ডক এলাকার সেই ভয়াবহ হত‍্যাকাণ্ড ও আটের দশকের দুর্গাপুজো

DC Vinod Mehta: অনেকের অস্ত্র মিলে-মিশে দুর্গা শক্তিময়ী, অসুর মারা পড়ল। ডিসি মেহতাকে কি তাহলে সবাই মিলে অস্ত্র দেয়নি?

Biswajit Ray
৪ মিনিট
ডক এলাকার সেই ভয়াবহ হত‍্যাকাণ্ড ও আটের দশকের দুর্গাপুজো

ফকির মাস্টার থেকে এ ওয়ান টেলরে। এ যেন একেবারে মোহনবাগান থেকে ইস্টবেঙ্গলে কিংবা ইস্টবেঙ্গল থেকে মোহনবাগানে। যাওয়াটা যে এভাবে দ্রুত ও নিশ্চিত গতিতে হবে, সে ভাবতেও পারেনি, কিন্তু হলো। বাবার সাইকেলের রডে বসে ফকির মাস্টারকে পিছনে ফেলে আরও তিনটে দোকান এগিয়ে সে এসে থামল সদ্য গজিয়ে ওঠা এ ওয়ান টেলরের সামনে। ফকির মাস্টার কিছু বলেনি, তবে দেখেছিল। তার আর বাবার ক্ষেত্রে টেলর বদল হলেও মায়ের ক্ষেত্রে দোকান বদল হয়নি। যদিও নিউ রঞ্জিত স্টোর্স দোকানটা বড়, ঝকঝকে ও জেনারেটর-শোভিত- তবু মা গিয়ে বসেছিল ওল্ড রঞ্জিত স্টোর্সের কাঠের বেঞ্চিতে। রাস্তার ধারে নালি বাঁচিয়ে কাঠের বেঞ্চিগুলো এমনভাবে রাখা, যাতে নালি ঢেকে যায়, অথচ বেঞ্চিও নালিতে না পড়ে, চার পায়ে দাঁড়িয়ে থাকে। এ ওয়ানে যাওয়ার যুক্তি এই, ফকির মাস্টার বুড়ো হয়েছে, নিজে কাজ করতে পারছে না, জামা-কাপড় ঢিলে-ঢালা হচ্ছে। নতুনদের এবার সুযোগ দিতে হবে– তাই পুজোয় চাই নতুন টেলর, নাম তার এ ওয়ান। আর নিউ রঞ্জিতে না যাওয়ার কারণ টাকা। সাবেকি রঞ্জিতে যে দামে যা পাওয়া যায়, নতুন রঞ্জিতে সে দামে তা পাওয়া যাবে না। জামা-কাপড়ের দামের মধ্যে দোকানের চাকচিক্য আর জেনারেটরের খরচ মিশে যাবেই যাবে। সুতরাং, এই যুক্তিতেই আয়তকার পুরনো রঞ্জিত স্টোর্সের বেঞ্চিতে বসে মা রুবিয়া ভয়েলের ব্লাউজ আর ছাপা শাড়ি কিনল।

সন্তোষী মায়ের বড়লোকি মন্দিরের পাশে রাজগ্রাম– সেখান থেকে গামছা কেনার কথা। সে গামছা যাবে কলকাতা, দিদিমার কাছে। পুরুলিয়া থেকে কলকাতা তখন অনেক দূর। সে দূরত্ব মোছার জন্য একখানা ট্রেন– হাওড়া চক্রধরপুর প্যাসেঞ্জার, আর একখানা লাল বাস। সেই লাল বাস কলকাতার সকালবেলার কাগজ বিকেল-সন্ধের পুরুলিয়ায় বয়ে নিয়ে আসে । ১৯৮৪ সাল, মার্চ মাস। ডিসি মেহতা, পঁয়ত্রিশ বছরের সৎ পুলিশ অফিসার ডিসি মেহতা, খুন হলেন কলকাতার ডক এলাকায়। কুপিয়ে হত্যা করা হলো তাঁকে। নিহত হলেন তাঁর সহযোগী ইদ্রিস আলি। খবরের কাগজের পাতায় ছবি এঁকে খুনের পথ-পদ্ধতি বুঝিয়ে বুঝিয়ে ছাপা হয় সেই মর্মান্তিক খবর। সন্ধেবেলায় সাঁওতালডিহির চুল্লি বসে যায়। পুরুলিয়ায় আলো নেই, লোডশেডিং। হ‍্যারিকেনের আলোয় মা লাল বাসে করে আসা খবরের কাগজ থেকে ডিসি মেহতার হত্যা-ঘটনা পড়ে শোনায়। পড়তে পড়তে কেঁদে ফেলে। "মানুষটাকে এভাবে খুন করল। ছেলেটার কী হবে? আর বউটার? কী সুন্দর দেখতে। কত আর বয়স!" সে হাঁ করে অবাক হয়ে চেয়ে থাকে। রেশনের কেরোসিনে ময়লা ছিল, লণ্ঠনের শিখা কেঁপে কেঁপে ওঠে।

