পথকুকুরের দায়িত্ব নিলেই বাড়তি চাপ! সুপ্রিম মন্তব্যে তীব্র আলোড়ন শহরের পশুপ্রেমীদের মধ্যে

Stray Dogs: শ্রীলেখা মিত্র-র বক্তব্য, "সুপ্রিম কোর্ট যদি এমন কথা বলেন, তাহলে আমাদের মত পথকুকুরকে যারা খাওয়াতে ভালবাসে, তাদের কী হবে?

Aritra Dasgupta
৩ মিনিট
পথকুকুরের দায়িত্ব নিলেই বাড়তি চাপ! সুপ্রিম মন্তব্যে তীব্র আলোড়ন শহরের পশুপ্রেমীদের মধ্যে

পথকুকুরকে খাওয়ানো নিয়ে প্রায়শই হেনস্থার স্বীকার হন বহু পশুপ্রেমী মানুষ। পাড়া-প্রতিবেশীরা প্রায়শই রাস্তায় হঠাৎ কুকুর বেড়ে যাওয়া নিয়ে কথা শোনান এইসব সারমেয়প্রেমী মানুষদের। এই পরিস্থিতিতেই কেরল সরকারের একটি পুরোনো মামলার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করে, যারা পথকুকুরদের নিয়মিত খাবার দেন, সেইসব কুকুরদের টিকাকরণের ব্যবস্থাও সেই ব্যক্তিদেরই করতে হবে। এখানেই শেষ নয়, সুপ্রিম কোর্ট আরও জানিয়েছে, পথকুকুররা যদি কাউকে আক্রমণ করে তবে সেই আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসার দায়িত্ব ও নিতে হবে তাদের। মানুষ ও সারমেয়র সম্পর্ক নিয়ে বিচারপতি সঞ্জীব খান্না ও বিচারপতি জেকে মাহেশ্বরীর বক্তব্য, প্রাণীর অধিকার ও মানুষের নিরাপত্তা দুটোর সামঞ্জস্য বজায় রাখা জরুরি।

সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য

বিচারপতি খান্না পথকুকুরদের প্রসঙ্গে বলেছেন, "আমাদের মধ্যে বেশিরভাগই কুকুর পছন্দ করেন। আমি নিজে ও কুকুরদের খাওয়াতে ভালবাসি। কিন্তু এক্ষেত্রে কিছু বিষয় মনে রাখা জরুরি। কুকুরদের যত্ন করুন, কিন্তু তাদের চোখে চোখে রাখুন যাতে কুকুরের থেকে অন্য মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়।" পথকুকুরের আক্রমণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট এতটাই উদ্বিগ্ন যে, শীর্ষ আদালত এর স্থায়ী সমাধান চায়। দেশে প্রায় প্রত্যেক বছরই বহু মানুষ কুকুরের আক্রমণের স্বীকার হন। এই পরিস্থিতিতেই কেরল ও মুম্বইয়ের কয়েকটি পৌরসভা কুকুর নিধনের আদেশ জারি করেছিল। তারই পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেন কুকুরের মতো বন্ধুত্বপূর্ণ নয় বেড়াল? কতটা রহস্যময় এই প্রাণী

বেড়াল কেন কুকুরের মতো বন্ধুত্বপূর্ণ নয়? এবং কিছু বেড়াল কেন বেশি বন্ধুত্বপূর্ণ, আবার কেউ কেউ কেন আপন খেয়ালে থাকে; কেনই বা মানুষের ডাক বা আদরকে উপেক্ষা করে?

