ওমলেট, পোচ অতীত! সহজেই বাড়িতে বানান মিশরীয়, অ্যাভোকাডো ডিম স্যালাড, রইল রেসিপি

Egg Salad Recipe: মেনস্ট্রুয়েশনের জন্য অনেক সময় অ্যানিমিয়া দেখা দেয়। শরীর তাড়াতাড়ি ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ডিমের মধ্যে থাকা আয়রন এই ঘাটতি মেটাতে পারে সহজেই।

Sanchari Bhowmik
৩ মিনিট
ওমলেট, পোচ অতীত! সহজেই বাড়িতে বানান মিশরীয়, অ্যাভোকাডো ডিম স্যালাড, রইল রেসিপি

সামনেই পুজো তাই অনেকেই শুরু করেছেন ডায়েট! আবার অনেকেই রান্নাঘরের আগুন তাপে বেশিক্ষণ সময় নষ্ট করতেও চাইছেন না। তাঁদের জন্য আজকের এই রেসিপি যে মন ভালো করে দেবে তা হলফ করে বলা যায়। বাচ্চা থেকে বুড়ো কম বেশি সকলেরই পছন্দের খাবারের তালিকাতে রয়েছে ডিমের নাম। ডিমের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন আর তাই অনেকক্ষণ পেট ভর্তি রাখতে পারে ডিম। পাশাপাশি ডিম চুল ও ত্বকেও পুষ্টির জোগানও দেয়। তাই ভরসা রাখতে পারেন স্যালাডে। স্যালাড মানেই যে একগুচ্ছ সবুজ শাক-পাতা তা ভাবার কারণ নেই। বরং যে সব স্যালাডকে পুরো ‘মিল’ বা স্বয়ংসম্পূর্ণ পদ হিসেবে মান্যতা দেওয়া হচ্ছে, তাতে সবুজের পাশাপাশি থাকছে মাছ-মাংস-ডিম জাতীয় নানা প্রোটিনও। অর্থাৎ এক বাটি স্যালাড থেকেই পাওয়া যাবে প্রয়োজনীয় সমস্ত পুষ্টিগুণ।

জলখাবারে ডিম খাওয়ার চল যদিও সব দেশেই যথেষ্ট। তবে দিনের যে কোনও সময়ে ডিমের স্যালাড ভরপুর খাবার হিসেবে কাজ করতে পারে। দিনের শুরুতে অন্তত একটা ডিম খেলে যেমন প্রয়োজনীয় পুষ্টি যাবে শরীরে, তেমন সহজেই খাবারও হবে মুখরোচক।

মিশরীয় ডিম স্যালাড

এই স্যালাডটি কাঁচা নয়। একটু রান্না করতে হয়। ডিমের সঙ্গে এতে প্রাধান্য পায় বিনসের বীজ। অর্থাৎ, এই স্যালাডের দু’টি উপকরণই প্রোটিনে ভরপুর। তাই এতে যেমন শরীরের পুষ্টির ব্যবস্থা হবে, তেমনই পেট ভরা থাকবে অনেকটা সময় পর্যন্ত।

স্যানডুইচ স্যালাড

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মিষ্টি বিনে প্রাণ মজে না? রোগ বালাই এড়াতে চিনির বিকল্প হয়ে উঠতে পারে এই দ্রব্যগুলি

Sugar Control Tips: মিষ্টির স্বাদ আস্বাদনের জন্য বিভিন্ন ফল খেতে পারেন আবার মিষ্টি খাওয়ার নিতান্তই যদি খুব ইচ্ছা হয় তাহালে খাবার শেষ পাতে রাখতে পারেন একটুকরো ডার্ক চকলেট।

বেশির ভাগ সময় বাচ্চারা টিফিন খেতে চায় না। টিফিনে স্যানডুইচ বা অন্য কিছু দিলেও তাদের মুখে রচে না। এক্ষেত্রে স্যানডুইচের মধ্যে ডিমের ব্যবহার সমস্যার সমাধান করতে পারে।

ভারতীয় ডিম স্যালাড

একেবারে ভারতীয় স্টাইলে বানানো এই ডিমের স্যালাডের চাহিদা রয়েছে। মূলত সেদ্ধ ডিম দিয়েই স্যালাড বানানো হয়। সকালবেলা জলখাবারে খান ডিমের স্যালাড। এটা যেমন স্বাস্থ্যকর, তেমনই অনেকক্ষণ পেট ভর্তিও রাখে। আর যাঁরা একটু বেশি শরীর সচেতন, খেয়াল রাখেন নিজের ওজনের উপরে তাদের জন্য এটা একেবারে পারফেক্ট।

