রাজ্য সরকারের 'অপরাজিতা' বিলে কেন আপত্তি বিক্ষোভরত চিকিৎসকদের?

R G Kar Hospital Incident: গত মঙ্গলবার বিধানসভায় সর্বসম্মত ভাবে পাশ হয়েছে সেই অপরাজিতা বিল। যদিও সেই বিল পাশকে মোটেই ভালো চোখে দেখছেন না আরজি কর কাণ্ডের আন্দোলনরত চিকিৎসকেরা।

inscript
২ মিনিট
রাজ্য সরকারের 'অপরাজিতা' বিলে কেন আপত্তি বিক্ষোভরত চিকিৎসকদের?

আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে উত্তাল রাজ্য। ঘটনার প্রায় এক মাস পরেও বিক্ষোভের ঢেউকে প্রশমিত করা যায়নি। আরজি কর কাণ্ডকে ঘিরে ঘরে-বাইরে প্রবল চাপের মুখে পড়েছে রাজ্য সরকার। এই পরিস্থিতিতে আরজি কর কাণ্ডের পর রাতারাতি ধর্ষণ বিরোধী আইনে কড়াকড়ি আনতে নয়া বিল এনেছে রাজ্য। গত মঙ্গলবার বিধানসভায় সর্বসম্মত ভাবে পাশ হয়েছে সেই অপরাজিতা বিল। যদিও সেই বিল পাশকে মোটেই ভালো চোখে দেখছেন না আরজি কর কাণ্ডের আন্দোলনরত চিকিৎসকেরা। বরং একে 'জনপ্রিয়তা অর্জনের ধাপ্পাবাজি' বলেই মনে করছেন বিক্ষোভরতরা।

মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ‘দ্য অপরাজিতা উইমেন অ্যান্ড চাইল্ড (ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্রিমিনাল ল অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৪’ পাশ হয়েছে। তা যাতে দ্রুত আইনে পরিণত হয়, সে কথা মাথায় রেখেই বিলটি দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছে রাজ্য সরকার। খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় দোষীর দ্রুত বিচার এবং কঠোর সাজার ব্যবস্থা ওই বিলে রয়েছে বলে রাজ্যের দাবি। তবে সেই নয়া বিলে মোটেই খুশি নয় আরজি করের আন্দোলনকারী চিকিৎসকেরা। বুধবার একটি সাংবাদিক বৈঠকে আন্দোলনকারী জুনিয়র চিকিৎসকেরা স্পষ্ট ভাষায় জানান, তাঁরা খুশি নন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
'গো ব্যাক' স্লোগানের মুখে চাকরিপ্রার্থীদের সেই 'মসিহা'! কেন অভিজিতের এই পরিণতি?

Doctor's Protest on RG Kar: এরই মধ্যে চিকিৎসকদের মিছিলে পৌঁছেছিলেন বিজেপি সাংসদ তথা প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্য়ায়। তবে কার্যত মিছিলে গিয়ে গো-ব্যাক স্লোগান শুনেই ফিরতে হল অভিজিৎকে।

৫ তারিখ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার, সুপ্রিম কোর্টে আরজি কর মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে বৃহস্পতিবারের সেই শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়। বুধবার সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানানো হয়েছিল, প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চ বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বসবে না। ওই বেঞ্চের বাকি দুই সদস্য বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্র আলাদা করে ১০ নম্বর কোর্টের কিছু মামলা শুনবেন। কিন্তু কোন কোন মামলা তাঁরা শুনবেন, তা তখনও স্পষ্ট ছিল না। ফলে আরজি করের শুনানি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। এর পরে সুপ্রিম কোর্ট থেকে দ্বিতীয় বিজ্ঞপ্তি জারি করে ১০ নম্বর কোর্টের মামলার নতুন তালিকা প্রকাশ করা হয়।

শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার ব্যাপারটি ঘিরে ক্ষোভ ছড়িয়েছে গোটা বাংলা জুড়ে। আন্দোলনরত চিকিৎসকদের তরফে জানানো হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের এই মামলা পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়টি তারা ভালো ভাবে নিচ্ছেন না। এ বিষয়ে তাঁদের অবস্থান বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের শুনানির আগের দিন গোটা কলকাতা বিক্ষোভ কর্মসূচীতে নেমেছিল। আরজি কর কাণ্ডের সুবিচার চেয়ে বিভিন্ন জায়গায় চলে মানববন্ধন, রাত দখল কর্মসূচী। গত রবিবার থেকেই লালবাজারের সামনে আন্দোলন করছেন জুনিয়র ডাক্তারেরা। পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের ইস্তফার দাবিতে সরব তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের শুনানির দিকেই তাকিয়ে ছিল গোটা বাংলা। তবে সেই শুনানি ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।