কুকুরের কামড় বিষয়ক

পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৯ সাল থেকে এখন ও পর্যন্ত ১.৫ কোটি মানুষ কুকুরের কামড়ের স্বীকার হয়েছেন। এই পরিসংখ্যানে সবথেকে বেশি এগিয়ে আছে উত্তরপ্রদেশ। সেখানে কুকুরের দ্বারা আক্রান্ত হওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় ২৭ লাখ। তারপরেই আছে তামিলনাড়ু। আহত হওয়া মানুষের সংখ্যা ২০ লাখ ৭০ হাজার। তৃতীয় স্থানে আছে মহারাষ্ট্র এবং চতুর্থ স্থানে আছে পশ্চিমবঙ্গ। পশ্চিমবঙ্গে কুকুরের দ্বারা আক্রান্ত হওয়া মানুষের সংখ্যা ১২ লাখ। অন্যদিকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাক্ষাদ্বীপে একটি ও কুকুরের আক্রমণের ঘটনা ঘটেনি।

২০২২ সালে এখনও অবধি সারা দেশে ১৪.৫ লক্ষ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন কুকুরের দ্বারা। পরিসংখ্যান বলছে, কুকুরের আক্রমণের তালিকায় এগিয়ে আছে তামিলনাড়ু। তারপরেই আছে মহারাষ্ট্র। ২০২০ এবং ২০২১ সালে কুকুরের কামড়ের পরিসংখ্যান কিছুটা কমেছিল। পরিসংখ্যান ভালো করে লক্ষ্য করলেই বোঝা যাবে, এই কুকুরের আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে পথকুকুরদের দ্বারাই। ভারতে এমনিই প্রত্যেক বছরে র‍্যাবিসে মৃত্যুর সংখ্যা ১০০-র বেশি।

পথকুকুরদের জন্য সবসময় ভাবেন শ্রীলেখা মিত্র

সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পরেই যেসব কুকুরপ্রেমী এতদিন ধরে পথকুকুরদের যত্ন নিয়েছেন প্রতিবেশীদের আপত্তি ও ব্যঙ্গ সহ্য করে, তাঁদের শিয়রে সংক্রান্তি। এই প্রসঙ্গে টলিউড অভিনেত্রী ও সারমেয়প্রেমী শ্রীলেখা মিত্র-র বক্তব্য, "সুপ্রিম কোর্ট যদি এমন কথা বলেন, তাহলে আমাদের মত পথকুকুরকে যারা খাওয়াতে ভালবাসে, তাদের কী হবে? এখন তো প্রতিবেশীরাও এই বিষয়টির সুযোগ নেবে।" অতীতেও সারমেয়দের নিরাপত্তা নিয়ে সরব হয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর দাবি ছিল, যেভাবে শহর কলকাতায় ইতিউতি জমি ভরাট করে বাড়ি, আবাসন তৈরি হচ্ছে, সেখানে পথকুকুররা যাবে কোথায়? ব্যক্তিগত পোষা কুকুর ছাড়াও বহু পথকুকুরকে খাওয়ান অভিনেত্রী। সেই জন্যই বহুবার হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। দক্ষিণ কলকাতার যে আবাসনে শ্রীলেখা মিত্র থাকেন, সেখানেই তাঁর কুকুর-প্রীতি দেখে আবাসনের বহু লোক তাঁর পোষা পথকুকুরকে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেন। সেই কারণেই তখন অভিনেত্রী দাবি করেছিলেন, আবাসনগুলিকে 'সারমেয়-বান্ধব' বলে ঘোষণা করা উচিত।

কিন্তু যেভাবে ক্রমশ ভারতে কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা বাড়ছে, সেখানে দাঁড়িয়ে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দাখিল হয়, যাতে শীর্ষ আদালত কিছু ক্ষেত্রে কুকুর নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কুকুর হত্যা করার অনুমতি দেয়। সেই প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে বহু সারমেয়প্রেমীর কপালে। সুপ্রিম কোর্টের এই বক্তব্যের পর পথকুকুরদের সেবা ও যত্ন করার বিষয়টি তাঁদের কাছে আরও কঠিন হয়ে উঠল বলেই মনে করছে পশুপ্রেমীদের একাংশ।

লিখেছেন
Aritra Dasgupta
Aritra Dasgupta
1 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

