শরৎচন্দ্র থেকে গান্ধীজি, সকলেই শিকার হয়েছিলেন রসিকতার, আসলে কেমন মানুষ ছিলেন রবীন্দ্রনাথ?

Rabindranath Tagore : রবীন্দ্রনাথের রসিকতা নিয়ে রয়েছে অজস্র মজার গল্প, জানেন আসলে কেমন মানুষ ছিলেন কবিগুরু?

Kankana Mukherjee
৪ মিনিট
শরৎচন্দ্র থেকে গান্ধীজি, সকলেই শিকার হয়েছিলেন রসিকতার, আসলে কেমন মানুষ ছিলেন রবীন্দ্রনাথ?

ভরপুর আসর। একাধিক গুণীজনের সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ওই একই আসরে আমন্ত্রণ ছিল কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়েরও। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এসে পড়লেন তিনি। কিন্তু এ কী! জুতো জোড়া পায়ের বদলে বগলে করে আসরে প্রবেশ করছেন শরৎবাবু। সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে এলো রসিক রবীন্দ্রনাথের প্রতিচ্ছবি। শরৎচন্দ্রকে প্রশ্ন করে বসলেন, তোমার বগলে ওটা কি ‘পাদুকাপূরাণ’? রবীন্দ্রনাথের এই তাৎক্ষণিক রসিকতায় সভার সবাই হেসে লুটিয়ে পড়েন। আসলে এর আগের দিন কোনও এক আসরে জুতো জোড়া চুরি হয়ে গিয়েছিল শরৎচন্দ্রের। তাই এদিন আর ঝুঁকি না নিয়ে অতিরিক্ত একজোড়া জুতো কাগজে মুড়িয়ে বগলদাবা করে নিয়ে আসেন। কিন্তু রসিক রবি তো মোটেই এই সুযোগ হাতছাড়া করবেন না, কাগজে মোড়া পুঁথি পুরাণের সঙ্গে মিলিয়ে পাদুকার অমন ব্যাখ্যা না করে ছাড়লেন না!

কেবল গল্প, উপন্যাসই নয় বাস্তব জীবনেও ঠিক এমন রসিক মানুষ ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। জীবনকে তিনি প্রতিটি পলে পলে উপভোগ করতে চেয়েছিলেন। খারাপের ঠিক পাশে ভালো, কান্নার পাশে হাসি অথবা মৃত্যুর পাশে জীবনকে উপলব্ধি করতে চেয়েছেন। যিনি লিখছেন নিজের ঘরের সুসভ্যতার আলোটুকু নিভিয়ে দেওয়ার কথা তিনিই আবার অন্য জায়গায় জুতো আবিষ্কারের মতো চটুল লেখা লিখছেন। এ কেবল কলমের আঁচড়ে সম্ভব ছিল না, নিজের জীবনের পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনার বদলে ষোলো আনাই তিনি রেখে গিয়েছেন ছত্রে ছত্রে। সেটা কবিতার হোক অথবা জীবনের।

একদিন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিসর্জন নাটকের মহড়া চলছিল জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে। নাটকে রঘুপতির ভূমিকায় ছিলেন দীনেন্দ্রনাথ ঠাকুর (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাইপো), আর জয়সিংহ সেজেছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ। একটা দৃশ্য ছিল এমন, জয়সিংহের মৃতদেহের ওপর আছড়ে পড়বেন শোকার্ত রঘুপতি। কিন্তু স্থূলকায় চেহারার দিনুর বারবার রবীন্দ্রনাথের ওপর আছড়ে পড়ায় একসময় রবীন্দ্রনাথ কেঁকিয়ে উঠে বললেন, “ওহে দিনু, মনে করিসনে আমি সত্যি সত্যিই মারা গেছি!” এমনটাই ছিলেন কবিগুরু। যেকোনো পরিস্থিতিতে তিনি হাসির উপাদান খুঁজে পেতেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রবীন্দ্রনাথের নামে ডাইনোসর রয়েছে খাস কলকাতায়! দেখে আসতে পারেন স্বচক্ষে

