Cow politics: গরু নিয়ে রাজনীতি, হত্যার পরিকল্পনা বারবার, একদিনে হয়নি...

tiasa gupta
৪ মিনিট
Cow politics: গরু নিয়ে রাজনীতি, হত্যার পরিকল্পনা বারবার, একদিনে হয়নি...

পেহলু খান কোনও ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়। গত কয়েক বছরে খবরের ট্রেন্ড বলে দিচ্ছে, গো-হত্যাকারী এবং গরু পাচারকারী সন্দেহে গণপ্রহার এবং খুনের ঘটনা নির্বিচারে বেড়েছে। কেন আবার গো-রাজনীতির কথা সামনে এল?

সারা দেশ ইদের উৎসবে মাতোয়ারা। মধ্যপ্রদেশের সিওনি জেলা সাক্ষী থাকল নির্মম ঘটনার। গো-হত্যার অভিযোগে দুই আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষকে প্রহার করে ১৫-২০ জনের উন্মত্ত জনতা। গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটে কুরাই থানা এলাকায়। থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন ব্রজেশ বাট্টি। তাঁর অভিযোগ, হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বজরং দলের সদস্যরা লাঠি নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। অতিরিক্ত পুলিস সুপার এস. কে. মারাভি জানিয়েছেন, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর ২ জনের মৃত্যু হয়। এঁদের দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, খুনের মামলা দায়ের হয়েছে। অতীতের ঘটনা কি প্রমাণ করে না যে, এ নিছক পুলিসের দায়সারা অবদান! পেহলু খানের ঘটনা নিয়ে এত তোলপাড় হয়েছে, তারপরে কোথায় কী! ইনসাফ রসাতলে! বিচারের বাণী নিভৃতে কেঁদে গেছে।

পেহলু খান হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ছ’জনকেই বেকসুর খালাস করে রাজস্থানের একটি জেলা আদালত। ২০১৭-র ১ এপ্রিল পশুমেলা থেকে গরু কিনে ফেরার পথে আলওয়ারে স্বঘোষিত গোরক্ষকদের হাতে আক্রান্ত হন পঞ্চাশোর্ধ্ব পেহলু খানু। দু’দিন পর হাসপাতালে মারা যান তিনি। এরপর দু’বছর ধরে সেই মামলার শুনানি চলে আলওয়ার জেলা আদালতে। প্রমাণের অভাবে অভিযুক্ত ছ’জনকে মুক্তি দেন অতিরিক্ত জেলা বিচারক সরিতা স্বামী। তাঁর পরিবার উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা বললেও, অন্য খবরের মতো পেহলুও খবরের ভিড়ে হারিয়ে যান। যদিও মধ্যপ্রদেশের ঘটনা আবার খুঁচিয়ে তুলল তাঁর নাম।

পেহলু খান হত্যার সময় রাজস্থানে ক্ষমতায় ছিল বিজেপি। কিন্তু এরপর সেখানে ক্ষমতায় এসেছে কংগ্রেস। গণপিটুনির ঘটনা রুখতে রাজস্থান বিধানসভায় নয়া বিল পাশ করিয়েছে তারা। তাতে গণপিটুনির ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হলে যাবজ্জীবন সাজার কথা বলা হয়েছে। জরিমানা ধার্য হয়েছে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। তাই পেহলু খান হত্যা মামলায় অভিযুক্তরা ছাড়া পেয়ে যাওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়তে হয় কংগ্রেসকেও।

আবারও বলছি, পেহলু খান গো-রাজনীতির নির্মম পরিণতির কোনও ব্যতিক্রমী নাম নয়। খুব বেশিদিন আগের ঘটনা নয়। গত বছর, গরু পাচারকারী সন্দেহে ত্রিপুরায় তিন ব্যক্তিকে গণপ্রহার করা হয়। এর জেরে মৃত্যু হয়েছে এই তিন ব্যক্তির। মৃত তিন ব্যক্তির নাম জায়েদ হুসেন (২৮), বিলাল মিঞা (৩০), শাফিউল ইসলাম (১৮)। মৃত ব্যক্তিরা ত্রিপুরার শেফালিজলা জেলার সোনামুড়ার বাসিন্দা। ঘটনা প্রসঙ্গে পুলিস জানায়, গ্রামবাসীরা এদিন কয়েকজনকে খোয়াই জেলার চম্পাহোয়ারে গাড়ি করে পাঁচটি গরু নিয়ে পালাতে দেখে। গরুগুলিকে দেখে গ্রামবাসীরা বুঝতে পারে যে এই গরুগুলি গ্রাম থেকে চুরি গিয়েছিল সাম্প্রতিক সময়ে। এরপরই সেই তিন ব্যক্তিকে আটকানোর চেষ্টা করে তারা। তবে তারা সেই গাড়িটিকে থামাতে ব্যর্থ হয়। পরে গাড়িটিকে ১০ কিলোমিটার দূরে উত্তর মহারানিপুরে আটকায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। সেখানে জায়েদ হুসেন এবং বিলাল মিঞা গণপ্রহারের শিকার হন। এর আগে মুঙ্গিয়াকামিতে শাফিউল ইসলামকে ধরে ফেলেছিলেন গ্রামবাসীরা। সেখানে তাঁকে আক্রমণ করা হয়।

