদিকে, সেই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণা চক্র খুলে বসেছে একদল অসাধু ব্যক্তি। এসে গিয়েছে জালিয়াতির নয়া হাতিয়ার।

Sohini Das
৩ মিনিট
ভ্যাকসিন-ভীতির ফায়দা তুলে শহর জুড়ে জালিয়াতি! পরের নিশানা আপনি নন তো?

করোনার ওই দিনগুলিতে কোভিড ভ্য়াকসিন এসেছিল ত্রাতার মতো। তবে বছর ঘুরতে না ঘুরতেই জানা গেল, কোভিড ভ্য়াকসিনগুলি সম্পূর্ণ রূপে পরীক্ষিত ছিল না। অর্থাৎ সে সব ভ্যাকসিনের যে সব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা এক এক করে সামনে আসছে, তা সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না প্রতিষেধক প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি। এখন একে একে সামনে আসছে একের পর এক কোভিড ভ্যাকসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা। সম্প্রতি অভিনেতা শ্রেয়শ তলপড়ে কোভিড ভ্যাকসিনতেই দায়ী করেছেন তাঁর হার্ট অ্যাটাকের জন্য। অ্যাস্ট্রোজেনেকা সংস্থার তৈরি কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনটি নিয়েছিলেন অনেকেই। সেই ভ্যাকসিনের বিরল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা সামনে এসেছে সম্প্রতি। যা নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা বিশ্ব জুড়ে। একদিকে ভ্যাকসিন নিয়ে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে যখন উদ্বেগ চারদিকে, সেই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণা চক্র খুলে বসেছে একদল অসাধু ব্যক্তি। এসে গিয়েছে জালিয়াতির নয়া হাতিয়ার।

যে কোভিড ভ্যাকসিন একদিন করোনার সঙ্গে লড়েছিল, তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াকেই এবার অস্ত্র করছে জালিয়াতরা। করোনাকালীন সময়ে কোভিড ভ্যাকসিন দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক ছিল প্রতিটি নাগরিকের জন্য আধার কার্ড। ভ্যাকসিনের প্রতিটি ডোজের ইতিহাস জুড়ে দেওয়া হয়েছে তাঁদের আধার কার্ডের সঙ্গে। কে কবে কোন কোন ডোজ নিয়েছে, সবই জানা যাবে আধার নম্বরের মাধ্যমেই। আর সেই সুযোগটাই ব্যবহার করতে মাঠে নেমে পড়েছে প্রতারকেরা। ইতিমধ্যেই নাকি কলকাতার বহু বাসিন্দাই এমন ভুয়ো কল পেয়েছেন। যেখানে স্বাস্থ্য বিভাগের আধিকারিক পরিচয়ে নাগরিকদের থেকে আধার নম্বর জেনে নেওয়া হয়েছে তাঁর ভ্যাকসিনটি আদৌ সরকার দ্বারা ভেরিফায়েড কিনা জেনে নেওয়ার অছিলায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কোভিডের ভ্যাকসিন নিয়ে মৃত্যু সন্তানদের! কতটা ভয়াবহ এই কোভিশিল্ড?

AstraZeneca Covishield Death: অ্যাস্ট্রাজেনেকা সম্প্রতি স্বীকার করেছে, তাদের তৈরি টিকা 'খুব বিরল ক্ষেত্রে, TTS ঘটাতে পারে'। টিটিএস মানে থ্রম্বোসিস উইথ থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া সিন্ড্রোম।

ব্যাঙ্কের নথি থেকে প্যান কার্ড, ভোটার কার্ড, আমাদের প্রায় সমস্ত নথিপত্রই এখন আধার কার্ডের সঙ্গে জোড়া। ফলে আধার নম্বর জানা হয়ে গেলেই যে বাকি সমস্ত তথ্য প্রতারকদের হাতের মুঠোয়, তাতে আর আশ্চর্য কী? তাই ভ্যাকসিনের অছিলায় আধার জালিয়াতির বাড়বাড়ন্ত বেড়েছে কলকাতা জুড়ে। কেউ কেউ আবার আইভিআরএস (ইন্টাব়্যাক্টিভ ভয়েস রেসপন্স সিস্টেম)-এ রেকর্ড করা ভয়েস কলও পেয়েছেন, যেখানে নাগরিকদের ভ্যাকসিন সম্পর্কিত তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। প্রথমে কোভিড ভ্যাকসিন নিয়েছেন কিনা জিজ্ঞেস করে এক বা দুইয়ের বোতাম টিপতে বলা হয়। কোভিশিল্ডের জন্য এক, কোভ্য়াক্সিনের জন্য নির্ধারণ করা হয় ২ নম্বর বটনটিকে। এর পরেই ফোনটি কয়েক ঘণ্টার জন্য হ্যাং করে যাচ্ছে। এমনকী অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে নেটওয়ার্কও। কলকাতা পুলিশের সাইবার শাখা জানাচ্ছে, এ ভাবে আসলে ফোনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে জালিয়াৎরা, যাতে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া যায়।

