চেনা মুখই অচেনা! ভয়াবহ রোগের শিকার বহু কোভিড আক্রান্ত, উপসর্গ?

Long Covid Facial Blindness: মুখ চিনতে পারার অক্ষমতার এই স্নায়বিক ব্যাধি আসলে ঠিক কী? কোভিডের সঙ্গেই বা এর কী সম্পর্ক?

inscript
২ মিনিট
চেনা মুখই অচেনা! ভয়াবহ রোগের শিকার বহু কোভিড আক্রান্ত, উপসর্গ?

আত্মীয়ের মুখ চিনতে পারছেন না। যার সঙ্গে সকাল বিকেলের যোগ, সেই নিকটতম মানুষটিকেই চেনা যাচ্ছে না হঠাৎ। নাহ, মানুষটির কোনও বদল হয়নি, বদল হয়েছে আপনার। বদল বললেও ভুল, এক জটিল রোগে পড়েছেন আপনি। ২০২০-২০২১ সালের মধ্যে কি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন? ভুগেছিলেন তীব্র? তাহলে এক মারাত্মক রোগ আজীবনের মতো গেঁড়ে বসতে পারে দেহে। মৌখিক অন্ধত্ব! শুনতে যতটা ভয়াবহ, লক্ষণ ততটাই গুরুতর। খুব চেনা মানুষকে দেখেও কিছুতেই চিনতে না পারা। একটি নতুন সমীক্ষা বলছে দীর্ঘ COVID-19 সংক্রমণের কারণে কিছু মানুষের প্রোসোপাগনোসিয়া দেখা দিতে পারে। সহজ কথায় যে রোগটিকেই বলে 'মৌখিক অন্ধত্ব' বা ফেসিয়াল ব্লাইন্ডনেস।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোলজিক্যাল ডিসঅর্ডারস অ্যান্ড স্ট্রোক এই মৌখিক অন্ধত্বকে একটি স্নায়বিক রোগ হিসেবেই চিহ্নিত করেছে। মুখ চিনতে পারার অক্ষমতার এই স্নায়বিক ব্যাধি আসলে ঠিক কী? কোভিডের সঙ্গেই বা এর কী সম্পর্ক? কর্টেক্স জার্নালে প্রকাশিত একটি সমীক্ষা বলছে, কোভিডে ভুগেছেন এমন অনেক ব্যক্তির দেহেই এই মৌখিক অন্ধত্ব দেখা দিচ্ছে। দীর্ঘসময় কোভিডে ভোগার পরে মুখ এবং দিক চিনতে সমস্যা হচ্ছে আক্রান্তদের।

২০২০ সালের মার্চ মাসে কোভিড-এ আক্রান্ত হয়েছিলেন অ্যানি নামে ২৮ বছর বয়সী এক মহিলা। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এর আগে মুখ চিনতে কোনও সমস্যা হয়নি তাঁর। করোনাভাইরাস সংক্রামিত হওয়ার মাস দুয়েক পরে, পরিবারের নিকটতম সদস্যদের চিনতে পারছিলেন না অ্যানি! বন্ধু, আত্মীয়দের মুখ দেখে বুঝতেই পারছিলেন না তিনি আসলে কে?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নিরীহ নয় H3N2 ইনফ্লুয়েঞ্জা, দেশে ফিরছে কোভিডের আতঙ্ক? উপসর্গ চিনবেন যেভাবে

H3N2 Influenza Virus: ২০০১ সালের পরে জন্ম নেওয়া শিশুদের H3N2v ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা কম ছিল বা প্রায় ছিলই না।

অ্যানি নিজেই জানিয়েছেন, এক পর্যায়ে তিনি নিজের বাবার মুখ অবধি চিনতে পারছিলেন না। বাবার সঙ্গে একটি রেস্তোরাঁয় গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে বাবার ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে অ্যানি দেখেন বাবার গলাতে কথা বলছেন অন্য কেউ! আসলে তাঁকে কিন্তু ডেকেছিলেন তাঁর বাবাই। অথচ বাবার গলার স্বর শুনে চিনতে পারলেও মুখ চিনতে পারছিলেন না তিনি। তিনি গবেষকদের জানিয়েছেন, এখন মানুষ চেনার জন্য গলার আওয়াজের উপরই নির্ভর করেন অ্যানি।

২৮ বছর বয়সী এই যুবতী কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে দিক নির্ণয় করতেও সমস্যায় পড়েন। বাড়ি থেকে বেরিয়ে সামান্য মুদিখানার দোকানটিতে যেতেও ডানদিক-বাঁদিক গুলিয়ে ফেলেন। পার্ক করা গাড়িটি খুঁজে পেতেও হয়রান হয়ে যান। রোজ যে যে জায়গায় যান, সেখানকার দিক মনে রাখতেও ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে তাঁর৷

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডার্টমাউথ কলেজের গবেষকরা লং কোভিড আক্রান্ত ৫৪ জনের উপর করা সমীক্ষার প্রতিক্রিয়া সংগ্রহ করে দেখতে পেয়েছেন, আক্রান্ত বেশিরভাগেরই মুখ চিনতে পারা এবং দিক নির্ণয় করার ক্ষমতা কমেছে। লং কোভিড বলতে এমন একটি অবস্থাকে বোঝায় যেখানে প্রাথমিক সংক্রমণের পরে ১২ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ভাইরাসের লক্ষণগুলি বজায় থাকে।

COVID-19 যে মস্তিষ্কের ক্ষতি করেছে এ একপ্রকার প্রমাণিত। দেখেও চিনতে না পারার মতো গুরুতর নিউরোসাইকোলজিকাল বৈকল্য তৈরি করতে পারে করোনাভাইরাস। দীর্ঘ কোভিড আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা আর অস্বাভাবিক বিষয় নয়, জানাচ্ছেন গবেষকরা। গবেষকরা বলেছেন, কোভিডের কারণে মুখ চিনতে না পারা এবং নেভিগেশন বা দিশা নির্ণয়ের সমস্যাগুলি দেখা দিতে পারে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।