গাজা, ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক জুড়ে রাতভর ইজরায়েলি অভিযান, দীর্ঘ হচ্ছে শবদেহের মিছিল

Israel-Palestine conflict: ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক-সহ একাধিক জায়গায় ইজরায়েলি সেনা চালিয়ে যাচ্ছে লাগাতার অভিযান। সারা রাত ধরে অজস্র ইজরায়েলি সেনা ওই সব এলাকা দিয়ে ঢুকে আসছে গাজায়। চলছে বন্দুক, গোলাগুলি।

Sohini Das
৩ মিনিট
গাজা, ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক জুড়ে রাতভর ইজরায়েলি অভিযান, দীর্ঘ হচ্ছে শবদেহের মিছিল

বধ্যভূমি গাজা। চার সপ্তাহের ভয়াবহ যুদ্ধে ছাড়খার হয়ে গিয়েছে গোটা শহর। হাসপাতাল হোক বা গির্জা, যেখানেসেখানে নেমে আসছে ইজরায়েলের রকেট। মুহূর্তে ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছে সব কিছু। এমনকী যে বাস্তুচ্যুত যে মানুষগুলো নিরাপদ আশ্রয় ভেবে মাথা গুঁজেছিলেন শরণার্থী শিবিরে, সেই শিবির উড়িয়ে দিতেও দ্বিতীয়বার ভাবেনি ইজরায়েলি সেনা। একদিকে গাজার আনাচকানাচ জুড়ে চলছে ইজরায়েলের লাগাতার রকেট হামলা আর অন্যদিকে ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক-সহ একাধিক জায়গায় ইজরায়েলি সেনা চালিয়ে যাচ্ছে লাগাতার অভিযান। সারা রাত ধরে অজস্র ইজরায়েলি সেনা ওই সব এলাকা দিয়ে ঢুকে আসছে গাজায়। চলছে বন্দুক, গোলাগুলি।

সব দিক থেকেই গাজাকে পিষে মারতে উঠেপড়ে লেগেছে ইজরায়েল। জল নেই, খাবার নেই। ওষুধপত্র নেই। এদিকে সারা রাত ধরে আকাশ পথে গাজার এদিক ওদিকে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইজরায়েলি সেনা। গাজার দ্বিতীয় বড় শহর খান ইউনিসে মঙ্গলবারও সারা রাত ধরে আকাশপথে হামলা চলেছে। খোঁজ চলছে হামাস এবং ফাতাহ নেতাদের। তাঁদের খতম করার রোখে একের পর এক গাজার সাধারণ মানুষের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে গিয়েছে ইজরায়েলি সেনা। জানা গিয়েছে সাম্প্রতিক এই অভিযানে এক ফাতাহ নেতাকে গ্রেফতার করেছে ইজরায়েলি সেনা। হ্যাঁ, তিনি গ্রেফতার হয়েছেন বটে। কিন্তু তার সঙ্গেই অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রাণ গিয়েছে পাঁচ নিরপরাধ ফিলিস্তিনির।

অবশ্য এই কোল্যাটারাল ড্যামেজ দেখতে দেখতে এখন অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে ইজরায়েল। এমনকী বিশ্বও। যে সাড়ে ৮ হাজার নিরপরাধ সাধারণ মানুষের মৃত্য়ু হয়েছে গাজায়, তার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি শিশু। আর বাকিরাও সকলেই নিরপরাধ সাধারণ মানুষ। যাদের এই যুদ্ধের সঙ্গে ন্যূনতম যোগটুকুও নেই। তবু উলুখাগড়ার মতোই তাঁদের মৃত্যু লেখা রয়েছে ইজরায়েলের হাতে। তাদের নিয়ে মাথাব্যথা নেই নেতানিয়াহু সরকারের। এমনকী হামাস বাহিনীর হাতে বন্দি ইজরায়েলি বাসিন্দাদের জন্যও সরকারের তেমন চিন্তা রয়েছে বলে মনে হয় না। প্রায় আড়াইশো জন ইজরায়েলি এখনও বন্দি হামাস-বাহিনীর হাতে। তাদেরকে উদ্ধারের জন্য কোনও সদিচ্ছা দেখা যায়নি নেতানিয়াহু সরকারের মধ্যে। গাজাকে সম্পূর্ণ ভাবে ধ্বংস করতেই আপাতত বেশি আগ্রহ ইজরায়েলের।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইজরায়েল গাজা যুদ্ধে ভারত কী চায়? উত্তর লুকিয়ে ৭৩ বছর আগের এই ঘটনায়...

India Supports Israel : ভারত আর ইজরায়েলের এত ভাব হলো কীভাবে? ভারত তো ইজরায়েলের জন্ম হোক তাই চায়নি এককালে!

