স্বাভাবিক পরিষেবা পেতে গেলে যে মূল্য দিতেই হবে

RG Kar Protest: তদন্ত নিয়েও অদ্ভুত এক গড়িমসি চলছে। সুপ্রিম কোর্ট তারিখ দিচ্ছে ১০-১৫ দিন বাদে। তা-ও বাতিল হয়ে যাচ্ছে।

Arjun Dasgupta
৩ মিনিট
স্বাভাবিক পরিষেবা পেতে গেলে যে মূল্য দিতেই হবে

আরজি কর হাসপাতালের ঘটনার পর থেকেই বিঘ্নিত হয়েছে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা। হাসপাতালের সেমিনার রুম থেকে এক তরুণী চিকিৎসকের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধারের ঘটনার পর থেকেই লাগাতার কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন জুনিয়র চিকিৎসকেরা। সেই আন্দোলন শুধু যে কলকাতা বা শহরাঞ্চলে আটকে রয়েছে, তা নয়। মফসসল, জেলাতেও ছড়িয়েছে তার প্রভাব। যার ফলে অনেকেরই ধারণা হয়েছে, রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। কিন্তু এ কথা কি আদৌ পুরোপুরি সত্য?

মনে রাখতে হবে, যাঁরা আন্দোলন করছেন, তাঁরা প্রথম দিন থেকেই জানেন যে জুনিয়র ডাক্তারদের এই কর্মবিরতি সরকারের কাছে একটা বড়সড় অস্ত্র। প্রথম কথা, এরা তো শিক্ষানবিশ। ফলে স্বাস্থ্যকাঠামো তো পুরোপুরি এদের উপর নির্ভর করার কথাও নয়। প্রথম যুক্তিটাই তাই। শিক্ষানবিশদের উপরে তো কখনওই পরিষেবার বিষয়টা পুরোপুরি নির্ভর করতে পারে না। দ্বিতীয়ত, কাজ হচ্ছে না তা একেবারেই ভুল কথা। কাজ হচ্ছে। সিনিয়রদের উপর চাপ বেড়েছে। ইমার্জেন্সি থেকে ইন্ডোর, সবটাই সামলাতে হচ্ছে তাঁদের। সামর্থ মতো কাজ করছেন সকলে। তৃতীয়ত, জুনিয়র ডাক্তারেরা সমান্তরাল ভাবে বিনামূল্যের 'অভয়া ক্লিনিক' করেছেন বিভিন্ন জায়গায়। ফলে যাঁরা মনে করছেন তাঁদের পরিষেবা দরকার, তাঁরা এই ক্লিনিকে যেতে পারেন। আর আমরা সিনিয়র ডাক্তাররা যে সব বেসরকারি ক্ষেত্রে রয়েছে, তারা কাজ করেই যাচ্ছি।

গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা হল জুনিয়র ডাক্তাররা যদি মনে করেন, যাঁরা তথ্য-প্রমাণ লোপাট করেছে, যাঁরা প্রশ্রয় দিয়েছে এবং যাঁরা ওই তরুণী চিকিৎসক খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত, তাঁরা ওঁদের মধ্যেই বিচরণ করছে। যার ফলে জুনিয়র ডাক্তারেরা যদি নিজেদের অসুরক্ষিত মনে করেন তাহলে তারপরেও কীভাবে তাঁদের কাজে যোগ দিতে বলব? আমি অন্তত এই কথা বলতে পারব না। আমিও তো একজন বাবা। জুনিয়র ডাক্তার হিসেবেও পারব না এবং সিনিয়র ডাক্তার হিসেবেও পারব না।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ধর্ষণের ২৪ ঘণ্টা পরেই কেন 'ক্রাইম সিন' মেরামতির নির্দেশ দেন সন্দীপ ঘোষ?

RG Kar Sandip Ghosh: অনুমতিপত্রটি হাতে আসার পরে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, তড়িঘড়ি মেরামতির কাজ শুরু করাতে কতখানি মরিয়া ছিলেন সন্দীপ ঘোষ।

তাঁদের দাবি তো খুব সামান্য। বিনীত গোয়েল এবং যাঁদের নাম সামনে এসেছে তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ চাই। এঁদের নিজেদেরই দায়িত্ব নিয়ে সরে যাওয়া উচিত ছিল। জুনিয়র ডাক্তারদের দাবি মেনে নিলেই কর্মবিরতি তুলে দেওয়া হবে। সরকার যদি মনে করেন জুনিয়র ডাক্তাররা যথার্থ, পরিষেবা দিতে ওঁদের প্রয়োজন, তাহলে ওঁদের দাবিগুলি মেনে নেওয়া হোক। ওঁরা পরের দিনই কাজে ফিরে যাবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আরও এক রাতদখল! তিলোত্তমার জন্য যে ভাবে জেগে থাকল, জাগিয়ে রাখল বাংলা

