ইস্তফার পরেও কেন অন্যত্র নিয়োগ? আরজি কর কাণ্ডে প্রাক্তন অধ্যক্ষকে ছুটিতে পাঠানোর নির্দেশ হাইকোর্টের

R G Kar Case Hearing: একই সঙ্গে আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে স্বেচ্ছায় ছুটিতে পাঠানোর নির্দেশ দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম।

inscript
২ মিনিট
ইস্তফার পরেও কেন অন্যত্র নিয়োগ? আরজি কর কাণ্ডে প্রাক্তন অধ্যক্ষকে ছুটিতে পাঠানোর নির্দেশ হাইকোর্টের

আরজি কর কাণ্ড নিয়ে একাধিক জনস্বার্থ মামলার শুনানি ছিল মঙ্গলবার। সেই শুনানিতে একাধিক বিষয় নিয়ে প্রধান বিচারপতির প্রশ্নের মুখে পড়ল রাজ্য। একই সঙ্গে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষকে নিয়েও প্রশ্নের সম্মুখীন হল রাজ্য সরকার। কেন তাঁর পদত্যাগের এক বেলার মধ্যেই অন্য মেডিক্যাল কলেজের মাথায় বসানো হল, তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

একই সঙ্গে আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে স্বেচ্ছায় ছুটিতে পাঠানোর নির্দেশ দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম। প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, ‘‘বিকেল ৩টে পর্যন্ত সময় দিলাম। এর মধ্যে অধ্যক্ষকে স্বেচ্ছায় ছুটিতে চলে যেতে বলুন। না হলে আমরা নির্দেশ দিতে বাধ্য হব।’’ পাশাপাশি মঙ্গলবার ন্যশনাল মেডিকালের অধ্যক্ষ হিসাবে তাঁর যোগদানে অনির্দিষ্টকালীন স্থগিতাদেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এদিন আদালতের নির্দেশে ছুটিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন সন্দীপবাবু।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আরজি কর কাণ্ডে হাইকোর্টের প্রশ্নে বিদ্ধ রাজ্য, নির্দেশ এখনই সিবিআই তদন্তেরও

R G Kar Case Hearing: মোট পাঁচটি জনস্বার্থ মামলা এদিন ওঠে ডিভিশন বেঞ্চের কাছে। যেখানে আদালতের প্রশ্নে বিদ্ধ হল রাজ্য। একই সঙ্গে সেই মামলায় সিবিআই তদন্তেরও নির্দেশ দিল আদালত।

আরজি করের চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় সিবিআই তদন্তের দাবিতে দায়ের হয়েছিল একাধিক জনস্বার্থ মামলা। তার শুনানিতে মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির একাধিকবার ভর্ৎসনার মুখে পড়েন সন্দীপবাবু। মহিলা চিকিৎসকের দেহ উদ্ধারের পর থেকে তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধান বিচারপতি। শেষ পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম জানিয়ে দেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ন্যশনাল মেডিক্যালের অধ্যক্ষ পদে যোগদান করতে পারবেন না সন্দীপবাবু।

যে ভাবে একটি হাসপাতালের অধ্যক্ষ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সন্দীপবাবুকে আরেকটি হাসপাতালের অধ্যক্ষ হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে তাতে একাধিক প্রশ্ন ওঠে আদালতে। যে প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকারের সন্দীপবাবুর ইস্তফা গ্রহণ করে তাঁকে অব্যহতি দেওয়া উচিত ছিল। তা না করে তারা তাঁকে সমান পদমর্যাদার আরেকটি দায়িত্ব দিয়েছে। এটা তাঁকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার সামিল।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আরজি কর কাণ্ডে ধৃত সঞ্জয় কীভাবে সিভিক ভলান্টিয়ার হলো? কীভাবে নিয়োগ হয় এদের?

RG Kar Civic Volunteer: হাওড়ার আমতায় আনিস খান হত্যাকাণ্ডেও একজন সিভিক ভলান্টিয়ারের নাম উঠে এসেছিল।

এদিন মামলাকারীর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য সওয়াল করেন, ‘‘আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ সোমবার সকালে বলেছিলেন সরকারি চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন। বিকেলে তাঁকেই অন্য কলেজের মাথায় বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।’’ তা শুনে প্রধান বিচারপতি বিস্ময়প্রকাশ করে বলেন, ‘‘১২ ঘণ্টার মধ্যে পুরস্কৃত হয়ে গেলেন?’’ সন্দীপের আইনজীবী আদলতে জানান, ‘‘ইস্তফা দিয়েছিলেন। কিন্তু গ্রহণ করা হয়েছে কি না জানা নেই।’’ প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন, ‘‘অধ্যক্ষ ইস্তফা দেওয়ার পরেও কী ভাবে পুরস্কৃত হলেন?’’

রায়ে প্রধান বিচারপতি বলেছেন, একজনকে পদ থেকে সরিয়ে সন্দীপবাবুকে সেখানে বসানোর রাজ্য সরকারের কী তাড়া ছিল তা স্পষ্ট নয়। আরজি করে চিকিৎসক মৃত্যুতে প্রথমেই কেন অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হলো তা নিয়েও এদিন প্রশ্ন তুলেছেন খোদ প্রধান বিচারপতি। প্রধান বিচারপতির আরও পর্যবেক্ষণ, “ওই হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকের দেহ ওই হাসপাতাল থেকেই উদ্ধার হয়েছে। যিনি হাসপাতালের দায়িত্বে ছিলেন তিনি কেন FIR করলেন না?” আর সে ব্যাপারটি নিয়েও এদিন প্রশ্নের তির গিয়েছে আরজি কর কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের দিকেই।

এর পরেই সন্দীপবাবুকে আদালত অবিলম্বে ছুটিতে যেতে নির্দেশ দিয়েছে। তিনি তা না করলে আদালত উপযুক্ত পদক্ষেপ করবে। কিন্তু তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন সন্দীপবাবু ইতিমধ্যে ছুটির আবেদন করেছেন। তিনি তা করে থাকলে রাজ্য সরকারকে অবিলম্বে সেই ছুটি মঞ্জুর করতে হবে। আদালতের পরবর্তী নির্দেশ পর্যন্ত তিনি ন্যশনাল মেডিক্যালের অধ্যক্ষ পদে বসতে পারবেন না সন্দীপ ঘোষ, সে কথা এ দিন সাফ জানিয়ে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।