ভারতে ইভিএম বিকৃতি সম্ভব? ইচ্ছেমতো ব্যবহার করতে পারে শাসক দল?

EVM Tampering: মাধব কিন্তু জানাচ্ছেন, ভারতীয় ইভিএমের সঙ্গে যেহেতু ব্লুটুথ, ওয়াইফাই, ইন্টারনেটের পরিষেবা যুক্ত করা যায় না, তাই এটি হ্যাক করা সহজ নয় মোটেও। তবে অসৎ উপায়ে ইভিএমের ব্যবহার সম্ভব বলেই জানাচ্ছেন তিনি।

Tanvia Barua
৩ মিনিট
ভারতে ইভিএম বিকৃতি সম্ভব? ইচ্ছেমতো ব্যবহার করতে পারে শাসক দল?

ভোট পরবর্তী সময়ে প্রায়শই ইভিএম কারচুপি নিয়ে অভিযোগ তুলতেই থাকেন বিরোধী নেতারা। সম্প্রতি ইভিএম মেশিনের সঙ্গে ভিভিপ্যাট মেশিনের স্লিপ একশো শতাংশ মিলিয়ে দেখার দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বেশ কয়েকটি আবেদন জমা পড়েছিল। যদিও সেই সবকটি আবেদন খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, ইভিএমের সঙ্গে ভিভিপ্যাট মেশিনের স্লিপ একশো শতাংশ মেলানো সম্ভব নয়। ইভিএম কারচুপির এই অভিযোগ আজকের নয়। ভোটে যে দল যখনই হারে, তারা ইভিএম কারচুপির অভিযোগ তোলে। তবে সত্যি কতটা সম্ভব এই ইভিএম কারচুপি? কী বলছেন বিশেষজ্ঞেরা।

২০২৪ সালের ৩১ মার্চ নাগাদ ইভিএম বিশেষজ্ঞ মাধব দেশপান্ডের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেছিলেন করণ থাপড়। টিউলিপ সফ্টওয়ারের প্রাক্তন সিইও মাধব দেশপান্ডে একসময় আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ওবামার প্রশাসনিক পরামর্শদাতা পদেও কাজ করেছেন। সেই আলোচনায় ইভিএম সংক্রান্ত বেশ কিছু কথাবার্তা উঠে এসেছিল। এতদিন ধরে বারবার ইভিএম ব্য়বস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধী থেকে শাসকদল, সময় সুযোগ বুঝে সকলেই ইভিএম কারচুপির অভিযোগ তুলে থাকেন।

মাধব কিন্তু জানাচ্ছেন, ভারতীয় ইভিএমের সঙ্গে যেহেতু ব্লুটুথ, ওয়াইফাই, ইন্টারনেটের পরিষেবা যুক্ত করা যায় না, তাই এটি হ্যাক করা সহজ নয় মোটেও। তবে অসৎ উপায়ে ইভিএমের ব্যবহার সম্ভব বলেই জানাচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি এ-ও জানান, অন্যান্য দেশের ইভিএমের সঙ্গে ভারতের ইভিএমের পার্থক্যও রয়েছে। অন্য দেশের ইভিএমের সঙ্গে ওয়াইফাই, ইন্টারনেটের পরিষেবা যুক্ত থাকায় ভোটের পর তাঁদের বায়োমেট্রিক রেকর্ড রাখা সম্ভব হয়। পাশাপাশি সেখানে হ্যাক হওয়ার সম্ভবনাও বেশি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইভিএমের সঙ্গে মেলানো হবে ভিভিপ্যাট স্লিপ? লোকসভা ভোটের মধ্যেই যে বড় সিদ্ধান্ত জানাল সুপ্রিম কোর্ট

EVM-VVPAT case: সেই মামলাটি শুক্রবার সরাসরি খারিজই করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। জানিয়ে দিয়েছে ইভিএমের ভোটের সঙ্গে ভিভিপ্যাটের স্লিপ একশো শতাংশ মিলিয়ে দেখা সম্ভব নয়।

