বইমেলায় অনন্য রায় বললেন, 'আপনাকে একটু একটু নকল করি'

Joy Goswami
৫ মিনিট
বইমেলায় অনন্য রায় বললেন, 'আপনাকে একটু একটু নকল করি'

বইমেলায় প্রথম দেখেছিলাম কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-কে। মেলায় তখন এখনকার মতো ভিড় হত না। এখন যেমন গায়ে গায়ে লোক চলতে থাকে, তখন ছিল না তেমন। খানিকটা দূরে দাঁড়িয়ে আছেন বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। পাজামা আর পাঞ্জাবি পরনে। কাঁধে একটি ঝোলা। কবি-কে ঘিরে আমারই মতো তেইশ-চব্বিশ বছরের কিছু ছেলের দঙ্গল। কোনও কোনও লোক এগিয়ে গিয়ে কিছু বলছে বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়’কে। তিনি তাঁর কাঁধের ঝোলা থেকে একটি শীর্ণকায় নরম মলাটের পুস্তিকা এগিয়ে দিচ্ছেন সেই ব্যক্তিদের দিকে। ক্রেতা দাম দিচ্ছেন, একটু হাসি বিনিময়ের পর সদ্য কেনা পুস্তিকাটির পাতা উল্টে দেখতে দেখতে আবার হাঁটতে শুরু করছেন সেই ব্যক্তি। অর্থাৎ, বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নিজেই বইমেলার মাঠে দাঁড়িয়ে নিজের বই বিক্রি করছেন। সে-কাজে তাঁর কোনও সংকোচ নেই।

আমারও লোভ হল। এগিয়ে গেলাম। বললাম, ‘নতুন কী বই বেরিয়েছে এবার?’ বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর ঝোলার ভেতর হাত ঢুকিয়ে তিনটি ছোট পুস্তিকা দেখালেন আমায়। তিনটিই কিনে নিলাম। নামগুলি এখনও মনে আছে: ‘ন্যাংটো ছেলে আকাশ দেখছে’, ‘নীলকমল লালকমল’, ‘দিবস রজনীর কবিতা’। তারপর প্রণাম করলাম, উনি বললেন, ‘থাক থাক থাক, থাক। কী নাম তোমার?’ বললাম। ‘লেখো?’ উত্তর দিলাম, ‘তেমন কিছু নয়। একটু-একটু চেষ্টা করি।’ চারপাশে আমারই বয়সি যেসব ছেলেরা দাঁড়িয়েছিল, তাদের একজন তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে বলল, '‘দেশ'-এ তোমার কবিতা বেরিয়েছে না?’ মাথা হেলিয়ে দিলাম। ছেলেটি বলল, ‘তাহলে বীরেনদার কাছে এসেছ কেন?’ উনি বললেন, ‘থাক, থাক। কী হয়েছে এসেছে তো? কী ক্ষতি?’ একটু হাসলেন, মানুষটি সুদর্শন নয়, কিন্তু হাসিটি স্নিগ্ধ। আমি মাথা নিচু করে তাঁর সামনে থেকে সরে এলাম।

অবশ্য বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শীর্ণকায় বইগুলি এই প্রথম কিনছি না — কলেজ স্ট্রিটের ‘পাতিরাম’ থেকে তাঁর সব বই-ই বেরনোমাত্রই কিনে নিই। মেলার মাঠে ওঁকে আগেও দেখেছি, আজ কেমন একটা ঝোঁক চাপল সামনে যাওয়ার।

এরপরেও ওঁকে দেখেছি — মেলায়। সেই ছেলেদের জটলাটিও থাকত ওঁকে কেন্দ্র করে। আর কোনওদিন মেলায় ওঁর সামনে যাইনি। আমি সমস্ত মেলাটাই হেঁটে ঘুরতাম। তবে বই কিনতাম কম। কিনতাম লিটল ম্যাগাজিন। বই কেনার জন্য কলেজ স্ট্রিট তো আছেই, সেখানে কুড়ি পার্সেন্ট ছাড় পাওয়া যায় ‘কথা ও কাহিনী’ এবং ‘দে’জ পাবলিশিং’-এ ঢুকলে।

