ওষুধের জোগান নেই, নামছে হাসপাতালে ঝাঁপ! জর্ডনের ফিল্ড হাসপাতাল বাঁচাবে গাজাকে?

Israel-Hamas War: লাগাতার বোমা, রকেট হামলা। তার উপর গাজাকে হাতে এবং ভাতে মারার সমস্ত ব্যবস্থাই করে রেখেছে ইজরায়েল। খাবার-জল থেকে শুরু করে জ্বালানি, সব কিছুরই তীব্র সঙ্কট এখন গাজায়।

Sohini Das
৩ মিনিট
ওষুধের জোগান নেই, নামছে হাসপাতালে ঝাঁপ! জর্ডনের ফিল্ড হাসপাতাল বাঁচাবে গাজাকে?

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে সবচেয়ে জরুরি যে জিনিসটা, সেটাই এখন অমিল গাজায়। না, চিকিৎসার কোনও সুযোগ অবশিষ্ট নেই গোটা গাজা উপত্যকায়। কারণ বেছে বেছে গাজার সরকটি হাসপাতালকেই একের পর এক নিশানা করে চলেছে ইজরায়েল। এই ইতিমধ্যেই ১৩ হাজার পেরিয়ে গিয়েছে যুদ্ধের বলি। কম করে হলেও অন্তত তিরিশ হাজার মানুষ জখম গাজায়। তাদের ন্যূনতম প্রাথমিক চিকিৎসাটুকুও মিলছে না বিপর্যস্ত গাজায়। সেখানের পরিস্থিতি এমনই যে আর্ত, জখমদের যে নিয়ে আশপাশের রাজ্যগুলিতে চিকিৎসা করাতে নিয়ে যাওয়া হবে, সেই সুযোগটুকুও নেই। এই পরিস্থিতিতে এগিয়ে এল জর্ডন। গাজায় তারা পাঠাল অস্থায়ী ভ্রাম্যমান হাসপাতালের সমস্ত উপকরণ এবং স্বাস্থ্যকর্মীও।

সোমবারই জর্ডনের পাঠানো ওই অস্থায়ী মেডিক্যাল হাসপাতালের কর্মীরা গাজায় পৌঁছে গিয়েছেন। জানা গিয়েছে, গাজার খান ইউনিসে ওই অস্থায়ী হাসপাতালটি তৈরি করা হবে আপাতত। সেখান থেকেই আহত ও অসুস্থ গাজাবাসীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনে যাতে জর্ডনে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া যায়, থাকবে সেই ব্যবস্থাও। গাজার দক্ষিণ দিকের পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। প্রতিমুহূর্তে হামলার মাত্রা বাড়াচ্ছে ইজরায়েলি সেনা। হাসপাতালগুলি যেন যুদ্ধে জখম মানুষে ভর্তি। স্রোতের পর স্রোত এসে ঢুকছে প্রতিদিন হাসপাতালগুলিতে। যা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলি। তার উপরে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। একের পর এক হামলায় বহু স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। কর্মশক্তি হারিয়েছেন বহু। ফলে ক্রমশ কমছে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার মানুষও।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
যুদ্ধ কেড়েছে ঘর, সন্তানদের দূরে পাঠিয়ে গাজায় জেগে একা সাংবাদিক

Gaza-Israel Conflict: খাওলা আল-খলিদি, গাজার আরও অনেক সাংবাদিকের মতোই ঠাঁই নিয়েছে আল আকসা শহীদ হাসপাতালে। আপাতত ওই হাসপাতালই হয়ে উঠেছে তাঁদের অস্থায়ী ব্যুরো।

