চুরি যাচ্ছে চিন্তার সময়! মাথা না খাটানোর রোগে কীভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন আপনিও?

Thinking Time Reducing: গবেষণা ও চিন্তার কাজে কোনওরকম বাধাবিঘ্ন ছাড়াই পড়া বা কাজে মনোনিবেশ করার জন্য নিরবচ্ছিন্ন সময় প্রয়োজন।

inscript
৩ মিনিট
চুরি যাচ্ছে চিন্তার সময়! মাথা না খাটানোর রোগে কীভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন আপনিও?

ভিডিও কল, হোয়াটস্যাপ, ভয়েস কল, ই-মেইল, ইন্সটাগ্রাম, ফেসবুক, টেলিগ্রাম, স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, ল্যাপটপ... জীবন এই মুহূর্তে এই ডিজিটাল পরিষেবা ছাড়া ভাবতে পারেন এমন মানুষ হাতে গোনা। ঘুম ভাঙা ইস্তক আমাদের ঘিরে থাকে এই অজস্র ডিজিটাল যন্ত্রপাতি। গোটা বিশ্ব মুঠোয়, হাজার বন্ধু, লক্ষ অনুগামী। আছে, অথচ নেই। দিনের পর দিন আমাদের এই ডিজিটাল নির্ভরতা ক্রমেই এক খাদের পাড়ে নিয়ে আসছে আমাদের। নিজের থেকে নিজেকে দূরে ঠেলে দেওয়ার অমোঘ মায়া! এই মায়ার ফাঁদে পড়েই মনোযোগ হারাচ্ছে, হারাচ্ছে ধৈর্য, হারাচ্ছে চিন্তা করার সময়। অথচ কিছুক্ষেত্রে উল্টো ঘটনা ঘটছে বিজ্ঞানীদের বা গবেষকদের ক্ষেত্রে। গবেষকদের উৎপাদনশীলতা নাকি বাড়ছে এই মায়ার ফাঁদে থেকেও! তবে, গবেষকরাও চিন্তার সময় কমে যাওয়ার জটিল ফাঁদ নিয়ে চিন্তিত। গবেষকদের উপর এই ডিজিটাল নির্ভরতার নেতিবাচক প্রভাবগুলি নিয়ে কাজ করেছেন কম্পিউটার বিজ্ঞানী ক্যাল নিউপোর্ট, তাঁর সাম্প্রতিকতম বই, স্লো প্রোডাক্টিভিটিতে।

স্লো প্রোডাক্টিভিটি বইটি আসলে নিজের নামটিকেই চ্যালেঞ্জ করে। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, এই ডিজিটাল বিশ্বে নানা ক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা কমে গেলেও, বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম ব্যাঘাত ঘটেছে। এখন আগের চেয়ে বেশি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হচ্ছে এবং অনুদানও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু চিন্তার সময় কমে যাওয়া গুরুতর বিপদ ঘটাচ্ছে গবেষকদেরও। ক্যাল নিউপোর্ট ওয়াশিংটন ডিসির জর্জটাউন ইউনিভার্সিটিতে কর্মক্ষেত্রে প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেন। নিউপোর্ট বলেছেন, গবেষক এবং অন্যান্য চিন্তা-জ্ঞান বিষয়ক কর্মীদের তাঁদের কাজের মান বজায় রাখা এবং মান উন্নত করার দিকে মনোনিবেশ করতে হলে একটু ধীরগতিতে কাজ করতে হবে এবং চিন্তাভাবনা করার জন্য আরও বেশি সময় দিতে হবে। নিউপোর্ট অতিরিক্ত চাপে থাকা শ্রমশক্তি বিষয়ক গবেষণা করছেন। তিনি বলছেন, নতুন যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রচুর সুবিধা রয়েছে। এই প্রযুক্তির কারণেই গবেষণার গতি বেড়েছে।কোভিড-১৯ মহামারীর সময় প্রযুক্তির চরম ব্যবহার দেখেছে বিশ্ব। কিন্তু একইসঙ্গে এই প্রযুক্তি নির্ভরতা আমাদের চিন্তার সময় খেয়ে ফেলছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রিলস দেখছেন সারাক্ষণ! ইনস্টাগ্রাম রিলসের ভয়াবহ দিক জেনে আঁতকে উঠছে বিশ্ব