তিনি জানাচ্ছেন, ইভিএম আসলে গঠিত তিনটি অংশ নিয়ে। কী সেগুলি? সেগুলি হল ব্যালট ইউনিট, কন্ট্রোল ইউনিট, ভিভিপ্যাট মেশিন। তাঁর যুক্তি, এটি "আন্ডার ডিজাইন" একটি সিস্টেম। ১৯৭৭ সালে এই ডিজাইনটি করা হয়েছিল। সে সময়ে দেশে ইন্টারনেট ব্যবস্থা তেমন ভাবে প্রচলিত ছিল না। পরবর্তী কালে প্রযুক্তি এগোলো। রমরমিয়ে এল ইন্টারনেট। কিন্তু ইভিএম থেকে গেল ইভিএমেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইভিএমে যে সব পরিবর্তন আসার প্রয়োজন ছিল, তা করা হয়নি।

মাধবের কথায়, মূলত দু'টি উপায়ে ইভিএমে ভোট কারচুপি করা সম্ভব। একদিকে কন্ট্রোল ইউনিট, আরেকদিকে ব্যালেট ইউনিট এবং মাঝখানে ভিভিপ্যাট মেশিন রেখে তা করা যায়। অন্য পন্থাটি হল কন্ট্রোল ইউনিটকে নিয়ন্ত্রণ করা। কারণ, যে কোনও কন্ট্রোল ইউনিট ব্যালট ইউনিটের সাথে কাজ করতে পারে এবং ভোট হয়ে যাওয়ার পরে থিওরিটিক্যালি কন্ট্রোল ইউনিটকে পরিবর্তন করে, নতুন কন্ট্রোল ইউনিট ব্যবহার করে নিজেদের পছন্দ মত ভোট বাড়ানো সম্ভব বলেই মনে করছেন তিনি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইভিএম নয়, একমাত্র ব্যালটে ভোট হলেই শাসককে হারানো যাবে?

VVPAT Slip Counting: এক একটি ইভিএমে দেখা গেছে, প্রায় ৩৫০০ থেকে ৪০০০ ভোট স্টোর করা বা রাখা সম্ভব। সুতরাং লোকসভায় জিততে গেলে ৩ থেকে ৫ টি ইভিএম মেশিন ম্যানিপুলেট করলেই হবে।

তবে শুধু সমস্যাই নয়, সমস্যার সঙ্গে সঙ্গে সমাধানও বাতলেছেন মাধব দেশপাণ্ডে। তিনি জানাচ্ছেন, ইভিএমের সঙ্গে যদি একটি 'জিও লোকেশন ট্র্যাকিং' রাখা যায়, তাহলে ভোট কারচুপি ধরা সম্ভব। তবে সে ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, 'জিও লোকেশন ট্র্যাকিং' ইভিএমের ভিতরে প্রোগ্রাম করা থাকলে চলবে না, আলাদাভাবে যুক্ত করে রাখতে হবে যাতে সহজেই ট্রেক করা সম্ভব হয়।

শুধু ভারতবর্ষেই নয়, দেশ-বিদেশ জুড়ে ভারতের ইভিএম সিস্টেম নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ২০২৪ লোকসভা ঘিরে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে আন্তর্জাতিক মহলেও। নির্বাচনী প্রচার থেকে ইভিএম, সর্বত্রই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্বাচন প্রক্রিয়াটি পক্ষপাতদুষ্ট করে তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে নানা মহলে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভিভিপ্যাট স্লিপ গোনার দাবি জানিয়ে যে মামলা সুপ্রিম কোর্টে করা হয়, তা শীর্ষ আদালত খারিজ করে দিলেও কিছু শর্ত রেখেছে। যা থেকে পরিষ্কার, ইভিএম-কারচুপির আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না শীর্ষ আদালতও।

অথচ নির্বাচন কমিশন এ নিয়ে নীরব। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ওঠে, ইভিএম কারচুপি হলেও আদৌ কোনও পদক্ষেপ কি নেবে নির্বাচন কমিশন? দেশে ১৮তম লোকসভা নির্বাচন চলছে। ৪ দফা ভোট শেষ, বাকি ৩ দফা। ইভিএম বিশেষজ্ঞ মাধব দেশপান্ডে যেসব গুরুত্বপূর্ণ ফাঁক এবং কারচুপির সম্ভাবনার কথা তুলে আনলেন, তা শুধরে নিতে আদৌ কি কোনও ব্যবস্থা নিয়েছে কমিশন। অন্তত ২০২৪ লোকসভা ভোটে তো তেমন কিছু চোখে পড়ে। ফলে সেই সব ফাঁক এবং কারচুপির সম্ভাবনা নিয়েই বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্রের নির্বাচন চলছে এবং চলবে।

লিখেছেন
Tanvia Barua
Tanvia Barua
7 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।