সেই বছরই পুজোর সময় এসেছিল বাংলা সিনেমা ‘শত্রু’। পুরুলিয়ার কমলা টকিজে রিলিজ করেছিল। হিট ছবি, অনেকদিন চলেছিল। তারা পুজোর পর ‘শত্রু’ দেখেছিল– ডিসি মেহতা হেরে গিয়েছিলেন, সিনেমার সৎ পুলিশ অফিসার হেরে যাননি। মা খুব খুশি, সেও। এ ওয়ান টেলরের প্যান্ট খুব ফিট করেছিল, তাই পরেই সে গিয়েছিল কমলা টকিজে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অভাবের সংসারে রবি ঠাকুরের জন্য চাদর আর পার্থ-গৌরী ঘোষের কর্ণ-কুন্তী সংবাদ

রবি ঠাকুরের চাদর অন্যরকম, তুলে রাখা। তার বাবার হিসেবের খাতায় সে চাদরের দাম লেখা থাকে না।

রুবিয়া ভয়েলের ব্লাউজ দুটো, আর ছাপা শাড়ি একটা। এই ছিল মায়ের পুজোর সাজ। পুরনো রঞ্জিত স্টোর্স দোকানখানি আয়তকার। সে-দোকানের মেঝেতে তিনজন বসে। আর দু'জন তাকে তাকে পা-দিয়ে খানিকটা উঠে দাঁড়িয়ে ঝুলছে। নিচ থেকে অর্ডার যাচ্ছে। ঝুলন্ত অবস্থায় ওপর থেকে নিচে অর্ডার-মাফিক জিনিস পড়ছে। এরই মধ্যে রাস্তায় একটা বাস ঢুকে পড়ল। বাস ঢুকে পড়লে বেঞ্চিতে বসে থাকা কাস্টমারদের উঠে পড়তে হয়। দোকান থেকে একটা ছেলে লাফ দিয়ে নামে, খালি বেঞ্চি বগলে তুলে দোকানের পাশে নালি ডিঙিয়ে এক-চিলতে জায়গায় আশ্চর্য কায়দায় দাঁড়িয়ে পড়ে। সেই ফাঁকে খালাসি বাস থেকে নেমে দোকানের গায়ে কতটা জায়গা আছে পরীক্ষা করে। তারপর ‘যাও যাও’ বলে বাসের কোলে-পিঠে হাত দিয়ে সশব্দ চড় মারতে থাকে। দু'-বার পর পর মারলে বাস যাবে। একবার মারলে বাস থামবে। এই কায়দায় একসময় বাস এগিয়ে যায়। তখনই বেঞ্চি বগলে ছেলেটি বাইরে এসে আবার নালি বাঁচিয়ে কায়দা করে বেঞ্চি বসিয়ে দেয়। কাস্টমাররা বিনা বাক্যব্যয়ে বসে পড়ে। পুনরায় ওপরের মাল নিচে, নিচের মাল খদ্দেরের ব্যাগে চলে যেতে থাকে।