কাকদ্বীপ থেকে বইমেলায় আসতেন ছয়ের দশকের কবি শামসুল হক। এঁকে অনেকে বাংলাদেশের কবি, ঔপন্যাসিক, নাটককার সৈয়দ শামসুল হক ভাবত। শামসুল হক কাকদ্বীপ থেকে সঙ্গে অনেক নতুন লিখিয়ে ছেলেদের নিয়ে আসতেন। মেলার শেষ দিনটিতে আমি তাঁর টেবিলের সামনে যেতাম। শামসুল হক বলতেন, ‘আজ মেলা শেষ— আজ সব বই, সব পত্রিকা আমরা ফিফটি পার্সেন্ট ডিসকাউন্টে দিচ্ছি।’ যা পারতাম, কিনে নিতাম। দুটো ঝোলা ভরে যেত বইমেলা থেকে বেরনোর সময়। লিটল ম্যাগাজিনের টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকলে অনেকের সঙ্গে আলাপ হয়ে যেত। যেমন, অনন্য রায়। বইমেলার শেষ দিনে এসেছেন। হাতে একটা বই। নিজেরই লেখা। নাম: ‘আমিষ রুপকথা’। আমার নাম শুনে বললেন, ‘ও, আপনিই জয়? আমি আপনাকে একটু একটু নকল করার চেষ্টা করি।’

আমি স্তম্ভিত, মিষ্টি হেসে কথাটি বলেছেন অনন্য। কিন্তু, তাঁর কবিতার সঙ্গে তো আমার পরিচয় আছে। এই ‘আমিষ রুপকথা’ বইও আমার পড়া। কই? আমার লেখার সঙ্গে একবিন্দু মিল নেই তো সেই বইয়ের! তাহলে? অনন্য একটি টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘এই বইটি একটু রাখবেন কি?' তখন অনন্য রায় যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেছেন, কবি হিসেবে তিনি প্রথম থেকেই নিজের স্বরে কথা বলেন। টেবিলে যে-ছেলেটি বসেছিল সে দাঁড়িয়ে উঠল। বলল, ‘নিশ্চয়ই, নিশ্চয়ই রাখব। তবে এক কপি মাত্র? এক্ষুনি তো বিক্রি হয়ে যাবে। আরও কপি তো দরকার।’ অনন্য বললেন, ‘বইটি বিক্রির জন্য দিলাম না, ডিসপ্লের জন্য দিলাম, মেলা শেষ হলে আবার ফেরত নিয়ে নেব।’ ঋত্বিক ঘটকের ‘যুক্তি তক্কো আর গপ্পো’ ফিল্মে অনন্য তখন অভিনয় করেছেন এক নকশালপন্থী যুবকের ভূমিকায়। সম্ভবত, অন্যতম সহকারী পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞ সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় এ-বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দিতে পারবেন, যা আমি জানি না। কারণ তিনি অনন্য রায়ের বন্ধু ছিলেন তো বটেই, উপরন্তু ‘ঋত্বিকতন্ত্র’ নামে পরিচালক ঋত্বিক ঘটকের বিষয়ে একটি গ্রন্থও রচনা করেছেন।

একটু পরে সেখানে ছয়ের দশকের কবি মানিক চক্রবর্তী এলেন। অনন্য-র সঙ্গে আলাপ হল। শুনলাম, অনন্য তাঁকে বলছেন, ‘আমার নাম অনন্য রায়। আমি আপনার কবিতা একটু একটু নকল করার চেষ্টা করি।’ বলা বাহুল্য, অনন্য রায়ের ‘আমিষ রুপকথা’ একটি বিচিত্র বৈশিষ্ট‍্যময় দীর্ঘ কবিতার গ্রন্থ। অতুলনীয় সে-কাব্যের সঙ্গে মানিক চক্রবর্তীর ছোট ছোট লেখার কোনও সাদৃশ্যই নেই। মানিক চক্রবর্তী, যাকে বলে অ্যান্টি-পোয়েট্রি, সেই জাতীয় কবিতা রচনার ধারায় নিজের লেখাকে নিয়ে গিয়ে পরিচিতি অর্জন করেছেন। আমি বুঝলাম, অনন্য রায়ের ওই কথাটি সৌজন্য প্রকাশের একটি স্মার্ট নিদর্শন।

মেলা শেষ হল। অনন্য সামনের টেবিল থেকে নিজের বইটি তুলে নিলেন। টেবিলে উপবিষ্ট ছেলেটির কাছে কলম চাইলেন। কলম নিয়ে আমাকে আমূল বিস্মিত করে ‘আমিষ রুপকথা’ বইটি আমাকেই উপহার দিলেন। আমি তখন অনন্যকে কিছুতেই বলে উঠতে পারলাম না, এই বই আমি কিনেছি আগেই।