পরে পুলিস তাঁদেরকে সেখান থেকে উদ্ধার করে প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখান থেকে আগরতলায় রেফার করা হয় তাঁদের। সেখানে নিয়ে আসা হলে ডাক্তাররা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনায় দু’টি পৃথক মামলা দায়ের হয়। মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় ঠিকই, তবে এই ঘটনাও ধামাচাপা পড়ে যায় আগের সব ঘটনার মতোই।

ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, গো-রাজনীতি থেকে হাত ধুয়ে ফেলতে পারে না কংগ্রেসও। গরু নিয়ে রাজনীতির কলঙ্ক একটি দলের ঘাড়ে অবশ্যই চাপানো যেতে পারে। কারণ সাম্প্রতিক ইতিহাস বলছে, গোমাতাকে রক্ষার নামে তাণ্ডব চালাচ্ছে তথাকথিত হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। যার পরিণতি নির্মম। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাবে, বাকি সবাই পরিস্রুত তুলসী পাতা কি? নিশ্চয় মনে আছে, কংগ্রেস রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রতীক ছিল জোড়া বলদ। তার পর পার্টিতে ভাঙন ধরল। ইন্দিরা গান্ধী প্রমাণ করলেন যে, তিনি ‘গুঙ্গি গুড়িয়া’ (বধির কন্যা) নন, তিনি একজন বিচক্ষণ নেত্রী। জোড়া বলদ প্রতীক পেল আদি কংগ্রেস। ইন্দিরা গান্ধী দূরদর্শী ছিলেন। তিনি ভেবে দেখলেন, জোড়া বলদ প্রতীকটা বড়ই পিতৃতান্ত্রিক। তাছাড়া পারিবারিক দৃষ্টিকোণ একটু আনলে ভালই হয়। তাই তিনি প্রতীক নিলেন গাই-বাছুর। গরুতে ছাপ দিয়ে ভোট হয় তাই বহু যুগ ধরে। অনেক পরে এসেছিল হাত।

আরও একটু আগের ইতিহাস। ব্রিটিশরা বলে সিপাহি বিদ্রোহ, আমরা বলি আমাদের প্রথম স্বাধীনতার যুদ্ধ। ১৮৫৭ সালে সেই বিদ্রোহ ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের ভিতকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। এই মহাবিদ্রোহের প্রত্যক্ষ কারণ ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীতে এনফিল্ড রাইফেলের প্রচলন। গরুর চর্বি মেশানো কার্তুজ দাঁতে কেটে বারুদ ভরতে হত, ফলে হিন্দু সিপাহিরা ধর্মনাশের আশঙ্কায় বিদ্রোহ করে। নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মঙ্গল পান্ডে।

গরু রাজনীতির ছোঁয়াচ যে আমাদের রাজ্যে আসেনি, তা জোর গলায় বলার উপায় নেই। কারণ অতীতে একসময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলেছিলেন, “(আমি) ইফতারের আমন্ত্রণ পেয়েছি। সেই আমন্ত্রণ গ্রহণও করেছি। এর জন্য কেউ যদি বলেন, মমতা মুসলিমদের তোষণ করে— তাঁরা বলতে পারেন। আমি বলি, যে গরু দুধ দেয় তার লাথিও একটু আধটু খেতে হয়। যে ডাকবে আমি যাব।” তৃণমূল নেতা জাভেদ খান একসময় তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কলকাতার রাস্তায় গরুর গাড়ি বের করেছিলেন। এসব কিন্তু গরু নিয়ে অহিংস ভোট বাক্সের রাজনীতি। সাম্প্রতিক কালে গরু নিয়ে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে গিয়েছে গোহত্যা এবং গোমাংস ভক্ষণ। যার পরিণতি মানুষ খুন। এর চেয়ে নির্মম বোধহয় আর কিছু হতে পারে না!

লিখেছেন
tiasa gupta
tiasa gupta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নিষিদ্ধ নয়, বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা, কী আছে ফিলিস্তিনপন্থী স্যালি রুনির বইয়ে

Sally Rooney: ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে রয়্যালটি দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশের পর ব্রিটেনে স্যালি রুনির বই সরবরাহ বন্ধ করেছে ফ্যাবার।

সিজেপির কর্মসূচির আগে ৬ হাজার পুলিশ, দুর্ভেদ্য দুর্গ কনট প্লেস

Connaught Place protest: সিজেপির কর্মসূচির আগে কনট প্লেস এবং তার আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে দিল্লি পুলিশ। কনট প্লেসের আশপাশে ৬ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?