কুকুরের কামড় লুকিয়ে রেখে মৃত্যু, জলাতঙ্ক কতটা ভয়ঙ্কর?

Rabies: পৃথিবীতে প্রতি বছর অন্তত ৫৯,০০০ জন এউ রোগে ভুগে মারা যান। আর তার মধ্যে সিংহভাগই শিশু ও কিশোর।

Sohini Das
৩ মিনিট
কুকুরের কামড় লুকিয়ে রেখে মৃত্যু, জলাতঙ্ক কতটা ভয়ঙ্কর?

পোষ্য হিসেবে কুকুরের জনপ্রিয়তাকে মাত দেওয়া কঠিন। অনেকেই কুকুর প্রাণীটিকে এতটাই পছন্দ করেন, যে রাস্তার কুকুরেরাও তাঁদের সেই বাৎসল্যরস থেকে বঞ্চিত হয় না। তবে সব মানুষের মধ্যেই যেমন সৎ এবং অসৎ-এর বাস, তেমনই কুকুর রাজ্যেও। বহু কুকুরই আহ্লাদের বহর সহ্য না করতে পেরে বসিয়ে দেয় দাঁত। তবে সর্বদাই যে এই কামড়ের পিছনে মানুষের বাৎসল্য রসের অতিপ্রবাহই দায়ী, তা কিন্তু নয়। বরং বহু সময়ই মানুষের উপদ্রবের থেকে বাঁচতে এই দাঁত অস্ত্রটি ব্যবহার করে বসে সারমেয়কূল। আর কুকুর কামড়ানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় আশঙ্কা ও ক্ষতিকর পরিণতির জায়গাটি হল জলাতঙ্ক।

ছোটো থেকেই আমরা কমবেশি এই রোগ নিয়ে শুনে এসেছি। জলতেষ্টায় ছাতি ফাটবে, কিন্তু জল দেখলেই চেপে ধরবে ভয়ঙ্কর রকমের ভয়! তবে এই ব়্যাবিস বা জলাতঙ্ক মানে কি শুধু কি এটুকুই! নাকি আরও ভয়ানক এই রোগ? সাধারণ ভাবে কুকুরের কামড় থেকেই এই রোগ হয় বলে শোনা যায়। তবে কুকুরের পাশাপাশি বিড়াল কিংবা বানরের কামড় থেকেও ছড়াতে পারে এই অসুখ। আসলে এই রোগের জন্য দায়ী লাসা নামক এর ভাইরাস। যেসব প্রাণীর দেহে এই ভাইরাসটি রয়েছে, তাদের থেকেই ছড়াতে পারে এই রোগ। তবে শুধু কামড়ই নয়, পশুর ক্ষতস্থান বা চোখ থেকেও ছড়াতে পারে অসুখটি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পশু চিকিৎসকরা ব্যর্থ! পোষ্য কুকুরের রোগ নির্ণয় করল চ্যাটজিপিটি

ChatGPT Vet: বর্তমানে GPT-4 দ্বারা চালিত, ChatGPT ইতিমধ্যেই দাবি করেছে প্রায় খান বিশেক পেশার কাজ সে একাই করে ফেলতে পারে।

সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের গাজিবাদের একটি ঘটনায় ফের প্রশ্ন উঠেছে জলাতঙ্কের ভয়াবহতা নিয়ে। মাস দেড়েক আগে গাজিয়াবাদের এক ১৪ বছরের কিশোরকে কুকুর কামড়ায়। তবে সে কথা পরিবার বা অন্য কাউকেই জানায়নি সে। পাছে বকা খেতে হয়। আর সেটাই কাল হল। গত সোমবার জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় ওই কিশোর। অবস্থা খারাপ হতে শুরু করেছিল বেশ কিছুদিন আগে থেকেই। দেরি করে চিকিৎসা শুরু হওয়ায় বাঁচানো যায়নি অষ্টম শ্রেণির এই পড়ুয়াকে। স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দেশ জুড়ে। হয়তো একটু আগে থেকে চিকিৎসা শুরু হলে প্রাণ যেত না ওই খুদের। পাশাপাশি গাজিয়াবাদের ঘটনায় প্রমাণ হয়ে গিয়েছে, মোটেও হেলাফেলা করার বিষয় নয় কুকুর বা সমগোত্রীয় কোনও প্রাণীর কামড়। কারণ এই ব়্যাবিস বা জলাতঙ্ক রোগটি কিন্তু মোটেই সহজ অসুখ নয়। একটু উনিশ-বিশ হলেই গাজিয়াবাদের কিশোরের মতোই হতে পারে পরিণতি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নিজে হাতে খাওয়াচ্ছেন পথকুকুরকে? কুকুরকে আগ্রাসী করে তুলছেন নিজের অজান্তেই

