কালীপুজোয় রাজ‍্যে ধেয়ে আসবে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়! কতটা ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা

Cyclone Sitrang: শোনা যাচ্ছে, দীপাবলি-কালীপুজোর মধ্যেই ফের তছনছ হতে পারে দেশের পূর্ব উপকূল। কতটা ভয়াবহ এই ঘূর্ণিঝড়?

Ramen Das
৪ মিনিট
কালীপুজোয় রাজ‍্যে ধেয়ে আসবে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়! কতটা ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা

প্রতি বছরের মে মাস। ভয়ানক অশনি সংকেত নিয়ে কখনও ছুটে আসে আয়লা, কখনও আমফান, কখনও আবার ইয়াস, অশনি। মুহূর্তেই তছনছ হয় এক-একটি জনপদ। নিমেষেই শেষ হয় বসতি। ক্ষয়ক্ষতির সীমারেখা ছাড়িয়ে ব্যতিব্যস্ত হয় মানুষ। এবার মে মাস নয়, ২০২২-এ এসে সেই আতঙ্কের বহর ছড়িয়েছে অক্টোবরে। শোনা যাচ্ছে, দীপাবলি-কালীপুজোর মধ্যেই ফের তছনছ হতে পারে দেশের পূর্ব উপকূল। আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড় সিত্রং। যার গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ২২০ থেকে ২৫০ কিলোমিটার! ভয় ধরাচ্ছে এর সম্ভাব্য ল্যান্ডফল নিয়েও। অনুমান করা হচ্ছে, এই ঝড় লন্ডভন্ড করতে পারে অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে বাংলাদেশের মধ্যে যে-কোনও অংশ। সম্ভাবনা বেশি দুই বাংলার ক্ষেত্রে।

কীভাবে তৈরি হচ্ছে এই ঘূর্ণিঝড়

বঙ্গোপসাগরের শেষপ্রান্তে ইন্দোনেশিয়ার দিকে দু'টি নিম্নচাপ তৈরি হচ্ছে। যা ক্রমশ এগিয়ে আসছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই নিম্নচাপের মধ্যে একটি গভীর নিম্নচাপ তারপর ঘূর্ণিঝড়ের রূপ ধারণ করতে পারে। যা ক্রমশ ভারত, বাংলাদেশের পূর্ব উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে।

কী করতে পারে এই ঘূর্ণিঝড়

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এই ঘূর্ণিঝড় যদি প্রবল শক্তি-সহ উপকূলে আছড়ে পড়ে, তাহলে আম্ফানের পরে এমন শক্তির ঝড় আগে দেখেনি দেশ। শুধু ঝড় নয়, এর প্রভাবে সমুদ্রে জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। ১৫ থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত উঠতে পারে ঢেউ। যা ভাসিয়ে দিতে পারে একাধিক এলাকা।

কতক্ষণ স্থায়ী হতে পারে এই দুর্যোগ

মূলত, অক্টোবরের মাঝামাঝি অর্থাৎ ১৭ থেকে ১৯ অক্টোবরের মধ্যে এর প্রভাব পড়তে পারে। যদি আরও শক্তিশালী হয়ে এই ঝড় ২৫ তারিখের দিকে আছড়ে পড়ে, তাহলে অমাবস্যার কারণে আরও ভয়ংকর হতে পারে পরিস্থিতি। স্থলভাগে এর পুরোদমে স্থায়িত্ব থাকতে পারে ৩ থেকে ১০ মিনিট। তারপর বিপুল স্থান জুড়ে চলতে পারে তাণ্ডব। প্রসঙ্গত, শক্তিশালী ঝড়ের স্থায়িত্ব এইরকমই হয়, তাতেই ধ্বংস হয় অনেকটা।

আশার-আলো

আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, গত মার্চে এমন এক সম্ভাবনার কথা দেখা গেলেও অবশেষে ঝড় আসেনি। অনেক সময় মাঝ সমুদ্রেই তলিয়ে যায় শক্তি। স্থলভাগে আসার আগেই বিলীন হয় সবটা। এই ক্ষেত্রেও যে তেমনটা হবে না, একথা বলা যায় না।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দেড়শো বছর আগের সেই অক্টোবরে বাংলায় চলেছিল ধ্বংসলীলা! ফিরে দেখা সেই ভয়াবহ ইতিহাস