তেলের বদলে বিদ্যুৎ! আরব সাগরের তলায় ভারত-সৌদির ৯ বিলিয়ন ডলারের মহাপ্রকল্প

India Saudi Arabia submarine power link: আরব সাগরের তলদেশ দিয়ে ভারত ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রস্তাবিত ২১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সাবমেরিন বিদ্যুৎ সংযোগের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হচ্ছে, যার ক্ষমতা থাকবে ৩ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের। প্রযুক্তি হিসাবে ব্যবহৃত হবে HVDC, এর ফলে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ বিলিয়ন ডলার। আজ, ৫ অক্টোবর, দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা হবে প্রকল্পটির ব্যয় কমানো, অর্থায়ন মডেল ও ঝুঁকি ভাগাভাগি নিয়ে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ভারতের ওয়ান সান ওয়ান ওয়ার্ল্ড ওয়ান গ্রিড প্রকল্প ও জি-২০ তে প্রস্তাবিত ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এই প্রকল্পটিকে চিনের বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভের বিকল্প হিসেবে দেখা যেতে পারে।

কয়লার দেশ হয়েও কেন বিদ্যুৎ সংকটে ভারত?

India's energy crisis 2026: হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায়, ভারতের ৮০ শতাংশের বেশি জ্বালানি আমদানি ধাক্কা খেয়েছে। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর এক সময় জ্বালানিক্ষেত্রে ‘ঘাটতি নেই’ বললেও সেপ্টেম্বরে স্বীকার করলেন, জ্বালানির পরিস্থিতি বর্তমানে ‘টানটান’। ৭৬টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংকটজনক ভাবে মজুত করা কয়লায় চলছে। চলছে এলপিজির কালোবাজারি। ডিসকমগুলির বকেয়া জমে রয়েছে প্রায়, ৩,৩৩০ কোটি টাকা।

প্রকৃতির কোলে পিকনিক, শেষে প্লাস্টিকের পাহাড়: মানুষ কি সত্যিই প্রকৃতিকে ভালোবাসে?

Environmental Pollution: প্রশাসনের তরফে অতিরিক্ত দূষণ ছড়ানো কলকারখানা সিল করে দেওয়ার মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপ হয়তো নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এতেই কি সমস্যার সমাধান মিলবে? কারণ জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যক্তিগত যানবাহনের দাপট এবং বৈদ্যুতিন বর্জ্য। শ্রমবিমুখ হয়ে সবকিছু প্রস্তুত পাওয়ার মানসিকতা এবং দেশে সংস্কারের লড়াই না করে সহজে অন্য দেশে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতাও স্পষ্ট। এই দায় এড়িয়ে কি সার্বিক সমাধান সম্ভব?

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।

নেপাল বিপর্যয়ের ক্ষতিপূরণ দেবে কে?

Climate Justice for nepal: ২৬ অগাস্ট লাংটাং লিরুং-এর হিমবাহ ধসে নেপালের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়—নিহত ১,৩৪৪, নিখোঁজ ৪,৮৮৭। পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৪-৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডে আছে মাত্র ৮২২ মিলিয়ন ডলার।নেপালের দাবি, চিন-ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক দায় আছে। জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক কাঠগড়ায়।

নেপালের হড়পা বান থেকে বেঁচে ফিরলেন যাঁরা, তাঁদের চোখে ২৬ অগাস্ট

Nepal flash floods 2026: ২৬ অগাস্ট, ২০২৬-এ নেপালের হড়পা বানে ধ্বংসস্তূপের মাঝেও কিছু মানুষ বেঁচে ফিরেছেন। কেউ এক কাপ চায়ের বিরতির জন্য, কেউ গাড়ির একটা রিভার্স গিয়ারের কারণে, কেউ ডালপালা ছড়ানো একটা আমগাছ আঁকড়ে ধরে, আবার কেউ কেবল ১৫ সেকেন্ডের দৌড়ে ছিনিয়ে এনেছেন নিজের শ্বাস। মৃত্যু খুব কাছ থেকে অনুভব করে ফেরা সেই মানুষগুলির অভিজ্ঞতায় রইল রাসুয়া আর নুয়াকোটের সেই সকালের কথা।