তাপমাত্রা ৪০ পার! তীব্র তাপপ্রবাহে সুস্থ থাকতে এই খাবারগুলি ভুলেও খাবেন না

রেকর্ড ছুঁয়েছে তাপমাত্রার পারদ। প্রচন্ড দাবদাহে বৈশাখের প্রায় দশদিন পরেও অধরা রয়ে গেছে কালবৈশাখী। গতকাল মহানগর-সহ রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলের তাপমাত্রা ছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি।সাথে অস্বস্তি বাড়িয়েছে লু বা গরম বাতাস। এ অবস্থায় এখনই আবহাওয়া দপ্তরের পক্ষ থেকেও মেলেনি স্বস্তির খবর। বরং হাওয়া অফিস জানাচ্ছে যে আরও অন্তত তিনদিন এই দহন অব্যাহত থাকবে।
এ অবস্থায় আট থেকে আশি সকলেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। অতিরিক্ত তাপের কারণে শরীরে প্রয়োজনীয় জল, খনিজ এবং পুষ্টি উপাদান ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। ফলে একটুতেই ক্লান্ত হয়ে পড়ছে শরীর। খাবার খেতেও অনীহা আসছে। সাথে রয়েছে জ্বর ও পেট খারাপ। চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা বলছেন, ' প্রচন্ড গরমে শরীর ঠিক রাখতে সঠিক খাবার এবং বেশি করে জল খাওয়া উচিত'। কী ধরণের খাবার খাবেন এবং কোন খাবারগুলি এড়িয়ে চলবেন নিজেকে সুস্থ রাখতে জেনে নিন -
কোন খাবারগুলি একেবারেই খাবেন না ?
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
চিকিৎসকদের মতে প্রচণ্ড গরমে যে খাবারগুলি শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয় সেগুলি এইসময় এড়িয়ে চলুন। খেয়াল রাখবেন প্রতিদিনের আহারে উচ্চ মাত্রায় প্রোটিনযুক্ত খাবার যেন খুব বেশি পরিমাণে না থাকে। কারণ এই খাবারগুলির কারণে কিডনির ওপর চাপ পড়ে। ফলে শরীরে অতিরিক্ত জলের প্রয়োজন হয়। আবার ভারী তেলমশলাযুক্ত খাবার খেলে হজমশক্তি বিঘ্নিত হয় ফলে দেহের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়।তাই চেষ্টা করুন হালকা সহজপাচ্য খাবার খাওয়ার। এক্ষেত্রে ছোলা, তিল এই ধরণের খাবার শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয় ফলে এই গরমে এগুলি না খাওয়াই ভালো।
ফল ও সবজির পরিমাণ
প্রতিদিনের খাবারে সঠিক ফল এবং সবজি থাকলে তা শরীরকে অনেকখানি হাইড্রেট করবে। মিষ্টি এবং রসালো যে কোনো ফলে জলের পরিমাণ বেশি থাকে তাই এধরনের ফল খেতে পারেন প্রতিদিন। নিয়মিত তরমুজ খেতে পারেন যা শরীরে জলের চাহিদা পূরণ করবে। ভাত ,রুটি, ডাল যেন প্রতিদিনের খাবারে অবশ্যই থাকে। এধরনের খাবার শরীরের তাপমাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ফ্যাটের পরিমাণ সীমিত রেখে স্যুপও খেতে পারেন যা খুবই স্বাস্থ্যকর এই মরশুমে। টমেটো, করলা, চিচিঙ্গা, ভেন্ডি, বেগুন, শসা,ব্রকলিতে জল থাকায় এগুলি গরমকালে খুবই উপকারী। টক দই ও বিভিন্ন সবজি দিয়ে রায়তা বানিয়েও খেতে পারেন গরমকালে। কর্ন বা ভুট্টায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় তা সূর্যরশ্মি থেকে রক্ষা করে।তাই এসময় কর্ন দিয়ে স্যালাড বানিয়েও খেতে পারেন।তবে আলু ,আদা, ওল এইধরনের খাবারগুলি অল্প পরিমাণে গ্রহণ করুন।ফলের মধ্যে আম,কলা, আঙুর,প্রতিদিন খেতে পারেন। ডিম,মাংস বেশি পরিমাণে না খাওয়াই ভালো এই সময়।
জলের পরিমাণ
চিকিৎসকের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির শরীরকে হাইড্রেট রাখতে প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ গ্লাস জল খাওয়া প্রয়োজন। তবে গরমকালে শরীরে জলের চাহিদা মেটাতে অন্তত ১২ গ্লাস জল খাওয়া উচিত প্রতিদিন।গরমের মধ্যে আইসক্রিম, চকোলেট, চা,কফি কিংবা কোল্ড ড্রিঙ্কস খেতে ভালো লাগলেও তা মোটেও কার্যকরী নয়। ফ্রিজের জলের পরিবর্তে মাটির কুঁজোতে জল রেখে খেতে পারেন। এতে শরীর খারাপ হওয়ার সম্ভাবনাও কমবে আবার জল প্রাকৃতিক উপায়ে ঠাণ্ডাও থাকবে। এই সময় ঘোল, লস্যি কিংবা কচি ডাবের জল খেতে পারেন প্রতিদিন। এগুলির কোনো ক্ষতিকারক প্রভাব নেই শরীরে, উল্টে জল ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের চাহিদাও মিটবে শরীরে। এ ধরনের পানীয় শরীর ঠাণ্ডা রাখতে সাহায্য করবে প্রচণ্ড গরমেও।
চিকিৎসকদের মতে গরমে ঘামের কারণে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম বেরিয়ে যায়।এই ঘাটতি পূরণ করতে ঘন ঘন ওআরএস বা নুন চিনির জল খেতে পারেন। এছাড়া বেলের সরবত, আম পানাও শরীরের পক্ষে ভালো এবং সতেজ রাখতেও সাহায্য করবে আপনাকে।শরীরে ২% জলের ঘাটতিতেও মাথা ব্যাথা অনুভব হতে পারে। এমনকি স্মৃতিশক্তিও কমে যেতে পারে তাই চেষ্টা করুন গরমে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খেতে।