1864 Cyclone: বিভিন্ন সংবাদপত্র এবং নথি থেকে আমরা ১৮৬৪ সালের ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়ের কথা জানতে পারি।

সতর্কতা

ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক পূর্বাভাস মডেল থেকে শুরু করে দিল্লির মৌসম ভবন। এই নিম্নচাপের গতিবিধির উপর নজর রাখা শুরু করেছে। প্রতিমুহূর্তে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে সিত্রাংকে। ঝড়ের দিকে নজর দিচ্ছে রাজ্য, কেন্দ্রও। দুর্যোগ এলে কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়েও তৎপরতা শুরু করছে প্রশাসন। খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে প্রশাসনিক স্তরে।

সিত্রং শব্দের উৎপত্তি

থাইল্যান্ডের তরফে দেওয়া হয়েছে এই নাম। শ্রীলঙ্কার দেওয়া নাম অশনির পরে এবার সম্ভাব্য ঝড়ের নাম দেওয়ার পালা থাইল্যান্ডের। তাদের তরফে এই ঝড়ের নাম দেওয়া হয়েছে সিত্রং। ভিয়েতনামি ভাষায় এর অর্থ পাতা। আগের ঘূর্ণিঝড়ের নামের অর্থ ছিল বজ্র। প্রসঙ্গত, বঙ্গোপসাগরে এই সময় কোনও ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হলে এর নাম হত ‘সিত্রং'। কারণ, বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার অধীন জাতিসংঘের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সাগরতীরের মোট ১৩টি দেশ; বাংলাদেশ, মায়ানমার, ভারত, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, ওমান, কাতার, সংযুক্ত আরব এমিরেটস, ইরান, সৌদি আরব ও ইয়েমেনকে ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী ঝড়ের নাম ঠিক করার কথা বলা হয়। সেই মোতাবেক এক একটি দেশ মোট তিনটি করে নাম-সহ শতাধিক নামের তালিকা ইতিমধ্যেই জমা দিয়েছে। যেখানে পরবর্তী ঝড়ের নাম যে থাইল্যান্ড থেকেই হবে এটি ওই তালিকায় স্পষ্ট। এর পরের ঝড়ের নাম হবে মন্দৌস, যা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। তারপরের ঝড়ের নাম হবে মোচা। যা দিয়েছে ইয়েমেন।

উল্লেখ্য, ১৯৫৩ সাল থেকে ভৌগলিক অবস্থান অনুযায়ী এই ঝড়ের নামকরণের রীতি রয়েছে। পরবর্তীকালে বিশ্বের দশকে এসে নামকরণের অধিকারী হিসেবে আরও কয়েকটি দেশ নথিভুক্ত হয়। যেখানে নানা বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে নাম দেওয়া হয় ঝড়ের। এই ক্ষেত্রেও সেই রীতি অনুযায়ী নাম দেওয়া হয়েছে।

ঝড়ের ইতিহাস

ঘূর্ণিঝড় বারবার ভয় ধরিয়েছে সাধারণ মানুষকে। একের পর এক নামে এসে ক্রমশ শেষ করেছে অনেক কিছু।

একাধিক ঝড়ের ইতিহাস থাকলেও এই রাজ্য সম্প্রতি বিপদের সম্মুখীন হয় আয়লা থেকে। ২০০৯ সাল। সেই মে মাস। আচমকা প্রবল, ঝড় বৃষ্টিতে তলিয়ে গেল উপকূলবর্তী জেলার বড় অংশ। ডুবল সুন্দরবন। গবাদি পশু থেকে সাধারণ মানুষ। বাম আমলে বিপদে পড়ল সবাই। ঘর ভাঙল, বাঁধ ভাঙল, জলে তলিয়ে গেল চারপাশ। আকাশপথে ত্রাণের ব্যবস্থা করতে হল সরকারকেও।

