রবীন্দ্রনাথের আত্মাও ধ‍রা দিয়েছিলেন প্ল্যানচেটে?

রবি যখন অন্য পৃথিবীতে চলে যান, শোনা যায় ১৯৪৫ সালে রাজেন্দ্রলাল ভট্টাচার্য প্ল্যানচেটে ডেকেছিলেন রবীন্দ্রনাথের আত্মাকে।

Madhurima Dutta
৬ মিনিট
রবীন্দ্রনাথের আত্মাও ধ‍রা দিয়েছিলেন প্ল্যানচেটে?

“আমি একটা নদীর ধারে দাঁড়িয়েছিলুম, কে একজন আমার হাত ধরে নিয়ে গেলেন, ভালো মনে পড়ে না।”

বাবা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উত্তর দিচ্ছে ছোট ছেলে শমী, মৃত সন্তান শমী। শমী নামেই ডাকা হোক বা শমীর ‘আত্মা’, সংক্ষিপ্ত জীবনের পাড় থেকে ছোট ছেলের হাত ধরে কে যে নিয়ে গেল তাকে ভিন গন্তব্যে, শমীর তো মনে পড়ে না। এ কোন নদী, যার পাশ থেকে অবলীলায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়? শমী জানত না। শমী জানত না, না কি রবীন্দ্রনাথ জানতেন না, এ প্রশ্ন আবার হাজির করিয়ে দেয় সেই নদীর পাড়ে। যার এক পাড়ে দাঁড়িয়ে অন্য পাড়কে জানার অগাধ সাধ হয়। যেমন করে রবীন্দ্রনাথ জানতে চেয়েছেন শমীন্দ্রনাথের ওই পাড়কে, জানতে চেয়েছেন মৃত ছোট ছেলের পৃথিবীতে কতখানি রয়েছেন তিনি। শুধু শমী নয়, আপন বলে যতজনকে মৃত্যুর পরেও বারে বারে পেতে চেয়েছেন, সেই সকলের কাছেই রবীন্দ্রনাথ আসলে নিজের থেকে যাওয়াকেই হয়তো দেখে যেতে চেয়েছেন। কৈশোরের প্রেত নামানোর খেলা প্রাজ্ঞ বয়সে কোথাও প্রিয়জনদের নিয়ে কখনও না ফুরনো সংসার পাতার সাধে পরিণত হয়ে যায়। রবীন্দ্রনাথ জানেন, তরঙ্গ মিলিয়ে গেলে আবার তরঙ্গ ওঠে। সে তরঙ্গ এই একই পৃথিবীতে নাও উঠতে পারে, কুসুম এখানে ঝরে গেলে অন্য কোথাও ফুটতে পারে। হয়তো অন্য কোথাও, অন্য কোনওখানে, হয়তো শমীর পৃথিবীতে।

স্বর্গ বা নরক নয়, মজার বিষয় হল, শমীন্দ্রনাথ মৃত্যুর পরেও শমীর ‘পৃথিবী’-ই গড়তে চেয়েছিল। এক পৃথিবী ছেড়ে অন্য আরেক পৃথিবী। যেখানে পরস্পরের সঙ্গে কাটানো সমস্ত স্মৃতি, যাপন, সমস্ত সম্পর্ক অটুট, অবিচ্ছিন্ন। অর্থাৎ এক পৃথিবীতে সম্পর্ক ভেঙে গেলেও অন্য কোনও বিশ্বে, অন্য কোনও পৃথিবীতে তা ঘটমান। এক পৃথিবীর কাজ মিটিয়ে অথবা মাঝপথে ছেড়ে যাঁরা চলে গিয়েছেন, অন্য কোথাও অন্য কোনও ‘পৃথিবীতে’ তাঁরা বর্তমান। যেন সমান্তরালভাবে চলা একাধিক বিশ্ব। এক বিশ্বে রবীন্দ্রনাথ যাঁদের দৈহিকভাবে হারিয়েছেন, যেন রবির পৃথিবী ছেড়ে অন্য কোনও পৃথিবীতে একত্রেই রয়েছেন তাঁরা সকলে। শুধু নিয়মিত যোগাযোগের দরজা নেই। তাগিদ যেখানে তীব্র, সেখানে পন্থা বাড়ন্ত নয়। হারানোদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবেই নিয়মিত প্ল্যানচেটে আস্থা রাখতেন রবীন্দ্রনাথ। ‘প্রেত’ নয়, বরং বলা যায় স্মৃতিদের ডাক দিতেন রবীন্দ্রনাথ।

