হলুদ বা লাল নয়, ইতিহাসে প্রথমবার সাদা কার্ড দেখল ফুটবল! যে ঘটনা শোরগোল ফেলে দিল বিশ্বে

First ever White Card in football : ম্যাচের মধ্যেই সটান সাদা কার্ড দেখিয়ে দিলেন রেফারি! যে দৃশ্য এর আগে কখনও দেখেনি ক্রীড়া জগত।

Aritra Som
৩ মিনিট
হলুদ বা লাল নয়, ইতিহাসে প্রথমবার সাদা কার্ড দেখল ফুটবল! যে ঘটনা শোরগোল ফেলে দিল বিশ্বে

ফুটবল মাঠে বল দখলের লড়াই, খেলোয়াড়দের দক্ষতা, ম্যাজিক, সমর্থকদের উল্লাস ইত্যাদি তো আছেই। এই সবকিছুর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে রেফারির বাঁশিও। তাঁর বাঁশি বাজলেই সবাই তটস্থ হয়ে যান। কোচ থেকে খেলোয়াড় – সবার নজর পড়ে যায় তাঁর দিকে। পাঠকদের নিশ্চয়ই মনে পড়বে ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের কথা। আর্জেন্টিনা বনাম নেদারল্যান্ড ম্যাচে খেলোয়াড়দের থেকেও বেশি শিরোনামে ছিলেন ওই ম্যাচের রেফারি। কারণ? সেই ম্যাচে কার্ডের বন্যা বইয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

ফুটবল মাঠে হলুদ ও লাল – এই দুই রঙের কার্ডেরই দহরম মহরম দেখা যায়। ফুটবলাররাও সতর্ক থাকেন এই ব্যাপারে। লাল কার্ড পাওয়া মানে একেবারেই মাঠের বাইরে। এই নিয়মগুলো নিশ্চয়ই সবাই জানেন। ১৯৭০ ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে এই দুটি কার্ড খেলার অঙ্গ হয়ে গিয়েছে। হলুদ আর লাল কার্ড তো কেবল খেলা নয়, একেবারে জীবনেরও সঙ্গী হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এবার ফুটবল বিশ্ব যা দেখল, সেটা এর আগে কখনও দেখেনি। হলুদ কিংবা লাল নয়; ম্যাচের মধ্যেই সটান সাদা কার্ড দেখিয়ে দিলেন রেফারি! যে দৃশ্য এর আগে কখনও দেখেনি ক্রীড়া জগত।

সাদা কার্ড? তাও ফুটবলে? এমন নিয়ম তো এর আগে কখনও শোনেনি কেউ! দেখাও যায়নি কোনওদিন। তাহলে ২০২৩ কি কোনও পরিবর্তন নিয়ে এল? পর্তুগালের এই ঘটনা রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিল বিশ্বে। কেউ কেউ রইলেন পক্ষে, কেউ আবার বিপক্ষে। কিন্তু ফুটবলের ময়দানে সাদা কার্ড দেখানোর মানেটা কী? ঘটনাটাই বা কী?

সম্প্রতি পর্তুগালের ক্লাব ফুটবলে ছিল বেনফিকা বনাম স্পোর্টিং লিসবনের মহিলা টিমের ম্যাচ। কার্যত ডার্বিই বলা যায় এই ম্যাচটিকে। স্পোর্টিং লিসবনের পুরুষ দলের হয়েই প্রথমবার ফুটবল জগতে পা রাখা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর। প্রথমার্ধের আগেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বেনফিকার মহিলা দলটি। ৪৪ মিনিটের মাথায় হঠাৎই রেফারির বাঁশি বেজে ওঠে। দুই দলেরই ডাগ আউটের দিকে এগিয়ে কার্ড দেখান তিনি। তখনই আশ্চর্য হয়ে যান সবাই। কারণ, হলুদ বা লাল নয়; সাদা কার্ড দেখিয়েছেন রেফারি। এর মানে কী?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ক্যানসারকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে হ্যাটট্রিক! এভাবেও ফিরে আসা যায়, দেখালেন ফুটবলার হলার

Sebastien Haller Cancer fighter Borussia Dortmund : তারপর বাসেলের বিরুদ্ধে আট মিনিটে তিনটে গোল। এভাবেও যে ফিরে আসা যায়! এভাবেও লড়াই করা যায়!

CARTÃO BRANCO NO DÉRBI! ⬜👏

As equipas médicas do Benfica e do Sporting receberam cartão branco por assistirem um adepto que se sentiu mal na bancada.

