লোকসভার রেকর্ড থেকে বাদ রাহুলের বক্তব্য! বাকস্বাধীনতার প্রশ্ন তুলে স্পিকারকে চিঠি বিরোধী দলনেতার

Rahul Gandhi: রাহুল এদিন তাঁর চিঠিতে রীতিমতো তারিখ ও সময় উল্লেখ করে জানিয়েছেন, যে যুক্তিতে তাঁর মন্তব্যকে সরানো হয়েছে, তা কোনও ভাবেই ধারা ৩৮০-র মধ্যে পড়ে না।

Sohini Das
৩ মিনিট
লোকসভার রেকর্ড থেকে বাদ রাহুলের বক্তব্য! বাকস্বাধীনতার প্রশ্ন তুলে স্পিকারকে চিঠি বিরোধী দলনেতার

প্রায় এক দশক পরে বিরোধী দলনেতা পেয়েছে লোকসভা। সেই লোকসভার প্রথম অধিবেশনে বিরোধী দলনেতা হিসেবে কার্যত একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন রাহুল গান্ধি। নরেন্দ্র মোদি-সহ গোটা বিজেপি দলই ছিল সেদিন রাহুলের নিশানায়। এমনকী বিজেপির হিন্দুত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছিলেন রাহুল। সে ব্য়াপারটি নিয়ে শুধু বিজেপি নেতাদেরই নয়, বেশ অস্বস্তিতে পড়তে হয় লোকসভার বিজেপি প্রস্তাবিত স্পিকার ওম বিড়লাকে। মঙ্গলবার দেখা গেল, সোমবার রাহুলের দেওয়া ভাষণ থেকে বেশ কিছু অংশ মুছে ফেলা হয়েছে স্পিকার ওম বিড়লার নির্দেশে। রাহুলের সেই সব বক্তব্যকে 'বিতর্কিত' বলে দেগেই সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর। আর এবার সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেই স্পিকার ওম বিড়লাকে লম্বা-চওড়া চিঠি লিখলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি।

চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, রেকর্ডিং থেকে বাদ দেওয়া তাঁর বক্তৃতার অংশটি কোনও মতেই লোকসভার ৩৮০ ধারার মধ্যে পড়ে না। যে ধারা আদতে সাংসদদের বলা কথা বা ভাষণ সরিয়ে দেওয়া বা মুছে ফেলার অনুমতি দেয়। রাহুল জানিয়েছেন, তিনি যা বলেছেন সোমবার সাংসদে, তা বাস্তব ছবিমাত্র এবং তা চরম সত্যি। এর পাশাপাশি বিরোধী দলনেতা উল্লেখ করেছেন, ভারতীয় সংবিধানের ১০৫(১) অনুচ্ছেদের কথা, যেখানে বাকস্বাধীনতার কথা বলা হয়। তিনি জানান, সংসদের মধ্যে বক্তব্য উত্থাপন করা প্রতিটি সদস্যের অধিকার। এর পরেই সংসদের রেকর্ড থেকে সরিয়ে দেওয়া তাঁর মন্তব্য পুনরুদ্ধারের আর্জিও জানিয়েছেন রাহুল।

রাহুল এদিন তাঁর চিঠিতে রীতিমতো তারিখ ও সময় উল্লেখ করে জানিয়েছেন, যে যুক্তিতে তাঁর মন্তব্যকে সরানো হয়েছে, তা কোনও ভাবেই ধারা ৩৮০-র মধ্যে পড়ে না। কারণ কোনও রকম কুমন্তব্য বা অপশব্দ তিনি ব্যবহার করেননি। রাহুলের বক্তব্য, “আমার ভাষণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ যেভাবে বহিষ্কারের আড়ালে কার্যধারা থেকে সরানো হয়েছে তা দেখে আমি হতবাক। আমি সংসদের অধিবেশে যা বলেছি তা নিখাদ সত্যি। সংসদের প্রতিনিধিরা জনগণের সম্মিলিতি কণ্ঠস্বরকে ব্যক্ত করেন। এটাই ভারতীয় সংবিধানের ১০৫ (১) ধারার বাকস্বাধীনতা। সাধারণ মানুষের কথা বলা সংসদের প্রত্যেক সদস্যের অন্যতম অধিকার।” রাহুল আরও বলেন, “আমার মন্তব্য রেকর্ড থেকে সরিয়ে নেওয়া সংসদীয় গণতন্ত্রের নীতির পরিপন্থী।”

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
হিন্দু মানেই বিজেপি নয়, অযোধ্যা শিক্ষা দিয়েছে, লোকসভায়  রাহুল

Rahul Gandhi's Lok Sabha Speech: সোমবার অধিবেশন শুরু হতেই একের পর এক বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগতে দেখা গেল রাহুলকে। কার্যত তাঁর প্রশ্নের উত্তর দিতে নাকানিচোবানি খেতে দেখা গেল একাধিক তাবড় বিজেপি নেতাকে।

"I am writing this in the context of remarks and portions expunged from my speech during discussion on Motion of Thanks on the President Address on 1 July 2024."

Here is LoP Shri

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
‘হিন্দুই নন!’ লোকসভায় সরাসরি আক্রমণ রাহুলের, উত্তর দিতে কালঘাম ছুটল টিম মোদির

Rahul Gandhi Vs Narendra Modi: সপ্তাহের শুরুর দিনেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সংসদে পেয়ে ঝড় তুললেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি। বিজেপি এবং মোদির হিন্দুত্ব নিয়েই এদিন প্রশ্ন তুলে দেন রাহুল।

's letter to the Speaker of the Lok Sabha.

— Congress (@INCIndia)

সোমবার সংসদের প্রথম অধিবেশন একাধিক বিষয় নিয়ে বিজেপিকে তোপ দাগেন রাহুল। উঠে আসে নিট-দুর্নীতি থেকে শুরু করে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতে কেন্দ্র যেভাবে বিভিন্ন এজেন্সিকে ব্যবহার করে, সেই প্রসঙ্গও। ধর্মকে ব্যবহার করে বিজেপি যেভাবে রাজনীতিক ফয়দা তোলার চেষ্টা করে, যেভাবে হিংসা বা ঘৃণা ছড়ায়, তার কড়া নিন্দাও করেন তিনি। সেই ভাষণের রেকর্ড থেকেই মঙ্গলবার একাধিক মন্তব্য সরিয়ে দেন স্পিকার ওম বিড়লা। তাঁর সেই সিদ্ধান্তের কড়া নিন্দা করেন বিরোধীরা।

ওম বিড়লার কাছে অবশ্য এমন সিদ্ধান্ত খুব অপ্রত্যাশিত নয়। এর আগে সর্বোচ্চ সংখ্যক বিরোধী সাংসদকে লোকসভা থেকে বহিষ্কারের রেকর্ড রয়েছে তাঁর। সেই ধারা অব্যহত রেখেই ২০২৪ লোকসভার অধিবেশন থেকে বাদ গেল বিরোধী দলনেতার বক্তৃতার অংশ। যার কড়া নিন্দা করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি। তাঁর কথায়, “সত্যি শুধু সত্যিই। মোদির দুনিয়ায় সব সময়ে সত্যিকে মুছে ফেলা হয়।”

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।