Instagram Reels Addiction : ২০২৩ সালের জানুয়ারি নাগাদ, ভারতে ২৪ কোটি (২৪,৩৬,৭২,০০০) ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী ছিল, যা আমাদের দেশের জনসংখ্যার ১৬.৯ শতাংশ।

গবেষণা ও চিন্তার কাজে কোনওরকম বাধাবিঘ্ন ছাড়াই পড়া বা কাজে মনোনিবেশ করার জন্য নিরবচ্ছিন্ন সময় প্রয়োজন। কোনও গবেষণার জন্য পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া, পরিকল্পনা করা, তথ্য জোগাড় করা, ফলাফলের মূল্যায়ন করা, সাহিত্য পর্যালোচনা করা এবং অবশ্যই তা লেখা সবটুকুর জন্য নির্বিঘ্ন সময় দরকার। অথচ কোনও কিছু নিয়ে চিন্তা করার বা ভাবার জন্য আলাদা করে সময় দেওয়া বিষয়টাই আমাদের কর্মসংস্কৃতিতে নেই।

নিউপোর্ট চিন্তার সময় বের করাকে তাই অন্ত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন। কী কী করণীয়, সেই তালিকায় কাজের সংখ্যা সীমিত করতেই হবে। গবেষকদের ক্ষেত্রে যে কাজগুলি প্রজেক্ট টিমের সমস্ত সদস্যের নিয়ে করতে হবে, সেই কাজগুলির জন্য সম্পূর্ণ আলাদা সময় রাখতেই হবে। তাহলে আর সেই টিমের সদস্যরা পরে একই বিষয়ে আলাদা আলাদা ইমেল করে যোগাযোগ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করবেন না। সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষেত্রে কাজের স্বচ্ছ বন্টনের সুপারিশ করেছেন নিউপোর্ট। অনেক গবেষণাগারে গবেষকরা খুব সামান্য পরিকাঠামোয় কাজ করেন। সেখানে তারা একজনকেই রিপোর্ট করেন। কারণ আকাডেমিক গবেষণায় তহবিল অত্যন্ত কম। ফলে যথাযোগ্য কর্মীকে। পর্যাপ্ত সংখ্যায় কর্মীকে নিয়োগই করা যায় না।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সোশ্যাল মিডিয়ায় নিম্নমানের কাজকেই এখন দারুণ কাজ বলে মনে করা হয়: ঋতব্রত মুখোপাধ্যায়

Rwitobroto Mukherjee Interview: আমরা বিশ্বাস করি, থিয়েটারের মধ্যে দিয়ে কোনও বার্তা এইসময় মানুষের কাছে পৌঁছতে না পারি তাহলে কীসের কী!

তবে, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের বিজ্ঞান-যোগাযোগ গবেষক ফেলিসিটি মেলর বলছেন, চিন্তা করার কন্য অনন্ত সময় দেওয়াটাও সম্ভব হয় না। যদি একজন বিজ্ঞানী হিসেব কষে দেখান তিনি আট ঘণ্টা কেবল চিন্তাভাবনাই করেছেন তাহলে বিষয়টা উৎপাদনশীলতার জন্য ক্ষতিকারক। গবেষণা সংস্কৃতি তৈরির জন্য আরও অনেক মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি।

নিউপোর্ট যদিও খুব মূলগত জায়গায় প্রশ্ন তুলেছেন। শুধু বিজ্ঞানের পরিকাঠামো এবং প্রক্রিয়ার উপর নয়, গবেষণার বিষয়বস্তু এবং মানের উপরও কি চিন্তার সময় কমে যাওয়ার প্রভাব পড়ছে না? এআই বা অন্যান্য প্রযুক্তিকে কতখানি ব্যবহার করা যাবে তা গবেষকদেরই ঠিক করতে হবে। এই ধরনের প্রযুক্তি কিন্তু গবেষকদের জন্য আরও চিন্তার সময় বাড়াতেও পারে যদি সঠিক অর্থে ব্যবহৃত হয়। নাহলে এদের বিপরীত প্রভাবও পড়তে পারে।