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
১১ জন ফুটবলারকেই পাহাড়ের চুড়োয় দাঁড় করিয়ে গুলি করে মেরেছিল হিটলারের দল

Football and Hitler: খেলার আগেই তাদের শাসানি দেওয়া হয়েছিল, ‘যদি জিতিস, তাহলে মরবি’, ফলে তারা পরিণতি বুঝেই ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে আর খিদের জ্বালায় কাতর হয়ে হারবে বলেই মাঠে নেমেছিল।

— Canal 11 (@Canal_11Oficial)

ঠিক তার আগেই ডাগ আউটে একটি ঘটনা ঘটে। লিসবন পিছিয়ে পড়ায় একজন সমর্থক অসুস্থ হয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে বাকিরা তাঁর দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করান। অসুস্থ মানুষটিকে দেখে সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসেন লিসবন ফুটবল দলের মেডিক্যাল স্টাফরা। তাঁদের সঙ্গে চলে আসেন বেনফিকার মেডিক্যাল স্টাফরাও। দল নয়, রং নয়, মানুষের জীবন বাঁচানোই সবার প্রথম কর্তব্য। সেভাবেই কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন দুই দলের ডাক্তাররা। একটু সুস্থ হওয়ার পরই ফের নিজের জায়গায় ফিরে আসেন তাঁরা। তখনই ‘সাদা কার্ড’ দেখান রেফারি।

কিন্তু কেন? রেফারি কি ভুল করে এমন কার্ড দেখালেন? কিন্তু কোনও অন্যায় তো করেননি মেডিক্যাল স্টাফরা! পরে জানা গেল, ভুল করে নয়, রেফারি ঠিক কার্ডই দেখিয়েছেন। সাদা কার্ডই দেখাতে চেয়েছেন তিনি। ক্রীড়া জগতের একটি প্রচলিত শব্দ হল ‘ফেয়ার প্লে’। নিয়ম মেনে, মানবিকতা ও স্পোর্টসম্যানশিপ মনোভাব দেখিয়ে খেললে তাঁকে সবাই বাহবা দেন। সেই ‘ফেয়ার প্লে’-র প্রতি সম্মান জানাতেই এই সাদা কার্ড ব্যবহার করেছেন রেফারি। ওই মুহূর্তে দুই দলের মেডিক্যাল স্টাফরা যে কাজ দেখিয়েছেন, তা যে কোনও প্রশংসার ঊর্ধ্বে। সত্যিই সেটা ‘ফেয়ার প্লে’-র নিয়মেই যায়। নিজের কাজ থেকে তাঁরা সরেননি এতটুকুও। সেই সম্মান জানাতেই সাদা কার্ড ব্যবহার করেছিলেন রেফারি। আর কে না জানে, সাদা হল শান্তির প্রতীক!

উল্লেখ্য, বেনফিকা বনাম লিসবনের মহিলাদের ডার্বি ম্যাচে রেফারিও ছিলেন এক মহিলা। তাঁর হাত ধরেই এই অদ্ভুত বদল এল। অনেকেই রেফারিকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন। তবে কয়েকজন আবার বিরুদ্ধেও কথা বলেছেন। সাদা কার্ডের ব্যবহার ফুটবলের ইতিহাসে এই প্রথম। এর আগে কেউ সেভাবে এই কার্ডের ব্যাপারে শোনেনি। তাই বিভ্রান্ত হওয়া স্বাভাবিক। নিয়মের বাইরে গিয়ে কেন এমন ব্যবহার, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন। বিশেষ করে ফুটবল মাঠে খেলা চলাকালীন কার্ড দেখালে সবাই ভাবে, এবার বিপদ বাড়ল। সেখানে আগে থেকে না বললে অনেকে বুঝতে পারবেন না। তবে এই মুহূর্তটি সত্যিই ঐতিহাসিক, সেটা মানছেন প্রত্যেকে।

লিখেছেন
Aritra Som
Aritra Som
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নারী টেস্টে এত অনীহা কেন, লর্ডসের ইতিহাসও বদলাবে না সেই ছবি?

Women’s Test Cricket: লর্ডসে ভারতের নারী ক্রিকেট দলের ঐতিহাসিক জয় নারী টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ বদলানোর সুযোগ এনে দিয়েছে? এত সাফল্য ও জনপ্রিয়তার পরও কেন এই ফরম্যাটে নিয়মিত ম্যাচ নেই?

শিব-পরশুরামের যুদ্ধবিদ্যা কালারিপায়াট্টু থেকেই জন্ম কুংফুর!

