জেলেও রুটিন মানা মাপা জীবন, তিহাড়ে কেমন আছেন কেজরিওয়াল?

Arvind Kejriwal: ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী, রাতারাতি পৌঁছে গেলেন জেলে। তবে মুখ্যমন্ত্রী বলে তাঁকে কোনও রকম আলাদা খাতির করছে না জেল কর্তৃপক্ষ। বরং কেজরিওয়ালকে অন্য যে কোনও সাধারণ বন্দির মতোই রাখার নির্দেশ পেয়েছে তারা

Sohini Das
৩ মিনিট
জেলেও রুটিন মানা মাপা জীবন, তিহাড়ে কেমন আছেন কেজরিওয়াল?

আবগারি মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। এতদিন পর্যন্ত ইডি হেফাজতে ছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তবে সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাঁকে দু'সপ্তাহের জন্য জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত। আপাতত তাঁর ঠিকানা তিহাড় জেলের একটি সেল। আগামী ২ সপ্তাহের জন্য সেটাই হতে চলেছে কেজরির ঘরবাড়ি।

ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী, রাতারাতি পৌঁছে গেলেন জেলে। তবে মুখ্যমন্ত্রী বলে তাঁকে কোনও রকম আলাদা খাতির করছে না জেল কর্তৃপক্ষ। বরং কেজরিওয়ালকে অন্য যে কোনও সাধারণ বন্দির মতোই রাখার নির্দেশ পেয়েছে তারা। যদিও জেলে বসেই রাজ্যপাঠ সামলানোর কথা জানিয়েছেন কেজরি। যতদিন না অভিযোগ প্রমাণ হচ্ছে, পদত্যাগ করার কোনও প্রশ্নই নেই, জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর সমস্ত দায়িত্ব-কর্তব্যই জেল থেকে পালনের কথা বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যে ইডি হেফাজতে থেকেই রাজ্যের নিকাশি ব্যবস্থা ও জল সরবরাহ নিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন কেজরিওয়াল। আপ-এর তরফে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনে আদালতের অনুমতি নিয়ে জেলেই কেজরির জন্য দফতর তৈরি করা হবে।

তবে সেসব কবে হবে, আদৌ হবে কিনা জানা নেই। আপাতত জেলে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভির আওতায় থাকবেন দিল্লির মুখ্য়মন্ত্রী। তবে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে দেখা করা বা কথা বলার ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই কেজরির। প্রতিদিন ফোনে পাঁচ মিনিট করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন তিনি। তবে সেই সমস্ত কলই রেকর্ড করা হবে জেলের নিয়মানুসারেই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেজরিওয়ালই শেষ নয়, আপকে শেষ করতে বিজেপির যে ভয়াবহ পরিকল্পনা ফাঁস করলেন অতিশী

AAP Minister Atishi Marlena: অতিশী বলছেন, বিজেপি চাইছে আগামী ২ মাসের মধ্যে, লোকসভা নির্বাচনের আগে আম আদমি পার্টির আরও চার নেতাকে গ্রেফতার করতে।

তবে তিনি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী বলে কথা। সে জন্য সপ্তাহে দু'বার করে পরিবারের কোনও একজন সদস্যের সঙ্গে ভিডিও কলের মাধ্যমে কথা বলার সুযোগ পাবেন কেজরি। তবে কার সঙ্গে তিনি কথা বলতে চাইছেন, তা আগেভাগে জেল কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে তাঁকে। কেজরিওয়াল নিজে ডায়েবিটিক। ফলে খাওয়া-দাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তাঁর। আদালত তাঁকে ঘরে তৈরি খাবারদাবার খাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। সেই মতোই বাড়ি থেকেই কেজরির খাবারদাবার আসছে বলে খবর।

গত অক্টোবর মাসে একই মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন আপ নেতা সঞ্জয় সিংহ। তাঁকে এতদিন তিহাড়েরই জেল নম্বর টু-তে রাখা হয়েছিল। এখন যেখানে রাখা হয়েছে কেজরিকে। তবে সম্প্রতি সঞ্জয়কে পাঁচ নম্বর জেলে স্থানান্তরিত করা হয়। জানা গিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টে মঞ্জুর হয়েছে তাঁর জামিনের আবেদন। তাতে আপত্তি নেই ইডিরও। কেজরির প্রাক্তন ডেপুটি মণীশ সিসৌদিয়া রয়েছেন এক নম্বর জেলে। অন্য়দিকে, বিআরএস নেতা কে কবিতা রয়েছেন ৬ নম্বর জেলে। কেজরির দলের অন্যান্য সদস্যরাও একই জেলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন, অথচ কারওর সঙ্গেই কারওর যোগাযোগের রাস্তা নেই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আবগারি দুর্নীতির টাকা কোথায়? আদালতে হাঁড়ি ভাঙবেন কেজরি?