Stray Dog Bite Cases: যদি একটি জনাকীর্ণ এলাকায় প্রচুর সংখ্যক পথকুকুর থাকে, তবে তাদের পক্ষে আবর্জনা থেকেও খাবার খুঁজে পাওয়া কঠিন।

অনেকেই কুকুর, বিড়াল কামড়ালে ব্যপারটিকে তেমন গুরুত্ব দেন না। কিন্তু এই ঝুঁকি এড়ানোর সহজ উপায় রয়েছে আমাদের হাতের কাছেই। ১৯৮৫ সালে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়। যার নেপথ্যে ছিলেন মাইক্রোবায়োলজিস্ট লুই পাস্তুর। ২৮ সেপ্টেম্বর, তাঁর মৃত্যুদিনটিকে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবেস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

কিন্তু পশুর কামড় মানেই কি জলাতঙ্ক? না, তা অবশ্য নয়। তবে কী দেখে বুঝবেন রোগী জলাতঙ্কের শিকার। চিকিৎসকেরা জানান, জলাতঙ্ক রোগের প্রাথমিক লক্ষণই হল অস্বাভাবিক রকমের ক্লান্তি। তার সঙ্গে মাথাব্যথা, গলা ব্যথা এবং জ্বর। আস্তে আস্তে শুরু হয় মাংসপেশিতে খিঁচুনি। অত্যাধিক লালা নিঃসরণ, গিলতে অসুবিধে, অকারণ উদ্বেগ, শারীরিক অস্বস্তি, ঘুম না হওয়া, এ সমস্ত কিছুই হতে পারে জলাতঙ্কের লক্ষণ। আস্তে আস্তে শুরু হয় মস্তিষ্কে এর প্রভাব। ক্রমশ মস্তিষ্কে ছড়িয়ে যায় ভাইরাসটি। পক্ষাঘাত বা কোমার মতো অবস্থাও তৈরি হতে পারে যা আস্তে আস্তে মানুষকে টেনে নিয়ে যাবে মৃত্যুর দিকে। জলাতঙ্ক রোগ নিয়ে একটি মিথ রয়েছে, যে জল দেখলে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে রোগীরা। তা সম্ভবত গলার নিদারুণ ব্যথার কারণেই। এমনকী অনেকেই শব্দ, আলো এমনকী হাওয়াতেও অসহিষ্ণু হয়ে পড়ে। ফলে কুকুর বা ওই ধরনের কোনও পশু কামড়ালে সময় না নিয়ে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞেরা। নিতে হবে উপযুক্ত টিকাও।

একটি পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, পৃথিবীতে প্রতি বছর অন্তত ৫৯,০০০ জন এউ রোগে ভুগে মারা যান। আর তার মধ্যে সিংহভাগই শিশু ও কিশোর। সাধারণ ভাবে যে পশুর কামড় থেকে জলাতঙ্ক সংক্রমণ হয়েছে, সেই পশুটিকে আটক করা হয়। কারণ একাধিক মানুষকে জলাতঙ্কে আক্রান্ত করার ক্ষমতা রাখে সেই প্রাণীটি। ফলে সেটিকে কোয়ারান্টাইন করা অত্যন্ত জরুরি। বহু সংস্থাই দায়িত্ব নিয়ে সেই কাজটি করে থাকে। সময় মতো রোগ চিহ্নিত করা গেলে জলাতঙ্কের জীবাণুকে বশ করা সম্ভব বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তার ভ্যাকসিন আমাদের হাতে রয়েছে। তবে সবার আগে প্রয়োজন সচেতনতা। বহু পোষ্য মাতা-পিতারাই এটা মানতে চান না যে তাঁদের প্রিয় পোষ্যদের থেকে রোগ ছড়াতে পারে। আর সেখানেই ঘটে যায় আসল সমস্যাটা। প্রতি বছরই জলাতঙ্ক দিবসে সচেতনতামূলক নানা কর্মসূচী নেওয়া হয় দেশ জুড়ে। তা সত্ত্বেও রাশ টানা যাচ্ছে না জলাতঙ্কের অঙ্কে। আরও কারওর অবস্থা যাতে গাজিয়াবাদের ওই কিশোরের মতো না হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আদতে আমাদের সকলের।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।