এ ওয়ান টেলর, পুরনো রঞ্জিত স্টোর্স এ-সব নয়– তার আগ্রহের কেন্দ্রে থাকে আরেকটি দোকান। সে দোকানটির কোনও নাম নেই, তবে ধাম আছে। শ্মশানকালীর মন্দির থেকে রথতলার দিকে যেতে পর পর দুটো দোকান। দোকান আলো করে বসে থাকে কতরকমের বাজি। দুটোর একটার সামনে দাঁড়ায় তারা। কালী-পটকা, চকোলেট, রকেট, সাপ, রংমশাল, ক্যাপ– আরও কত কী! সবকিছু কেনার উপায় নেই। পয়সায় কুলোবে না। তবে কিছু কিছু তো কেনা যাবে। বন্দুক তো প্রত্যেক বছর কিনতে হয় না, কিনতে হয় ক্যাপ। কালী-পটকাও কেনা হয় আর কেনা হয় প্যাকেট ভেঙে খানপাঁচেক রকেট। অল্প পুঁজির সেই বাজি রোজ একবার করে রোদে দিতে হয়, তাহলে বিকেলে ভালো ফাটে। রকেট ওড়ানোর জন্য মায়ের কাছ থেকে নিতে হয় লম্বাটে ছোটো-মুখ শিশি। শিশিতে রকেট বসিয়ে তারপর আগুন দিতে হয়– হুশ করে সে রকেট শিশিকে শুইয়ে দিয়ে উড়ে যায় আকাশপথে। খুব দূর আকাশে যাওয়ার শক্তি অবশ্য তার নেই। শক্তি কারই বা আছে?

সেবার পুজোর পর ‘শত্রু’ দেখতে দেখতে মনে হয়েছিল, তার শক্তি থাকে না, শক্তি আছে মনে মনে তা ভাবতে হয়। শক্তি ভাবলেই শক্তি! দুর্গাঠাকুরের পায়ের কাছের অসুরটির মুখে দশমীর দিন সন্দেশ দেয় মা। তখন বেশ হাসি হাসি মুখ হয়ে যায় তার। অসুরও যে হাসে, হাসতে পারে- একথা সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী কোনওদিনই মনে হয়নি তার। অথচ দশমীর দিন মুখে সন্দেশ পড়তেই মনে হলো, অসুর যেন হাসছে। অসুরের মুখে যেমন হাসি খুলে গেল, তেমনই হঠাৎ করে কোনও মানুষের মনে ভর করতে পারে সাহস। ডিসি মেহতারও কী মনে সাহস ভর করেছিল? কিন্তু সেই সাহস কি শক্তি হয়ে উঠতে পারেনি? পারেনিই তো! পারলে তো এভাবে খুন হতেন না তিনি। যখন মহালয়া বাজে রেডিওতে, তখন শুনেছে সে, অনেকে মিলে দুর্গাকে অস্ত্র দিলেন। তাঁদের অস্ত্র মিলে-মিশে দুর্গা শক্তিময়ী, অসুর মারা পড়ল। ডিসি মেহতাকে কি তাহলে সবাই মিলে অস্ত্র দেয়নি? সবাই কি চায়নি তবে, চোরা-কারবারিরা হেরে যাক! সব তালগোল পাকিয়ে যায়।

পুজোর পর অনেক দিন অবধি পাড়ার এদিক-ওদিক চোখে পড়ে পুড়ে যাওয়া বাজির দেহাবশেষ। রোদের তেজ আর বারুদের শক্তি তাদের কয়েক মুহূর্তের জন্য শক্তিশালী করে তুলেছিল। বেঁচে থাকা কয়েকটা ক্যাপ তার শেষ সম্পদ। যখন ইচ্ছে হবে, তখন ফাটাবে। খেলনা বন্দুক আর সশব্দ ক্যাপ- এই দুয়ের তালমিল একসময় শেষ হবে। ক্যাপহারা বন্দুক অপেক্ষা করবে আরেকটা পুজোর জন্য।

শক্তি একার নয়, শক্তি অনেকের তাল-মিলের ভাবনা। শক্তি চিরকালের নয়, শক্তি মুহূর্তের।

ভাসানের পর জলের ওপরে ভেসে ওঠে দুর্গার মূর্তিহারা সাজের ভগ্নাবশেষ– তাদের মুহূর্তরা আসে, তাদের মুহূর্তরা চলেও যায়।

লিখেছেন
Biswajit Ray
Biswajit Ray
6 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।