RG Kar hospital protest: বুধবার ঘরের আলো নিভিয়ে রাখার আবেদন করেছিলেন জুনিয়র চিকিৎসকেরা । এদিন রাত ৯টা থেকে ১০টা এক ঘণ্টা ঘরের আলো নিভিয়ে প্রদীপ হাতে রাস্তায় মানববন্ধনেরও ডাক দেন জুনিয়র চিকিৎসকরা।

এটা শুধু ডাক্তারদের বিষয় নয়, এটা একটা সামাজিক বিষয়। এর অনেকগুলো স্তর রয়েছে। একজন নারীর ভয়াবহ খুন এবং ধর্ষণ। এবং তা হয়েছে তাঁর কর্মক্ষেত্রে। যেটা কিনা শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড় থেকে ঢিল ছোড়া দুরত্বে এক বিশাল নামকরা প্রতিষ্ঠান। যেখানে এত দিন ধরে দুর্নীতি, মাফিয়ারাজ চলেছে। এই ঘটনায় সবার আগে যে প্রশ্ন ওঠে, তা হল কেন তথ্য প্রমাণ লোপাট করার চেষ্টা হল? এর সাথে ছাত্র ব্যবস্থায় সিন্ডিকেট রাজ চলেছে। কার্যত স্বাস্থ্য-শিক্ষা পরিকাঠামো ভেঙে পড়ার মতো উপক্রম হয়েছে।

একজন বাবার মনে এই মুহূর্তে অনেক রকম ভাবনা আসে। আমার মেয়ে যদি বলে কলেজ লাইব্রেরিতে পড়বে, আমি মনে মনে ভাবব, আচ্ছা কলেজ লাইব্রেরিই তো। কিন্তু এখন তেমন নিশ্চিন্ত হওয়ার মতো জায়গাগুলি সম্পর্কে ধারণাই পাল্টে যেতে বসেছে। অনেক রকম প্রশ্ন, সংশয় মাথাচাড়া দেয়। এই জন্যই বিচার চাওয়াটা প্রয়োজন। এই বিচার যদি না পাওয়া যায়, তাহলে বোধহয় কোনও দিনই আর কোনও বিচার পাওয়া যাবে না।

তদন্ত নিয়েও অদ্ভুত এক গড়িমসি চলছে। সুপ্রিম কোর্ট তারিখ দিচ্ছে ১০-১৫ দিন বাদে। তা-ও বাতিল হয়ে যাচ্ছে। তারা ঠিক বুঝতে পারছে না যে বাংলার মানুষ ঠিক কতটা দুশ্চিন্তায় রয়েছে। সিবিআই কী করছে আমার জানা নেই। সাধারণত আমরা দেখেছি তদন্তের ক্ষেত্রে প্রেস কনফারেন্স করে মানুষকে অগ্রগতির ব্যাপারে জানানো হয়। কিন্তু দেখছি, সে সব কিছুই হচ্ছে না। যদিও শুনেছি সিবিআই নাকি মহিলা চিকিৎসকের পরিবারের সাথে কথা বলেছে। তবুও একটা আশঙ্কা তো থেকেই যায়। ভারতের বিচার ব্যবস্থাও যে খুব একটা স্বর্ণোজ্জ্বল, তা তো বলা যায় না। তাই চাপ রাখতেই হবে। বিচার ব্যবস্থা এবং তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে যে ক্ষোভ এবং দুশ্চিন্তা. তা সমাধান তারাই করতে পারে। আর তা না করতে পারলে তার পরিণাম খুব একটা ভালো হবে বলে মনে হয় না।

(অনুলিখন: তনভিয়া বড়ুয়া)

লিখেছেন
Arjun Dasgupta
Arjun Dasgupta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? সরকার বদলায়, কেন বদলায় না মন?

Rabindranath Tagore Targeted in Bangladesh: বাংলাদেশে বারবার কেন নিশানা হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? হাসিনা থেকে ইউনূস, সরকার বদলালেও কেন থামছে না তাঁর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার মুছে ফেলার চেষ্টা? জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্টাকেই কেন বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হচ্ছে?