শিরদাঁড়া ছিল, তাই ষড়যন্ত্র করেই বাদ দেওয়া হলো ভিনেশে ফোগাটকে?

Vinesh Phogat: কেন মনে হচ্ছে ভিনেশ ফোগাট ষড়যন্ত্রের শিকার? কেন নীতা আম্বানি, কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে?

suman sengupta
৫ মিনিট
শিরদাঁড়া ছিল, তাই ষড়যন্ত্র করেই বাদ দেওয়া হলো ভিনেশে ফোগাটকে?

স্বপ্ন ভঙ্গ হলো ভারতীয় মহিলা কুস্তিগীর, ভিনেশ ফোগাটের। স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হলো ১৪০ কোটি ভারতবাসীর। যখন শোনা গিয়েছিল, প্যারিস অলিম্পিকে বিশ্বের এক নম্বর এবং অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন কুস্তিগীরকে হারিয়ে ভিনেশ ফোগাট সেমিফাইনালে উঠেছেন, তখনই নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল যে, ভারতের হয়ে অন্তত ব্রোঞ্জ পদক তিনি পাবেনই। তারপরে তিনি সেই গণ্ডিও পেরিয়ে গিয়ে ফাইনালে পৌছন। সারা দেশের মানুষ তখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছেন, প্রার্থনা করেছেন কখন ভিনেশ ফোগাট ভারতের হয়ে প্রথম সোনার পদকটি নিয়ে আসবেন। ভারতীয় সময়ে যখন ফাইনাল ম্যাচ হওয়ার কথা, তার কিছুক্ষণ আগে খবর আসে, মাত্র ১০০ গ্রাম ওজন বেশি হওয়ার কারণে, তাঁকে অলিম্পিক থেকে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। প্রথমে অনেকেই বিশ্বাস করতে পারেননি বিষয়টা। প্রশ্ন করেছেন, কেন এই বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো ভিনেশ ফোগাটের বিরুদ্ধে। সচেতনভাবেই কি ভিনেশকে বাতিল করা হলো?

অলিম্পিকের মতো খেলার আসরে, প্রতি ক্রীড়াবিদ নিজেদের নিয়ে এতটাই সচেতন থাকেন যে, প্রতি পাঁচ-ছয় ঘণ্টায় নিজেদের ওজন মেপে দেখেন, তিনি তাঁর বিভাগের থেকে বেশি ওজনের হয়ে যাচ্ছেন কিনা। তাঁরা জলও খান মেপে, যাতে একটুও ওজন না বেড়ে যায়। ভিনেশ ফোগাট যখন দেখতে পাচ্ছিলেন তাঁর সামনে সোনা জয়ের সুযোগ রয়েছে, তিনি কি নিজের পায়ে কুড়ুল মারার মতো ভুল করতে পারেন? এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর টুইটে আরও প্রশ্ন উঠছে। তাঁর টুইট অত্যন্ত সাদামাটা! তিনি যেন মেনেই নিয়েছেন, ভিনেশ ফোগাটের বাতিল হয়ে যাওয়াকে। তিনি তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পরের বারের জন্য কিন্তু কোথায় সেই 'বিশ্বগুরু'র মেজাজ? যেন অভিযোগ করার দরকার তাই করছেন, না করলেও ক্ষতি নেই। তাহলে কি প্রধানমন্ত্রী নিজেও চাইছিলেন, এমনই কিছু হোক? বিষয়টা সত্যিই হজম হচ্ছে না।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
"আলবিদা কুস্তি", কেন চিরতরে কুস্তি ছাড়তে বাধ্য হলেন ভারতের গর্ব ভিনেশ ফোগাট?

Vinesh Phogat Retires: “মা, কুস্তি মেরে সে জিত গ্যয়ি, ম্যায় হার গ্যয়ি," লিখেছেন ভিনেশ।

শোনা যাচ্ছে, নিজের মাথার চুল কেটে ১০০ গ্রাম কমানোর চেষ্টা করেছিলেন ভিনেশ। সারারাত শারীরিক কসরত করেছেন এমনকী রক্তও বের করে দিয়েছেন কিছুটা, যাতে তাঁর ওজন নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকে। ভারতীয় অলিম্পিক সংস্থা যদি চাইত, তাহলে তারা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার কাছে আরও জোরালো আবেদন করতে পারত। অন্যান্য বেশ কিছু দেশ আগে এইরকম ক্ষেত্রে, তাদের ক্রীড়াবিদদের পাশে দাঁড়িয়ে আবেদন করেছে। বাতিল হয়ে যাওয়া ক্রীড়াবিদ পদক পেয়েছেন, সেই উদাহরণ এই অলিম্পিকেই আছে। এমনকী ভারতীয় অলিম্পিক সংস্থা ফাইনালের আগে বলতেই পারত যে ভিনেশ ফোগাট অসুস্থ, তাই ফাইনালে তিনি অংশ নেবেন না। তাহলে অন্তত রুপোর পদক নিশ্চিত হতো কিন্তু এসব কিছুই করেনি তারা।

