G20 অতিথিরা যাতে 'বিরক্ত' না হন, দিল্লি জুড়ে আটক হাজার হাজার পথকুকুর!

Delhi Stray Dogs Capture before G20: দিল্লির জাতীয় রাজধানী অঞ্চলে ৬০,০০০-এরও বেশি পথকুকুর রয়েছে। সাধারণত স্থানীয় বাসিন্দারাই এদের খাওয়ান।

Madhurima Dutta
৩ মিনিট
G20 অতিথিরা যাতে 'বিরক্ত' না হন, দিল্লি জুড়ে আটক হাজার হাজার পথকুকুর!

জি২০ সম্মেলন হবে। তাতে বিদেশি বন্ধুরাষ্ট্রনেতারা আসবেন ভারতের রাজধানীতে। অতিথি এখানে দেবতা। তাই দেবতাদের যাতে কোনও বিড়ম্বনাতেই পড়তে না হয়, বিজেপি সরকার সেই চেষ্টাই করেছে। পর্দা দিয়ে দারিদ্র্য ঢেকে দেওয়া হয়েছে। শহরের সেরা সেরা চিত্র দিয়ে এক ইউটোপিয়ান ভারতের রেপ্লিকা গড়ে তোলা হয়েছে অতিথিদের সামনে। কোনও উটকো বিপদ যাতে দেবতুল্য অতিথিদের বিড়ম্বনায় না ফেলে সেই কারণে দিল্লি শহরের কুকুরদের অবধি খাঁচায় পুরে রাখা হয়েছিল সম্মেলন চলাকালীন। এমনিতে প্রশাসনিক কার্যালয়ের ধারেকাছে বাঁদরের উৎপাত প্রবল। বাঁদর তাড়ুয়া আলাদা পদও রয়েছে দিল্লির মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনে। এবার পথকুকুরদের ধরে ধরে খাঁচায় ভরে ফেলা হয়েছিল যাতে রাস্তাঘাটে এসব চারপেয়েদের কোনও অস্তিত্বই না মেলে।

৯-১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় রাজধানীতে G20 শীর্ষ সম্মেলন চলাকালীন রাস্তায় কোনও কুকুরের ডাকও শোনা যায়নি। অতিথিরা চলে গেছেন, দিল্লির মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন এবার সেই খাঁচাবন্দি সারমেয়দের আবার ফেরাচ্ছে পথে। কর্পোরেশন দিল্লি হাইকোর্টকে জানিয়েছে যে জি২০ শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতির সময় যে কুকুরদের ধরে রাখা হয়েছিল তাদের ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, আইন মেনেই। দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (এমসিডি) নির্দেশ দিয়েছিল শহরের জি২০ সম্মেলন শেষ না হওয়া পর্যন্ত হোটেল এবং বাজারের কাছাকাছি পথকুকুরগুলিকে আটকে রাখা হবে, জীবাণুমুক্ত করা হবে এবং বন্ধ্যাকরণ কেন্দ্রে রাখা হবে।

দিল্লির প্রায় ৫০টি এলাকার সমস্ত কুকুরদের বন্দি করা হয়। বিশেষ করে বিলাসবহুল হোটেলগুলির কাছাকাছি যেখানে জি২০ প্রতিনিধিরা থাকবেন, যেমন হায়াত রিজেন্সি, আইটিসি শেরাটন, লোধি হোটেল এবং তাজ বিভান্তা, অন্যান্য পাঁচতারা হোটেল লাগোয়া এলাকা পথকুকুরমুক্ত করতেই হবে, নির্দেশ ছিল প্রশাসনের। হাউজ খাস গ্রাম, মালব্য নগর, লাজপত নগর, করোল বাগ, চাঁদনি চক এবং গ্রেটার কৈলাশের মতো এলাকাগুলি থেকেও কুকুর সরাতে হবে কারণ এই এলাকাগুলিতে জি২০ প্রতিনিধিদের যাওয়ার কথা ছিল।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
জি-২০-এর অতিথিদের মোদির উপহার সিন্দুক, ভিতরে কোন খাজানা?

G20 India Summit: জি ২০ সম্মেলনের দেশি বিদেশি অতিথিদের বিশেষ উপহার তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কাঠের সিন্দুকের ভিতর রকমারি উপহার। সুন্দরবনের মধু থেকে কাশ্মীরের পশমিনা, কন্নৌজের সুগন্ধী, কী নেই গিফ্ট বক্সে!

