মণিপুরে চুপ থাকা মানে মেরি-রতন থিয়ামদের অপমান করা! মোদির উদ্দেশ্যে মণিপুরের সাংসদ

Lok Sabha Session 2024: মণিপুরের পরিস্থিতি নিয়ে মোদি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন সে রাজ্যের সাংসদ আঙ্গোমচা বিমল আকোইজাম। রাজ্যের ভয়াবহ ট্র্যাজেডির নীরব দর্শক হয়ে থেকেছে মোদি সরকার, সেই অভিযোগও তোলেন তিনি।

Sohini Das
৩ মিনিট
মণিপুরে চুপ থাকা মানে মেরি-রতন থিয়ামদের অপমান করা! মোদির উদ্দেশ্যে মণিপুরের সাংসদ

২০২৩ সালের জুন মাস। জাতি সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে উঠেছিল মণিপুর। কুকি ও মেইতেই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে অসংখ্য মৃত্যু, নারীদের উপর অকথ্য অত্যাচার। এমনকী নগ্ন করে নির্যাতিতাকে হাঁটানোর অভিযোগ পর্যন্ত ওঠে মণিপুরে। সেই সমস্ত কিছু নিয়েই মুখে কুলুপ এঁটে রেখেছিল দেশের কেন্দ্র সরকার। মণিপুরের অশান্তিকে ধামাচাপা দিতে কেন্দ্রের তরফে ঘোষণা করা হয়েছিল, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফিরে গিয়েছে মণিপুর। হিংসায় বিদীর্ণ মণিপুরে শান্তি ফেরানোর কৃতিত্বও দেওয়া হয় দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও সে রাজ্যের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিংকে। মণিপুর হিংসায় মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছিল ২২৫। জখম অন্তত ১৫ হাজার মানুষ। ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন ৭০ হাজার মণিপুরবাসী। অথচ হিংসাদীর্ণ মণিপুরে এর পরেও একবারও পদধুলি পড়েনি প্রধানমন্ত্রীর। লোকসভা ভোটের ফলাফলে বিজেপিকে সেই হিসেব কড়ায় গন্ডায় বুঝিয়ে দিয়েছে মণিপুরবাসী। ইনার মণিপুর কেন্দ্রে কংগ্রেসের প্রার্থী অঙ্গোমচা বিমল আকোইজমকে মণিপুরের মানুষ জেতায় ১ লক্ষেরও বেশি ভোটে। মুখ থুবড়ে পড়েন বিজেপির প্রতিদ্বন্দ্বী। আউটার মণিপুরেও বিপুল জয় পায় কংগ্রেস প্রার্থী আলফ্রেড কাঙ্গাম এস আর্থার। অবশেষে লোকসভায় নিজের রাজ্যের কথা বলার প্রতিনিধি পেয়েছে মণিপুর। আর লোকসভা অধিবেশনের প্রথম অধিবেশনেই তা বুঝিয়ে দিলেন সেখানকার সাংসদ অঙ্গোমচা বিমল আকোইজম।

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ভাষণে উল্লেখ ছিল না মণিপুরের। এমনকী প্রধানমন্ত্রীর কথাতেও একবারও আসেনি মণিপুর। সেই প্রসঙ্গটি নিয়ে সোমবার লোকসভা অধিবেশনে তোপ দেগেছিলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি। মণিপুরকে সরাসরি গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলেই কটাক্ষ করেন রাহুল। তার পর মঙ্গলবার মণিপুরের পরিস্থিতি নিয়ে মোদি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন সে রাজ্যের সাংসদ আঙ্গোমচা বিমল আকোইজাম। রাজ্যের ভয়াবহ ট্র্যাজেডির নীরব দর্শক হয়ে থেকেছে মোদি সরকার, সেই অভিযোগ তুলেও এদিন ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। পাশাপাশি কেন রাষ্ট্রপতির বক্তৃতা থেকে বাদ পড়ল মণিপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সে নিয়েও তোপ দাগেন তিনি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মোদির প্রিয় ম: মুসলিম, মাদ্রাসা, মাংস... মণিপুর কই? প্রশ্ন মহুয়ার

Mahua Moitra: নির্বাচনে মোদি বাছাই করা কিছু শব্দ ব্যবহার করেন যা নির্দিষ্ট করে কিছু সম্প্রদায়কেই উদ্দেশ্য করে বলা।