প্ল্যানচেট বা প্রেত আনয়ণের বিষয়টি নিয়ে শুধুমাত্র রবীন্দ্রনাথেরই আগ্রহ ছিল, এমনটা নয়। এই বঙ্গে প্রেতচক্রের উদ্যোক্তাদের মধ্যে ছিলেন প্যারীচাঁদ মিত্র, দীনবন্ধু মিত্র, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়রা। এমনকী, বাংলায় সেই ১৮৮০ সালে স্থাপন করা হয় ‘ইউনাইটেড অ্যাসোসিয়েশন অব স্পিরিচুয়ালিস্ট’। আধাত্ম্য চিন্তা ও চর্চার অঙ্গ হিসেবেই যেন বাংলায় প্রেতচর্চা বিষয়টিও বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। অ্যানি বেসান্ত থিওজফিক্যাল সোস্যাইটির সভাপতি হলে কলকাতায় এই সোস্যাইটির শাখা গড়ে ওঠে, যার পরিচালনার সঙ্গে জড়িত থাকেন রবির দাদা দ্বিজেন্দ্রনাথ এবং ন’দিদি স্বর্ণকুমারী দেবী। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০/২১ বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ প্ল্যানচেট করতেন জোড়াসাঁকোয় নিয়মিত। যদিও সেই প্রেত আনয়ণ চক্রের অন্যতম উদ্যোক্তা হেমেন্দ্রনাথের আকস্মিক মৃত্যুতে আসর বন্ধ হয়ে যায়। এর পর রবীন্দ্রনাথের যখন আবার ‘আত্মার’ সঙ্গে সাক্ষাৎ-আলাপনের কামনা জাগছে, তাঁর বয়স ৬৮! কিন্তু জাগল কেন?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
"যুদ্ধ ঘোষণা করে দিন, কাউকে রেয়াৎ করবেন না," জগদীশচন্দ্রকে কেন বলেছিলেন রবীন্দ্রনাথ?

Acharya Jagadish Chandra Bose: রবি ঠাকুর ও জগদীশ বসুর বন্ধুত্ব কেবল স্মরণীয় হয়ে ওঠেনি, বন্ধু হিসেবে আলাপের পর থেকেই দু'জন দু'জনকে অনুপ্রেরণা দিয়ে এসেছিলেন অবিরত।

মানুষের জীবন যত দীর্ঘ, মানুষের হারানোর পরিমাণ সমানুপাতিক। নিজের একেবারে শিশুকাল থেকে একের পর এক মৃত্যু এসে রবির প্রিয়জনদের ‘নেই’ করে চলে গিয়েছে। যত বৃহৎ পরিবার, তত পিছুটান, তত বাঁধন। রবি এসব বাঁধনের মধ্যে থেকেও বন্ধনহীন হওয়ার কথা বলতেন। এক আশ্চর্য বন্ধনহীন গ্রন্থির কথা বলতেন। এক একটা মানুষ চলে যাওয়া মানে এক একটা বই ফুরিয়ে যাওয়া। কিছু বইয়ের শেষের পাতাগুলো নেই, কোনও বই হয়তো শুরু করে এগনোই হয়নি। এই সমস্ত বইয়ের লিপিবদ্ধ স্মৃতি সেই গ্রন্থিতে জমা হয়ে হয়ে থেকেছে। রবি গ্রন্থিহীন হতে পারেননি। যারা ছেড়ে চলে গিয়েছেন, তাঁরা এই বিশ্ব ছেড়ে গিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু অন্য কোনও বিশ্বে অন্য এক রবির সঙ্গে ঠিক একইরকম সম্পর্ক, তর্ক, প্রেম বা স্নেহ ঘটমান বলেই বিশ্বাস করেছেন তিনি, বিশ্বাস পোক্ত হয়েছে অনেক বয়সে গিয়ে। যখন হারানোর পরিমাণ বাড়তে বাড়তে ক্রমশ একা হয়েছেন কবি।