Rabindranath Tagore Dinosaur: বন্যা বা ওই জাতীয় কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তীব্র জলের তোড়ে ভেসে গিয়ে বেচারা প্রকাণ্ড ডাইনোসোর সম্ভবত মারা যায়

যদিও এই রসবোধটুকুই জীবনের রসদ জুগিয়েছে কবিগুরুকে। এত এত স্বজন হারানোর শোক নাহলে পর করে আসা হয়তো তাঁর পক্ষেও অসম্ভব ছিল। এই রসবোধের প্রসঙ্গে আরও একটা ঘটনার কথা উল্লেখ করতেই হয়। শান্তিনিকেতনের অধ্যাপক বিধুশেখর শাস্ত্রীকে রবীন্দ্রনাথ একবার লিখে পাঠালেন, “আজকাল আপনি কাজে অত্যন্ত ভুল করছেন। এটা খুবই গর্হিত অপরাধ। এজন্য আগামীকাল বিকেলে আমি আপনাকে দণ্ড দিব।” বার্তা পাওয়া মাত্রই তো রীতিমত শঙ্কায় পড়ে গেলেন অধ্যাপক। গুরুদেব স্বয়ং এসে দণ্ড দেবেন বলেছেন যখন নিশ্চয়ই বড়সড় কিছু অপরাধ হবে। পরের দিন তড়িঘড়ি বিধুশেখরবাবু উপস্থিত হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছে। দেখলেন রবীন্দ্রনাথ বসে রয়েছেন, হাতে একটা বড় মোটা গোছের লাঠি। বিধুশেখরবাবু সেই দেখে আরও ভয় পেয়ে গেলেন, তবে কি এই বয়সে গুরুদেবের হাতে লাঠির বাড়ি খেতে হবে নাকি তাঁকে! কিন্তু এই সব ভয়, উৎকণ্ঠার মাঝে জল ঢেলে দিলেন রবীন্দ্রনাথ। খুব শান্তভাবে ওই লাঠিটি তাঁর দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, “এই নিন আপনার ‘দণ্ড’! সেদিন যে এখানে ফেলে গেছেন, তা একদম ভুলে গেছেন আপনি!” ‘দণ্ড’ অর্থাৎ যার প্রতিশব্দ লাঠি। রসিকতার এমন বহরে তখন হাসবেন নাকি কাঁদবেন তা বোঝা রীতিমতো দায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল অধ্যাপক বিধুশেখর শাস্ত্রীর।

বহুমাত্রিক সাহিত্য প্রতিভার অধিকারী দার্শনিক রবীন্দ্রনাথ বাস্তব জীবনে মোটেই গুরুগম্ভীর রাশভারী মানুষ ছিলেন না। তাঁর লেখনী দেখে অবশ্য এমনটা ধারণা করে নেওয়া যে তিনি ব্যক্তি জীবনেও হাসি এবং কান্নার মধ্যে যথার্থ ব্যালেন্স করতে পারতেন। খুব সিরিয়াস মানুষের নেপথ্যে লুকিয়ে থাকা রসবোধটুকু তিনি বারবার জনমানসে সামনে এনেছেন। সবার সঙ্গে সহজ, সরল ছিল তাঁর ব্যবহার। কবিগুরুর ব্যক্তিগত জীবন ঘাঁটলে তাই উঠে আসে অজস্র মজার মজার ঘটনা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিমলাকে 'শিক্ষা' দিলেন না নিখিলেশ, পদাবলির বিরহকে ঘরে-বাইরে মিশিয়ে দিলেন রবীন্দ্রনাথ

Ghare Baire and Padabali: বিমলা নামের মেয়েটি যে স্বামী নিখিলেশকে ফেলে বরণ করতে চাইছে সন্দীপকে সেই মেয়েটিকে কেন কিছু বলছে না তার স্বামী! কোথায় গেল তার পৌরুষ!

