ছোট্ট চালে নেহরুকে একঘরে করেছিলেন, মোদিদের আসল পূর্বসূরি তিনিই

বিজেপির এযাবৎ নেহেরু-ইস্যুর প্রথম বাহক এই লোহিয়াই। যা যুক্তি-বিতর্কে আলোচিত হলেও প্রকাশ্য সত্যই বটে!

Ramen Das
৫ মিনিট
ছোট্ট চালে নেহরুকে একঘরে করেছিলেন, মোদিদের আসল পূর্বসূরি তিনিই

গণতন্ত্রে বিরোধিতা শুভ! শাসকের ভুল ধরিয়ে সমালোচনা, ভিত্তি শক্ত করে মানুষের উন্নয়নের। এই ভারতে, ইংরেজ শাসনাধীন ভারতের তুলনায় ঠিক কতটা শাসক-বিরোধিতা সম্ভব, কতটা সংবাদমাধ্যমের দ্বারা ভুল ধরিয়ে দেওয়া সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে নিরন্তর। উমর খালিদ থেকে শিলাদিত্য, অম্বিকেশ; চিকিৎসক কাফিল থেকে কামদুনির টুম্পা-মৌসুমী। শাসক-সমালোচনা, সরকার-বিরোধিতার পথের ৭৫ বছর আজ অতিক্রান্ত। কিন্তু এই সময় এবং আজ থেকে প্রায় ৭০ বছর আগের ভারত কি এক ছিল? সমালোচনা, শাসক-বিরোধিতার আবহে ব্রিটিশ-পরবর্তী নেহরু-যুগে সম্ভব ছিল বিরোধিতা? উত্তর যদি না হয়, তবুও, আবার এর উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, সেই ক্ষেত্রেও যাঁর নাম প্রথমত সামনে আসবে, তিনি হলেন রামমনোহর লোহিয়া।

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর কংগ্রেস-অন্দরে বিরোধিতার পরে, স্বাধীনোত্তর ভারতে শাসক সমালোচনায় অগ্রগণ্য ছিলেন স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম এই মুখ। কেটে গিয়েছে সময়। পরিবর্তিত হয়েছে ধারণা। ইতিহাস লেখা হয়েছে নতুনভাবে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে, ইতিহাসের চিরাচরিত দাবি মেনে তিনি রয়েছেন একইভাবে। রয়েছেন বর্তমানের অনুষঙ্গেই! এখনও মুখে মুখে অতি-প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছেন তিনি। কেন?

তাঁর প্রাসঙ্গিকতার আবহে জড়িয়ে আছে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর নাম। আজও যাঁর নাম উচ্চারিত হয় বর্তমান শাসকের ভাষণে। যাঁর নীতি, সরকারের 'কালো দিক' আলোচিত হয় বর্তমান শাসকের গোলটেবিল বৈঠকে। প্রকাশ্যে সমালোচিত হন তিনি। নেহরু-অস্বস্তি ঠেকাতে আজও ব্যাটন ধরতে হয় ক্রমশ রাজনৈতিক মোক্ষের পথে অগ্রসর হওয়া কংগ্রেসকে। কিন্তু কেন? যে কংগ্রেস দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনকে পথ দেখাল, যে নেহরু-গান্ধী দেশকে 'স্বাধীন করলেন', আধিপত্যযুক্ত স্বাধীন ভারত থেকে গণপ্রজাতান্ত্রিক ভারতের পথকে সূচিত করলেন যাঁরা- তাঁদেরও কালো দিক! সমালোচিত তাঁরাও!

একদা, দেশের সামগ্রিকতায় একাধিপত্য বিস্তারের কেন্দ্রবিন্দু পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু সরকারের বিরোধিতায়, নিজস্ব দলীয় কোন্দলের ফলপ্রসূ গঠিত হয়েছিল 'জনসংঘ'। যে প্রতিষ্ঠানের পক্ষেই মূলত, নেহরু-মিথ সম্পর্কে সরব হতে দেখা যায় অনেককেই। অর্থাৎ, যে নেহরু ১৯৪৭-এর আগে থেকে শুরু করে স্বাধীনোত্তর ভারতের শাসনব্যবস্থায় একছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন, তাঁকেই ছয়ের দশকের প্রথম দিকে পড়তে হল সমালোচনার মুখে। পরবর্তীতে ইন্দিরা-রাজের জরুরি অবস্থা এবং বিরোধীদের কণ্ঠরোধের অভিযোগ নেহরুর বিরুদ্ধে না উঠলেও তাঁর সরকার চালানোর সঙ্গে দেশের প্রতিটি স্তরের মানুষের যোগাযোগ স্থাপন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কেউ কেউ। আর এখানেই উল্লেখযোগ্যভাবে উঠে আসে রামমনোহর লোহিয়ার নাম।

