সত্যিই UPSC না দিয়েও পাস করে গেছেন ওম বিড়লার মেয়ে? জানুন আসল সত্য

Om Birla Daughter UPSC: ২০১৯ সালের পরীক্ষার ফলাফল ২০২০ সালের ৪ অগাস্ট ঘোষণা করা হয়। ৮২৯ জন প্রার্থী তাতে উত্তীর্ণ হন। অঞ্জলির নাম রিজার্ভ তালিকায় ছিল।

inscript
৩ মিনিট
সত্যিই UPSC না দিয়েও পাস করে গেছেন ওম বিড়লার মেয়ে? জানুন আসল সত্য

১৮তম লোকসভায় ফের স্পিকার পদে নিযুক্ত হয়েছেন ভারতীয় জনতা পার্টির সাংসদ ওম বিড়লা। এই ঘটনার পরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর ছড়িয়ে পড়ে। ওম বিড়লার কন্যা অঞ্জলি বিড়লা ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। অনেকেই বলতে থাকেন, অঞ্জলি এই পরীক্ষায় না বসেও পাস করে গেছেন। দেশের অন্যতম কঠিন পরীক্ষা ইউপিএসসি। নিট বা নেট নিয়ে চলা কেলেঙ্কারির মধ্যে ইউপিএসসি-র দুর্নীতি নিয়েও প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। কিন্তু সত্যিই পরীক্ষায় না বসেই উত্তীর্ণ হওয়া সম্ভব?

সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেকেই অঞ্জলি বিড়লার ছবি শেয়ার করে লিখতে থাকেন, “ভারতই একমাত্র দেশ যেখানে আপনি পরীক্ষায় না বসেই ইউপিএসসি পাস করতে পারেন। তবে তার জন্য আপনাকে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কন্যা হয়ে জন্মাতে হবে। ওম বিড়লার মেয়ে অঞ্জলি বিড়লা কোনও পরীক্ষা না দিয়েই UPSC পাশ করেছেন, তিনি পেশায় একজন মডেল। মোদি সরকার আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রহসন করে তুলেছে।"

সম্প্রতি ইন্ডিয়া টুডে এই ঘটনার সত্যতা যাচাই করেছে। দেখা গেছে, পরীক্ষায় না বসেই পাস করার দাবিগুলি সত্য নয়। অঞ্জলি বিড়লা ২০১৯ সালের UPSC পরীক্ষায় বসেন এবং একত্রিত রিজার্ভ তালিকার মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন, যা UPSC নির্বাচন প্রক্রিয়ারই একটি অংশ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মোদির সঙ্গে মাথা নত করে করমর্দন! ওম বিড়লাকে কর্তব্য মনে করালেন রাহুল গান্ধি

Rahul Gandhi vs Om Birla: ওম বিড়লা বলছেন, "আমার সংস্কার বলে, প্রয়োজনে বড়দের পা ছুঁয়ে প্রণাম করা উচিত। আমি এই সংস্কার মেনে চলি।"

সোশ্যাল মিডিয়াতে আরও বলা হতে থাকে, অঞ্জলি বিড়লা একেবারে প্রথম প্রচেষ্টায় UPSC পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। দেশের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষায় তাবড় তাবড় আধিকারিকরাও এক সুযোগে পাস করতে পারেননি। অঞ্জলি কীভাবে পারলেন? মিন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালের পরীক্ষার ফলাফল ২০২০ সালের ৪ অগাস্ট ঘোষণা করা হয়। ৮২৯ জন প্রার্থী তাতে উত্তীর্ণ হন। অঞ্জলির নাম রিজার্ভ তালিকায় ছিল। সেই তালিকায় আরও ৮৯ জন প্রার্থী ছিলেন। তাঁদের নাম ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি ঘোষণা করা হয়েছিল।

