দেশ সংকটের দিকে যাচ্ছে! অরাজকতার ইঙ্গিত পাচ্ছি, কেন বললেন মোদি?

Modi in Parliament: বিরোধীদের হট্টগোলের মধ্যেই এদিন মোদি বক্তৃতা শুরু করেন রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে। তোষণ ও দুর্নীতি ইস্যুতে ঘুরিয়ে এদিন বিরোধীদেরই কটাক্ষ করেন মোদি।

Sohini Das
৪ মিনিট
দেশ সংকটের দিকে যাচ্ছে! অরাজকতার ইঙ্গিত পাচ্ছি, কেন বললেন মোদি?

গত দু'দিন ধরে একের পর এক বিরোধী সাংসদের তোপের মুখে পড়েছেন নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর দল। মঙ্গলবার সকালেও একাধিক বিরোধী সাংসদ নিশানা করে বিজেপিকে। এ দিনই পালা ছিল লোকসভায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের। মঙ্গলবার জবাবি ভাষণ দিতে উঠতেই তুমুল হইহট্টগোল শুরু করেন বিরোধী সাংসদেরা। তার মধ্যেই নিজের বক্তব্য রাখেন মোদি। শুরু করেন বিরোধীদের পাল্টা নিশানা করতে।

বিরোধীদের হট্টগোলের মধ্যেই এদিন মোদি বক্তৃতা শুরু করেন রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে। তার পরেই শুরু হয় বিরোধীদের উদ্দেশে একের পর এক কটাক্ষ। তোষণ ও দুর্নীতি ইস্যুতে ঘুরিয়ে এদিন বিরোধীদেরই কটাক্ষ করেন মোদি। একই সঙ্গে গত দুদিন ধরে বিরোধী সাংসদরা যে আচরণ সংসদে করেছেন, ঘুরিয়ে তারও নিন্দা করেন প্রধানমন্ত্রী। ইন্ডিয়া জোটকে নিশানা করে তাঁর কটাক্ষ, জনমত আমাদের পক্ষে গিয়েছে৷ ফলে কিছু মানুষের হারের যন্ত্রণা আমি বুঝতে পারছি৷ পৃথিবীর সবথেকে বড় নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষ ফের একবার আমাদের তাঁদের সেবা করার সুযোগ দিয়েছে৷ মোদির কথায়, “বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র আমাদের তৃতীয়বারের জন্য নির্বাচিত করেছে। ওদের নয়। আমরা বিকশিত ভারতের সংকল্প নিয়ে মানুষের কাছে গিয়েছিলাম। দেশের মানুষ বিবেচনা করেই আমাদের ফের ক্ষমতায় এনেছেন। অনেকে হাজার অপপ্রচার করে, মিথ্যা ছড়িয়েও পরাজিত হয়েছে। তাই কষ্ট হচ্ছে।”

নরেন্দ্র মোদি যখন লোকসভায় নিজের বক্তব্য রাখছেন, সে সময় ক্রমাগত মণিপুরের জন্য বিচার চেয়ে একযোগে স্লোগান দিতে থাকেন বিরোধী সাংসদেরা৷ গত দু'দিনে বিরোধীরা সবচেয়ে বেশি তোপ দেগেছেন মণিপুর ইস্যুতেই। একই সঙ্গে বিরোধীরা ‘তানাশাহি নহি চলেগা’ বলেও স্লোগান দিতে থাকেন। গত দশ বছরের তুলনায় এবার লোকসভায় বিরোধীদের সংখ্যা অনেকটাই বেশি৷ ফলে একজোট হয়ে বিরোধীদের স্লোগান চলতে থাকায় মোদির কথা শোনাই কার্যত মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়৷ তা সত্ত্বেও বিরোধীদের বিক্ষোভকে উপেক্ষা করেই গত দশ বছরে তাঁর সরকারের সাফল্য একে একে তুলে ধরতে শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী৷

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
লোকসভার রেকর্ড থেকে বাদ রাহুলের বক্তব্য! বাকস্বাধীনতার প্রশ্ন তুলে স্পিকারকে চিঠি বিরোধী দলনেতার

Rahul Gandhi: রাহুল এদিন তাঁর চিঠিতে রীতিমতো তারিখ ও সময় উল্লেখ করে জানিয়েছেন, যে যুক্তিতে তাঁর মন্তব্যকে সরানো হয়েছে, তা কোনও ভাবেই ধারা ৩৮০-র মধ্যে পড়ে না।