তাই সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠছে, তবে কি সচেতনভাবেই ভিনেশকে বাতিল করানো হলো যাতে তিনি অলিম্পিক থেকে পদক না নিয়ে ফিরতে পারেন? কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী রাজ্যসভায় ভিনেশ ফোগাটকে বাতিল করা নিয়ে বক্তব্য রেখেছেন কিন্তু তিনি কিছু কথা উহ্য রেখেছেন। লজ্জাজনকভাবে, ভারত সরকার যে ৭০ লক্ষ টাকা যে খরচ করেছে তা তিনি সদম্ভে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু একজন ‘অপরাজিত’ ক্রীড়াবিদের জন্য তা কতটা অপমানজনক তা কি একবারও ভেবে দেখেছেন? অন্য কারও ক্ষেত্রে এই একই ঘটনা ঘটলে কি ভারতীয় অলিম্পিক সংস্থা একইরকম নির্লিপ্ত থাকতে পারত? একইরকমভাবে মন্ত্রী টাকার অঙ্ক উল্লেখ করতে পারতেন? নাকি তিনি ভিনেশ ফোগাট বলেই এই শাস্তি পেতে হলো? ভিনেশ ফোগাটের ঘটনায় বিরোধী সমস্ত রাজনৈতিক দলই নরেন্দ্র মোদি সরকারের নরম মনোভাবের জন্য রাজ্যসভা থেকে ওয়াকআউট করেছেন। বিষয়টা ক্রমশ আরও রাজনৈতিক হয়ে উঠছে। আঙুল উঠছে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক সংস্থার সদস্য, রিলায়েন্স গোষ্ঠীর কর্ণধার, মুকেশ আম্বানির স্ত্রী নীতা আম্বানির দিকেও। তিনি থাকা সত্ত্বেও কেন ভিনেশ ফোগাটের জন্য ভারত এতটুকু জোরালো সওয়াল তুলল না?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মাত্র ১০০ গ্রাম ওজন বেশি! এক রাতেই কীভাবে অলিম্পিক বক্সিংয়ে অযোগ্য হলেন ভিনেশ?

Vinesh Phogat disqualified: যেহেতু ভিনেশকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে তাই ৫০ কেজি বিভাগে একটি স্বর্ণপদক এবং দু'টি ব্রোঞ্জ পদক দেওয়া হবে।

কেন মনে হচ্ছে ভিনেশ ফোগাট ষড়যন্ত্রের শিকার? কেন নীতা আম্বানি, কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে? মাত্র এক বছর আগে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পদকজয়ী ভারতীয় মহিলা কুস্তিগীররা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তাঁদের পদকগুলো তাঁরা হরিদ্বারের গঙ্গায় ভাসিয়ে দেবেন, ওই পদক আর তাঁদের প্রয়োজন নেই। এই মহিলা কুস্তিগীরদের তখন একটাই দাবি ছিল, ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশনের সভাপতি, বিজেপির সাংসদ প্রভাবশালী ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংকে গ্রেফতার করতে হবে কারণ তিনি দীর্ঘদিন ধরে, নাবালিকা সহ ভারতীয় মহিলা কুস্তিগীরদের যৌন নির্যাতন করেছেন। সেই দাবিতে, দিল্লির যন্তরমন্তর চত্বরে তাঁরা অবস্থানও করছিলেন। যেদিন নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধন হলো, সেদিন একটি জমায়েত থেকে দেশের এই কৃতীদের দিল্লি পুলিশ টেনে হিঁচড়ে বের করে গ্রেফতার করে। সেদিনই তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, যদি দেশেরই জন্য পদক আনার পরেও তাঁদের সঙ্গে পুলিশ এহেন আচরণ করতে পারে, তাহলে সেই পদক রাখা নিরর্থক! সেদিন ওই বিক্ষোভের সামনের সারিতে ছিলেন ভিনেশ ফোগাট, বজরং পুণিয়া, সাক্ষী মালিক সহ অন্যান্যরা। সরকার সেই আন্দোলনকে প্রথমদিন থেকেই ভালোভাবে নেয়নি। তৎকালীন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর আকারে ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংকে দোষী মনে করেন না।