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং জওহরলাল নেহরুর বিরোধ, নেতাজি অন্তর্ধানের পর লোহিয়ার নেহরু-বিরোধ ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্য মাত্রা দান করে। যেখানে নেহরুর শাসনকাল এবং প্রতিষ্ঠানবিরোধিতায় প্রতিষ্ঠিত আকস্মিক 'জনসংঘ'-র প্রতিষ্ঠার অনেক আগে থেকে মূলত পাঁচ-ছয়ের দশক থেকেই নেহরুর একাধিক কার্যক্রমের বিরোধিতায় সরব হন রামমনোহর লোহিয়া। বাবার গান্ধী-প্রীতি, কংগ্রেস-যোগ, স্বাধীনতা আন্দোলন, বিদেশ থেকে ফিরে 'ভারত ছাড়ো' আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী এই কংগ্রেস নেতা দলেরই নেতার বিরুদ্ধে সরব হন। যা পরবর্তীকালে, জনসংঘ এবং নেহরু-বিরোধী গোষ্ঠীর রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠায় বড় ভূমিকা পালন করেছে বলেই মেনে নেওয়া হয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অধীন থেকেই স্বাধীন! নেতাজির দুঃস্বপ্ন সত্যি হয়েছিল গান্ধী-নেহরুর হাত ধরে?

একটি রাষ্ট্রের ওপর অন্যের আধিপত্য। একজনের প্রতি অন্যর অযাচিত আধিপত্য। সমকালীন সেই ভারত ১৯৪৯ সালের ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত একপ্রকার এমন স্বাধীনতাই লাভ করেছিল!

ঠিক কী নিয়ে সরব ছিলেন লোহিয়া? নেহরু এবং তাঁর সরকার চালানোর ভাষায় ইংরেজির আধিক্য। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারের কাজের ভাষাগত ফারাক এবং এলিট ক্লাসের সরকার, এই বিতর্কে প্রথমেই ধাক্কা খেতে হয় নেহরুকে। প্রধানত, মানুষ সরকার-প্রধানের ভাষা বুঝতে পারছে না, এই নিয়েই সলতে পাকে নেহরু-বিরোধিতার প্রদীপে। এর থেকেই নেহরু-মিথের, নেহরু-মিথ্যার দিকে রূপান্তরিত হওয়ার সূচনা করেন লোহিয়ারা। যেখানে সাধারণ মানুষের সরকার, সাধারণের জন্য সরকার এবং নেহরু শাসনের সেই সাধারণের ধর্তব্যে সরকারের না আসা নিয়েই সরব হন লোহিয়া। মূলত, ছয়ের দশকের মধ্যবর্তী পর্যায় থেকে লোহিয়ার নেহরু-বিরোধিতার সুর চড়তে থাকে। যা ইন্ধন পায় বিজেপির পূর্বসূরি জনসংঘের প্রতিষ্ঠায়।

লোহিয়া মূলত স্বাধীনতা-পূর্ব সময়ে নেতাজির পরে স্বাধীনোত্তর ভারতে নেহরুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিরোধিতার সূচনা করেন। মূলত, নেহরু এবং তৎকালীন কংগ্রেসকে অভিজাত এবং ইংরেজি ভাষার দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষমতা অর্জন করেছিলেন রামমনোহর লোহিয়ারা।

যেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল, অনগ্রসর শ্রেণি-ইস্যু। জাতিগত সংরক্ষণবাদ। এই আবহেই লোহিয়া বাবাসাহেব আম্বেদকরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করার চেষ্টা করেছিলেন বারবার। নেহরু যে জাতিগত সংরক্ষণ এবং ওবিসি ইস্যুতে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন না, এই বিষয়টিও বারবার দেখানোর চেষ্টা হয়। যে কালো অধ্যায় আজও নেহরুর বিরুদ্ধে প্রতিফলিত হয়, কংগ্রেস-বিরোধীদের নির্বাচনী জনসভায়।

নেহরুর ধর্মনিরপেক্ষতা, নগরবাদ এবং সমাজতান্ত্রিক নানা উদ্যোগ একাধারে জনহিতে নেওয়া হলেও কিছু ক্ষেত্রে তাই-ই 'ভারতের জন্য সঠিক নয় নেহরুর এই নীতি', এমন বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। মূলত, মহিলাদের দাম্পত্য অধিকার-সংক্রান্ত নীতি, হিন্দু কোড বিল, জমিদারি বিলোপ আইন; সমকালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নেহরুর সঠিক রাজনৈতিক, সামাজিক পথ বিস্তার সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছিল। যেখানে অনগ্রসর শ্রেণির সামগ্রিক অবস্থান এবং নেহরুর 'জনতা-বিরোধী নীতি' নিয়ে সরব হতে দেখা গিয়েছিল বিরোধীদের। এখানেই, স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে এক এবং অদ্বিতীয় নেহরু সাম্রাজ্যের প্রথম বিরোধী হয়ে উঠেছিলেন রামমনোহর লোহিয়া। যেখানে দাঁড়িয়ে, জনসংঘের বৃদ্ধি এবং পরবর্তীকালে স্বল্প মেয়াদের সোশ্যালিস্ট পার্টি, যা ১৯৫০-১৯৬০ সময়কালে সমাজতন্ত্রের নামে সর্বাধিক সোচ্চার হয়েছিল নেহরু-বিরোধিতায়। লোহিয়াই প্রথম, যিনি নেহরু এবং তাঁর ক্ষমতাকালের নীতি, আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