একদিন আগেই রাহুল গান্ধি সরাসরি মোদি সরকারকে নিশানা করে বলেছিলেন, তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, সরকার এমন আচরণ করছে যেন মণিপুরে কিছুই হয়নি । সংসদে রাহুলের কথায়, "মণিপুর আপনার, আপনাদের নীতি এবং আপনাদের রাজনীতির জন্য পুড়ে গিয়েছে ৷" বিরোধী দলনেতা আরও বলেন, "মনে হচ্ছে যেন মণিপুর ভারতের কোনও রাজ্যই নয় ! প্রধানমন্ত্রীর জন্য, মণিপুর রাজ্য নেই। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে একটি বার্তা দিতে, সেখানে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। কিন্তু না, প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে কোনও উত্তর পাবেন না৷"

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
হিন্দু মানেই বিজেপি নয়, অযোধ্যা শিক্ষা দিয়েছে, লোকসভায়  রাহুল

Rahul Gandhi's Lok Sabha Speech: সোমবার অধিবেশন শুরু হতেই একের পর এক বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগতে দেখা গেল রাহুলকে। কার্যত তাঁর প্রশ্নের উত্তর দিতে নাকানিচোবানি খেতে দেখা গেল একাধিক তাবড় বিজেপি নেতাকে।

এদিন মণিপুরের সাংসদ আঙ্গোমচার গলাতেও শোনা গিয়েছে একই সুর। এদিন তিনি কেন্দ্র সরকারকে মনে করিয়ে দেন মণিপুরের বর্তমান পরিস্থিতির কথা। কীভাবে ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ এখনও গৃহহীন মণিপুরে। অনেকেই তাঁদের মধ্যে কোনও মতে মাথা গুঁজেছেন শরণার্থী শিবিরে। এক বছর কেটে গেলেও মণিপুরের পরিস্থিতি পাল্টায়নি। মানুষ কীভাবে বেঁচে রয়েছেন, তা বর্ণনার অতীত বলেই এদিন সংসদে জানান কংগ্রেস সাংসদ। আঙ্গোমচা জানান, মণিপুরের প্রতি বর্গকিলোমিটার জায়গা জুড়ে আজও মোতায়েন রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। হিংসায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছে হাজার হাজার ঘরবাড়ি। অথচ প্রধানমন্ত্রী নীরব। রাষ্ট্রপতি এড়িয়ে যাচ্ছেন মণিপুরের কথা।

মণিপুরের ট্র্যাজেডিকে দেখেও না দেখার চেষ্টা করে গিয়েছে বিজেপি সরকার। নিজের দেশেই ব্রাত্য যেন রাজ্যটি। প্রধানমন্ত্রী নিজের দেশের একটি রাজ্যকেই অসম্মান করছেন, সে দেশের বীর সেনাদের অসম্মান করছেন। মেরি কম, মীরাবাঈ চানু বা রতন থিয়ামের মতো ব্যক্তিত্বদের অসম্মান করা হচ্ছে, যাঁরা আদতে ওই মণিপুরের মানুষ। যে রাজ্যকে নিয়ে বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা করতে রাজি নয় কেন্দ্র সরকার। মণিপুর নিয়ে কথা বলা হোক, দাবি তোলেন আঙ্গোমচা।

শুধুমাত্র রাহুলই নয়, সোমবার তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের ভাষণেও উঠে আসে মণিপুরের প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে, মুসলিম, মাদ্রাসা, মাটন, মছলির মতো শব্দের উল্লেখ থাকে। কিন্তু নির্বাচনী প্রচারে একবারও মুখ দিয়ে বেরোয় না মণিপুরের কথা। মণিপুরের মানুষদের পাশে থাকার কথা সেদিনের ভাষণে উল্লেখ করেছেন মহুয়া। একের পর এক সাংসদ মণিপুর প্রসঙ্গে বিঁধেছেন নরেন্দ্র মোদি সরকারকে। সত্যিই কি তাতে পরিস্থিতি বদলাবে। মোদি কিংবা বিজেপি সাংসদদের মুখে শোনা যাবে আদৌ মণিপুর-উচ্চারণ? সেদিকেই তাকিয়ে দেশবাসী।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।

হুথিরা যেভাবে স্থানীয় বিদ্রোহী থেকে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিতে পরিণত হলো

Houthi Expansion in Yemen: ইয়েমেনে ফের কেন যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে? হুথিরা কীভাবে স্থানীয় জায়দি আন্দোলন থেকে শক্তিশালী সামরিক-রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হল? ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কতটা গভীর? মোখা ও হানিশ দ্বীপপুঞ্জ দখলের পর কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাব আল-মান্দাব? এই সংঘাতের প্রভাব কি শেষ পর্যন্ত বিশ্ব বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহণ ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে পড়বে?