প্ল্যানচেটে একজন মিডিয়াম দরকার পড়ে, এই গল্প সকলেরই জানা। কীভাবে প্ল্যানচেট হয় বা কী কী ম্যাজিকে অলৌকিক ক্রিয়া ঘটানো যায়, এও এখন ইন্টারনেটে সুলভ। কিন্তু এখানে ম্যাজিক বা কৌশলের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ আত্মার সঙ্গে কে চাইছেন কথা বলতে। বিশেষ করে তিনি যদি রবি ঠাকুরের মতো চিন্তক হন, তাঁর এমন অভ্যাস ও মনস্তত্ত্ব বিশদ আলোচনার দাবি রাখেই। রবির জীবনে প্রথম খুব ঘনিষ্ঠ মৃত্যু মা সারদাসুন্দরী দেবীর, ১৮৭৫ সালে। ১৮৮৩ সালে রবীন্দ্রনাথের বিয়ের দিনই মারা যান জামাইবাবু সারদাপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায়। বিয়ের ঠিক এক বছরের মাথায় ১৮৮৪ সালে অন্যতম প্রিয় মানুষ নতুন বউঠান কাদম্বরী দেবীর মৃত্যু রবির জীবনে নিঃসন্দেহে অনেকখানি শূন্যতার জন্ম দেয়। এর মাঝে রয়েছে আরও বহু মানুষের চলে যাওয়া। স্ত্রী মৃণালিনী যখন চলে যান, রবীন্দ্রনাথের বয়স মাত্র ২৯। সন্তানের মৃত্যুশোক কী, তা রবীন্দ্রনাথ উপলব্ধি করেন মাত্র ৩০ বছর বয়সেই, দ্বিতীয় কন্যা রেণুকা ভট্টাচার্যর মৃত্যুতে। তারপর একে একে বাবা, জামাতা, কন্যা, আদরের ছোট ছেলে শমী, দিদি, দাদা, বন্ধু সকলের মৃত্যু এসে রবীন্দ্রনাথের পৃথিবীতে ক্রমশ শূন্যস্থান বাড়াতে থেকেছে। দেহ ছেড়ে গেলেও তবু তো সবটা চলে যায় না। প্রিয়জনদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সমস্ত মুহূর্ত নিয়ে যাপন করতে করতে এক চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ নিজেই তাই হয়তো লিখেছেন, “বিশ্বজগতের হিসেবে দেখতে গেলে মৃত্যুটা অতি সুন্দর ও মানবাত্মার সান্ত্বনাস্থল।”