যে সময় দাঁড়িয়ে মূলত, জাতিগত আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে সচেষ্ট হন ভারতের সমকালীন 'সামাজিক' নেতা। যাঁর মধ্যে সমকালীন বিশ্বের কমিউনিস্ট ভাবমূর্তির একটা প্রভাব ছিল বলেও নিশ্চিত করেন রাজনৈতিক বিশারদরা। যা মূলত নেহরু-রাজে অধরা ছিল, সেখানেও বিরোধে সরব হন লোহিয়া। অর্থাৎ বিজেপি, মোদির নেহরু-বিরোধের অনেক আগেই এই লোহিয়াই সূচনা করেছিলেন নেহরু-বিপক্ষের। রামমনোহর লোহিয়ার লেখা, একাধিক বইয়েও এমনই এক প্রকাশ্য আভাস পাওয়া যায়। যা নেহরু সমালোচনার এক অন্যতম অস্ত্র হিসেবেও পরিগণিত হয় বারবার।

নিজের দল এবং ব্যক্তিত্বকে অস্ত্র করে বাবাসাহেব আম্বেদকরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। ১৯৫৫ সালে তাঁর দলের অধিবেশনে আসার আমন্ত্রণ জানান বাবাসাহেবকে। আমৃত্যু নেহরুর নীতি, কাজের বিরোধিতায় সরব রামমনোহর: প্রজা সোশ্যালিস্ট পার্টি, সংযুক্ত সোশ্যালিস্ট পার্টি গঠনের মাধ্যমে সামনে আসতে থাকেন। যদিও নেহরুর 'রাজনৈতিক ক্রেজ' লোহিয়ার বিরোধিতা-পথে বাধা হলেও সেই সময়ে নেহরুর কঠিন রাজনৈতিক দেওয়ালে ছেদ করতে পেরেছিলেন লোহিয়া।

১৯৬৪ সালের নির্বাচনে রামমনোহরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং নেহরু, লোহিয়ার চিঠি আদানপ্রদান ঐতিহাসিকভাবে এই বিরোধিতার এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষর বহন করে। নেহরুর প্রয়াণের পর, ১৯৬৭ এবং উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন, সরকার গঠনের আবহে অ-কংগ্রেসি সরকার প্রতিষ্ঠায় প্রধান ভূমিকা পালন করেন লোহিয়া। মূলত, জনসংঘের নানাজি দেশমুখের সঙ্গে জোট বেঁধে কংগ্রেসকে রাজনৈতিক ধাক্কা দেন তিনি।

কিন্তু কেন এই বিরোধ? বিদেশের পাট চুকিয়ে আসার আগে-পরে থেকেই লোহিয়া, তাঁর বাবার কংগ্রেসি আদর্শ এবং গান্ধী-ভক্তিতে প্রভাবিত ছিলেন। ছোট থেকেই দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতি অমোঘ টান ছিল তাঁর। বারবার নেতাজি-সহ একাধিক স্বাধীনতার লড়াইয়ের নেতাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন তিনি। সেখানে দাঁড়িয়ে বিদেশ থেকে ফিরে 'ভারত ছাড়ো' আন্দোলনে বড় ভূমিকা পালন করেন এই যুবক। কিন্তু নেতাজির অনুপস্থিতিতে সমসাময়িক কংগ্রেস এবং নেহরু-প্রভাব ভালভাবে নেননি তিনি। নিজের নীতি-আদর্শ, খানিকটা বাম-প্রভাবিত সামাজিক ভাবনার আবহে লোহিয়ার সঙ্গে মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে কংগ্রেসের। বরাবর সাহসী এই নেতা, সমাজতন্ত্র এবং সমাজের সকল গোষ্ঠীর প্রতি দায়বদ্ধতাকে প্রাধান্য দিয়ে ক্রমশ নেহরু আবহ থেকে দূরে সরেছেন। সেখান থেকেই তৈরি হয়েছে বিরোধ। মূলত, নেহেরুর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া। অনেকেই দাবি করেন, নেহেরু ঘনিষ্ঠ বৃত্ত এবং সরকারে ভূমিকা পালনের সুযোগ না থাকায় বিগড়ে গিয়েছিলেন তিনি।

নেহরু-বিরোধ এবং কংগ্রেসের কাজকর্মের তীব্র প্রকাশ্য এই প্রতিবাদ কাজে লাগায়, নেহরু-বিরোধিতায় তৈরি জনসংঘ। পরবর্তীকালে সমাজতান্ত্রিক লোহিয়া অচিরেই শুধুই হিন্দুত্ববাদের বৃদ্ধির সহায়ক হিসেবে প্রতিফলিত হন। যা তাঁর আদর্শের সঙ্গে কতটা যুক্তিযুক্ত তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠলেও, একথা সত্য বিজেপির এযাবৎ নেহেরু-ইস্যুর প্রথম বাহক এই লোহিয়াই। যা যুক্তি-বিতর্কে আলোচিত হলেও প্রকাশ্য সত্যই বটে!

লিখেছেন
Ramen Das
Ramen Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।