মোদি এদিন বলেন, “আমরা সবসময় দেশকে এগিয়ে রাখি। সুশাসনকে এগিয়ে রাখি। আমাদের টার্গেটই হচ্ছে দেশকে এগিয়ে রাখা। গত ১০ বছরে আমাদের সব কাজ দেশকে প্রাধান্য দিয়েই।” প্রধানমন্ত্রীর দাবি, তাঁর সরকার গত ১০ বছর লাগাতার সবকা সাথ- সবকা বিকাশের চিন্তাধারা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। বিরোধীদের নিশানা করে মোদি এদিন বলেন, “আমরা তুষ্টিকরণে নই, সন্তুষ্টিতে বিশ্বাসী।” এদিন বিরোধীদের হট্টগোলে বারবার বক্তৃতা থামাতে বাধ্য হয়েছেন মোদি। বিরক্তির সুরে প্রধানমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, “মানুষ কংগ্রেসকেও জনাদেশ দিয়েছে। সেটা বিরোধী আসনে বসে থাকার। আপনারা এখানেই বসে থাকুন।”

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মোদির প্রিয় ম: মুসলিম, মাদ্রাসা, মাংস... মণিপুর কই? প্রশ্ন মহুয়ার

Mahua Moitra: নির্বাচনে মোদি বাছাই করা কিছু শব্দ ব্যবহার করেন যা নির্দিষ্ট করে কিছু সম্প্রদায়কেই উদ্দেশ্য করে বলা।

চেনা আত্মবিশ্বাসে ফেরার চেষ্টা করেন এদিন মোদি। গরিবদের কল্যাণ থেকে শুরু করে জনসেবার কথা বারবার নিজেদের সাফল্যের খতিয়ান হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে এ দিন লোকসভায় দাঁড়িয়ে ফের ২৫ কোটি দারিদ্র দূরীকরণের দাবি করেন মোদি। তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, দুর্নীতি, ভ্রষ্টাচারের প্রতি জিরো টলারেন্সের কথা। যার জন্যই দেশবাসী বিজেপিকে আশীর্বাদ করেছে বলেই দাবি প্রধানমন্ত্রীর। বিজেপির একমাত্র লক্ষ্য ভারত, তাদের প্রতিটা নীতি, কাজই সেই কথা মাথায় রেখে। একই সঙ্গে 'সবকা সাথ সবকা বিকাশ' নীতির কথা বলেছেন মোদি।

একদিন আগেই বিজেপির হিন্দুত্ব নিয়ে সওয়াল তুলেছিলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি। সে বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি মহলে জোরদার চর্চাও হয়। সোমবারই রাহুলের সেই বক্তব্যের নিন্দা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর সেই বক্তব্য লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার নির্দেশে বাদ দেওয়া হয় সংসদের রেকর্ডিং থেকেও। সে বিষয়টি নিয়ে মোদির এদিনের বক্তব্য, "সোমবার সংসদে অভাবনীয় ঘটনা ঘটেছে। হিন্দুরা সহনশীল বলেই ভারতের বিরাটতা আজও টিকে রয়েছে। সেই হিন্দুদের মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। বলা হয়েছে, হিন্দুরা নাকি হিংসাত্মক। এ রকম আপনারা! দেশের হিন্দুদের সঙ্গে এই আচরণ!" এখানেই না থেমে মোদি এ-ও জানান, "দেশে হিন্দুদের গালি দেওয়া এখন একটা ফ্যাশন। ঈশ্বরের রূপ দর্শন করতে হয়। তা প্রদর্শন করতে নেই।"

ভোটের আগে একাধিক জনসভায় কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তোপ দাগতে দেখা গিয়েছিল প্রধানমন্ত্রীকে। সেই চেনা মেজাজেই এদিন ফের লোকসভায় দেখা গেল মোদিকে। কংগ্রেসকে নিশানা করে তাঁকে বলতে শোনা গেল, ৬ দশক ধরে কংগ্রেস শাসন করার পর আজ অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। কংগ্রেস দক্ষিণের গিয়ে উত্তরের বিরুদ্ধে, উত্তরে গিয়ে দক্ষিণের বিরুদ্ধে বলে। মহাপুরুষদের বিরুদ্ধে বলে। ভাষার ভিত্তিতে বিভাজন চায়। অরাজকতা তৈরিই এদের একমাত্র উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে মোদির দাবি, দেশে আর্থিক অরাজকতা চায় কংগ্রেস। নিজেদের রাজ্যে কংগ্রেস যে পথে এগোচ্ছে তাতে আর্থিক গোলযোগ আটকানো অসম্ভব। ইচ্ছে করেই এমন ব্যবস্থা করছেন যাতে ওদের রাজ্যগুলি দেশের আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। তবে মোদি যতই নিজেকে আত্মবিশ্বাসী দেখানোর চেষ্টা করুন না কেন, বিরোধীদের সমস্বরে স্লোগানের সামনে কিছুটা হলেও দুর্বল দেখাচ্ছিল মোদিকে।