কিশোর বয়সে প্রেতালাপের পরে রবির এই ইচ্ছে আবার চাগাড় দেয় মিডিয়াম হিসেবে বন্ধু মোহিতচন্দ্র সেনের কন্যা উমাকে পেয়ে। ১৯২৯-এ রানি মহলানবিশকে রবীন্দ্রনাথ লিখছেন, ‘‘সেদিন বুলা (উমার ডাকনাম) এসেছিল। হঠাৎ কথায় কথায় প্রকাশ পেল তার হাতে প্রেতাত্মা ভর করে, পেন্সিল চালিয়ে কথা কইতে পারে। বলা বাহুল্য শুনে মনে মনে হাসলাম. বললুম— আচ্ছা দেখা যাক।” সে বছরেরই শেষের দিকে শান্তিনিকেতনের উদয়ন আর জোড়াসাঁকোর বাড়িতে প্রায় দু’মাস, ধারাবাহিকভাবে প্রিয় বন্ধু ও আত্মীয়দের আত্মাকে ডেকে কথা বলেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। উমার সঙ্গে মুখোমুখি বসে কাগজ-পেনসিল নিয়ে চলত এই প্রেতালাপ। এই পর্বের প্ল্যানচেটের সমস্ত বিবরণীই যত্নে লিখিত রয়েছে শান্তিনিকেতনের রবীন্দ্রভবনে, আটটি খাতায়। অতিপ্রাকৃতের প্রতি এই বিশ্বাস এমন পোক্ত ছিল যে, রবীন্দ্রনাথ পরবর্তীকালে যুক্তি সাজিয়ে নিজেই বলেছিলেন, “ও (বুলা) কেন মিছে বলবে? কী লাভ ওর ছলনা করে? এমন সব কথা বলেছে যা ওর বিদ্যাবুদ্ধিতে সম্ভব নয়। আমি কী প্রশ্ন করব তা তো আর ও আগে থেকে জানত না যে প্রস্তুত হয়ে আসবে!” কী এমন প্রশ্ন করতেন রবীন্দ্রনাথ?

কোনও এক হেমন্তের সকালে এভাবেই শমীকে রবি জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “মৃত্যুর পর প্রথম কে তোকে আহ্বান করে নিলেন?” যার উত্তরে শমী বলেছিল নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকার কথা। ছোট ছেলে শমীর সঙ্গে নিবিড় স্নেহের সম্পর্ক থেকে রবি কখনই বেরতে পারেননি, কোনও বাবার পক্ষেই বোধহয় স্নেহের মতো সুপ্রোথিত অথচ নরম বিষয়কে সরিয়ে রাখা সম্ভব নয়। বাবার সঙ্গেও শমীর ভাব ছিল বেশিই প্রবল। বাবার টেবিলে বসে তাঁর মতো লেখার অভিনয় করা শমী তাই নির্বিবাদে প্ল্যানচেটে এসে বাবার কবিতাকে ‘বিশ্রী’ বলে চলে যেতে পেরেছে। রবীন্দ্রনাথও অন্য সকল ‘আত্মা’-দের কাছে দুষ্টু শমীর খোঁজ নিয়েছেন। শমীও জানিয়েছে, তাঁর ভারি মনে পড়ে, জ্বর হলে বসে কবিতা শোনাতেন বাবা। শমী প্রশ্ন করেছে, দেহ বড় না মন বড়, মোহ বড় না সত্য বড়, ভাব বড় না ভাষা বড়? ছোট ছেলের এই ভাবের প্রশ্নের উত্তরে রবীন্দ্রনাথ হার মেনেছেন, বলেছেন, “শমী তুই ভারী দুষ্টু।" শমীর কাছে নয়, হয়তো নিজের তৈরি প্রশ্নে নিজের উত্তরের কাছেই হেরেছেন রবি, হারতে ভালবেসেছেন।