সেদিন আন্তর্জাতিক কুস্তি ফেডারেশনের চাপে এবং রাজনৈতিক আন্দোলনের পরে ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংকে সরিয়ে দিলেও, বিষয়টা স্বেচ্ছায়, ভালোবেসে যে করা হয়নি তা নিশ্চিত করেই বলা যায়। প্রাথমিকভাবে সরকারই চায়নি, ভিনেশ ফোগাট অলিম্পিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন। বহু চেষ্টা হয়েছে যাতে ভিনেশ তাঁর নিজের বিভাগে না যেতে পারেন। তাঁর নিজের ওজনের চেয়ে কম ওজনের বিভাগে জোর করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করানো হয়েছে, যাতে সেই বিভাগে একটু বেশি ওজন হলেই ছিটকে যান তিনি। ভিনেশ নিজেও সংশয় প্রকাশ করেছিলেন, তাঁকে জলের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে ডোপ পরীক্ষায় পজিটিভ দেখিয়ে বাতিল করা হতে পারে। তবে যাই হোক না কেন, ভিনেশ জিতে গেছেন! খেলায় বাতিল হলেও আমাদের সোনার মেয়ে হয়েই থেকে যাবেন তিনি কারণ ভিনেশের শিরদাঁড়া ছিল। যেদিন তিনি ব্রিজভূষণ শরণ সিংয়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন, সেদিনই তিনি জিতে গেছেন। পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে যেদিন তাঁর আওয়াজ শোনা গিয়েছিল, সেদিনই তিনি জিতে গেছেন।

মাত্র ১৮ বছর বয়সে ১৯৬০ সালে রোম অলিম্পিক থেকে বক্সিংয়ে নিজের দেশ আমেরিকার জন্য সোনা এনেছিলেন! তাও স্রেফ গায়ের রঙের জন্য দিনভর কথা শুনতে হতো। একদিন এই বর্ণবৈষম্য এমন মাত্রা ছাড়াল যে, এক রেস্তোঁরা তাঁকে খাবার দিতে অস্বীকার করে 'কৃষ্ণাঙ্গ' বলে! রাগে-দুঃখে-অপমানে সেদিন ১৮ বছরের এক ছেলে লুইভিলের সেকেন্ড স্ট্রিট ব্রিজের ওপর উঠে তাঁর সদ্য-জেতা অলিম্পিক স্বর্ণপদকটি ছুঁড়ে ফেলে দেয় ওহিও নদীর বুকে। ছেলেটির নাম ক্যাসিয়াস ক্লে জুনিয়র। বছর চার পরে তিনি ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হন। নাম হয় মহম্মদ আলি। সারা পৃথিবীর মানুষ এখনও ওই নামেই তাঁকে চেনে। আজও বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রসঙ্গ উঠলেই মহম্মদ আলির লড়াইয়ের কথা মানুষ স্মরণ করে।

আগামীতে ভারতীয় ক্রীড়াজগতের সমস্ত মহিলা ভিনেশ ফোগাটের এই হার না মানা লড়াইকে মনে রাখবেন। হয়তো কুস্তির আখড়ায় তাঁকে আর দেখা যাবে না, তিনি অকালেই অবসর নিয়েছেন কিন্তু তাঁর লড়াই থেকে যাবে। যে সময়ে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীরা অলিম্পিকের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, সেই সময়ে তিনিও প্রস্তুত হচ্ছিলেন পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে তাঁর লড়াইতে, কুস্তির আখড়ার বাইরে। সেই লড়াই মানুষ মনে রাখবে। তিনি রাজ্যসভায় মনোনীত সদস্য হিসেবে আসবেন কিনা, তা ভিন্নতর প্রসঙ্গ কিন্তু ভিনেশ ফোগাট হয়ে উঠেছেন ‘অপরাজেয়’।

লিখেছেন
suman sengupta
suman sengupta
2 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নারী টেস্টে এত অনীহা কেন, লর্ডসের ইতিহাসও বদলাবে না সেই ছবি?

Women’s Test Cricket: লর্ডসে ভারতের নারী ক্রিকেট দলের ঐতিহাসিক জয় নারী টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ বদলানোর সুযোগ এনে দিয়েছে? এত সাফল্য ও জনপ্রিয়তার পরও কেন এই ফরম্যাটে নিয়মিত ম্যাচ নেই?

শিব-পরশুরামের যুদ্ধবিদ্যা কালারিপায়াট্টু থেকেই জন্ম কুংফুর!