সেই গত ৭ অক্টোবর শুরু হয়েছিল যুদ্ধটা। তার পর লাগাতার ৪৫ দিন ধরে যুদ্ধ চলছেই। কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গোটা গাজা উপত্যকা। মৃত্যুমিছিল ছাড়িয়ে গিয়েছে ১৩ হাজার। গত কয়েকদিনে লাগাতার গাজার হাসপাতালগুলিকে নিশানা করেছে ইজরায়েলি সেনা। আর্তদের চিকিৎসার সমস্ত সুবিধা একে একে শেষ করে দিয়েছে তারা। একের পর এক গাজার হাসপাতালগুলিকেই বেছে বেছে নিশানা করা হয়েছে। তার ফল যা হওয়ার তাই হয়েছে। ভেঙে পড়েছে গাজার সমগ্র চিকিৎসা ব্যবস্থাই। এদিকে যুদ্ধের তোড়ে আহত বিধ্বস্তদের যে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে অন্য কোথাও চিকিৎসার জন্য, সেই সুযোগটাও মেলেনি। মুখে বললেও তেমন ভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়নি কোনও প্রতিবেশী রাষ্ট্রই। গাজার শরণার্থীদের আশ্রয় দিতে পর্যন্ত এগিয়ে আসেনি কেউ-ই। অবশেষে এতদিন পর গাজায় অস্থায়ী ভ্রাম্যমান হাসপাতাল তৈরির সিদ্ধান্ত নিল জর্ডন। যুদ্ধ শুরুর প্রায় ৪৫ দিন পর।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ওষুধ নেই, কেমোথেরাপি নেই! যেভাবে ধীরে ধীরে মৃত্যুর পথে এগোচ্ছেন গাজার ক্যান্সার আক্রান্তরা

Gaza Cancer Patients : লিউকেমিয়া রোগী সালেম খরেইস জানাচ্ছেন, কোন ওষুধ নেই, চিকিত্সা নেই। যন্ত্রণা কতটা ভয়াবহ তা বলে বোঝাতে পারার অবস্থাতেও নেই তিনি।

লাগাতার বোমা, রকেট হামলা। তার উপর গাজাকে হাতে এবং ভাতে মারার সমস্ত ব্যবস্থাই করে রেখেছে ইজরায়েল। খাবার-জল থেকে শুরু করে জ্বালানি, সব কিছুরই তীব্র সঙ্কট এখন গাজায়। তার উপর চিকিৎসা সামগ্রীরও সরবরাহ বন্ধ। বাধ্য হয়েই গাজার একের পর এক হাসপাতাল বন্ধ করে নিচ্ছে ঝাঁপ। কারণ চিকিৎসা করার মতো কোনও কিছুর জোগানই আর নেই সেসব হাসপাতালগুলিতে। এই পরিস্থিতিতে কি উদ্ধারকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে জর্ডনের পাঠানো এই অস্থায়ী ভ্রাম্যমান স্বাস্থ্য পরিষেবা।

গাজার চিকিৎসা পরিষেবা সংক্রান্ত বিভাগের প্রধান এড ইয়াঘি অন্তত তেমনটাই মনে করছেন। তিনি জানান, ক্রমশ গাজায় স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার মতো মানুষ কমছে। নেই প্রয়োজনীয় হাসপাতালও। এই পরিস্থিতিতে ১৭০ জন স্বাস্থ্যকর্মী পাঠিয়েছে জর্ডন, যারা ওই ভ্রাম্যমান অস্থায়ী হাসপাতালগুলি পরিচালনা করবেন। তার সঙ্গে পাঠানো হয়েছে ৪০টি ট্রাক বোঝাই মেডিকেল সামগ্রীও। তবে মিশরের সঙ্গে রাফাহ ক্রসিং দিয়ে আসা ওই সাহায্যের হাতকে আদৌ ইজরায়েল গাজাভূখণ্ডের কাছে পৌঁছতে দেবে কিনা, তার উত্তর নেই কারওর কাছে। কারণ যে ভাবে একের পর এক গাজার হাসপাতালকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইজরায়েল, তাতে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে এই ফিল্ড হাসপাতালের ভবিষ্য়ৎ নিয়েও। ইতিমধ্যেই কুয়েত থেকে ৬টি অ্যাম্বুল্যান্স প্রবেশ করেছে গাজায়। আশা করা যাচ্ছে, সে ভাবেই জর্ডনের পাঠানো এই স্বাস্থ্য পরিষেবাকে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি মানুবিক ভাবেই বিবেচনা করবে নেতানিয়াহুর দেশ। অন্তত তাতে মৃত্যু সংখ্যাটা আরও তিরিশ-চল্লিশ হাজারে পৌঁছনোটা কিছুটা হলেও ঠেকানো যাবে।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

মানুষ টাকা পেয়ে গেলে ভুলে যাবে, অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভ সম্পর্কে বললেন বিজেপি বিধায়ক সজল

Sajal Ghosh interview: ‘ভয় ছাড়া ভক্তি আসে না’— আইন-শৃঙ্খলা, দুর্গাপূজা বিতর্ক এবং তৃণমূলের দলবদল নিয়ে নিজের মতামত জানালেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ।

ভারতের রাজনীতি কতটা বদলে দিয়েছেন মোদী?

