লকডাউনের স্মৃতি উস্কে বন্ধ স্কুল-কলেজ-অফিস! কোন পথে বাগে আসবে রাজধানীর মাত্রাতিরিক্ত দূষণ?

Delhi Air Pollution: শহরের বর্তমান দূষণের কথা মাথায় রেখে রাজ্যের সমস্ত স্কুলের পঠনপাঠন ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Sohini Das
৩ মিনিট
লকডাউনের স্মৃতি উস্কে বন্ধ স্কুল-কলেজ-অফিস! কোন পথে বাগে আসবে রাজধানীর মাত্রাতিরিক্ত দূষণ?

কোভিডের সময় সংক্রমণ এড়াতে স্কুল বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল প্রশাসন। জারি হয়েছিল লকডাউন। তবে সেই কোভিড-ফাঁড়া কেটেছে অনেকদিন হল। লকডাউনও উঠেছে। তবে ফাঁড়া কাটেনি দিল্লির। রাজধানী জুড়ে ফের তৈরি হয়েছে লকডাউন পরিস্থিতি। পুরোপুরি না হলেও অর্ধেক তো বটেই। প্রতিবছর শরৎ কাটতে না কাটতেই দিল্লিতে ব্যাপক হয়ে ওঠে বায়ুদূষণ। বাতাসের গুণগত মানের সূচক এমন জায়গায় নেমে যায়, যে তা মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠে প্রশাসনের। এবারও তার ব্যতিক্রম হল না। পরিবেশ দূষণ সামাল দিতে গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যানের অংশ হিসেবে দিল্লি জুড়ে জারি করা হল আংশিক লকডাউন। বন্ধ হল পড়ুয়াদের স্কুল। অফিসে হাজিরা ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র।

কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (সিপিসিবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সকালে রাজধানীর বাতাসের গুণগত মান দাঁড়িয়ে ছিল ৪৬০-এ। প্রতিবছরের মতোই রোজই ঘন ধোঁয়াশায় ঢাকছে শহর। নিঃশ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে বাসিন্দাদের। শীত না পড়তে পড়তেই দিল্লির সকাল-বিকেল জুড়ে পুরু কুয়াশার চাদর। সিপিসিবি বলছে, রবিবার আয়ানগরের বাতাসের গুণগত মানের সূচক বা একিউ পৌঁছেছে ৪৬৪-তে। দ্বারকার সেক্টর ৮-এ বাতাসের গুণগত মান ৪৮৬, জহাঙ্গিরপুরীতে ৪৬৩ এবং ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ৩-তে একিউআই ৪৮০। ফলে ইতিমধ্যেই রাজধানীতে দূষণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণসীমা পার করে গিয়েছে। যাকে 'অতি ভয়ানক' হিসেবে ধরছেন পরিবেশবিদেরা।

দূষণ রুখতে কেন্দ্রের কমিশন ফর এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট বেশ কিছু পদক্ষেপের খসড়া তৈরি করেছে ইতিমধ্যেই। তাকেই বলে গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান। অর্থাৎ একিউআই লেভেল ‘অতি ভয়ানক-এর সীমা পেরোলে সে সময় জিএআরপির চতুর্থ পর্যায় মেনে পদক্ষেপ করা হয়। আর দিল্লিতে আপাতত সেই পদক্ষেপই অবলম্বন করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। দূষণ-বিরোধী জিআরপিএ মেনে প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় পর্যায়ে যা যা পদক্ষেপ করা দরকার, তা-ও করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি দিল্লিকে স্বাভাবিক জায়গায় ফিরিয়ে আনতে আর কী কী পদক্ষেপ করা যায়, সে নিয়ে বৈঠকও করেছে কেজরীওয়াল সরকার।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দূষণে নাভিশ্বাস, রাজধানী দিল্লি পরিত্যক্ত নগরীতে পরিণত হবে?