শমী জানিয়েছিল, সে পৃথিবী গড়েছে। হয়তো বা রবি ঠাকুর নিজেই সেই পৃথিবী গড়েছিলেন, যেখানে তাঁর সেই প্রিয় মৃত মানুষদের আবাস। সেখানে সাংসারিক কথোপকথনও যেমন রয়েছে, রয়েছে গূঢ় ভাবের চিন্তনও। শোনা যায়, স্ত্রী মৃণালিনীর সঙ্গে ছেলে রথীন্দ্রনাথ ও বাল্যবিধবা প্রতিমার বিয়ে দেওয়া নিয়ে প্ল্যানচেটেই আলোচনা করেন রবি ঠাকুর। এমনকী, সুকুমার রায়ের আত্মা নাকি এসে রবিকে জানিয়েছিলেন, “পৃথিবীর নেশা আমার আজও কাটেনি। তাই পরলোকের কোনও সুর আজও মনে লাগে না।” রবি সুকুমারের ‘আত্মা’-কে শুনিয়েছিলেন এই পৃথিবীর সুর। প্ল্যানচেটে বসেই গান ধরেছিলেন “তরী আমার হঠাৎ ডুবে যায়...”। মাঝপথে থেমে যান গানের কথা ভুলে গিয়ে! শমীর অথবা রবির এ এক এমন পৃথিবী, যেখানে কোনওকিছুই ফুরিয়ে যায়নি, যেখানে প্রিয়দের মাঝে নিজের থেকে যাওয়াটাকে উদযাপন করতে চেয়েছেন তিনি। নিজেরই চেতনার রঙে সম্ভবত তৈরি করেছেন প্রিয় মানুষদের অবয়ব, যাঁকে ‘আত্মা’ নামে ডাকা হয়। হয়তো বা তা রবিরই নিজের সঙ্গে কথোপকথন। প্ল্যানচেট শুধু উদযাপনের এক আয়োজন মাত্র। কেউ বলতেই পারেন মনোবিকার, কেউ বলতেই পারেন বুজরুকি।

লিখিত রয়েছে, সুকুমার রায়ের আত্মা নাকি এক প্ল্যানচেটে এসে রবীন্দ্রনাথকে বলেন, ‘‘আমার ছেলেকে আপনার আশ্রমে নিতে পারেন?’’ সুকুমার রায়ের এই ইচ্ছের কথা তাঁর স্ত্রী সুপ্রভাকে জানিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। সুপ্রভা নিজে এসেওছিলেন শান্তিনিকেতনে। পিতৃহারা সত্যজিৎ রায়কে ঠিক দশ বছর পর রবীন্দ্রনাথের কথামতো তাঁরই আশ্রমে পড়তে পাঠান সুপ্রভা রায়। সুকুমারের সন্তান তাঁর আশ্রমে পড়ুক এ ইচ্ছা রবির ইহলোকের, সেই ইচ্ছায় সিলমোহর তিনিই নিয়ে আসছেন পরলোকের সুকুমারের থেকে। তিনিই চোখ মেলেছেন আকাশে, জ্বলে উঠেছে আলো পূবে-পশ্চিমে। মজার বিষয় হল, নতুন বউঠানের আত্মা রবির ডাকে এসেছেন বলেই জানিয়েছেন তিনি, কিন্তু কখনওই নাকি নিজের পরিচয় দেননি। যে সম্পর্কের লাবণ্য অতি যত্ন করে নিভৃতে পালন করতেন তাঁরা, অন্য পৃথিবীতেও রবি সেই লাবণ্য আড়ালেই রেখেছেন।

রবি যখন অন্য পৃথিবীতে চলে যান, শোনা যায় ১৯৪৫ সালে রাজেন্দ্রলাল ভট্টাচার্য প্ল্যানচেটে ডেকেছিলেন রবীন্দ্রনাথের আত্মাকে। রাজেন্দ্রলাল পরলোক নিয়ে বই লিখবেন শুনে রবীন্দ্রনাথের আত্মা নাকি জানিয়েছিলেন, ‘‘তুমি তোমার বইতে লিখে রেখো যে এইখানে ভয় পাবার কিছুমাত্র নেই।” ঠিকই তো। ভয় অজানাকে হয়। ওই পৃথিবীতে ভয়ের কিছুই নেই, কারণ জীবদ্দশাতে আমরাই সেই পৃথিবী গড়ে রেখেছি। নিজের সমস্ত প্রিয় কাজ, প্রিয় মানুষদের নিয়ে। সবটুকুই নিজের চেতনা দিয়েই গড়া এক অতিচেতন। কিছুই যে ফুরিয়ে যায়নি- সেই ভাবের এক 'সান্ত্বনাস্থল'।

লিখেছেন
Madhurima Dutta
Madhurima Dutta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।