অ্যাভোকাডো ডিম স্যালাড

এমনিতেই অ্যাভোকাডোকে পুষ্টির পাওয়ার হাউস বলা হয়। এর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে খনিজ ও ভিটামিন। এটা এমনিতেই রোগ কমাতে সাহায্য করে, আর এর সঙ্গে ডিম যেন বাড়তি স্বাদ যোগ করে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দুর্গাপুজোয় সারা রাতের প্ল্যান! রইল কলকাতার সেরা রুফটপ লাউঞ্জের সেরা ঠিকানা-মেনু-খরচ

Durgapuja 2022: পুজোর সময়ে বেশিরভাগ রেস্তোরাঁতেই কিন্তু জায়গা পাওয়া যায় না, তাই এই রেস্তোরাঁগুলিতে যেতে চাইলে, আগের থেকে বুকিং করে নেওয়াই ভালো অপশন

গ্রিলড এগ- চিকেন স্পিনাচ স্যালাড

এক কাপ লেটুস, নুন দিয়ে ভাপানো পালং শাক, অল্প মশলায় গ্রিল করা একটি চিকেন ব্রেস্ট, একটি টম্যাটো, অল্প পেঁয়াজ ও ক্যাপসিকাম কুচি, সিদ্ধ ডিম, লেবুর রস, কয়েকটি আমন্ড, নুন, গোলমরিচ এবং পারমেজ়ান চিজ় মিশিয়ে বানিয়ে ফেলতে পারেন গ্রিল়ড চিকেন স্পিনাচ স্যালাড।

এগ চিকেন চিজি স্যালাড

যারা চিকেন খেতে ভালোবাসেন অথচ ভাবছেন রোগা হতে গেলে চিকেন ছাড়তে হবে, তাদের চিন্তার দিন এবার শেষ। সেদ্ধ চিকেন ব্রেস্টের টুকরো, সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ, টুকুরো টুকরো করে কেটে রাখা চিজ, গোলমরিচ গুঁড়ো, লবণ, মেয়োনিজ, ধনেপাতা কুচি, লেটুস অথবা বাঁধাকপির পাতা নিয়ে নিন। চিকেন ব্রেস্টের টুকরো, চিজ, লবণ, গোলমরিচ গুঁড়ো একসঙ্গে মেশান, পরিমাণ মতো মেয়োনিজ যোগ করুন। এবার এটি বাঁধাকপি বা লেটুস পাতার উপর পরিবেশন করুন।

ডিম-টমেট্যোর স্যালাড

যাদের হাতে একদম সময় নেই, চটজলটি জলখাবার বানাতে হবে তাদের জন্য একেবারে পছন্দের স্যালাড হল ডিম-টমেট্যোর স্যালাড। টমেট্যো কুচি, পেঁয়াজ কুচি, রসুন কুচি, ডিম সেদ্ধ করে কেটে নিন। এবার ওপর থেকে সৈন্ধব লবণ, গোলমরিচ গুঁড়ো, অলিভ অয়েল ছড়িয়ে বানিয়ে ফেলুন ডিম এবং টমেটোর স্যালাড। পাঁচ মিনিটে তৈরি হয়ে যাবে পছন্দের স্যালাড।

উপকারিতা

ডিমে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন। এর মধ্যে থাকা ভিটামিন বি-১২ আপনি যা খাচ্ছেন সেই খাবারকে এনার্জি বা শক্তিতে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে। আবার ডিমে আছে ভিটামিন-এ, যা দৃষ্টিশক্তিকে উন্নত করতেও সহায়তা করে। কেবলমাত্র ডিমেই রয়েছে ভিটামিন-ডি, যা পেশীর ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। ডিমের সবচেয়ে বড় গুণ হল, ওজন কমাতে সাহায্য করে। জলখাবারে রোজ একটি ডিম মানে সারাদিনের এনার্জি সঞ্চয় করে রাখা। গবেষণায় দেখা যায়, শরীর থেকে দিনে প্রায় ৪০০ ক্যালোরি কমাতে পারে সকালে একটি ডিম খাওয়া। তার মানে মাসে ওজন কমার পরিমাণ প্রায় তিন পাউন্ড। সমীক্ষা বলছে, ৬৫% বডি ওয়েট, ১৬% বডি ফ্যাট, ৩৪% কোমরে জমে থাকা মেদের পরিমাণ কমাতে পারে ডিম!

ডিমে আছে আয়রন, জিঙ্ক, ফসফরাস। বিশেষত মেয়েদের মেনস্ট্রুয়েশনের জন্য অনেক সময় অ্যানিমিয়া দেখা দেয়। শরীর তাড়াতাড়ি ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ডিমের মধ্যে থাকা আয়রন এই ঘাটতি মেটাতে পারে সহজেই। জিঙ্ক শরীরের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। তাই সেদ্ধ কিংবা স্যালাড হিসেবে খাবারে ডিমের গুরুত্ব রয়েছে।

লিখেছেন
Sanchari Bhowmik
Sanchari Bhowmik
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।