Kalaripayattu Indian Martial Art: ভারতীয় পৌরাণিক ঐতিহ্যে কালারিপায়াট্টুকে স্রেফ যুদ্ধের কৌশল হিসেবে দেখা হয়নি, বরং এটিকে মানব শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রাণশক্তিকে জাগিয়ে তোলার এক মহান সাধনা বলে মনে করা হয়।

দু'হাজার বছর পুরনো ‘আত্য পাত্যা’: এই খেলাই শিখিয়েছিল যুদ্ধের কৌশল!

Atya Patya Traditional Indian Game: আনুমানিক ১০০ থেকে ৩০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রচিত প্রাচীন তামিল সাঙ্গম সাহিত্য ‘নাটতৃণৈ’-তে এই খেলার প্রথম লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায়। অতএব, এই খেলার বয়স প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি। সেখানে বলা আছে, প্রাচীন চোল রাজবংশের সেনারা যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার আগে নিজেদের ক্ষিপ্রতা, দ্রুত দৌড়ানোর ক্ষমতা আর শরীরকে এক নিমেষে বাঁকানোর চপলতা বাড়াতে এই খেলায় মেতে উঠত।

১৬ বছর পর ফের ভারতের পথে ললিত মোদী

Lalit Modi return to India: দীর্ঘ সময় পর দিল্লির আপিল ট্রাইব্যুনাল তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আর্থিক অনিয়মের বড় অভিযোগ ও জরিমানা বাতিল করে দেওয়ার পরেই এই আলোচনার সূত্রপাত। সোশ্যাল মিডিয়ায় ললিত মোদী নিজেই স্পষ্ট করেছেন, সমস্ত বড়সড় আইনি জটিলতা কাটার পর ২০২৬ সালের শেষ দিকে অথবা ২০২৭-এর শুরুতেই ফের তিনি ভারতে পা রাখতে চলেছেন।

গোলের আড়ালে ঘৃণার খেলা: ২০২৬ বিশ্বকাপে ট্রাম্প, ফিফা আর ফুটবলের পরাজয়

Trump FIFA World Cup: এই বিশ্বকাপ শুধুই একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; মাঠের লড়াই ছাপিয়ে তা হয়ে উঠেছে ভূ-রাজনীতি, বর্ণবিদ্বেষ এবং বাণিজ্যিক আধিপত্যের এক জটিল ময়দান।

একটা রাজপুত্তুর যার মুকুট হারিয়ে গিয়েছে

Lionel Messi Retirement: তিনটে ফাইনালের বোঝা। একে একে ছেড়ে যায় সহযোদ্ধারা। রক্তাক্ত মাসচেরানো চলে যান, কুন আগুয়েরোর অসুখ... তবু লিও পড়ে থাকে, আমরা পড়ে থাকি আর কিছুদিন। বৃত্ত সম্পূর্ণ করতে প্রয়োজন ছিল একজন স্ক্যালোনির, তিনি সেটুকু সেতু নির্মাণের দায়িত্ব নিলেন। আমরা অপেক্ষা করলাম লুসাইলে। আমরা তো কবেই হেরে গিয়েছিলাম, সৌদি আরব শুধু চিনিয়ে দিয়েছিল আশপাশটা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: যেভাবে ১৫ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসায় পরিণত হল ফুটবল

FIFA Revenue 2026: 'কুইন্টেট প্রাইভেট ব্যাংক'-এর সাম্প্রতিক একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের অনুঘটক হওয়ার চেয়ে বিশ্বকাপ আসলে একটি শক্তিশালী স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক উদ্দীপক হিসেবেই বেশি কাজ করে। ফিফা, সম্প্রচারকারী সংস্থা, স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ড এবং আতিথেয়তা (হসপিটালিটি) ক্ষেত্রগুলি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করলেও, কোম্পানির শেয়ারের দামে সেই ইতিবাচক প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে রাখা বেশ কঠিন।

যখন ইউরোপে নারীরা গৃহবন্দি, তখন অসমে মেয়েরা খেলছিলেন ধোপখেল

Dhop Khel Assam: আহোম রাজাদের রাজপ্রাসাদ থেকে বিহুর মেঠো মাঠ—অসমের মাটিতে একসময় গমগম করত ধোপখেলের আওয়াজ। ফুটবল, কাবাডি আর দূরন্ত নিশানার এই অদ্ভুত রোমাঞ্চকর খেলাটি শুধু পুরুষদের বীরত্ব প্রমাণের লড়াই ছিল না; যখন ইউরোপে নারীদের জীবন ছিল চার দেওয়ালে বন্দি, তখন অসমে মেয়েরাও মাঠে নেমে মেতে উঠতেন ধোপখেলে।