বিশ্রাম নিতে কেন সেমিনার রুমে যেতে হয়েছিল আরজি করের চিকিৎসককে?

বিশ্রাম নিতে গিয়ে চিকিৎসকের মৃত্যু , উঠছে ছাত্রী নিরাপত্তার প্রশ্ন

Tanvia Barua
২ মিনিট
বিশ্রাম নিতে কেন সেমিনার রুমে যেতে হয়েছিল আরজি করের চিকিৎসককে?

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক মৃত্যুর ঘটনা তোলপাড় ফেলে দিয়েছে গোটা শহরে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ওই চিকিৎসকের শরীরে বহু আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। ঘটনার দিন রাত ২টো নাগাদ ডিনার করেন চিকিৎসক, তারপর বিশ্রাম নিতে যান সেমিনার রুমে। তাএ আগে টানা ৩৬ ঘণ্টা ডিউটি করেছিলেন তিনি। তারপর রওনা হন অপেক্ষাকৃত দূরের নিরালা সেমিনার রুম। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে, রাত ৩টে থেকে ভোর ৬টার মধ্যেই হত্যা করা হয়েছে চিকিৎসককে। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, সুরক্ষিত কোনো বিশ্রামকক্ষ কেন নেই হাসপাতালে? কেন সেমিনার রুমে যেতে হয় বিশ্রাম নিতে? নারীসুরক্ষার তোয়াক্কা কেন করে না হাসপাতাল? গাফিলতির শিকড় কত গভীর?

জরুরি বিভাগের চরতলায় ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযোগ উঠছে, সেখানে কোনো রকম ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা ছিল না। জুনিওর মহিলা চিকিৎসক সে দিন রাতে চেস্ট মেডিসিন বিভাগে ডিউটিতে ছিলেন। অসমর্থিত সূত্রের খবর, সেই বিভাগে নাকি গত তিন বছর কোনো নিরাপত্তারক্ষীই নেই। যে মেয়েরা লাখো প্রাণের দায়িত্বে, রাত জেগে কর্মে অবিচল, তাঁর প্রাণের দায়িত্ব তবে কার?

হাসপাতাল সূত্রে খবর, তিন মাস আগেও বোঝা গিয়েছিল, যে কোনো দিন বড় ঘটনা ঘটে যেতে পারে। সে দিনও যখন ওই ঘরে মহিলা চিকিৎসকরা বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, কয়েকজন মত্ত যুবক ঢুকে পড়েছিল। তারপর কর্তৃপক্ষের কাছে নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগও করা হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ নাকি কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি। প্রশ্ন উঠছে, কেন বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ মেনে নিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ?

চিকিৎসক মৈনাক পালের সঙ্গে কথা বলে ইনস্ক্রিপ্ট। মৈনাক পাল পরিকাঠামোর বেআব্রু দশা তুলে ধরে বলেন, 'জুনিয়র ডাক্তারদের একটিমাত্র রেস্টরুম। সেখানেই যেহেতু ছেলে, মেয়ে উভয়েরই থাকার ব্যবস্থা, এতে মেয়েদের প্রাইভেসি নষ্ট হতে পারে। তাই মেয়েটি রেস্টের জন্য সেমিনার ঘরে গিয়েছিলেন।' তিনি আরও বলেন, 'সবচেয়ে বড় সমস্যা নিরাপত্তার অভাব, পর্যাপ্ত সিসিটিভি নেই এবং অমানবিক ডিউটির সময়।'

আরজি করের প্রিন্সিপাল বলেছেন, মহিলা চিকিৎসক একা একা কেন সেমিনার ঘরে গিয়েছিলেন? এই প্রশ্নে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্যজুড়ে। রাতে একা কর্মক্ষেত্রে একজন চিকিৎসক অবাধ বিচরণ করলে তাঁকে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হবে? তাও আবার সরকারি ব্যবস্থাপনায়?

উল্লেখ্য, রাজ্যের নামজাদা হাসপাতাল আরজি কর। সেখানেই সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিয়ে অবহেলার অভিযোগ উঠলে, বাকি হাসপাতালগুলির অবস্থা কেমন? এখানে বহু মহিলা চিকিৎসক নাইট ডিউটি করেন। তবুও মহিলাদের জন্য আলাদা রেস্ট রুম কেন নেই এই প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক নয় কি? কেন তিন মাস আগে নিরাপত্তার অভিযোগ জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ সে প্রশ্নও তুলছেন ওই চিকিৎসকের সহপাঠীরা। কেন প্রতিটি বিভাগের সামনে নিরাপত্তারক্ষী নেই? কর্তব্যরত চিকিৎসকের সুরক্ষার দায় যাদের, তাদের প্রত্যেকের কর্তব্যপালনে অসীম অবহেলাই গোটা ঘটনায় সামনে আসছে বারবার।

লিখেছেন
Tanvia Barua
Tanvia Barua
7 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।