হোটেল এবং বাজার ছাড়াও, হুমায়ুনের সমাধি, নিজামুদ্দিন, পুরনো কেল্লা, ইসকন মন্দির, অক্ষরধাম মন্দির, লাল কেল্লা, গালিব কি হাভেলি এবং জামা মসজিদের মতো পর্যটনস্থানগুলিতেও 'পথকুকুর হাটাও' অভিযান চলে। সরকারি তথ্য বলছে, দিল্লির জাতীয় রাজধানী অঞ্চলে ৬০,০০০-এরও বেশি পথকুকুর রয়েছে। সাধারণত স্থানীয় বাসিন্দারাই এদের খাওয়ান।

স্বাধীনতা দিবস, প্রজাতন্ত্র দিবস এবং সম্প্রতি জি-২০ সম্মেলনের মতো বিশেষ অনুষ্ঠানের সময় দিল্লিতে পথকুকুরগুলিকে কীভাবে ধরা হয়েছিল তা তুলে ধরে একজন পশুকর্মী একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন। প্রধান বিচারপতি সতীশ চন্দ্র শর্মা এবং বিচারপতি সঞ্জীব নরুলার একটি ডিভিশন বেঞ্চ সেই মামলার শুনানি করছিল। আদালত দিল্লি সরকার, দিল্লির মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন এবং ভারতের পশু কল্যাণ বোর্ডকে পশু জন্মনিয়ন্ত্রণ বিধি, ২০২৩-এর অধীনে সমস্ত বিধান যাতে কঠোরভাবে মেনে চলা হয় তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে। অর্থাৎ এই পথকুকুরগুলিকে ধরা এবং ছেড়ে দেওয়ার সময় আইন মেনেই কাজটি করতে হবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেন কুকুরের মতো বন্ধুত্বপূর্ণ নয় বেড়াল? কতটা রহস্যময় এই প্রাণী

বেড়াল কেন কুকুরের মতো বন্ধুত্বপূর্ণ নয়? এবং কিছু বেড়াল কেন বেশি বন্ধুত্বপূর্ণ, আবার কেউ কেউ কেন আপন খেয়ালে থাকে; কেনই বা মানুষের ডাক বা আদরকে উপেক্ষা করে?

ওই জনস্বার্থ মামলাকারীর আইনজীবী জানাচ্ছেন, কুকুরদের ধরা এবং ছেড়ে দেওয়ার একটি বিশদ প্রক্রিয়া রয়েছে। প্রাণী জন্মনিয়ন্ত্রণ বিধি, ২০২৩-এর অধীনে তা সাফ উল্লেখ করা আছে। কর্পোরেশন সেই নীতি কি আদৌ অনুসরণ করছে?

নিয়ম বলছে, পথকুকুরদের ধরার পরে অবিলম্বে সংখ্যাযুক্ত কলার দিয়ে চিহ্নিত করা উচিত যাতে যথাযথ রেকর্ড বজায় রাখা যায়। পরবর্তীতে যে এলাকা থেকে তাদের বন্দি করা হয়েছিল সেখানেই যাতে ফিরিয়ে দেওয়া যায় সেইজন্য এই রেকর্ড থাকা দরকার। নাহলে এই কুকুররা অন্য পরিবেশে গিয়ে বাঁচতে পারবে না।

কর্পোরেশনের আইনজীবী বলছেন, জি২০ সম্মেলনের সময় আটকে রাখা কুকুরগুলিকে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। রাস্তার কুকুরদের বন্দি করা এবং ছেড়ে দেওয়া সম্পর্কিত বিধি মেনেই সবটা হচ্ছে।

G20 সম্মেলনের থিম ছিল -এক পৃথিবী, এক পরিবার, এক ভবিষ্যৎ। এই 'এক' শব্দটি যে কত একা তা প্রমাণ হয়ে গিয়েছে প্রশাসনের এসব রাখঢাক প্রক্রিয়াতেই। এই 'এক'-এর মধ্যে সকলে নেই। নেই বস্তির মানুষরা, নেই পশু পাখিরা, নেই সাধারণ মানুষরা। বিদেশি প্রতিনিধিরা যদি দেখতেন সাধারণ মানুষ পথকুকুরদের খাওয়াচ্ছে, দেশের 'ইমেজ' কি ধুলোয় লুটাত? মণিপুরের নগ্ন মহিলাদের লাঞ্ছনার থেকেও নিকৃষ্ট উদাহরণ তৈরি করত কুকুররা?

লিখেছেন
Madhurima Dutta
Madhurima Dutta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।