২০১৯ সাল। মে মাস। ওড়িশা উপকূলে আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় ফনি। বাংলায় এর প্রভাব খুব একটা না পড়লেও লন্ডভন্ড হয়েছিল ওড়িশার উপকূল।

এর সঙ্গে গাঁজা, বুলবুল ও ভয় ধরায় ওড়িশা, অন্ধ্র উপকূলে। বাংলাদেশেও আছড়ে পড়ে একের পর এক ঘূর্ণিঝড়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ থেকে মানুষের মৃত্যু, বিপদে পড়ে বাংলাদেশও।

২০২০। মে। গড়ে ১৮৫ কিলোমিটারের বেশি ঘূর্ণিঝড় শেষ করেছিল বাংলার একাধিক জেলা। ফের তছনছ হয়েছিল সুন্দরবন। গড়ে ১৩৩ কিলোমিটার ঘণ্টায় বেগে এই ঝড়ের অভিঘাতে বিদ্যুৎহীন থেকেছিল গোটা কলকাতাও। গত ৪-৫ দশকে নাকি আমফানের মতো দুর্যোগ দেখেনি বাংলা।

২০২১। মে। ইয়াস। আম্ফানের পর ফের ভয় ধরিয়েছিল এই ঝড়। তবে মারাত্মক ক্ষতি হয়নি এর প্রভাবে। বাড়ি ভেঙেছে, জল ঢুকেছে ঠিকই তবে অতি ভয়ঙ্কর আম্ফানের পরে ইয়াস মারাত্মক কিছু করেনি। যদিও এর সপ্তাহখানেক আগেই পশ্চিম ভারতে চাপ বারের ঘূর্ণিঝড় তকত।

যদিও এবারের ঝড়ের অবস্থান অক্টোবরে। মে মাসে এমন দুর্যোগের সম্ভাবনা তৈরি হয়নি। এই ঝড় ব্যতিক্রম।

কেন বারবার মে মাসে দুর্যোগ?

এর একাধিক কারণের কথা বলেন আবহবিদেরা। চলতি বছরের মে মাসে প্রকাশিত একটি বৈদ্যুতিন মাধ্যমের ডিজিটাল বিভাগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "বর্ষার আগে এপ্রিল এবং মে মাসই ঘূর্ণিঝড়ের উপযুক্ত সময়। এর মধ্যে মে মাসে ঘূর্ণিঝড় সবথেকে বেশি হয়। মে মাসে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় হওয়ার উপযুক্ত পরিবেশ থাকে। বেশ কয়েকটি কারণে উপরে এই ঘূর্ণিঝড় নির্ভর করে।''

ওই প্রতিবেদনে তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড় তৈরিতে তাপমাত্রা গুরুত্বপূর্ণ। যা এই সময়ে থাকে।

এছাড়াও যে কারণে এর সৃষ্টি তা হলো, হাওয়া ওপরের দিকে উঠতে পারে এরকম অনুকূল পরিস্থিতি থাকলে তবেই ঘূর্ণিঝড় হওয়ার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়। কোনও ঘূর্ণাবর্ত থাকলেও তা ঘূর্ণিঝড় তৈরিতে সাহায্য করে।

ঘূর্ণিঝড়ের ঘূর্ণি তৈরি হতে সাহায্য করে শক্তি। সমুদ্রপৃষ্ঠে তৈরি হওয়া শক্তি। যা ওই নিম্নচাপকে কুক্ষিগত করার চেষ্টা বলেই মত আবহবিদদের একাংশের।

লিখেছেন
Ramen Das
Ramen Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

জলবায়ু বদলেছে, নদীর প্রবাহ বদলেছে: ৩০ বছরের পুরনো ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তিতে কোন কোন পরিবর্তন দরকার?