এভাবে নাকি প্রতারণা ক্রমশ বেড়েই চলছে কলকাতা জুড়ে। কলকাতা পুলিশের সাইবার সেলের তরফে বারবার সতর্ক করা হয়েছে এ নিয়ে। যাতে কোনও ভাবেই অজানা নম্বর থেকে পাওয়া কলে ব্যক্তিগত তথ্য, আধার তথ্য, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য বা ওটিপি শেয়ার না করেন কেউ। ভ্যাক্সিন সংক্রান্ত কোনও ফোন পেলে সেখানে আধার নম্বর শেয়ার না করার ক্ষেত্রেও সাবধান করে দিয়েছে পুলিশ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সকলে নিয়েছেন এই কোভিড ভ্যাকসিন! ভয়াবহ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার কথা এতদিনে স্বীকার করল সংস্থা

Covishield Vaccine Side Effect: এরা মূলত দুইটি ব্র্যান্ডের ভ্যাকসিন বাজারে আনে। কোভিশিল্ড, যেটি ভারতে বহু বহু মানুষ নিয়েছেন এবং ভ্যাক্সজেভরিয়া।

কোভিড ভ্যাকসিন এবং তাঁর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে সম্প্রতি বেশ হইচই পড়ে গিয়েছে বিশ্ব জুড়ে। এ নিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞেরা সম্প্রতি সাবধান করে বলেছেন, সমস্ত ধরনের ওষুধ বা ভ্যাকসিনেরই কোনও না কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। চিকিৎসকেদের মতে, লক্ষ লক্ষ মানুষ এই ভ্যাকসিন নিয়েছেন। আর তাদের শরীরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এই ভ্যাকসিন। তার সাপেক্ষে এই ঝুঁকি ন্যূনতম বলেই দাবি করেছেন চিকিৎসকদের একাংশ। অনেকেই বলেছেন, কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনের প্রভাবে থ্রম্বোসিস, থ্রম্বোসাইটোপিনিয়া সিন্ড্রোম হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে সেই উদ্বেগ অযৌক্তিক। এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। এসটিএম-এর ক্লিনিকাল এবং পরীক্ষামূলক ফার্মাকোলজির প্রাক্তন প্রধান এবং অধ্যাপক শান্তনু কে ত্রিপাঠী জানাচ্ছেন, প্রায় ৮৫ কোটি লোক কোভিশিল্ডের দু'টি ডোজ পেয়েছেন। তার মধ্যে মাত্র ৩৬টি ক্ষেত্রে থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া সিন্ড্রোম লক্ষ্য করা গিয়েছে। যার মধ্যে মারা গিয়েছেন মাত্র ১৮ জন। ফলে এই কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনের থেকে ঝুঁকি যে খুব দুশ্চিন্তা করার মতো, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

বরং এই ভ্যাকসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভয়ে আরও বড় ক্ষতিকে দরজা দিয়ে ডেকে আনছেন মানুষ। যার মধ্যে একটি অবশ্যই এই প্রতারণা। যা থেকে বাঁচাতে পারে একমাত্র মানুষের সচেতনতা। তেমন সন্দেহজনক কিছু দেখলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের সাইবার ক্রাইম সেলের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিচ্ছে অভিজ্ঞ মহল।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগে যে ভুলগুলি এড়ানো জরুরি

Stock Market Psychology: শেয়ারবাজারে একজন বিনিয়োগকারীর সবচেয়ে বড় সমস্যা অনেক সময় সে নিজেই। আজকের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক বাজারে এই পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ এখন সমস্যা তথ্যের অভাব নয়, বরং তথ্যের অতিরিক্ত প্রবাহ।

মহাবিশ্বকে বুঝতে গিয়ে সমাজকে ভুলে যাননি অশোক সেন

পিএইচডির প্রথম প্রায় তিন বছর তাঁর গবেষণায় কোনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতিই হয়নি। চারদিকে শুধু স্থবিরতা। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যেখানে এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন বা হতাশ হয়ে পড়েন, অশোক সেন তা করেননি।

মেষ নয়, হায়াডিস? ভ্যান গগের ‘স্টারি নাইট’ নিয়ে কী বলছে নতুন গবেষণা?

The Starry Night mystery: এর আগে দীর্ঘকাল ধরে ধারণা করা হতো যে ভ্যান গগের আঁকা ছবিটির উপরের অংশটি মেষ রাশির কোনো তারামণ্ডল। তবে, সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত 'দ্য অ্যাকচুয়াল স্কাই অফ ভ্যান গগস স্টারি নাইট: এ মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিঅকনস্ট্রাকশন' নামক গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, ভ্যান গগের ছবির কেন্দ্রীয় পাঁচ তারার বিন্যাস মেষ রাশির সঙ্গে নয়, বরং হায়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মেলে।

ডার্কওয়েবে SBI-র তথ্য ফাঁস, কতটা সুরক্ষিত আপনার সঞ্চয়? যা জানাচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞ

সন্দীপ সেনগুপ্তের পরামর্শ, যাঁদের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে আশঙ্কা রয়েছে, তাঁদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তিনি এমনকি ব্যাঙ্কে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর পরিবর্তন এবং নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার কথাও বলেছেন।

আইনস্টাইনের কাল্পনিক পরীক্ষা এবার বাস্তবে, কোয়ান্টাম জগতের কণা-তরঙ্গ রহস্যের কী হলো?

Einstein Bohr quantum debate: সম্প্রতি ১০০ বছর আগের আইনস্টাইনের সেই কাল্পনিক পরীক্ষাটি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না (USTC)-এর বিখ্যাত কোয়ান্টামবিজ্ঞানী জিয়ান-উই প্যান (Jian-Wei Pan) এবং তাঁর সহকর্মীরা ল্যাবরেটরিতে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?