ভিডিওতে ভাইরাল! অস্ত্র হাতে সত্যিই বাংলাদেশে জঙ্গি উত্থান? জানুন আসল সত্য

Bangladesh Video Fact Check: সোশ্যাল মিডিয়াতে ইতিমধ্যেই ভিডিওটি পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে যে, যশোরে জঙ্গিদের উত্থান হয়েছে। সেখানে জিহাদের ডাক দেওয়া হয়েছে।

inscript
৩ মিনিট
ভিডিওতে ভাইরাল! অস্ত্র হাতে সত্যিই বাংলাদেশে জঙ্গি উত্থান? জানুন আসল সত্য

সম্প্রতি বাংলাদেশের বিতাড়িত লেখিকা তসলিমা নাসরিন একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ফেসবুকে। বাংলাদেশের সংখ্যালঘু অত্যাচারের ঘটনা, বাংলাদেশে আবারও ইসলাম মৌলবাদের মাথাচাড়া দেওয়ার যে যে ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসছে, ভিডিওটি তেমনই খানিক। বাংলাদেশ ইস্যুতে ভুয়ো খবরে ভরে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া, হোয়াটসঅ্যাপ। ভারতীয় মূলধারার গণমাধ্যমজুড়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে 'উস্কানিমূলক' খণ্ড সত্য, বিকৃত তথ্য পরিবেশনের অভিযোগ উঠছে। এরই মাঝে তসলিমার এই পোস্ট। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ খোদ এই পোস্টটি 'ফ্যাক্ট-চেক' করে ভুয়ো বলে প্রমাণ করেছে। ভিডিওটি যশোর জামিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার। কী বলা হয়েছে তাতে, কেনই বা ভুয়ো প্রমাণিত হলো সেটি?

যশোর জামিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, মুখ ঢাকা একজন আরবি ভাষায় বক্তব্য দিচ্ছেন। এই বক্তার পাশে দু'জন কালো কাপড়ে মুখ ঢেকে আছেন। তারা সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষীদের মতো দাঁড়িয়ে আছেন। মঞ্চের আশপাশে বেশ কয়েকজন বসে আছেন, যারা এই বক্তব্য শুনছেন।

যশোর জামিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও শিক্ষা সচিব জানিয়েছেন, ভিডিওটি আসলে একটি প্রতিযোগিতার! মাদ্রাসার বার্ষিক আঞ্জুমানের (প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান) সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পড়ুয়ারা প্যালেস্তাইনের মুক্তিকামী মানুষের লড়াইয়ের বিষয়টিই অভিনয় করিয়ে দেখিয়েছে।

সেদেশের সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউন জানিয়েছে, যশোর শহরতলির রাজারহাট বিহারি কলোনি এলাকায় ২০১২ সালে এই যশোর জামিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এই মাদ্রাসায় প্রায় ৫০০ পড়ুয়া পড়াশোনা করেন। এখান থেকে মূলত হাফেজ, মাওলানা ও মুফতি ডিগ্রি দেওয়া হয়।

বাংলা ট্রিবিউন অনুযায়ী, মাদ্রাসার শিক্ষা সচিব মাকফুর রহমান বলছেন, "এই মাদ্রাসায় প্রতি বছর পড়ুয়াদের নিয়ে বার্ষিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সেখানে যারা উপস্থিত বক্তৃতা, হামদ-নাত, গজল ও অভিনয়ে ভালো করে তাদের পুরস্কৃত করা হয়। গত ১৭ ডিসেম্বর এই মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ছাত্ররা ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী মানুষের পক্ষে অভিনয় করে দেখান।" তাহলে হাতে যে অস্ত্র দেখা গেছে ভিডিওতে? যা নিয়ে এত শোরগোল? মাকফুর রহমান জানিয়েছেন, অস্ত্রগুলি কাঠ ও শোলা দিয়ে তৈরি। পুরো বিষয়টিই আসলে অভিনয়।

সূত্র- বুম বাংলাদেশ

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি লুৎফুর রহমান ফারুকী জানিয়েছেন, গত ১৬ ডিসেম্বর মাদ্রাসা প্রাঙ্গণেই আজীবন সদস্যদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই মঞ্চেই বার্ষিক আঞ্জুমানের আয়োজনও করা হয়। সেখানেই এই অভিনয়টি মঞ্চস্থ হয়। বিষয়টি কোনও খারাপ উদ্দেশে নিয়ে করা হয়নি বলেই তাঁর দাবি।