25 years of Narendra Modi: ২৫ বছরে মোদী কতটা বদলে দিয়েছেন ভারতের রাজনীতি? উন্নয়ন, নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক প্রচারের ধরন থেকে শুরু করে গণতন্ত্র, ধর্মীয় মেরুকরণ এবং জাতীয় পরিচয়ের ধারণা—কীভাবে বদলেছে দেশের রাজনৈতিক চালচিত্র?

ব্রাজিল থেকে আমেরিকা যে কারণে দক্ষিণপন্থীদের শাস্তি দিচ্ছে শান্তিকামী মানুষ

The Alt - right Tide Turns: বিশ্বজুড়ে দক্ষিণপন্থী জনতুষ্টিবাদের ভিত্তি কেঁপে উঠেছে। হাঙ্গেরিতে ১৬ বছরের অরবান-শাসনের অবসান, সার্বিয়ায় ছাত্র আন্দোলনের নির্বাচনী বিজয়, ব্রাজিলে প্রথম রাউন্ডে পিছিয়ে থেকেও লুলার জয়, আমেরিকায় মিডটার্মে ডেমোক্র্যাটদের সংসদের দুই কক্ষ দখল, সব মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে অতি-দক্ষিণপন্থী জোয়ারে ভাটার সুর। তবে ফ্রান্স, পোল্যান্ড, ইতালিতে দক্ষিণপন্থা এখনও টিকে আছে। সেগুলির বিরুদ্ধেও চলছে জেনজিদের, শ্রমজীবী অভিবাসী মানুষদের বিক্ষোভ।

ডানাছাঁটা ট্রাম্প-নেতানিয়াহু, বিশ্ব রাজনীতি কোন দিকে যাবে?

Trump midterm defeat: আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির পরাজয় এবং ইজরায়েলের নির্বাচনে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো—দুটি ঘটনাই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই পরাজয়ের পর ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কী হবে? আমেরিকা-ইজরায়েল সম্পর্কের সমীকরণ কি বদলাবে? আর বিশ্ব রাজনীতিতে তার প্রভাবই বা কতটা পড়বে?

ট্রাম্পের হারের ৫ কারণ: কেন মুখ ফিরিয়ে নিলেন মার্কিন ভোটাররা?

US Midterm Elections: আমেরিকার মিডটার্ম নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেল ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি।জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি থেকে শুরু করে ট্রাম্পের নীতি—রিপাবলিকানদের ভরাডুবির পাঁচটি মূল কারণ কী কী?

পিস বন্ড কী, কেন দিতে হয়? নেহা বোরার আপত্তিতে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ঔপনিবেশিক আমলের আইন

Peace Bond: শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করলেই কি দিতে হবে পিস বন্ড? AISA-র জাতীয় সভাপতি নেহা বোরার আপত্তিতে নতুন করে বিতর্কে ঔপনিবেশিক আমলের প্রতিরোধমূলক আইন। ব্রিটিশ আমল থেকে স্বাধীন ভারত, CrPC থেকে BNSS—কীভাবে বদলেছে এই আইনি ব্যবস্থা? কেন কাউকে ১০ হাজার টাকার মুচলেকা দিতে বলা হয়? কী বলছে আইন?

রামলীলা ময়দানের সভায় ভিড় দেখাতে এআই ছবি? কতটা সত্যি?

Ramlila Maidan AI image controversy: দিল্লির রামলীলা ময়দানে ১ নভেম্বরের ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সমাবেশে ভিড় ও এআই ছবি ব্যবহার নিয়ে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে বিতর্ক তুঙ্গে। ভাইরাল ছবিগুলোর সত্যতা কী?

আবের কাওয়াস: প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান মুসলিম মহিলা নিউ ইয়র্কের সিনেটে

Aber Kawas: নিউ ইয়র্কের ১২ নম্বর সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়লেন আবের কাওয়াস। নিউ ইয়র্ক স্টেট আইনসভায় তিনি প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরিহিত মুসলিম মহিলা প্রতিনিধি।