A Flawed Pact of Farakka: ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ। বাংলাদেশের নদী বিশেষজ্ঞ মনজুর এ চৌধুরীর মতে, চুক্তিটি 'ত্রুটিপূর্ণ', এতে নেই গ্যারান্টি ক্লজ, নেই পরিবেশগত প্রবাহের হিসাব, নেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিধান। তাঁর প্রস্তাব, তিন বছরের নতুন অন্তর্বর্তী চুক্তি হোক, তারপর নেপালকে যুক্ত করে তৈরি করা হোক ত্রিপাক্ষিক কাঠামো।

থালায় খাবার, নাকি বিষ? খাদ্যব্যবস্থার ভিতরে যেভাবে ঢুকছে কীটনাশক ও কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ

Poison on the Plate: বায়ার-মনসান্টো ও সিনজেনটার মতো 'বিগ সিক্স' কর্পোরেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে বিশ্বের বীজ বাজার। ২০২৩ সালে ভারতে ১০,৭৮৬ জন খাদ্য উৎপাদক কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২৮ শতাংশ খাদ্য নমুনায় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যাচ্ছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত গ্লাইফোসেটকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ক্ষতিকারক ‘সম্ভাব্য কার্সিনোজেন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবুও এর ব্যবহার থামেনি। অন্যদিকে, প্রচারের অন্তরালে সিকিম আমাদের দেশের প্রথম শতভাগ জৈব কৃষির রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সারা বিশ্বজুড়ে কৃষিবিদ বন্দনা শিবার ‘পয়জন-ফ্রি ফুড অ্যান্ড ফার্মিং ২০৩০’ অভিযানের ডাক আমাদের খাবারের থালাকে বিষমুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছে।

তেলের বদলে বিদ্যুৎ! আরব সাগরের তলায় ভারত-সৌদির ৯ বিলিয়ন ডলারের মহাপ্রকল্প

India Saudi Arabia submarine power link: আরব সাগরের তলদেশ দিয়ে ভারত ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রস্তাবিত ২১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সাবমেরিন বিদ্যুৎ সংযোগের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হচ্ছে, যার ক্ষমতা থাকবে ৩ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের। প্রযুক্তি হিসাবে ব্যবহৃত হবে HVDC, এর ফলে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ বিলিয়ন ডলার। আজ, ৫ অক্টোবর, দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা হবে প্রকল্পটির ব্যয় কমানো, অর্থায়ন মডেল ও ঝুঁকি ভাগাভাগি নিয়ে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ভারতের ওয়ান সান ওয়ান ওয়ার্ল্ড ওয়ান গ্রিড প্রকল্প ও জি-২০ তে প্রস্তাবিত ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এই প্রকল্পটিকে চিনের বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভের বিকল্প হিসেবে দেখা যেতে পারে।

কয়লার দেশ হয়েও কেন বিদ্যুৎ সংকটে ভারত?

India's energy crisis 2026: হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায়, ভারতের ৮০ শতাংশের বেশি জ্বালানি আমদানি ধাক্কা খেয়েছে। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর এক সময় জ্বালানিক্ষেত্রে ‘ঘাটতি নেই’ বললেও সেপ্টেম্বরে স্বীকার করলেন, জ্বালানির পরিস্থিতি বর্তমানে ‘টানটান’। ৭৬টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংকটজনক ভাবে মজুত করা কয়লায় চলছে। চলছে এলপিজির কালোবাজারি। ডিসকমগুলির বকেয়া জমে রয়েছে প্রায়, ৩,৩৩০ কোটি টাকা।

প্রকৃতির কোলে পিকনিক, শেষে প্লাস্টিকের পাহাড়: মানুষ কি সত্যিই প্রকৃতিকে ভালোবাসে?

Environmental Pollution: প্রশাসনের তরফে অতিরিক্ত দূষণ ছড়ানো কলকারখানা সিল করে দেওয়ার মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপ হয়তো নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এতেই কি সমস্যার সমাধান মিলবে? কারণ জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যক্তিগত যানবাহনের দাপট এবং বৈদ্যুতিন বর্জ্য। শ্রমবিমুখ হয়ে সবকিছু প্রস্তুত পাওয়ার মানসিকতা এবং দেশে সংস্কারের লড়াই না করে সহজে অন্য দেশে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতাও স্পষ্ট। এই দায় এড়িয়ে কি সার্বিক সমাধান সম্ভব?

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।