যোগাযোগ প্রযুক্তি আগামীতে আরও উন্নত হবে। আর মানুষের নির্ভরতাও বাড়বে পাল্লা দিয়ে। গবেষকদের নিজেদের কাজ থেকে বিভ্রান্ত করার হাজারও পথ খুলে যাবে সামনে। তাই বিজ্ঞানের উপর এই প্রযুক্তিগুলির প্রভাব নিয়ে আরও বেশি করে কাজ করা, গবেষণা করা প্রয়োজন। তাত্ক্ষণিক যোগাযোগের বিশ্বে চিন্তার সময়কে কীভাবে সুরক্ষিত করা যায় সেই বিষয়েও গবেষণা দরকার। সকল কাজের পাশাপাশি শুধু চিন্তা করার জন্য দিনের একতা সময় বরাদ্দ করার অভ্যাস শুধু গবেষকদের জন্য নয়, সাধারণ যে কোনও মানুষের আশু কর্তব্য এই ডিজিটাল বিশ্বে। নাহলে শুকনো মস্তিষ্কে কেবলই ডিজিটাল আদানপ্রদান হবে, মানুষ ক্রমেই হারাবে নিজেকে, নিজের থেকেই।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?

৩ অগাস্ট থেকে বদলে যাচ্ছে শেয়ার বাজারের নিয়ম!

Stock Market India: নতুন ব্যবস্থার অধীনে শেয়ার বাজার বন্ধের সময়কে তিনটি আলাদা অংশে ভাগ করা হয়েছে। তবে নন-এফএন্ডও (Non-F&O) স্টকগুলির ক্ষেত্রে আগের মতোই বিকেল ৩:৩০টা পর্যন্ত স্বাভাবিক লেনদেন চালু থাকবে, এতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। কিন্তু এফএন্ডও স্টকগুলির ক্যাশ মার্কেটে প্রতিদিন একটানা লেনদেন চলবে বিকেল ৩:১৫ মিনিট পর্যন্ত।

আইআইটি-র দুই প্রাক্তনীর বৈদ্যুতিক কৃষিযন্ত্রে একরপ্রতি খরচ মাত্র ৪০ টাকা

Electric Power Tiller: বাজারে যেসব ট্র্যাক্টর পাওয়া যায়, তা হয় বিশাল বড় জমির উপযোগী, না হয় কেনা ও চালানো দুটোই খুব ব্যয়বহুল। ভারতে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ কৃষকের জমিই ছোট ও খণ্ড-বিখণ্ড, যেখানে বড় যন্ত্র ঢোকানোই সম্ভব নয়। আবার চিন থেকে আমদানি করা ছোট ছোট সস্তা মেশিনগুলিতে যন্ত্রাংশ ও সার্ভিসিংয়ের চূড়ান্ত সমস্যা তৈরি হয়। তাই বিদেশ থেকে আমদানির কথা না ভেবে, আইআইটি বোম্বের দুই প্রাক্তনী ঐশ্বর্য রামকৃষ্ণন ও কেদার গোখলে সিদ্ধান্ত নেন খাঁটি দেশীয় প্রযুক্তিতে ভারতের মাটির উপযোগী সমাধান তৈরি করার।

মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও উষ্ণ থাকে সোনাম ওয়াংচুকের বাড়ি

Sonam Wangchuk House: সোনম ওয়াংচুক মানেই পাহাড়ঘেরা লাদাখের ছবি, বরফে ঢাকা জীবন আর নতুন এক ভাবনার আলো। পেশায় তিনি একজন প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ এবং উদ্ভাবক। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে তিনি যেন রূপকথার সেই মানুষটি, যিনি পাহাড়ের রুক্ষ জীবনের কঠিন সমস্যাগুলিকে বিজ্ঞানের সহজ ছোঁয়ায় অত্যন্ত সহজ করে তুলেছেন।

মহাকাশে মিলল চিনির সন্ধান, কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আবিষ্কার?

natural sugar in space: ছায়াপথের কেন্দ্রের একটি আণবিক মেঘে প্রথমবারের মতো প্রকৃত মনোস্যাকারাইড ‘এরিথ্রুলোজ’-এর সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কার জানাচ্ছে, নক্ষত্র ও গ্রহ তৈরির আগেই মহাকাশে জটিল জৈব অণু তৈরি হতে পারে। ফলে পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি এবং মহাবিশ্বে জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে গবেষণার আগ্রহ বেড়েছে।

কর্মদক্ষতা মাপল এআই, চাকরি হারালেন কর্মীরা? মেটার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলা

Meta mass layoffs: কর্মীদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নেবে? মেটার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় অভিযোগ, এআই-নির্ভর মূল্যায়নের কারণে মাতৃত্বকালীন ও চিকিৎসাজনিত ছুটিতে থাকা কর্মীরা অন্যায্যভাবে চাকরি হারিয়েছেন।