Air pollution in Delhi: ভারতের রাজধানীর ধোঁয়া চিত্র বদলাচ্ছে না। সাম্প্রতিক দূষণের পরিমাণ দেখে চমকে উঠছেন সাধারণ মানুষ।

এই পরিস্থিতিতে ৬ নভেম্বর, সোমবার কেন্দ্রের তরফে জারি করা হয়েছে একগুচ্ছ নতুন নির্দেশিকা। রাজ্য জুড়ে যে গতিতে দূষণ বাড়ছে, তা রুখতে একাধিক পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। শহরের বর্তমান দূষণের কথা মাথায় রেখে রাজ্যের সমস্ত স্কুলের শ্রেণির পঠনপাঠন ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেখানে। তবে অনলাইন ক্লাস চলবে। তবে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারা ওই নিয়মের আওতায় পড়বে না। রয়েছে আরও একগুচ্ছ নিয়ম।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
শহুরে পরিবেশবিদের ডায়েরি : অরিন্দম রায়

Shohure Poribeshbider Diary: উইপোকার ঢিপি এমন একটি স্থাপত্য শৈলীর উদাহরণ যেখানে ঢিপির মধ্যেকার তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা বাইরের খুব গরম বা ঠান্ডার সময়ও একইরকম থাকে।

জিআরএপির চতুর্থ পর্যায়ে মোট আটটি পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। আর সেই খসড়া মেনেই একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে দিল্লির উপরে। এই মুহূর্তে এলএনসি বা সিএনজি চালিত ছাড়া দিল্লিতে কোনও ট্রাক প্রবেশ করতে পারবে না। ডিজেল চালিত মাঝারি মাপের যান এবং ভারী মালবাহী যানও তো একেবারেই নয়। তবে জরুরি পরিষেবা বহনকারী ট্রাক এবং চার চাকার ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছে কেন্দ্র।

এই জিআরপি খসড়া অনুযায়ী, চাইলে রাজ্য সরকার কলেজ, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিতে পারে। ইতিমধ্যেই রাজধানীর সমস্ত প্রাথমিক স্কুলগুলি ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আসতে হবে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। পঞ্চম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি এবং একাদশ শ্রেণির পঠনপাঠন অনলাইন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের তরফে।

শুধু স্কুলই নয়। নতুন নিয়ম জারি অফিসগুলিতেও। খসড়া অনুযায়ী, রাজ্য সরকার নিজের কর্মীদের বাড়িতে বসে কাজের নির্দেশ দিতে পারে। ইতিমধ্যেই সরকারের তরফে ৫০ শতাংশ হাজিরা কমিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগেও দিল্লির রাস্তায় জোড়-বিজোড় নীতি বলবৎ ছিল। বর্তমান দূষণ পরিস্থিতি বিচার করে ফের রাজধানীতে জোড়-বিজোড় নম্বর প্লেটের ভিত্তিতে রাস্তায় গাড়ি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একদিন জোড় সংখ্যার নম্বর প্লেট বিশিষ্ট গাড়ি চললে পরের দিন চলবে বিজোড় নম্বর প্লেটের গাড়ি। এতে রাস্তায় গাড়ির চাপ অনেকটাই কমানো যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এত কিছুর পরেও কি রোখ টানা যাবে ভয়ঙ্কর এই দূষণে। প্রতি বছরই এই সময়টা মাত্রাছাড়া দূষণে ভোগে দিল্লি। পঞ্জাব-সহ একাধিক এলাকায় ফসলের নাড়া পোড়ানোর ফলেই বিপদসীমার নিচে নেমে যায় বাতাসের গুণগতমান। তার পরে ট্র্যাফিকজাত দূষণ তো রয়েইছে। কেকের উপর চেরির মতোই তাকে আরও মাত্রাছাড়া করে তোলে দিওয়ালির বাজি। হাজার সতর্কতা, হাজার নিয়ম এনেও ঠেকানো যায়নি পরিস্থিতি। ঠিক সে কারণেই করোনার বহু আগে থেকেই দিল্লিবাসীর মুখে চেপেছিল মাস্ক। আর এবার করোনা পেরিয়েও ফের লকডাউন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে দিল্লিতে। গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান দিয়েও কি আদৌ শোধরানো যাবে পরিস্থিতি নাকি প্রতিবছরের মতোই মুখ থুবড়ে পড়বে এই প্রতিরোধী প্ল্যানও, সেটাই দেখার।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।