মোদির বক্তব্যের মধ্যেই বিরোধীদের স্লোগানে কার্যত কাঁপতে থাকে লোকসভা। মণিপুর থেকে শুরু করে সুবিচার চাওয়ার দাবি, এমনকী 'তানাশাহি নেহি চলেগি'র মতো একাধিক স্লোগানে ফেটে পড়তে থাকে সংসদ। তার মধ্যেই বক্তৃতা চালিয়ে যান মোদি। কথা বলতে বলতে অনেকবারই থমকে দাঁড়াতে দেখা গিয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে। বেশ কয়েকবার জলও খেতে দেখা যায় তাঁকে। তার মধ্যেও বারবার 'বিকশিত ভারতে'র কথা বলে বিরোধীস্বরকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা গিয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে। বিরোধীদের জোরের সামনে ভাষণ গুলিয়ে এক কথা বারবার বলতেও শোনা যায় প্রধানমন্ত্রীকেই। বিরোধীদের এই ভয়ঙ্কর রূপে যে খানিকটা হলেও ভয় পেয়েছে মোদি সরকার, তা কার্যত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে এদিনের লোকসভা অধিবেশনে।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বাম বসন্ত ফিরবে বার্লিনে? শতাব্দীর সংগ্রাম শেষে আবার নতুন ভোর

Left-Wing Resurgence in Hitler’s Berlin: হিটলারের বার্লিনে ফিরছে বামপন্থা। তরুণরা সংক্রমিত। ইতিহাসের এই বিদ্রূপ আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে শতাব্দীপ্রাচীন দুঃস্বপ্নের নগরীতে।

চশমা যখন টেকসঙ্গী, কীভাবে কাজ করে এআই গ্লাস?

Meta AI Glasses: চশমা ব্যক্তিগত এআই সহকারী। চোখের ইশারা ও মৌখিক নির্দেশে কল, ছবি তোলা, ভিডিও রেকর্ডিং থেকে গুগল সার্চ—সবই যখন সম্ভব, তখন এই প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে? আর ক্যামেরা, মাইক্রোফোন ও এআই-নির্ভর এই চশমা আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা কতটা সুরক্ষিত রাখবে?

টাকার বিনিময়ে বিজেপি-র প্রচার করেছেন সায়ক! আর আইনি জালে জড়ালেন অলিপাবের নিরীহ কর্মী

Sayak Chakraborty Olypub controversy: নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, পাঁচটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নির্বাচনে বিজেপির কেন্দ্রীয় দফতরের মোট খরচ ছিল ৫২৯.৩৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই খরচ হয়েছে প্রায় ২৮৬ কোটি টাকা। সেই প্রচারের একটি অংশ ছিল সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল কনটেন্ট।

SRFTI: কীভাবে অনুষ্ঠান থেকে পরিস্থিতি গড়াল সংঘর্ষে?

SRFTI Clash: SRFTI-তে ডানপন্থী সংগঠনের অনুষ্ঠান ঘিরে কেন আপত্তি জানালেন পড়ুয়ারা? বক্তৃতায় কী বলা হয়েছিল, যা নিয়ে তৈরি হয় উত্তেজনা? কীভাবে অনুষ্ঠান থেকে পরিস্থিতি গড়াল সংঘর্ষে? পড়ুয়া ও আয়োজকদের পাল্টা অভিযোগের মধ্যে আসল ঘটনা কী?

যে নির্বাচন কমিশনার ভোট চুরি আটকেছিলেন

Election reforms of T. N. Seshan: ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচন কমিশনারের চেয়ারে বসেছিলেন যে ব্যক্তি, সেই টি. এন. শেষন বলেছিলেন, 'আমাকে এই পদে বসাবেন না, আমি আপনাদের অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়াব।'

ছদ্ম-বিরোধী তৈরিই কি তবে ভারতের রাজনীতিতে ক্ষমতার নতুন কৌশল?

Indian opposition politics: বিরোধীদের সরাসরি নিষিদ্ধ না করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার চাপ, আইনি ফাঁকফোকর এবং সুপরিকল্পিত দল ভাঙার মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছে অনুগত ‘ছদ্ম-বিরোধী’।

EXCLUSIVE: কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদে ভোট না-করানো তৃণমূলের বড় ভুল, নিজেদের ভুল নিয়েও আলোচনার দরকার ছিল: কুণাল

Kunal Ghosh on Mamata Banerjee: ইনস্ক্রিপ্টে ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে তিনি একদিকে যেমন দাবি করেছেন মমতাকে ভয় পেয়েই তাঁকে বারবার নিশানা করা হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে দলের ভুলত্রুটি স্বীকার করে আত্মসমালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন।

EXCLUSIVE: শেষদিকে দল পরিচালনায় গ্যাপ ছিল, অভিষেকের অফিসও ঠিকঠাক ম্যানেজ করা হয়নি: কুণাল

Kunal Ghosh on Abhishek Banerjee: ইন্সক্রিপ্টের ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে অভিষেক প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কুণাল জানিয়েছেন, শেষ পর্যায়ের দল পরিচালনায় আরও ‘সতর্কতা’ প্রয়োজন ছিল। তাঁর দাবি, অভিষেকের অফিসও সব সময় ঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি।