মাদ্রাসা ভাঙা নিয়ে তুঙ্গে অশান্তি! যেভাবে উত্তাপ বাড়ছে দেবভূমি উত্তরাখণ্ডে

Haldwani Violence, Uttarakhand: বৃহস্পতিবার বুলডোজার দিয়ে ওই বাড়িগুলি ভেঙে ফেলার পরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। মহিলা-সহ এলাকার বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাতে থাকে।

Sohini Das
৩ মিনিট
মাদ্রাসা ভাঙা নিয়ে তুঙ্গে অশান্তি! যেভাবে উত্তাপ বাড়ছে দেবভূমি উত্তরাখণ্ডে

সরকারি জমির উপর থেকে বেআইনি জবরদখলকারীদের উৎখাত করা নিয়ে অশান্তি। আর সেই অশান্তি হিংসার ঘটনার রূপ নিতে দেরি হল না দেবভূমি উত্তরাখণ্ডে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছলো, যে হিংসায় মদত দিতে দেখা গেলেই শুট অ্যাড সাইটের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেখানে। এখনও পর্যন্ত হিংসার ঘটনায় মোট পাঁচ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। শতাধিক পুলিশ-সহ জখম অন্তত ২৫০।

দিন কয়েক আগেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি পাশ হয়েছে উত্তরাখণ্ডের বিধানসভায়। অখণ্ড দেশে অভিন্ন বিধি আনতে চায় বিজেপি। আর তাতে প্রথম উত্তরাখণ্ড। রামমন্দির তৈরির কাজ শেষ। সামনেই লোকসভা ভোট। তার আগে অখণ্ড দেশ, অভিন্ন বিধির মতো একাধিক ভোটমুখী পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির সামনে। এর মধ্যেই বিরাট অশান্তি লেগে গেল দেবভূমিতে।

হলদওয়ানির বনভুলপুরা এলাকার একটি নাজুল জমির উপরে অবস্থিত একটি অবৈধ মাদ্রাসা ও তার সংলগ্ন মসজিদ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয় প্রশাসনের তরফে। সেগুলির অবস্থাও বিশেষ ভালো ছিল না বলেই খবর। তবে বৃহস্পতিবার বুলডোজার দিয়ে ওই বাড়িগুলি ভেঙে ফেলার পরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। মহিলা-সহ এলাকার বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাতে থাকে। ব্যারিকেড ভেঙে পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতি বেধে যায় তাদের। পুলিশ, পৌরসভার কর্মী ও সাংবাদিকদের দিকে ঢিল ছোড়ার অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। কুড়িটির বেশি মোটরসাইকেল ও পুলিশের বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় উন্মত্ত জনতা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বল্লভভাই বড় না অম্বেদকর! সাধারণতন্ত্র দিবসের আগে যে অশান্তি দেখছে দেশ

Sardar Patel-BR Ambedkar Statue Row: দেশ জুড়ে রামচর্চার মধ্যেই মূর্তি নিয়ে অশান্তি মধ্যপ্রদেশে। উঠল সর্দার বল্লভভাই পটেলের মূর্তি ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ

ক্রমে রণক্ষেত্রের রূপ নেয় পরিস্থিতি। স্থানীয় থানা ঘেরাও করে শুরু হয় ভাঙচুর। এমনকী থানার ভিতরে পুলিশদের পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ। ক্ষুব্ধ জনতার ছোড়া পাথরে অসংখ্য মানুষ জখম হয়েছেন। এখনও পর্যন্ত অন্তত চারজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উন্মত্ত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয় পুলিশ। ইতিমধ্যেই এলাকার ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জারি করা হয়েছে কার্ফু। শুক্রবার বন্ধ রাখা হয় স্থানীয় সমস্ত স্কুল ও কলেজ। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানপত্তরগুলিও বন্ধ। যারা হিংসা ছড়িয়েছে, তাদের দেখলেই গুলি চালানোর নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

হঠাৎ করেই যে ওই মাদ্রাসা-মসজিদ ভেঙে দেওয়া হয়, তেমনটা কিন্তু নয়। আগেই জারি করা হয়েছিল নোটিস। যথেষ্ট সময়ও দেওয়া হয়েছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক রিচা সিং জানিয়েছেন যে হলদোয়ানিতে সরকারি জমিতে বেআইনিভাবে তৈরি করা হয়েছিল মাদ্রাসা। সেইসঙ্গে আরও একটি কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। যে কাঠামো দেখতে অনেকটা মসজিদের মতো। শনিবার রাতেই সেগুলি সিল করে দেওয়া হয়েছিল। সেগুলি ভাঙতে বৃহস্পতিবার আসে হলদোয়ানি পুরনিগম, জেলা প্রশাসন এবং পুলিশের যৌথ দল। তিনি জানিয়েছেন, যখন বেআইনি কাঠামো ভাঙতে যায় যৌথ দল, তখন হাঙ্গামা শুরু করে একদল উত্তেজিত জনতা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আবারও যুদ্ধের ছায়া? জাপানের এই দ্বীপে কেন ঘনিয়ে উঠছে অশান্তির মেঘ?

এখানকার কিছু মানুষ জাপানের থেকে স্বাধীন ওকিনাওয়া গঠনের ডাকও তুলেছেন।

সেই অশান্তি মুহূর্তে বিরাট আকার নেয়। ঘটনার জেরে ওইদিন সন্ধেতেই জরুরি বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এলাকার শান্তি ও ঐক্য বজায় রাখতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে প্রশাসনকে। শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে অতিরিক্ত পুলিস ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। ধামি জনসাধারণের কাছে শান্তি বজায় রাখার আবেদন করেছেন। রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, যারা হিংসা ছড়াবে, তাদের দেখলেই গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্য সরকার। নৈনিতালের জেলাশাসক বন্দনা সিং জানান, এলাকায় কার্ফু জারি করা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সব রাস্তা।

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, কোনও নির্দিষ্ট সম্পত্তি ধ্বংস করার উদ্দেশ্য ছিল না। বরং আদালতের নির্দেশ মেনেই ওই অবৈধ নির্মাণ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করা নিয়ে প্রতিরোধ জানিয়ে এসেছেন উত্তরাখণ্ডের বাসিন্দারা। তবে তার পরোয়া না করেই রাজ্যের বিধানসভায় ওই আইন পাশ করে দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিংহ ধামী। প্রাচীন ইসলামিক নিদর্শনের ভিতর থেকে হিন্দুত্বের অস্থিত্ব খোঁজার যে চেষ্টা, তা অনেকদিন ধরেই শুরু হয়ে গিয়েছে দেশ জুড়ে। জ্ঞানবাপী থেকে তাজমহল বাদ পড়েনি কিছুই। বহু ইসলামগন্ধী জায়গার নাম বদলে ফেলা হয়ে রাতারাতি। ইলাহাবাদ থেকে আলিগড়, নাম বদলেছে বহু প্রাচীন ঐতিহ্যশালী শহর, নগর, রেলস্টেশনের নাম। অসমে সমস্ত মাদ্রাসা-র নামই বদলে ফেলা হয়েছে একেবারে।

উত্তরাখণ্ডে ক্ষমতায় বিজেপি সরকার। সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী পুষ্করের রাজনৈতিক জীবনের শুরু অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের হাত ধরে। বারবারই নরেন্দ্র মোদি সরকারের সমস্ত হিন্দুত্ববাদী সিদ্ধান্তের অন্ধ সমর্থক হিসেবে দেখা গিয়েছে পুষ্করকে। ফলে সেই পুষ্করের রাজ্যে মাদ্রাসা ও মসজিদ ভাঙার ঘটনায় অনেকেই রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি খুঁজে পেয়েছেন। যদিও প্রশাসনের তরফে বারবার দাবি করা হয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে সাম্প্রদায়িকতার কোনও সম্পর্ক নেই। কোনও বিশেষ গোষ্ঠী বা নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষকে আঘাত করার কোনও উদ্দেশ্য ছিল না। নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক দায়দায়িত্বের জায়গা থেকেই ওই নির্মাণ দুটি ভেঙে ফেলা হয়েছিল আদালতের নির্দেশে।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? সরকার বদলায়, কেন বদলায় না মন?

Rabindranath Tagore Targeted in Bangladesh: বাংলাদেশে বারবার কেন নিশানা হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? হাসিনা থেকে ইউনূস, সরকার বদলালেও কেন থামছে না তাঁর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার মুছে ফেলার চেষ্টা? জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্টাকেই কেন বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হচ্ছে?

যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ, পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে সিজেপি-র দুই নেতা

Jantar Mantar protest: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের জেরে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠাল আদালত। নির্বাচন কমিশন, এসআইআর এবং প্রতিবাদের অধিকার ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক।