সুড়ঙ্গ দিয়ে পৌঁছে যাওয়া যায় মাটির তলার শহরে, যে রহস্য লুকিয়ে কৈলাস মন্দিরে

এক অনন্য 'ভারতবর্ষ'। তত্ত্বের, শিল্পের, প্রার্থনার, ত্যাগের আর উপভোগেরও।

Ravhali Biswas
৭ মিনিট
সুড়ঙ্গ দিয়ে পৌঁছে যাওয়া যায় মাটির তলার শহরে, যে রহস্য লুকিয়ে কৈলাস মন্দিরে

ইতিহাস বড় অদ্ভুত বিষয়, তার মধ্যে যে শুধু প্রাচীনত্বের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে এমন নয়; রয়েছে অনেক আত্মগোপন করা, মুখোশধারী রহস্যপূর্ণ কাহিনি; যে কাহিনি শোনার পর যে-কোনও ইতিহাসপ্রেমী, ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছেই সেই জায়গায় ভ্রমণের ইচ্ছে আরও দ্বিগুণ হয়ে ওঠে। অজন্তা-ইলোরার নাম শোনেননি বা জানেন না, এমন লোক ভূভারতে বিরল। অজন্তা-ইলোরা বলতেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেই স্থাপত্য, নকশা আর ভাস্কর্যের চিত্রপট, যা আজকের দিনে কল্পনাও করা যায় না। UNESCO-র তরফ থেকে ‘World Heritage Site’ র তকমা পেয়েছে এই ইলোরা গুহা।

কীভাবে তৈরি হয়েছিল এই মন্দির বা গুহা, কেইই বা তাঁদের গায়ে এঁকে দিয়েছিল চিত্রপট, নকশা, নানা কাহিনির বিবরণ, তাঁর খোঁজ কেউ জানে না। অনেকের মতে, ৬০০০ হাজার বছর আগে এই শিল্পকলা ভারতে আসে। প্রত্নতাত্ত্বিক থেকে শুরু করে বিজ্ঞানীরাও ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছেন এই ভেবে যে, কীভাবে সম্ভব এই কাজ? যে-সময়ে কোনও উন্নত টেকনোলজি ছিল না, শুধু হাত দিয়ে পাথর কেটে কীভাবে এই মন্দির বা গুহা বানানো যায়? এর উত্তর কেউ জানে না।

ইলোরার ইতিহাস

মুঘল সাম্রাজ্যের প্রাচীন রাজধানী ঔরঙ্গাবাদ থেকে ৩০ কিমি. উত্তরে অবস্থিত ইলোরা মন্দির। মুঘলদের আগমনের অনেক আগে থেকেই এই অঞ্চলটি ছিল বাণিজ্য ও ধর্মের বিকাশের কেন্দ্র। বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন যে, ইলোরাতে প্রথম কাঠামো ষষ্ঠ শতাব্দীর শুরুতে দেখা গিয়েছিল।

মহারাষ্ট্রের এই ইলোরা গুহা বেশ প্রাচীন। চরনন্দ্রী পাহাড় থেকে পাথর কেটে এই ইলোরায় ১০০টি গুহা বানানো হয়েছে। যার মধ্যে ৩৪টি গুহা সকলের জন্য উন্মুক্ত, বাদবাকি গুহায় প্রবেশ নিষেধ। গ্রানাইট পাথরের এই পাহাড়ের ৩৪টি গুহার মধ্যে ১৭টি (গুহা ১৩-২৯) হিন্দু ধর্মের, ১২টি (গুহা ১-১২) বৌদ্ধ ধর্মের এবং ৫টি (গুহা ৩০-৩৪) জৈন ধর্মের মন্দির রয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, বেশিরভাগ শিল্পকর্ম, স্মৃতিস্তম্ভ, কাঠামো ৬০০ থেকে ১০০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে নির্মিত। আবার অনেকের ধারণা, চতুর্থ থেকে নবম শতাব্দীর মধ্যে কালাচুরি, চালুক্য ও রাষ্ট্রকূট রাজবংশের শাসনকালে এই মন্দিরগুলো নির্মিত হয়েছিল। অজন্তা গুহার মতো, ইলোরা কখনও লোকচক্ষুর অন্তরালে যায়নি। উত্তর-পশ্চিম দাক্ষিণাত্যের আগ্নেয়গিরির পাহাড়ের গায়ে ছড়িয়েছিটিয়ে থাকা মানবসৃষ্ট শিলাগুহা সমগ্র বিশ্বের না হলেও এশিয়ার সবচেয়ে বিস্ময়কর ধর্মীয় স্মৃতিস্তম্ভগুলোর মধ্যে একটি। ক্ষুদ্র সন্ন্যাসিক কোষ থেকে শুরু করে সুবিস্তৃত, সূক্ষ্ম গঠনের মন্দিরগুলো শক্ত পাথরে হাত দিয়ে খোদাই করার জন্য উল্লেখযোগ্য।

ভূতত্ত্ববিদদের মতে, প্রাচীন আগ্নেয়গিরির উদগিরনের ফলে ইলোরার পাহাড়ি অঞ্চল বিভিন্ন শিলাস্তরে গঠিত। খুবই মজবুত পাথর হওয়ায় গুহা নির্মানসমূহ এত দীর্ঘকাল যাবৎ টিকে রয়েছে। ইলোরা সম্পর্কে যা সত্যিই অসাধারণ তা হল প্রতিটি মূর্তি এবং স্তম্ভ সেখানে স্থাপন করার পরিবর্তে বিশুদ্ধ কঠিন পাথর দিয়ে খোদাই করা হয়েছে। শিলা-কাটা কাঠামোগুলি পাহাড়ের পাশ দিয়ে কাটা শুরু হয়েছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে কৌশলগুলো এতটাই নাটকীয়ভাবে উন্নত হয়েছিল যে, ফ্রি-স্ট্যান্ডিং মূর্তি এবং ভবনগুলো খোদাই করা সম্ভব হয়েছিল। এই গুহাগুলোর জন্য অর্থ রাজপরিবার, ধনী বণিক, তীর্থযাত্রী এবং অন্যান্যদের কাছ থেকে এসেছে।

ইলোরার কৈলাস মন্দির

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রাশিয়ান চার্চের সঙ্গে মিল, তান্ত্রিক মতে তৈরি হংসেশ্বরীর তুলনা ভূ-ভারতে নেই

বাজি ধরে বলা যায় এর তুলনা রাজ্যে তো বটেই, গোটা দেশেই নেই। অবিশ্বাস্য দক্ষতায়  অজানা একদল শিল্পী যে মিরাক্যল ঘটিয়েছিলেন আজ থেকে আড়াই শতক আগে, তা  আজওস, এই ইন্টারনেট যুগেও বিস্মিত করার ক্ষমতা লাগে

পৃথিবীজুড়ে এমন অনেক মন্দির আছে, যাদের সৌন্দর্য সকলকে মুগ্ধ করে। কিন্তু ভারতে এমন একটি মন্দির রয়েছে বহু যুগ ধরে যা তার সৌন্দর্যের রহস্য লুকিয়ে রেখেছে। মন্দিরটি মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদ জেলার ইলোরা গুহায় অবস্থিত, এটি ইলোরার সর্বাপেক্ষা বিস্ময়কর গুহা (১৬ নং গুহা), কৈলাস। কৈলাস মন্দিরটি তার বিশাল আকার, স্থাপত্য এবং ভাস্কর্যের কারণে ভারতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য গুহা-মন্দিরগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রায় ১৪৫ ফুট চওড়া, ১৯৫ ফুট লম্বা এবং ৯০ ফুট উঁচু, কৈলাস মন্দিরটি গ্রিসের এথেন্সের পার্থেননের আকারের দ্বিগুণ এলাকা জুড়ে রয়েছে। এর কেন্দ্রে বিশাল ভাস্কর্যযুক্ত একশিলা প্রধান মন্দির, গোপুরা এবং উভয় পাশে ঘেরা দেওয়াল। কৈলাস মন্দিরটি ভারতে এবং বিশ্বের বৃহত্তম কাঠামোগুলোর মধ্যে একটি, এমনকী, আগ্রার তাজমহলের প্রতিদ্বন্দ্বী।

কৈলাস বলতেই সবার প্রথমে আমাদের মনে আসে শিবের বাসস্থানের কথা। শিব মানেই কৈলাস আর কৈলাস মানেই শিব। যেন পরস্পরের পরিপূরক। ঐতিহাসিক নথি অনুসারে, কৈলাস মন্দিরটি ৭৫৬ থেকে ৭৭৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রাষ্ট্রকূট রাজবংশ দ্বারা নির্মিত হয়েছিল। জনশ্রুতি আছে যে, একজন হিন্দু রাজা তাঁর স্ত্রীকে অসুস্থতা থেকে বাঁচানোর জন্য ভগবান শিবের কাছে প্রার্থনা করার পর মন্দির নির্মাণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। এই হিন্দু রাজাকে রাষ্ট্রকূট রাজবংশের রাজা প্রথম কৃষ্ণ বলে মনে করা হয়। যাই হোক, এটি নিশ্চিত করার জন্য মন্দিরে কোনও রাজকীয় উৎসর্গীকৃত শিলালিপি নেই।

এই গুহা দেখতে অনেকটা বহুতল মন্দিরের মতো। মন্দিরটির মধ্যে একটি উন্মুক্ত মণ্ডপ আছে। এখানে বিশাল বিশাল হাতি ও চতুষ্কোণ স্তম্ভ নির্মিত হয়েছে। এটি প্রায় ২,০০,০০০ টনের পাথুরে পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছিল, যার জন্য সময় লেগেছিল ১০০ বছর।

প্রাচীনকালে যে-সমস্ত মন্দির তৈরি করা হতো, তাদের প্রত্যেকটি একটির সঙ্গে আর একটি পাথরকে জুড়ে তৈরি করা হতো। কিন্তু এই মন্দির তৈরির ক্ষেত্রে তেমন কিছু করা হয়নি। তার বদলে একটি মস্ত বড় পাথর কেটে বানানো হয়েছে। সাধারণত পাহাড়ের গায়ে যে সমস্ত গুহা বানানো হয়, তার প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই পাহাড়ের এক পাশ থেকে আরেক পাশে বাইরে থেকে ভেতরের দিকে খনন করা হয়। এই কঠিন এবং জটিল পদ্ধতিকে বলা হয় ‘কাটিং মনোলিক পদ্ধতি’। কিন্তু ইলোরার ১৬ নম্বর গুহায় অবস্থিত কৈলাস মন্দির ওপর থেকে নিচের দিকে পাথর কেটে নির্মাণ করা হয়, যা সত্যিই এক বিস্ময়কর ঘটনা। প্রথমে পাথরগুলি ওপর থেকে কাটা শুরু হয় এবং মাঝখানে এক বিরাট আয়তাকার পাথরের চারিদিকে ১১০ ফুট গভীর গর্ত করা হয়। এরপর মাঝখানের ওই পাথরটিকে কেটে কেটে বিভিন্ন কারুকার্য এবং ভাস্কর্যের সমাহারে বানানো হয় এই কৈলাস মন্দির। মন্দিরটি তিনটি অংশে বিভক্ত, যথা– গর্ভগৃহ, নন্দীমণ্ডপ ও মুখমণ্ডপ। মন্দিরটি তিব্বতের পবিত্র কৈলাস পর্বতের রূপক, যার ওপর কিংবদন্তি অনুসারে ভগবান শিব ধ্যানে ছিলেন।

ভূতত্ত্ববিদ এবং প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, মন্দিরের নিচে আছে ভূমিগত গুহা। যেখানে যাওয়ার রাস্তা সাধারণ মানুষের জন্য এখন বন্ধ। আর ঠিক এই দরজার পিছনে আছে একটি সুড়ঙ্গ পথ, যেটি অনুসরণ করে মানুষ একটি ভূগর্ভস্থ শহরে পৌঁছে যেতে পারেন। তবে মন্দির নির্মাণের সঠিক সময় সম্পর্কে কেউ তেমন অবগত নয়। কারও কারও মতে এটি প্রায় ১৯০০ বছর আগের পুরনো মন্দির, আবার কেউ বলেন, এটি তারও পরে তৈরি হয়েছে। এই কৈলাস মন্দিরে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করার জন্য ভূমিগত ব্যবস্থাও রয়েছে।

কৈলাস মন্দিরের রহস্য

কৈলাস মন্দিরের রহস্য আজও উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। এই মন্দির নির্মাণ এবং মন্দিরের বেশ কিছু ভাস্কর্য ও স্থাপত্য শিল্প আজও প্রত্নতাত্ত্বিকদের বেশ চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, এই ধরনের পাথর কেটে মন্দির বানানোর জন্য প্রায় ৩ লক্ষ টনের কাছাকাছি পাথর কেটে সরাতে হয় এবং তা তৈরি করতে মোটামুটি ১২ লক্ষ বছর সময় লাগাবার কথা। কিন্তু ইতিহাস বলছে, কৈলাস পর্বত মাত্র ১৮ বছরে নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রচলিত আছে, রাষ্ট্রকূট রাজা প্রথম কৃষ্ণের সময়, ৭৫৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৭৭৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ১৮ বছরের মধ্যেই মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছিল। অর্থাৎ, ১৮ বছরে ৩ লক্ষ টন পাথর কাটা হয়। তাহলে হিসেব করে দেখা যাচ্ছে ১৮ বছরে ৩ লক্ষ টন পাথর কাটলে বছরে প্রায় ১৬ হাজার টন পাথর কাটা হয়েছিল।

আর বছরে ১৬ হাজার টন পাথর কাটা মানে প্রতিদিন ৪৪ টন করে পাথর কাটা হয়। যদি একজন শ্রমিক সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১১ ঘণ্টা কাজ করেন, তাহলে প্রতি ঘণ্টায় ৪ টন করে পাথর কাটা হয়েছে। এবার প্রশ্ন থেকে যায়, তাহলে এই ১৯০০ বছরের পুরনো মন্দিরটিকে শুধুমাত্র ছেনি-হাতুড়ি দিয়ে পাথর কেটে কীভাবে এত তাড়াতাড়ি নির্মাণ করা সম্ভব?

অপরদিকে, পাথর কেটে যে পাথরগুলো বার করা হয়েছিল, তার অবশিষ্ট অংশগুলো এই মন্দিরের আশপাশে অথবা কয়েকশো মাইলের মধ্যে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। এদিকে তখন ক্রেন বা কোনও আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে মন্দির প্রাঙ্গণ থেকেও পাথর কাটা বা পাথর সরানো প্রায় অসম্ভব। তাহলে দ্বিতীয় প্রশ্ন হল, তাহলে কীসের সাহায্যে এত বড় বড় পাথর কেটে সরিয়ে নেওয়া হতো এবং কী করে, কীভাবে এই মন্দির এত কম সময়ের মধ্যে গড়ে উঠল? যেভাবে একটি পাথরকে ওপর থেকে নিচের দিকে কেটে মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছে, তা দেখে বোঝা যায় অত্যন্ত হিসেব ও কঠিন পরিকল্পনা রয়েছে এর নেপথ্যে।