তবে ইসলামিক চিন্তাবিদদের কেউ কেউ বলছেন, অনুষ্ঠানের ওই ভিডিওতে কোরআনের দু'টি আয়াত বলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি কতল আরেকটি জিহাদ সংক্রান্ত। অনেকেই বলছেন, সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষীদের মতো দাঁড়িয়ে এভাবে মাদ্রাসার অনুষ্ঠান করা ঠিক হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে মাদ্রাসা এবং আলেমদের সম্পর্কে তাতে নেতিবাচক ধারণাই আরও ছড়িয়ে পড়বে বলে মত তাঁদের।

সোশ্যাল মিডিয়াতে ইতিমধ্যেই ভিডিওটি পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে যে, যশোরে জঙ্গিদের উত্থান হয়েছে। সেখানে জিহাদের ডাক দেওয়া হয়েছে। সারা বাংলাদেশজুড়ে জঙ্গিদের উত্থান নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপক গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয়। বাংলাদেশের একটি স্বাধীন ফ্যাক্টচেকার সংস্থা বুম বাংলাদেশও যাচাই করে দেখেছে, এই দাবি মোটেও সত্য নয়। ভিডিওটি প্রথম গত ১৭ ডিসেম্বর দুপুর ১২:৫৪ মিনিটে পোস্ট করা হয়েছিল যাতে বিষয়টি স্পষ্ট ছিল। পোস্টটিতে উল্লেখ করা ছিল, “যশোর জামিয়া ইসলামিয়া। বার্ষিক প্রতিযোগিতা ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান-২০২৪। আরবি বক্তৃতা। সবাইকে দেখার অনুরোধ রইলো।” যাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে এটি পোস্ট হয়, তিনি যশোর জামিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের একজন শিক্ষক।

বুম বাংলাদেশ ওই ভিডিওতে যাদের দেখা গেছে সেই প্রতিযোগীদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিল। কালো পোশাক পরিহিত তিনজনের একজন শোয়াইব আহমেদ জানিয়েছেন, প্রতিযোগিতায় আরবি বক্তব্য বিভাগে অংশ নিয়েছিলেন তারা। প্যালেস্তাইনে ইজরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে তাঁরা তিনজন এই ব্যতিক্রমী সাজে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। অস্ত্রগুলিও কাঠ ও শোলা দিয়ে নিজেরাই তৈরি করেছেন।

তসলিমা নাসরিনের ফেসবুক এই ভিডিওটি পোস্ট হওয়ার পর তা 'ফেক' বলে 'রিপোর্ট' হয়। এরপর আরেকটি পোস্ট লেখেন তসলিমা। তিনি লিখেছেন, "খবর হলো, যশোরের রামনগরের এক মাদ্রাসায় যেমন খুশি তেমন সাজো অনুষ্ঠানে তিন ইসলামি সন্ত্রাসীর ভূমিকায় অভিনয় করেছে তিন মাদ্রাসার ছাত্র। যেহেতু বন্দুকে লেখা ছিল না খেলনা বন্দুক, যেহেতু সন্ত্রাসীদের পোশাকে লেখা ছিল না অভিনয়ের পোশাক, তাই অনেকেই বুঝতে পারেনি যে অভিনয় চলছে। আমিও বুঝতে পারিনি। নাটিকাটিতে কোরানের যে সুরা উচ্চস্বরে পড়া হয়েছে, সে সুরা জিহাদের পক্ষের সুরা। ছাত্ররা নাকি হামাসের ভূমিকায় অভিনয় করেছে। প্রশ্ন হলো, এরা কি জিহাদের বা সন্ত্রাসের পক্ষে মেসেজ দিচ্ছে, নাকি বিপক্ষে? ধামাচাপাবাজেরা বলবেন, সন্ত্রাসের বিপক্ষে। সন্ত্রাসের বিপক্ষে কি না, তা ফ্যাক্টচেক করায় পারদর্শিরা একবার চেক করুন তো! মাদ্রাসার শত শত ছাত্র কী শিখলো, জিহাদে যেতে হবে, নাকি জিহাদকে বর্জন করতে হবে, ফ্যাক্টচেক করে জানান। দ্রুত।"

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।