Kalaripayattu Indian Martial Art: ভারতীয় পৌরাণিক ঐতিহ্যে কালারিপায়াট্টুকে স্রেফ যুদ্ধের কৌশল হিসেবে দেখা হয়নি, বরং এটিকে মানব শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রাণশক্তিকে জাগিয়ে তোলার এক মহান সাধনা বলে মনে করা হয়।

দু'হাজার বছর পুরনো ‘আত্য পাত্যা’: এই খেলাই শিখিয়েছিল যুদ্ধের কৌশল!

Atya Patya Traditional Indian Game: আনুমানিক ১০০ থেকে ৩০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রচিত প্রাচীন তামিল সাঙ্গম সাহিত্য ‘নাটতৃণৈ’-তে এই খেলার প্রথম লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায়। অতএব, এই খেলার বয়স প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি। সেখানে বলা আছে, প্রাচীন চোল রাজবংশের সেনারা যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার আগে নিজেদের ক্ষিপ্রতা, দ্রুত দৌড়ানোর ক্ষমতা আর শরীরকে এক নিমেষে বাঁকানোর চপলতা বাড়াতে এই খেলায় মেতে উঠত।

১৬ বছর পর ফের ভারতের পথে ললিত মোদী

Lalit Modi return to India: দীর্ঘ সময় পর দিল্লির আপিল ট্রাইব্যুনাল তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আর্থিক অনিয়মের বড় অভিযোগ ও জরিমানা বাতিল করে দেওয়ার পরেই এই আলোচনার সূত্রপাত। সোশ্যাল মিডিয়ায় ললিত মোদী নিজেই স্পষ্ট করেছেন, সমস্ত বড়সড় আইনি জটিলতা কাটার পর ২০২৬ সালের শেষ দিকে অথবা ২০২৭-এর শুরুতেই ফের তিনি ভারতে পা রাখতে চলেছেন।

গোলের আড়ালে ঘৃণার খেলা: ২০২৬ বিশ্বকাপে ট্রাম্প, ফিফা আর ফুটবলের পরাজয়

Trump FIFA World Cup: এই বিশ্বকাপ শুধুই একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; মাঠের লড়াই ছাপিয়ে তা হয়ে উঠেছে ভূ-রাজনীতি, বর্ণবিদ্বেষ এবং বাণিজ্যিক আধিপত্যের এক জটিল ময়দান।

একটা রাজপুত্তুর যার মুকুট হারিয়ে গিয়েছে

Lionel Messi Retirement: তিনটে ফাইনালের বোঝা। একে একে ছেড়ে যায় সহযোদ্ধারা। রক্তাক্ত মাসচেরানো চলে যান, কুন আগুয়েরোর অসুখ... তবু লিও পড়ে থাকে, আমরা পড়ে থাকি আর কিছুদিন। বৃত্ত সম্পূর্ণ করতে প্রয়োজন ছিল একজন স্ক্যালোনির, তিনি সেটুকু সেতু নির্মাণের দায়িত্ব নিলেন। আমরা অপেক্ষা করলাম লুসাইলে। আমরা তো কবেই হেরে গিয়েছিলাম, সৌদি আরব শুধু চিনিয়ে দিয়েছিল আশপাশটা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: যেভাবে ১৫ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসায় পরিণত হল ফুটবল

FIFA Revenue 2026: 'কুইন্টেট প্রাইভেট ব্যাংক'-এর সাম্প্রতিক একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের অনুঘটক হওয়ার চেয়ে বিশ্বকাপ আসলে একটি শক্তিশালী স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক উদ্দীপক হিসেবেই বেশি কাজ করে। ফিফা, সম্প্রচারকারী সংস্থা, স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ড এবং আতিথেয়তা (হসপিটালিটি) ক্ষেত্রগুলি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করলেও, কোম্পানির শেয়ারের দামে সেই ইতিবাচক প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে রাখা বেশ কঠিন।

যখন ইউরোপে নারীরা গৃহবন্দি, তখন অসমে মেয়েরা খেলছিলেন ধোপখেল

Dhop Khel Assam: আহোম রাজাদের রাজপ্রাসাদ থেকে বিহুর মেঠো মাঠ—অসমের মাটিতে একসময় গমগম করত ধোপখেলের আওয়াজ। ফুটবল, কাবাডি আর দূরন্ত নিশানার এই অদ্ভুত রোমাঞ্চকর খেলাটি শুধু পুরুষদের বীরত্ব প্রমাণের লড়াই ছিল না; যখন ইউরোপে নারীদের জীবন ছিল চার দেওয়ালে বন্দি, তখন অসমে মেয়েরাও মাঠে নেমে মেতে উঠতেন ধোপখেলে।