Delhi Liquor Policy, Arvind Kejriwal: কেজরিওয়ালের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে মোট ৭৩ হাজার টাকা খুঁজে পেয়েছে ইডি। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী আপাতত ইডি হেফাজতে। গত দু'বছর ধরেই ওই মামলায় একাধিক বার অভিযান চালিয়েছে ইডি।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তিনি। রাজ্যের সর্বময় কর্তা। আর সেই তিনিই আবগারি মামলায় আজ জেলের অন্ধকারে। তিহাড় জেলে তাঁর দিন শুরু হচ্ছে এখন ভোর সাড়ে ৬টা নাগাদ, অন্যান্য বন্দিদের সঙ্গেই। এর পরে জলখাবারে চা আর কয়েকটা পাউরুটি পান কেজরি। সেই দিয়েই প্রাতঃরাশ সারেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। এরপর সকাল সাড়ে দশটা থেকে এগারোটার মধ্যে দুপুরের খাবার পরিবেশন করা হয় জেলে। কী থাকে সেই খাবারের তালিকায়। থাকে ডাল, আর সবজি। আর সঙ্গে পাঁচটা রুটি কিংবা ভাত।

দুপুরের খাওয়াদাওয়া শেষ হওয়ার পর অন্যান্য বন্দিদের মতোই দুপুর তিনটে পর্যন্ত নিজের সেলে বন্দি থাকেন কেজরিওয়াল। সাড়ে তিনটে নাগাদ এক কাপ চা আর দু'টো বিস্কুট আসে তাঁর কাছে। বিকেল চারটে আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করার সময়। সে সময়টা চাইলে নিজের আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে পারেন কেজরি।

বিকেল সাড়ে পাঁচটার সময় কেজরিবালকে নৈশভোজ দিয়ে দেওয়া হয়। ডিনারেও দুপুরের মতোই ডাল, সবজি সঙ্গে পাঁচটা রুটি বা ভাত দেওয়া হয় তিহাড় জেলেষ এর পর সাতটা পর্যন্ত ফের নিজের লক আপে বন্দি অবস্থায় থাকা, এই রুটিন। অবশ্য বিকেল পাঁচটা থেকে রাত এগারোটা পর্যন্ত চাইলে অন্যান্য় বন্দিদের মতোই জেলের মধ্যে বসে দূরদর্শন দেখতে পারেন কেজরিওয়াল। তবে সমস্ত রকম মেডিক্যাল ইমার্জেন্সির জন্য ২৪ ঘণ্টা সাহায্যের ব্যবস্থা রয়েছে তিহাড় জেলের ভিতরে। শুধু তা-ই নয়, নিয়মিত চেকআপের ব্যবস্থাও রয়েছে জেলে। তিহাড় জেলে থাকাকালীন গোটা সময়টাই নিয়মিত চেকআপেই রাখা হবে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে।

সামনেই ভোট। প্রায় সমস্ত দলই শেষ মুহূর্তের প্রচারে ব্যস্ত। কিন্তু এই সময়েই জেলে বন্দি আম আদমী পার্টির প্রধান ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি কবে ছাড়া পাবেন, তা এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। শুধু কেজরিই নয়, দলের অন্য বহু হেভিওয়েট নেতাই জেলে। এই পরিস্থতিতে আপের আত্মবিশ্বাস যে ভোটবাজারে খানিকটা হলেও চিড় খাবে, তাতে সন্দেহ নেই। সেই ফাঁকে কি দিল্লির দখল নেওয়া সুবিধার হতে চলেছে বিজেপির জন্য? আপাতত সবচেয়ে বড় প্রশ্ন সেটাই।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।