বুধবার ভোর রাতে খান ইউনিসের দু'টি আবাসিক ভবনকে নিশানা করে ইজরায়েলি সেনা। ওই দুটি ভবনে আশ্রয় নিয়েছিল বহু গাজা শরণার্থী। ইজরায়েলি সেনার দক্ষিণ গাজা খালি করে দেওয়ার নির্দেশের পর বহু বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাই আশ্রয় নিয়েছিলেন সেখানে। আর সেই ভবন দু'টিকেই নিশানা করেছিল ইজরায়েলি সেনা। সেই হামলায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১২ জনের। আর জখম ২ ডজনেরও বেশি।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রের খবর, ওয়েস্ট ব্যাঙ্কে অক্টোবর থেকে অন্তত ১৩০ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। সবচেয়ে বড় হামলা চলে ওয়েস্ট ব্যাঙ্কের উত্তর জেনিন শরণার্থী শিবিরে। সেই হামলায় তিনজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছিল। হ্যাঁ, সংখ্যাগুলো ছোট মনে হলেও এই বিন্দু বিন্দু জমতে জমতেই সাড়ে আট হাজারে পৌঁছেছে গাজার মৃত্যুমিছিল। গাজার সংবাদমাধ্যম কর্মীদের পরিবারের উপর বারংবার নেমেছে আঘাত। আল জাজিরা সংবাদমাধ্য়মের বহু কর্মীর পরিজনেরা মারা গিয়েছেন হামলায়। রামাল্লা থেকে এক সংবাদকর্মী জানিয়েছেন, মধ্যরাতে শুরু হয়েছিল ইজরায়েলি বাহিনীর হামলা। যা শেষ হয়েছে প্রায় সকালে। ততক্ষণে ধুলোয় মিশে গিয়েছে পারিপার্শ্বিক সব কিছু। গত ৭ অক্টোবরের পর থেকে এমন অসংখ্য হামলার ঘটনা ঘটে চলেছে গাজায়। জেনিন শরণার্থী শিবিরের ওই হামলাটি ছিল এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে ভয়ঙ্কর। বিরাট সংখ্যক ইজরায়েলি সেনা দখল নেয় এলাকার। একের পর এক সাঁজোয়া গাড়ি, অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হাজির হয়েছিল তারা। এক রাতেই তছনছ হয়ে গিয়েছিল শরণার্থী শিবিরটি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
হামাসের কবল থেকে কবে ফিরবে প্রিয়জনেরা? শয্যা সাজিয়ে অপেক্ষায় জেরুজালেম

Israel-Hamas war: পরিবারের লোকেদের অপেক্ষা দীর্ঘতর হচ্ছে ক্রমশ। আর সে কথা মনে করিয়ে দিতেই কিবুটজ নির ওজের সদস্যরা ২৩৯টি খালি বিছানা পেতে রেখেছে জেরুজালেমের সাফরা স্কোয়ারে।

৭ অক্টোবর হামাস বাহিনীর ইজরায়েল আক্রমণের পর থেকেই ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক-সহ গাজার একাধিক এলাকায় হামাস নেতা ও কর্মীদের উপরে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে ইজরায়েল। গ্রেফতার হওয়া ফাতাহ নেতাদের উপর চলছে নির্যাতন। বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী কাউকেই ছাড়ছে না ইজরায়েলি সেনা। প্রাথমিক হিসেব বলছে, এখনও পর্যন্ত মোট ৩০ জন গ্রেফতার হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় ইজরায়েলি সেনাকে প্রতিহত করার চেষ্টা করছে ফিলিস্তিনিরাও। বহু জায়গাতেই সশস্ত্র সংগ্রামেও নেমেছে তারা। ইজরায়েলের মারাত্মক হামলার নিন্দা জানাতে আসা বিক্ষোভকারীদের উপরে নৃশংস ভাবে গুলি চালায় নেতানিয়াহু সেনা। তার মধ্যে ছিল বছর ষোলোর এক কিশোরও। ইজরায়েলি সেনার গুলি ফুঁড়ে দেয় তার বুক।

গাজার অধিকাংশ জায়গাতেই মুহূর্মুহু হামলা চালাচ্ছে ইজরায়েল। ইচ্ছা করেই বারবার ইজরায়েল গাজার টেলিকমিউনিকেশন ভবনগুলিকে রকেট হামলা চালিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। যাতে গোটা বিশ্বের থেকে সম্পূর্ণ ভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া যায় গাজাকে। ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট ব্যবস্থা। জল সরবরাহ বন্ধ। বাসিন্দাদের ন্যূনতম সুস্বাস্থ্যটুকু বজায় রাখাও কঠিন হয়ে যাচ্ছে গাজায়।

হামাসদের শেষ দেখতে চায় ইজরায়েল। আর সেই শেষ দেখার পথে শেষ হয়ে যাচ্ছে গোটা একটা জনপদ। রাষ্ট্রপুঞ্জের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবকে ফুৎকারে উড়িয়েছে ইজরায়েল। ১২০টিরও বেশি দেশের উদ্বেগের মুখের উপর দিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে তারা। একেকটা রকেট হামলায় মাটি জুড়ে তৈরি হচ্ছে সাত-আটটি বিশালাকার গর্ত। সেখানে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন অসংখ্য মানুষ, অসংখ্য শিশু। দিনের পর দিন আলো থেকে আরও দূরে, আরও অনেক দূরে সরে যাচ্ছেন বাসিন্দারা, ক্রমে অন্ধকার আরও গাঢ় হচ্ছে গাজায়।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নিষিদ্ধ নয়, বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা, কী আছে ফিলিস্তিনপন্থী স্যালি রুনির বইয়ে

Sally Rooney: ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে রয়্যালটি দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশের পর ব্রিটেনে স্যালি রুনির বই সরবরাহ বন্ধ করেছে ফ্যাবার।

সিজেপির কর্মসূচির আগে ৬ হাজার পুলিশ, দুর্ভেদ্য দুর্গ কনট প্লেস

Connaught Place protest: সিজেপির কর্মসূচির আগে কনট প্লেস এবং তার আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে দিল্লি পুলিশ। কনট প্লেসের আশপাশে ৬ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?