আবার একটু ভাল করে লক্ষ করলে দেখা যাবে, এই বড় বড় আকৃতির স্তম্ভগুলো এবং মন্দিরের গায়ে, ছাদে, সিঁড়িতে, থামে যে-সমস্ত কারুকার্য ও ভাস্কর্য-স্থাপত্য-শিল্পের নমুনা দেখা যায়, সেগুলো মানুষের দ্বারাই নির্মিত বলে মনে হয়। তাহলে এর থেকে আরও একটি প্রশ্ন উঠে আসে যে, সামান্য কিছু পাথরের যন্ত্রপাতি দিয়ে কীভাবে কোনও ব্লু প্রিন্ট বা কম্পিউটারাইজড অতি-উচ্চমানের নকশা ছাড়া এই মন্দির রাতারাতি এমনভাবে গড়ে উঠল? এই মন্দিরের গঠন ও অস্তিত্ব সম্পর্কে আজও বড় বড় ইঞ্জিনিয়ার এবং আর্কিওলজিস্টরা কোনও সমাধান খুঁজে বের করতে পারেননি। অনেকে আবার বলেন, অ্যানশিয়েন্ট অ্যাস্ট্রোনট থিওরি অনুযায়ী, এই মন্দিরের নির্মাণ এলিয়েন প্রযুক্তিতে করা হয়েছে। তবে এটি সম্পূর্ণ প্রমাণসাপেক্ষ।

১৬৮২ সালে তৎকালীন রাজা আওরঙ্গজেব প্রায় ১০০০ জন সৈন্যের দল পাঠিয়ে এই মন্দিরটিকে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন। এই ১০০০ জন সৈন্য প্রায় ৩ বছর ধরে মন্দির ভাঙার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে, আওরঙ্গজেব মন্দির ভাঙার নির্দেশ প্রত্যাহার করেন। তবে, এখান থেকেও একটি প্রশ্ন উঠে আসে। যদি এই মন্দিরটি মানুষের দ্বারাই নির্মাণ করা হয়, তাহলে কেন মানুষরাই এই মন্দিরটি ভাঙতে অসফল হয়েছিলেন?

পরিশেষে এটাই বলার যে, ইলোরার ১৬ নং ‘কৈলাস’ গুহা দেখলে মুক্ত কণ্ঠে স্বীকারে বাধা নেই, ‘কীর্তি’ বুঝি একেই বলে! এর সামনে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া পথ থাকে না কোনও। বিরাট একটা পাথর (আদতে পাহাড়) কত জনের হাতের গুণে একটা মন্দির হয়ে উঠেছে! অবিশ্বাস্য! কারা এই নাম-না-জানা শিল্পী? কে বানিয়েছেন ওই ১৬ খানা স্তম্ভের মণ্ডপ, ধ্বজস্তম্ভ, নন্দীমণ্ডপ, মহাভারতের যুদ্ধের প্যানেল? যে কল্পনায় শিবের হাতে উঠতে পারে বীণা, হর-পার্বতীর বিয়ের উৎসব মুহূর্ত ফুটে ওঠে পাথরের গায়ে, প্রবল ক্রোধে পৃথিবী কাঁপান দশানন, সুখ-সংবাদ দিতে উড়ে যান কোনও গন্ধর্ব– তার উৎস কোন শিল্পী মন? আবার বৌদ্ধ গুহাগুলো, বা পার্শ্বনাথের মন্দিরসহ খানপাঁচেক জৈন গুহার পরিবেশ আর সজ্জা একেবারে আলাদা। স্থাপত্য কি ভাস্কর্যের প্রথাগত পাঠ পায়নি যে মানুষ, ইলোরা-কৈলাসের সৌন্দর্য আত্মস্থ করতে তারও অসুবিধে হবে না কিছুমাত্র। এ এক অনন্য 'ভারতবর্ষ'। তত্ত্বের, শিল্পের, প্রার্থনার, ত্যাগের আর উপভোগেরও। হিন্দু-বৌদ্ধ-জৈন এখানে আলাদা আইডেন্টিটি কার্ড নিয়ে ঘোরেন না। ইতিহাস, ধর্ম আর শিল্প এখানে ঘুমিয়ে আছে পাথরের খাঁজে-ভাঁজে। তাই কয়েকদিন হাতে সময় নিয়ে দেখে আসতে পারেন এই আশ্চর্য মন্দির।

লিখেছেন
Ravhali Biswas
Ravhali Biswas
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।