UPSC-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি প্রকাশিত ওই রিজার্ভ তালিকার বিজ্ঞপ্তি রয়েছে। ইউপিএসসির নিয়ম ১৬(৪) এবং ১৬(৫) অনুযায়ী, কমিশন যোগ্য প্রার্থীদের একটি সংরক্ষিত তালিকা তৈরি করে। এই তালিকায় ৮৯ জন প্রার্থীকে নির্বাচিত করা হয়েছিল এবং অঞ্জলি বিড়লা ছিলেন তাদের একজন। অঞ্জলির নাম এবং রোল নম্বর (০৮৫১৮৭৬) সেই তালিকায় স্পষ্ট উল্লিখিত আছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
গণতন্ত্রে 'রাজদণ্ড' কেন? সংসদ থেকে সরানো হবে মোদির প্রিয় সেঙ্গোল?

Sengol symbol of monarchy: সাংসদ আর কে চৌধুরী লিখেছেন, “সংবিধান গণতন্ত্রের প্রতীক এবং সেঙ্গোল রাজতন্ত্রের প্রতীক। আমাদের সংসদ গণতন্ত্রের মন্দির, রাজত্বের স্থান নয়।"

ইউপিএসসি পরীক্ষার শেষ ধাপ ইন্টারভিউ। সেই পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য, প্রার্থীকে প্রিলিম এবং মেইনস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। ২০১৯ সালের UPSC প্রিলিমের ফলাফলেও উত্তীর্ণদের তালিকায় অঞ্জলি বিড়লার নাম আছে। মেইনসের পরীক্ষার ফলাফলেও অঞ্জলির নাম উত্তীর্ণদের তালিকায় আছে। ২০২০ সালের ১৪ তাঁদের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল।

আইএএস অফিসারদের পাশাপাশি গ্রেড এ কর্মচারীদের নিয়োগও করে UPSC। প্রতি বছর, কেন্দ্রীয় সরকারের চাহিদা অনুযায়ী, এই ধরনের প্রার্থীদের সুপারিশ করা হয়। এই তালিকাকে বলা হয় একত্রিত সংরক্ষিত তালিকা। ২০২১ সালের ৭ জানুয়ারি UPSC এই বিষয়ে স্পষ্ট জানায় যে ইউনিয়ন একটি রিজার্ভ তালিকা তৈরি করবে যেখানে সংরক্ষিত এবং অ-সংরক্ষিত বিভাগের প্রার্থীদের সুপারিশ করা হবে।

কুইন্টকে অঞ্জলি বিড়লা বলেছেন, "ইউপিএসসি আগেই জানিয়েছিল যে তাদের ২০১৯ ব্যাচের জন্য ৯২৭টি শূন্যপদ রয়েছে৷ চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ হলে দেখা যায় মাত্র ৮২৯টি শূন্যপদ পূরণ হচ্ছে৷ তাই, ২০২০ সালের অগাস্টের তালিকায় আমার নাম সেখানে ছিল না কারণ আমি ৮ নম্বরের জন্য সাধারণ বিভাগের কাট-অফ মার্কস পেরোতে পারিনি। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে UPSC উল্লেখ করে যে ডিপার্টমেন্ট অফ পার্সোনেল অ্যান্ড ট্রেনিং (DoPT) আরও শূন্যপদ পূরণের জন্য অনুরোধ করেছে।”

দিল্লির রামজাস কলেজের স্নাতক অঞ্জলি বিড়লা ভারতীয় রেলওয়ে অ্যাকাউন্ট পরিষেবার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বাংলায় ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব মুসলিম এলাকাগুলিতে ছ’গুণ বেশি, বলছে পরিসংখ্যান

Bengal Voter List Review: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা যাচাইয়ে বিচারাধীন ভোটারদের ক্ষেত্রে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেই প্রভাব বেশি পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই এলাকাগুলিতে ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় ছ’গুণ বেশি। এই পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো, কোন এলাকার ভোটাররা বেশি প্রভাবিত হলেন এবং এর পিছনে কী কারণ রয়েছে?

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।