মেলায় গেলে ভাস্কর চক্রবর্তীর সঙ্গে দেখা হত। দেবদূতের মতো চেহারা। কপালে একটি কাটা দাগ। চশমা পরা হাসিটি এমন, যেন সারা মেলা আলো হয়ে যায়। বললেন, ‘এসেছেন? একটু দাঁড়ান তবে। আমি এক্ষুনি আসছি।’ আমি দেখলাম, ভাস্কর ‘প্রমা’ প্রকাশনীর স্টলে ঢুকে গেলেন। বেরিয়েও এলেন একটু পরে। হাতে লালচে প্রচ্ছদের একটি বোর্ড-বাঁধাই বই। পকেট থেকে কলম তুলে নিয়ে লিখলেন কিছু। তারপর বইটি এগিয়ে দিলেন আমার দিকে। বললেন, ‘এবার মেলায় বেরলো।’ বইটির নাম: ‘রাস্তায় আবার’। ভেতরে অসামান্য হস্তাক্ষরে লেখা: ‘জয় প্রীতিভাজনেষু।’

জয় গোস্বামীর আগের লেখাটি পড়ুন-মৃত্যুর মুখোমুখি কি কবিতা হাতে দাঁড়ানো যায়? জয় গোস্বামী

সে-সময়, এখন থেকে তিরিশ বছর আগে, ভাস্কর চক্রবর্তী ছিলেন এমন একজন কবি, আমি প্রথম থেকেই সতর্ক থেকেছি, যাতে আমার লেখা তাঁর দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে পড়ে। ’৭১ সালে ভাস্করের প্রথম বই — ‘শীতকাল কবে আসবে সুপর্ণা’ প্রকাশের পর থেকেই প্রায় সমস্ত তরুণ কবিতা-লেখকদের মধ্যে ভাস্কর নিজের কবিতার প্রভাব নিয়ে উপস্থিত হতে থাকেন। এতই অপ্রতিরোধ্য ছিল তাঁর লেখা— কিছুতেই আটকানো যেত না তাঁর প্রভাবকে। অত বড় কবি, অথচ দেখো, কেমন সহজে নতুন লিখতে আসা এক মফসসলবাসী নবীন কবিতা-লেখককে নিজেরই বই অনায়াসে উপহার দিলেন! এবং এ-কথাও বললেন, ‘দেখবেন তো, বইটা কিছু হয়েছে কি না।’

আমি এখন বইমেলা যাই না, কারণ যাওয়ার উৎসাহ নির্বাপিত হয়েছে। ভিড়ে দমচাপা লাগে; মানুষ-মানুষ-মানুষ, এত মানুষ নিতে পারি না আর। কিন্তু আশা হয় এ-কথা ভেবে যে, এত জন মানুষ তো আসছেন বইকে ভালবেসেই! আমার বয়স হয়ে গেছে। মেলায় কোথাও কোনও স্টলে যদি বসে থাকতে পারতাম, হয়তো যেতাম। কিন্তু ঘুরে ঘুরে মেলা দেখার শক্তি আর অবশিষ্ট নেই এখন। এই তো, আমার মেয়ে, বুকুন, গত সন্ধ্যায় বইমেলা থেকে প্রচুর বই কিনে বাড়ি ঢুকল। কী আনন্দ যে হল! বুদ্ধদেব বসুর বিষয়ে প্রকাশিত ‘বৈদগ্ধ্য’ পত্রিকার একটি সংখ্যা যেমন আছে সেখানে, আছে সৈয়দ মুজতবা আলী-র কবেকার পড়া ‘দেশে বিদেশে’ বইটি— তেমনই আছে ‘গণিকাসম্বাদ’ নামক গবেষণামূলক প্রবন্ধের বই। বুকুন এনেছে অনুত্তমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চারখানি কাব্যগ্রন্থ। এই কবির কোনও কবিতা আমি আগে পড়িনি। পড়তে গিয়ে দেখলাম, অব্যর্থ কবিত্বের চিহ্ন রয়েছে সেসব লেখায়।

এখন বুকুনরাই বইমেলায় যাবে। আমার জন্য নতুনদের বই কিনে আনবে। নতুন নতুন তরুণ-তরুণীর চলমান প্রাণচাঞ্চল্যে বইমেলা হয়ে উঠবে উৎসব প্রাঙ্গণ, হয়ে উঠবে চিরজীবী।

লিখেছেন
Joy Goswami
Joy Goswami
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।