শান্তিনিকেতনে ওই ঘটনাটা ছাড়াও আরও একটা বিশেষ ঘটনা উল্লেখ করতেই হয়। একদিন শান্তিনিকেতনের ছেলেদের সঙ্গে অন্য এক প্রতিষ্ঠানের ছেলেদের ফুটবল খেলা। খেলা শেষে শান্তিনিকেতনের ছেলেরা তো বেজায় খুশি। প্রতিপক্ষকে এক্কেবারে ঘায়েল করে এসেছে তারা। ফলাফল আট-শূন্য। কিন্তু এই জয়ল্লাসের মধ্যেই রবীন্দ্রনাথ মন্তব্য করে বসলেন “জিতেছে ভালো, তা বলে আট গোল দিতে হবে? ভদ্রতা বলেও তো একটা কথা আছে!” ভরপুর রসবোধ ছাড়া এমন তাৎক্ষণিক অভিব্যক্তি কি সত্যিই সম্ভব?

আরেকবার স্বনামধন্য সাহিত্যিক ‘বনফুল’ তথা বলাইচাঁদ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক ছোট ভাই বিশ্বভারতীতে পড়াশোনা করা জন্য গিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ তখন বেশ বৃদ্ধ। তাই তিনি কানাঘুষো শুনেছিলেন কবিগুরু নাকি কানে খানিক কম শুনছেন। তাই প্রথম সাক্ষাতে যখন কবিগুরু তাঁকে জিজ্ঞেস করেন “কী হে, তুমি কি বলাইয়ের ভাই কানাই নাকি?” তখন বলাইচাঁদের ভাই রীতিমতো চিৎকার করে জবাব দেন, “আজ্ঞে না, আমি অরবিন্দ।” রবীন্দ্রনাথ তখন দুম করে বলেন, “না কানাই নয়, এ যে দেখছি একেবারে সানাই!” আর এর থেকেই বোঝা যায় বয়সের ভারেও রসিকতায় কোনওরকম ঘাটতি পড়েনি কবিগুরুর।

রবীন্দ্রনাথ এবং মহাত্মা গান্ধীর লুচি খাওয়ার গল্প অবশ্য অনেকেই জানেন। একবার সাক্ষাতে রবীন্দ্রনাথ গুছিয়ে লুচি তরকারি খাচ্ছেন, আর গান্ধীজি সেখানে স্বাস্থ্যের দোহাই দিয়ে কিনা খাচ্ছেন ওটস! গান্ধীজী তাই দেখে বলে উঠেন, “গুরুদেব, তুমি জানো না যে তুমি বিষ খাচ্ছ।” ডুবো তেলে ভাজা লুচি, সে তো বিষই বটে, অন্তত আজকের ডায়েট যুগে দাঁড়িয়ে এ কথা অনেকেই মেনে চলেন, অনেকে আবার বাধ্য হন। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ মানবেন কেন! খেতে যে তিনি ভীষণ ভালোবাসতেন। শুধু রসিক নন, তিনি খাদ্যরসিকও ছিলেন ভরপুর। তাই উত্তরে রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, “বিষই হবে; তবে এর অ্যাকশন খুব ধীরে। কারণ, আমি বিগত ষাট বছর যাবৎ এই বিষ খেয়েই বেঁচে আছি!”

কথায় কথায় এমন রসিকতার প্রসঙ্গ বারবার টেনে আনতেন রবি ঠাকুর। এ যেন তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিংবা হয়তো জীবনের দুঃখ ভোলবার, দুঃখকে উপেক্ষা করা সহজ পথ্য। তাই হয়তো ‘আমি চিনি গো চিনি তোমারে…. ওগো বিদেশিনী’র মতো গানটিকেও এক সাহেবের কাছে ব্যাখ্যা করেছিলেন চিনি অর্থাৎ সুগার হিসেবে। মরিস সাহেব তাই বলেন, প্রবল মিষ্টি গান লিখেছেন কবিগুরু! জীবনের ওঠাপড়ায় সবকিছুকে এমনটাই সহজ করে দেখতে চেয়েছেন তিনি। তাই হয়তো অত সহজে ব্যাখ্যা করতে পেরেছিলেন মৃত্যুকেও। কজন বলতে পারেন, “আমি মৃত্যুর চেয়ে বড়”। রবিঠাকুর পেরেছিলেন। আর তাই তিনি আজও আমাদের জীবনের সবটুকুতে এমন আস্টেপৃষ্ঠে থেকে গেছেন। থেকে যাবেন।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।